কোটি টাকায় নির্মিত সাব রেজিস্ট্রি অফিসের ভবন তালাবদ্ধ, টিনশেড ঘরে ভোগান্তির শিকার সেবা প্রত্যাশীরা
সরকারি অর্থে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ভবন আজও নীরবে দাঁড়িয়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। অথচ সেই ভবনের কয়েক কিলোমিটার দূরে একটি ঝুঁকিপূর্ণ টিনশেড ভাড়া বাড়িতে গাদাগাদি করে, চরম অস্বাস্থ্যকর ও অমানবিক পরিবেশে চলছে ফুলছড়ি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দাপ্তরিক কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে নতুন ভবনে অফিস স্থানান্তর না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দলিল লেখক, সাধারণ মানুষ ও সাব রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী রা।
ফুলছড়ি উপজেলা হেডকোয়ার্টার কালিরবাজার এলাকায় নির্মিত আধুনিক সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ভবনের কাজ বহু আগেই শেষ হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করলেও রহস্যজনক কারণে আজও সেখানে অফিস কার্যক্রম শুরু হয়নি, স্থানান্তর করা হয়নি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র। ফলে গজারিয়া এলাকায় একটি জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরেই চলছে জমি রেজিস্ট্রেশনের মতো সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কাজ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাড়া বাড়ির ভেতরে অল্প জায়গায় কাঠের বেঞ্চ ও টেবিল বসিয়ে দলিল লেখকরা হাঁটু ভেঙে, গাদাগাদি করে দলিল লিখছেন। কোথাও ঠিকমতো আলো নেই, নেই বসার পর্যাপ্ত জায়গা। দেখা যায়—খোলা উঠানে ধুলাবালির ওপর বসেই দলিল যাচাই করছেন কেউ কেউ। ছাদের টিনে ফাঁক, দেয়ালে মরিচা, যেকোনো সময় দুর্ঘটনার শঙ্কা।
এজলাসের সামনে সকাল থেকে মানুষের ভিড়। ধাক্কাধাক্কির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন বয়স্ক নারী-পুরুষ। কারও হাতে জমির কাগজ, কারও চোখে অসহায়ত্ব। অনেকেই শেষ সম্বল নিয়ে এসেছেন—জমি বিক্রি করে চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে কিংবা মৃত্যুর আগে সন্তানদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন করতে। কিন্তু এই ভিড়, অস্বস্তি ও দীর্ঘ অপেক্ষা তাদের কষ্টকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
দলিল করতে আসা বৃদ্ধ সেবা প্রার্থী রহিম উদ্দিন কাঁপা গলায় বলেন, “বয়স হয়েছে, বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না। তবুও কী করবো, জমির কাজ না করলে তো চলবে না।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দলিল লেখক জানান, “নতুন ভবন পড়ে আছে, আর আমরা এই ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় কাজ করছি। বৃষ্টি হলে কাগজ ভিজে যায়, রোদে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এভাবে কাজ করা অসম্মানজনক।” অন্যদিকে কালিরবাজারে নির্মিত নতুন ভবনটি পড়ে আছে জনশূন্য অবস্থায়।
আর এখানে ছাদে শেওলা, দেয়ালে ফাটল, চারপাশে ঝোপঝাড়। অথচ ভাড়া বাবদ প্রতিবছর সরকারকে গুনতে হচ্ছে বিপুল অঙ্কের টাকা। একদিকে সরকারি সম্পদের অপচয়, অন্যদিকে জনভোগান্তি—দুই মিলিয়ে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।
সেবা প্রত্যাশী আব্দুস সাত্তার মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জনগণের সেবার জন্য সরকার যে ভবন বানিয়েছে, তা ব্যবহার না করে ভাড়া বাড়িতে অফিস চালানো অযৌক্তিক। দ্রুত নতুন ভবনে অফিস স্থানান্তর না হলে ক্ষোভ আরও বাড়বে।”
কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক ভবন থাকা সত্ত্বেও পুরনো, ঝুঁকিপূর্ণ টিনশেড ঘরে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস পরিচালনার এই চিত্র এখন ফুলছড়িবাসীর কাছে এক বেদনাদায়ক প্রশ্ন। দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত না এলে ভোগান্তির পাশাপাশি নষ্ট হবে মূল্যবান সরকারি সম্পদ, আর বঞ্চিতই থেকে যাবে সাধারণ মানুষ।
এমএসএম / এমএসএম
গৌরনদীতে গভীর রাতে সৌদি প্রবাসীর বাড়ির দেয়াল ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর
রূপসার ফখরুল হত্যার ঘটনায় ‘কাটাপ্পা’ গ্রেপ্তার
কাছাইট গ্রামের কৃতি সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান মহারাজ আর নেই
শিক্ষার্থীদের বইমুখী করতে পেকুয়ায় গ্রন্থপাঠ কার্যক্রম
অভয়নগরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উদযাপন, চার চাষিকে পুরস্কার
শ্রীনগরে মদ্যপ অবস্থায় কৃষক দল নেতার নাচগানের ভিডিও ভাইরাল
পটুয়াখালীতে ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন
নেত্রকোণার কলমাকান্দায় ছয় দফা দাবিতে দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন-সহস্রাধিক শিক্ষার্থী-অভিভাবকের অংশগ্রহণ
উলিপুরে জাতীয় মৎস পক্ষের উদ্বোধন
মাছের পোনা অবমুক্তকরণের মাধ্যমে গোপালগঞ্জে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৬ এর উদ্বোধন
চরম অনিশ্চয়তায় কাটছে কিশোর রাহুলের জীবন
বাঘায় শুরু হয়েছে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬