দৈনিক লাখের নিচে ঘুস নেন না আরও উদ্ভব চন্দ্রপাল!
বেনাপোল কাস্টম হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্রপাল দৈনিক লাখ টাকার নিচে ঘুসের টাকা নেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। বেনাপোল কাস্টম হাউসের পরীক্ষণ গ্রুপ-৩ এ যোগদান করেই শুরু করেছেন ট্রাক প্রতি ঘুস আদায়। তিনি হাউসের কমিশনার-অতিরিক্ত কমিশনার কাউকে তোয়াক্কা করেন না। চাহিদামতো ঘুস না দিলে উদ্ভব চন্দ্রপাল হয়রানি শুরু করেন। পরীক্ষণ গ্রুপ-৩ এ পচনশীল পণ্য দ্রুত খালাশে কাগজপত্র ঠিক থাকলেও বেপরোয়া রাজস্ব কর্মকর্তার ঘুষ বাণিজ্যের ফলে রাজস্ব আদায়ে ভাটা পড়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত ১ মাসে ঘুস থেকে অর্ধ কোটি টাকা কামিয়েছে রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্র পাল। তিনি একজন রাজস্ব কর্মকর্তা হলেও চলেন ক্যাডার কর্মকর্তার মতো। উর্ধ্বতন কর্মকর্তা যেন তার কাছে কিছুই না। আমদানিকারক ব্যবসায়ী-সিঅ্যান্ডএফ যেন তার বাড়ির চাকর। কাগজপত্র ঠিক থাকলেও তার কাছে সবই ভুয়া-ভুল কাগজ। কাগজ আটকে রেখে ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফকে হয়রানি তার নেশা। মূলত ঘুস না দিলেই তার হাত থেকে কারো রেহাই নেই। পচনশীল পণ্য ট্রাক প্রতি তার সর্বনিম্ন ঘুসের রেইট ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। বেনাপোল কাস্টম হাউসের পরীক্ষণ গ্রুপ-৩ যোগদান করার পরেই দুর্নীতিবাজ এই কর্মকার্তার কারনে আক্রান্ত হয়েছে রাজস্ব প্রশাসনের নৈতিক ভিত্তি আর হুমকির মুখে পড়েছে প্রশাসনিক শুদ্ধাচার।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, বেনাপোল কাস্টমস পরীক্ষণ গ্রুপের রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্রপালের আত্মীয় ঢাকার এক ফল ব্যবসায়ীর সখ্যতাই ফ্যাসিস্ট আ.লীগ নেতা উজ্জ্বলের মাধ্যমে আমদানিকৃত ট্রাক বড় অংকের চুক্তিতে পরীক্ষণ ছাড়াই পণ্য চালান রিপোর্ট দিচ্ছেন। এছাড়া তার প্রতিনিধি তৌহিদ ও শুভ’র মাধ্যমে কাঁচামালের মাঠ থেকে ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে ঘুসের টাকা উত্তলোণ করে থাকেন। উপ-কমিশনার থেকে শুরু করে কমিশনার পর্যন্ত-কারো নির্দেশনা মানতে নারাজ উদ্ভব চন্দ্রপাল। এদিকে সরাসরি ঘুসের কারসাজিতে পচনশীল পণ্য দ্রুত খালাশের নামে অবৈধ পণ্য খালাশে কোটি কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আমদানিকারক সরাফত ইসলাম বলেন, গত সাত-আট বছর ধরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে পান আমদানি করছি। কিন্তু বর্তমানে রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্রপালের কারণে আমরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছি। গাড়ি প্রতি কর্মকর্তাকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হবে তা না হলে তিনি পরীক্ষণ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন না। তার এই অবৈধ আবদারের ফলে বেনাপোল বন্দর থেকে ব্যবসায়ীরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। ঘুষ বাণিজ্য ও হয়রানি থেকে প্রতিকার পেতে অনেক মালিক এবং কর্মচারীগন স্থানীয় সাংবাদিকদের নিকট অভিযোগ করছেন।
বেনাপোলের এক সিএন্ডএফ প্রতিনিধি জানান, বেনাপোল কাস্টমস পরীক্ষণ গ্রুপ ৩ এর রাজস্ব কর্মকর্তার আত্মীয়করণ ও অতিরিক্ত ঘুস বাণিজ্যের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন। অধিকাংশ আমদানিকারক এখন সাতক্ষীরা ভোমরা বন্দরে চলে যাচ্ছেন। তিনি আরও জানান, গত এক মাসে পরীক্ষণ গ্রুপ-৩ থেকে আনুমানিক অর্ধ কোটি টাকা দৃশ্যমান ঘুস আদায় করা হয়েছে। আর ঘুসের টাকা আদায়ে রাজস্ব কর্মকর্তার আত্মীয় এক ফল ব্যবসায়ীর যোগসাজসে তৌহিদ ও শুভ সংগ্রহ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আমদানিকারক জানান, বেনাপোল বন্দরে একটি সিন্ডিকেট চক্রের মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা ঘুসের টাকা লেনদেন হচ্ছে। আর ঘুস লেনদেনের কারনে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। মূলত বর্তমান রাজস্ব কর্মকর্তা হাতে গোনা কয়েকটি ব্যবসায়ীদের সাথে বসে চুক্তি করে পরীক্ষণ রিপোর্ট দিচ্ছেন। ফলে অনান্য ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে ব্যবসা থেকে ছিটকে পড়ছেন। কাগজপত্র সব ঠিক থাকলে ঘুসের টাকা দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে তিনি পণ্য চালানে টি-আর (ট্যাক্স রেগুলেশনস) দিতে নারাজ। এবং গাড়ির সব পণ্য নামিয়ে দেখা হবে বলে ভয় দেখান। অন্যদিকে তার চুক্তিকৃত ব্যবসায়ীদের চোঁখের ইশারাই ফাইল স্বাক্ষর ও বিশেষ টি-আর (ট্যাক্স রেগুলেশনস) সুবিধা প্রদান করে কোটি কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকিতে মেতে উঠেছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্রপাল তার ফল ব্যবসায়ী আত্মীয়কে নিয়ে ঢাকায় মিটিং করে শুল্ক ফাঁকির ছক করেন। এরপর থেকে হাতে গোনা কয়েকজন দুর্নীতিবাজ সিএন্ডএফ এজেন্ট ছাড়া কেউ তার ব্যবহারে সন্তুষ্ট নন। অন্য কোন সিএণ্ডএফ এজেন্ট বা আমদানিকারকরা যাতে এ বন্দরে ব্যবসা করতে না পারেন সেজন্য তিনি হরহামেশা খারাপ আচারন করছেন। এবং কমিশনারের নির্দেশ আছে বলে লোকগল্প শোনান। ব্যবসায়ীরা ঘুষ বাণিজ্য বন্ধ করার জন্য কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বেনাপোলে সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী সমিতির এক নেতা জানান, গত ৫ আগষ্টের পরে বেনাপোল বন্দরের কাঁচামাল পরীক্ষণে কোন অবৈধ পণ্য বা শুল্কফাঁকির ট্রাক আটক হয়নি। অথচ পূর্বে কাঁচামাল পরীক্ষণে প্রতি মাসে কোন না কোন পণ্য চালান আটক হত। মূলত কাঁচামাল মাঠে ট্রাক প্রতি ঘুস আর সিন্ডিকেটের কারসাজিতে নাম মাত্র পরিক্ষণের ফলে অবৈধ পণ্য চালান আটক হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, রাজস্ব কর্মকর্তা ও পরীক্ষণ টিম নামমাত্র পরীক্ষণ আর স্লট প্রতি টিআর ঘোষণা দিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা ঘুস আদায়ে মত্ত রয়েছেন। গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে দৈনিক ঘুসের লেনদেনের জড়িত কর্মকর্তাদের অবৈধ আয়ের পরিমান।
এই বিষয়ে বক্তব্য নিতে বেনাপোল কাস্টমস পরীক্ষণ গ্রুপে-৩ এর রাজস্ব কর্মকর্তা উদ্ভব চন্দ্রপালের ব্যক্তিগত নাম্বারে ফোন দেওয়া হলে সাংবাদিক পরিচয় শুনে ব্যস্ত আছি বলে কথা বলতে রাজি হননি।
বেনাপোল কাস্টমস কর্মকর্তার লাগামহীন অনিয়ম- দূর্নীতির ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ বিষয়ে কথা বলতে কাস্টমস কমিশনার আবু হোসেন মোহাম্মদ খালিদের নাম্বারে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা যাইনী।
এমএসএম / এমএসএম
নেত্রকোণায় জেলা প্রশাসক পরীক্ষার্থীদের বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন- সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের নির্দেশনা
বাঁশখালীতে গভীর রাতে প্রশাসনের অভিযান, বালুভর্তি ১ মিনি (ড্যাম্পার) জব্দ
শ্যামনগরে জামায়াতে ইসলামীর সংবাদ সম্মেলন: “সুমাইয়া বন্যা আমাদের কেউ নন, অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা”
শরণখোলায় বাণিজ্যিকভাবে বিষমুক্ত তেল উৎপাদন শুরু
শ্রীপুরে থানা পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ চারজন গ্রেফতার
তিস্তার চরে বাম্পার ফলন, তবুও হতাশ কৃষক : শিলাবৃষ্টি ও দরপতনে কোটি টাকার ক্ষতি
সুন্দরগঞ্জের চন্ডিপুর ফজলুল হক উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন
ফরিদগঞ্জে সবুজ মাঠে ধুলছে কৃষকের স্বপ্ন
লাকসামে স্কুল ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
কারাগারে বসেই এসএসসি পরিক্ষা দিল নোয়াখালীর রাজন
পূর্বধলায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাশে উপজেলা ছাত্রদল; পানি, স্যালাইন ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ
ধামইরহাটে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত