ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

কোটি টাকায় নির্মিত সাব রেজিস্ট্রি অফিসের ভবন তালাবদ্ধ, টিনশেড ঘরে ভোগান্তির শিকার সেবা প্রত্যাশীরা


মজিবর রহমান, গাইবান্ধা photo মজিবর রহমান, গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ৭-১-২০২৬ বিকাল ৫:৫৩

সরকারি অর্থে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ভবন আজও নীরবে দাঁড়িয়ে আছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। অথচ সেই ভবনের কয়েক কিলোমিটার দূরে একটি ঝুঁকিপূর্ণ টিনশেড ভাড়া বাড়িতে গাদাগাদি করে, চরম অস্বাস্থ্যকর ও অমানবিক পরিবেশে চলছে ফুলছড়ি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দাপ্তরিক কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে নতুন ভবনে অফিস স্থানান্তর না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দলিল লেখক, সাধারণ মানুষ ও সাব রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী রা।
‎‎ফুলছড়ি উপজেলা হেডকোয়ার্টার কালিরবাজার এলাকায় নির্মিত আধুনিক সাব-রেজিস্ট্রার অফিস ভবনের কাজ বহু আগেই শেষ হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করলেও রহস্যজনক কারণে আজও সেখানে অফিস কার্যক্রম শুরু হয়নি, স্থানান্তর করা হয়নি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র। ফলে গজারিয়া এলাকায় একটি জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরেই চলছে জমি রেজিস্ট্রেশনের মতো সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কাজ।
‎‎সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাড়া বাড়ির ভেতরে অল্প জায়গায় কাঠের বেঞ্চ ও টেবিল বসিয়ে দলিল লেখকরা হাঁটু ভেঙে, গাদাগাদি করে দলিল লিখছেন। কোথাও ঠিকমতো আলো নেই, নেই বসার পর্যাপ্ত জায়গা। দেখা যায়—খোলা উঠানে ধুলাবালির ওপর বসেই দলিল যাচাই করছেন কেউ কেউ। ছাদের টিনে ফাঁক, দেয়ালে মরিচা, যেকোনো সময় দুর্ঘটনার শঙ্কা।
‎এজলাসের সামনে সকাল থেকে মানুষের ভিড়। ধাক্কাধাক্কির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন বয়স্ক নারী-পুরুষ। কারও হাতে জমির কাগজ, কারও চোখে অসহায়ত্ব। অনেকেই শেষ সম্বল নিয়ে এসেছেন—জমি বিক্রি করে চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে কিংবা মৃত্যুর আগে সন্তানদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন করতে। কিন্তু এই ভিড়, অস্বস্তি ও দীর্ঘ অপেক্ষা তাদের কষ্টকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
‎‎দলিল করতে আসা বৃদ্ধ সেবা প্রার্থী রহিম উদ্দিন কাঁপা গলায় বলেন, “বয়স হয়েছে, বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না। তবুও কী করবো, জমির কাজ না করলে তো চলবে না।”
‎‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন  দলিল লেখক জানান, “নতুন ভবন পড়ে আছে, আর আমরা এই ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় কাজ করছি। বৃষ্টি হলে কাগজ ভিজে যায়, রোদে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এভাবে কাজ করা অসম্মানজনক।” অন্যদিকে কালিরবাজারে নির্মিত নতুন ভবনটি পড়ে আছে জনশূন্য অবস্থায়। 
‎আর এখানে ছাদে শেওলা, দেয়ালে ফাটল, চারপাশে ঝোপঝাড়। অথচ ভাড়া বাবদ প্রতিবছর সরকারকে গুনতে হচ্ছে বিপুল অঙ্কের টাকা। একদিকে সরকারি সম্পদের অপচয়, অন্যদিকে জনভোগান্তি—দুই মিলিয়ে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।
‎‎সেবা প্রত্যাশী আব্দুস সাত্তার মিয়া  ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জনগণের সেবার জন্য সরকার যে ভবন বানিয়েছে, তা ব্যবহার না করে ভাড়া বাড়িতে অফিস চালানো অযৌক্তিক। দ্রুত নতুন ভবনে অফিস স্থানান্তর না হলে ক্ষোভ আরও বাড়বে।”
‎কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক ভবন থাকা সত্ত্বেও পুরনো, ঝুঁকিপূর্ণ টিনশেড ঘরে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস পরিচালনার এই চিত্র এখন ফুলছড়িবাসীর কাছে এক বেদনাদায়ক প্রশ্ন। দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত না এলে ভোগান্তির পাশাপাশি নষ্ট হবে মূল্যবান সরকারি সম্পদ, আর বঞ্চিতই থেকে যাবে সাধারণ মানুষ।

এমএসএম / এমএসএম

অপরাজনীতি ও মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে সাভারে ঢাকা জেলা যুবদলের বিশাল বিক্ষোভ ও সমাবেশ

দুধকুমার সহ কয়েকটি নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত, চরাঞ্চল প্লাবিত

শালিখায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উন্নয়ন সহায়তা উপকরণ বিতরণ

সেবা নিতে এসে মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন: নরসিংদীর জেলা প্রশাসক

ঠাকুরগাঁওয়ে ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ মামা-ভাগিনা গ্রেফতার

৩৭ বছরের গৌরবময় পুলিশি জীবনের ইতি, রাজকীয় বিদায়ে অবসরে গেলেন এসআই ছবির উদ্দিন শিকদার

বিবাহিত স্ত্রীকে ফুসলায় অন্যত্র বিবাহ অভিযোগে সাতক্ষীরা বিজ্ঞ আমলী আদালতে মামলা

পরিবেশ সুরক্ষায় শরণখোলায় শিক্ষার্থীদের সচেতনতামূলক র‍্যালি ও বৃক্ষরোপণ

চকরিয়ার গৌরব: ৪৭তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেন ইয়াসিন আরাফাত

তিস্তার পানি কমলেও কাটেনি অববাহিকার পানির টান, আগামী ৭২ ঘণ্টায় আবারও বাড়ার পূর্বাভাস

হাটহাজারী পার্বতী মডেল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের আয়োজনে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

‎চট্টগ্রাম বারইয়ারহাট পৌরসভার ক্লাস্টার উন্নয়ন কর্মশালা

মোহনগঞ্জে ‘পার্টনার কংগ্রেস-২০০৬’ অনুষ্ঠিত