ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬

সড়ক ও জনপথ,চট্টগ্রাম

’ম্যানেজে’ সড়কে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার


এসএম পিন্টু photo এসএম পিন্টু
প্রকাশিত: ২২-১২-২০২৫ দুপুর ১:০

চট্টগ্রামের রাস্তার মাথা থেকে রাউজান পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে রোডস এন্ড হাইওয়ে ডিপার্টমেন্টের (আরএইচডি) কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠেছে। ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের ইট, কার্পেটিং রাস্তার সাথে লাগোয়া রয়েছে শতশত গাছ, পিডিবির খাম্বা, রাখা হয়নি ওয়াকওয়ে, বাড়তে পারে দুর্ঘটনা। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়ক প্রশস্তকরণের কাজে এমন অনিয়ম চোখে পড়েছে।
এই বিষয়ে এর আগে দৈনিক সকালের সময়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে সরেজমিনে তদন্তে নামে সড়ক ও জনপথের কর্মকর্তারা। তদন্তে নিমন্মানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি ধরা পড়েছে বলে স্বীকার করেছেন চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. নিজাম উদ্দীন। তিনি বলেন, নিম্নমানের ইট ব্যবহারের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা তাদের এসব বিষয় নিয়ে সতর্ক করে একাধিকবার ঠিকাদারকে চিঠি লিখেছি, কিছু ইট তুলে নিয়ে গেছে। আমরা যথাযথ নজরদারি রেখেছি। কোনরকম অনিয়ম বরদাস্ত করবনা। 
নিম্নমানের ইট ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরএন ইয়াকুব আব্দুস সালাম এর প্রতিনিধি মো. শাহজাহান। তিনি বলেন, এখানে লাখ লাখ ইট ব্যবহার হয়েছে সেখানে কয়েকটা গাড়ি ইট খারাপ পড়েছে যেটা অস্বাভাবিক নয়। তবে আমরা চেষ্টা করছি কাজের মান বজায় রাখার জন্য।    
সংশ্লিষ্ট অপর এটি সূত্র জানায়, সড়ক ও জনপথের প্রত্যেকটি উন্নয়ন কাজে ঠিকাদারদের সাথে অফিসারের একটি অনৈতিক লেনদেন থাকে। যেটি ’পিসি’/পার্সোনাল কালেকশন নামে পরিচিত।  এই পিসি ক্ষেত্রবিশেষ ৫ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে। যেখানে ঠিকাদারের কাজ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেয়া হয় সেখানে অনিয়ম হলেও অফিসাররা তেমন কোন ব্যবস্থা নিতে পারেন না। মাঝে মাঝে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে একটু নড়চড়া করেন কয়েকদিন পরে আবার সেই আগের মতোই।
বাস্তবায়নকারী সংস্থা আরএইচডির তথ্য অনুযায়ী এই কাজে  বর্ধিত অংশের গভীরতা হবে ৮০০ মিলিমিটার বা ৩১ দশমিক ৫০ ইঞ্চি বা আড়াই ফুটের অধিক। আর এর উপরে  বাইন্ডার (কার্পেটিং) থাকবে বর্ধিত অংশে ৬০ মিমি (২.৩৬ ইঞ্চি) আবার পুরো সড়কে (বর্ধিত অংশসহ) ৪০ মিমি (১.৫৮ ইঞ্চি)। রাস্তার উভয়পাশে এক মিটার ওয়াকওয়ের জন্য সোল্ডার রাখার কথা।  আর সকল কাজে ভালো মানের সামগ্রী ব্যবহারের বাধ্যবাদকতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার উভয়পাশের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে হলেও এখনো অনেক গাছ কাটা হয়নি। রয়ে গেছে ইলেক্ট্রিক পুল। রাস্তায় খাম্বা রেখেই কাজ করা হয়েছে। যেগুলো তুলতে গেলে আবার রাস্তা নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কিছু জায়গায় নিম্নমানের ইট ব্যবহার করছে। আবার গভীরতা কোথাও দেড় ফুট কোথাও ২ ফুটের মতো আছে। আবার কিছু জায়গায় এমনভাবে কাজ করছে তা কার্পেটিং করা হলে গাছের গোড়া পর্যন্ত মুল সড়ক হয়ে যাবে। ওয়াকওয়ে বা সোল্ডার থাকার মতো জায়গা নেই। এভাবে কাজ শেষ করলে মানুষ চলাচলে সমস্যা হতে পারে এমনকি প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।  এব্যপারে জানতে সড়ক ও জনপথ চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দীন চৌধুরীর মোবাইলে কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে ঠিকাদারের সাথে কমিশন বা যেকোন অর্থনৈতিক লেনদেন নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক ও জনপথ চট্টগ্রাম সড়ক উপ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. নিজাম উদ্দীন। সববিষয় নজরে রেখেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, মূল রাস্তার পরে একমিটার ওয়াকওয়ে থাকবে, গাছ কাটার কিছু আইনী জটিলতা ছিল যে কারনে একটু সময় লেগেছে। তবে কোন সমস্যা হবে না। আর যেহেতু এটা প্রধান উপদেষ্টার বাড়ির সড়ক সুতরাং এখানে আমরা কোন অনিয়ম সহ্য করবনা। গভীরতা বা কার্পেটিংয়ে চুরি করার কোন সুযোগ নেই। আমরা সবকিছু পরীক্ষা করে দেখব। অনিয়মের বিষয়ে এই মুহুর্তে কোন ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। কাজটি শেষ করার অপেক্ষায় আছি, কাজ শেষে ছাড়পত্রে তাদেও অনিয়মের বিষয়টি উল্লেখ থাকবে। যেটি পরে  কোথাও কাজ করতে গেলে আমরা যথাযথ নজরদারি করতে পারব। 
উল্লেখ্য, কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে হাটহাজারীর মদুনাঘাট হয়ে রাউজানের গশ্চি ধরের টেক পর্যন্ত সড়কটির সাড়ে ১৩ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রশস্তকরণের কাজ করছে সড়ক ও জনপথ চট্টগ্রামের সড়ক বিভাগ। রাস্তার মাথা থেকে মদুনাঘাট পর্যন্ত একটি প্যাকেজে ৫ কিলোমিটার সড়কের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।  এই প্যাকেজে নজুমিয়াহাট এলাকায় ২০০ মিটার ২০ ফুট সড়কের উভয় পাশে আরও ১৬ ফুট বেড়ে মোট রাস্তার প্রশস্ত হবে ৩৬ ফুট। আর বাকি রাস্তাটি ১৩ ফুট বেড়ে হবে ৩৩ ফুট। উভয়পাশ মিলিয়ে প্রায় ১৩ ফুট প্রশস্ত করার কথা রয়েছে। 
আরেকটি প্যাকেজে মদুনাঘাট থেকে গশ্চি ধরের টেক পর্যন্ত সাড়ে ৮ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। যেখানে বর্তমানে ১৯ থেকে ২০ ফুট রাস্তার উভয়পাশে ১০ ফুট (কম/বেশি) প্রশস্ত করে রাস্তাটি সাড়ে ৩০ ফুট করার কথা রয়েছে। ঠিকাদার হিসেবে ২টি কাজই যৌথভাবে করছে আরএন ইয়াকুব আব্দুস সালাম।
 

 

 

Aminur / Aminur

কুমিল্লায় শতাধিক সংবাদকর্মীদের নিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বেনাপোলে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি ভারতীয় ইলিশের চালান জব্দ

জয়পুরহাটে শীতার্ত শিক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রশিবির: শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

জলমহালে অংশীদারিত্ব নিয়ে প্রতারণা, নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়রী

শেরপুরে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মাসুদকে দল থেকে বহিষ্কার

শিশু বরণ থেকে স্মার্ট ক্লাসরুম, জামালগঞ্জ বিদ্যালয়ে শিক্ষার নতুন ভোর

শিবচর পুলিশের অভিযানে এক্সপ্রেসওয়ে থেকে লুট হওয়া ৪৬২ গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার

চাঁদপুরে পিকআপ ভ্যান-অটোরিকশা সংঘর্ষে যুবক নিহত

জেসমিন আরা শরীয়তপুর জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গার্ল গাইড শিক্ষক নির্বাচিত

ভোলাহাটে জনসচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

মাদকবিরোধী অভিযানে ৫০ পিস ইয়াবাসহ একজন গ্রেপ্তার

কুড়িগ্রামে প্রবেশন কার্যক্রম আধুনিকায়নে সেমিনার অনুষ্ঠিত

লোহাগড়ায় সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার