চট্টগ্রামে রেলের স্ক্র্যাপ বিক্রি করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ
বাংলাদেশের সবধরণের রেললাইনে ব্যবহৃত রেলবিটের একমাত্র বৈধ মালিক বাংলাদেশ রেলওয়ে। রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত বা ব্যবহার অনুপযোগী বিটও তাদের হেফাজতে থাকার কথা। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় স্থাপিত রেললাইনের ব্যবহার অনুপযোগী (স্ক্র্যাপ) রেলবিট কৌশলে নিজ হেফাজতে রেখে বিক্রি করে দিচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)। নিয়ম অনুযায়ী এসব স্ক্র্যাপ সংরক্ষণ ও বিক্রয়ের দায়িত্ব রেল কর্তৃপক্ষের হলেও তা না মেনে রেলের অনুমতি ছাড়াই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে বিক্রি করার অভিযোগ ওঠেছে। যা নিয়মিত অনৈতিক বলে দাবি করছেন রেলের একাধিক কর্মকর্তা। সম্প্রতি একটি বিজ্ঞপ্তিতে রেলবিট বিক্রির বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সামনে এসেছে।
জানা যায়, ৮ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিলাম শাখা থেকে স্ক্র্যাপ বিক্রয়ের একটি দরপত্র (নং স্টোর/অকশন/০২/২৪-২৫) আহবান করা হয়। যেখানে অকেজো ও বাতিল মালামালের প্রকাশিত (ক) আয়রন স্ক্র্যাপ তালিকায় বলা হয়েছে, মেরামত অযোগ্য বাতিল হওয়া লাইটিং বয়া, মুরিং বয়া, কাটা টুকরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল সি.আই. সীট, ফারলিনসহ জাহাজের অবমুক্ত প্রপেলার শ্যাফট, উইন্ডোটাইপ গ্রীল, জাহাজের অবমুক্ত বিবিধ সাইজের এম.এস. পাইপ, অবমুক্ত বাতিল এনেলযুক্ত কাটা মরিচা ধরা ৮ হাজার ৫০ কেজি রেলবিটসহ স্টীল আলমিরা ভাঙ্গা, অবমুক্ত এম এস এঙ্গেল, এম এস রড ও বারবেড ওয়ার, কাটা টুকরা মরিচা ধরা চেইন/শিকল, পুরাতন মরিচা ধরা ছিদ্রযুক্ত ২০৫ লিটার ধারন ক্ষমতার খালি ড্রাম, পুরাতন গেইট ভাল্ব, ইত্যাদি। যার অনুমানিক ওজন ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬১৫ কেজি।
(খ) আয়রন স্কাপ তালিকায় বলা হয়েছে, মেরামত অযোগ্য লাইটিং বয়া, অবমুক্ত নোঙ্গর, উইন্ডোটাইপ গ্রীল ভাঙ্গা, স্টীল আলমিরা ভাঙ্গা, ইলেকট্রিক ডিবি বক্স (স্টীল), অবমুক্ত বাতিল মরিচা ধরা এঙ্গেল লোহাযুক্ত ১০ হাজার ১৪০ কেজি রেলবিটসহ বিবিধ সাইজের এম.এস পাইপ। লোহার তার কাটা, এম.এস.ফিঞ্চিং, পুরাতন মরিচা ধরা ছিদ্রবিশেষ কাটা ২০৫ লিঃ ধারন ক্ষমতার খালি ড্রাম, পুরাতন মরিচাযুক্ত গেইট ভাল্ব, খালি টিনের পট জাতীয় আয়রন ইত্যাদি। যার আনুমানিক ওজন ১ লাখ ৮৪ হাজার ৯৪/৮০ কেজি।
এসব ব্যবহার অনুপযোগী রেলবিটের (স্ক্র্যাপ) প্রকৃত মালিক বাংলাদেশ রেলওয়ে। বিক্রি বা সংরক্ষণের দায়িত্বও তাদের কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি চক্র এসব স্ক্র্যাপ নিজেদের মনে করে বিক্রি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে। এই চক্রের সাথে রেলের কোন কর্মকর্তা জড়িত আছে কিনা তা সন্দেহজনক।
এবিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) সচিব মো. ওমর ফারুক রেলবিট বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি যতটুকু জেনেছি আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং শাখার অকেজো এঙ্গেল বা চ্যানেল নিলাম করেছে স্টোর শাখা। এগুলো দেখতে অনেকটা রেলবিটের মতো হলেও এগুলো রেলবিট না। আমরা কোন রেলবিট বিক্রি করছি না। আরো কিছু জানতে হলে কন্ট্রোলার অব স্টোর্স (সিওএস) এর সাথে কথা বলেন।
এবিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কন্ট্রোলার অব স্টোর্স (সিওএস) মো. আব্দুল হান্নানকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
রেলের সংশ্লিষ্ট শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী রিটন চাকমা বলেন, বন্দরের অভ্যন্তরে তাদের ডিপোজিটের বিপরীতে লাইন মেরামতের কাজ করা হয়। অকেজো মালামাল সেখানে সংরক্ষণ করা হয়। তবে সেগুলো তারা বিক্রি করছে কিনা জানিনা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৮৬২ সালে রেল প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে নিজস্ব মন্ত্রণালয় না থাকায় বন্দর ও রেল যৌথভাবে ছিল। ১৯৯০ সালে রেলপথ নামে আলাদা মন্ত্রণালয় পায় রেলওয়ে। ১৯৯৯ সালে বন্দর ও রেলওয়ে আলাদাভাবে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। বাংলাদেশের সবধরণের রেললাইন পরিচালনা ও রক্ষনাবেক্ষণের দায়িত্ব রেলওয়ের। সেই অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দর অভ্যন্তরে থাকা রেললাইনগুলো মেরামতের দায়িত্বও তাদের। বাংলাদেশের কোন সংস্থা রেলের অনুমতি ছাড়া রেলবিট ক্রয় বিক্রয়, পরিবহন ও সংরক্ষণ করার সুযোগ নেই। এসব রেলবিট কোথাও পাওয়া গেলে হেফাজতকারী দণ্ডনীয় হবেন। তবে পাকিস্তান আমল থেকে এই পর্যন্ত বন্দর অভ্যন্তরের রেললাইন মেরামতের বিপরীতে কোন রেলবিট গেটপাশ জটিলতার অজুহাতে বের করতে পারেনি রেলওয়ে। সব বিটগুলো এভাবেই বিক্রি করে আসছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
এবিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রামের বিভাগীয় প্রকৌশলী (ডিইএন-৩) মো. রিয়াসাদ জানান, বন্দরের ডিপোজিটের বিপরীতে তাদের অভ্যন্তরের রেললাইন মেরামত করা হয় এটা ঠিক। কিন্তু রেলবিট বিক্রি করতে হলে অবশ্যই রেলের কাছ থেকে অনুমতি নেয়া দরকার।
এবিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ট্র্যাক) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বন্দর অভ্যন্তরে রেল মেরামতের জন্য তারা টাকা দিয়ে থাকেন, ফলে ব্যবহার অনুপযোগী স্ক্র্যাপ আমরা রেখে আসি।
এবিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিক দলের (সিবিএ) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এমআর মঞ্জু বলেন, সবধরনের রেলবিটের একমাত্র মালিক বাংলাদেশ রেলওয়ে। এসব রেলবিট ক্রয়,বিক্রয়, পরিবহন ও সংরক্ষণ সবধরনের কাজে রেলের অনুমতি সাপেক্ষে করার বাধ্যবাদকতা আছে। বন্দর চাইলেই রেলবিট বিক্রি করতে পারবে না। যদি বৈধ হয় তাহলে বন্দরের নিলামের কাগজের অজুহাতে রেলের সম্পদ চুরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এমএসএম / এমএসএম
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের এমপি প্রার্থীকে প্রাণনাশের হুমকি
রাষ্ট্রীয় শোক দিবস পালনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সাভারে অবস্থিত ভিসন গ্রুপের ১লা জানুয়ারি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালন
বারহাট্টার বাজারে শীতকালীন সবজি এলেও চড়া দামে হতাশ ক্রেতারা
দোহাজারী রেলস্টেশনে প্রান্তিক কৃষকদের কৃষিপণ্য পরিবহনে লাগেজ কোচ চলাচলের উদ্বোধন
কেশবপুরে কালিয়ারই এস.বি.এল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নতুন বই বিতরণ
জনজীবন চরম দুর্ভোগ: তাপমাত্রা নেমেছে ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে
তাড়াশে বেগম জিয়ার আত্মার শান্তি কামনা করে প্রার্থনা
তারাগঞ্জে আলহাজ্ব আতিয়ার রহমানের জানাজা অনুষ্ঠিত
কুতুবদিয়ায় গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা, ঘাতক আটক
বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিলেন বিএনপি ও জিয়া পরিষদ নেতা অধ্যাপক বি.এম নাগিব হোসেন
ভূরুঙ্গামারীতে বিএনপির উদ্যোগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি
তানোর ও গোদাগাড়ীতে টমেটোর ফলন বিপর্যয়, কৃষকের মাথায় হাত