ঢাকা বুধবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৬

সিডিএ’র জনবল নিয়োগ: পরীক্ষা না দিয়েই পাশ!


এসএম পিন্টু photo এসএম পিন্টু
প্রকাশিত: ১৯-১-২০২৬ দুপুর ২:২৬

নানা অনিয়মে জর্জড়িত চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) জনবল নিয়োগে এবার লিখিত পরীক্ষা না দিয়েই পাশ করার অভিযোগ ওঠেছে।
জানা যায়, জানা যায়, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জুনিয়র হিসাব রক্ষক, সাঁট লিপিকার কাম-কম্পিউটার অপারেটর, মার্কেট সুপারিনটেনডেন্ট, সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর, ড্রাফটসম্যান, ড্রাইভার, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, মেইনটেন্যান্স ইন্সপেক্টর, সহকারী ক্যাশিয়ার, ইমারত পরিদর্শক ও সার্ভেয়ার পদের লিখিত পরীক্ষা গত ১৭ জানুয়ারী সকাল ১০ টা হতে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত গভ. মুসলিম হাই স্কুল, কলেজিয়েট স্কুল ও নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় চট্টগ্রাম কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরের দিন ১৮ জানুয়ারি ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। সেই পরীক্ষায় ২জন প্রার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি বলে জানিয়েছেন ওই রুল নম্বরের আশেপাশে থাকা রুল নম্বরধারী একাধিক পরীক্ষাথী। কিন্তু পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও প্রকাশিত ফলাফলে তাদের পাশ দেখিয়েছে সিডিএ। ওই ২ পরীক্ষর্থীর রোল নাম্বার হচ্ছে ১৭২৭০৫, ১৭২৭০৭। এছাড়া নাসিরাবাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোবাইল দেখে পরীক্ষা দেয়ার অভিযোগ করেছেন একাধিক পরীক্ষার্থী। এসব ঘটনায় সিডিএ ও সংশ্লিষ্ট মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ ওঠেছে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম, সচিব রবীন্দ্র চাকমা ও ভূমি মূল্যায়ন কর্মকর্তা মো. আলমগীর খানের তৎপরতায় অফিস পিয়ন মোহাম্মদ বাদশার যোগসাজসে এসব অপকর্মের জন্ম দিয়েছে।
উচ্চ আদালতে মামলা, মামলা চলমান বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করতে বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত, মন্ত্রণালয়ে শ্রমিক নেতার লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করে ৭ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার মন্ত্রণালয়ের আদেশ অমান্য করে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রেখেছে কর্তৃপক্ষ। লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, ঘুষের বিনিময়ে নিয়োগের স্বীকারোক্তি নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশসহ নানা অনিয়ম নিয়ে এর আগেও অনেক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে সিডিএ। এতোসব অনিয়মের মধ্যে তদন্ত হয়নি একটিরও। তারই সূত্র ধরে এবার পরীক্ষা না দিয়েই পাশ হওয়ার মতো ঘটনার জন্ম দিয়েছে সিডিএ।
 জানা যায়, সিডিএ সচিব রবীন্দ্র চাকমার ইমু ব্যবহার করে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন বিক্রির অভিযোগ ওঠেছিল, সেই সময় ইমু হ্যাক করা হয়েছে বলে তৃতীয় পক্ষের একজন ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিল কিন্তু সচিবের পক্ষে আইনগত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। পরীক্ষার কয়েকদিন আগে প্রশ্ন বিক্রির টাকা আনতে গিয়ে স্থানীয় জনতার হাতে ধৃত হয় রায়হান নামের এক লোক। সে সচিব নূর মোহাম্মদ বাদশার ছেলের বন্ধু বলে জানায়। পরে সিডিএ’র পক্ষ থেকে রায়হান ও রাফি নামের ২ জনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বলে সিডিএ সচিব জানিয়েছিলেন। এই ঘটনায় খোজ নিতে গিয়ে কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ গণমাধ্যমে বলেছিলেন সিডিএ’র লোকজন যাকে থানায় হস্তান্তর করেছে তারাই আবার কোন অভিযোগ নাই মর্মে মুচলেকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছে। তাহলে পুলিশে হস্তান্তর মুলত প্রশ্নফাঁসকে ধামাচাপা দেয়ার নাটক ছিল বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র মনে করছেন।
সূত্র জানায়, সিডিএ’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী  হাবিবুর রহমানের অফিসে সাময়িক কর্মরত আশরাফুল ইসলাম (মাসুক বাবু), এস্টেট অফিসার (বিল্ডিং) সাদেকুর রহমানের ড্রাইভার জনৈক চাকমা বাবু, অফিস সহকারী পিপলু নাথের ঘনিষ্ট বেশ কয়েকজনের পাসের খবরে সিডিএ অফিসে কানাঘুষা ও তোলপাড় চলছে। করণিক ভুল দেখিয়ে একজনের স্থলে অন্যজনকে নিয়োগ দেবার পায়তারা চলছে। চলছে নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে নানান কথাও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিডিএ সংশ্লিষ্ট লোকজন এসব তথ্য জানান।
সংশ্লিষ্ট অপর একটি সূত্র জানায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমানকে অনেকেই খুব ভালো মানুষ বলে জানেন কিন্তু তাঁর মন্ত্রণালয়ের অধীন সিডিএ’র জনবল নিয়োগে এতোসব নাটকীয় কর্মকান্ড ঘটার পরেও প্রয়োজনীয় কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় তাঁর সততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। 
রোল নং ১৭২৭০২ পরীক্ষার্থীর কেন্দ্র প্রবেশপত্রে গভ.মুসলিম হাই স্কুল ছাপিয়ে দিলেও মূলত ওই পরীক্ষার্থীর কেন্দ্র ছিল কলেজিয়েট হাইস্কুল। ফলে ওই প্রার্থীকে দুই কেন্দ্র্রে যেতে হয়েছে। এই রকম আরো অনেক প্রার্থীর বেলায়ও ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যোগ্য অনেক প্রার্থীরা ডাকযোগে প্রবেশ পত্র পায়নি। খুব কম সময়ের ব্যবধানে ডাকে প্রবেশ পত্র পাঠানো সিদ্ধান্ত সঠিক হয়নি বলে সচেতনমহল ধারণা করছে।
পরীক্ষার্থীদের ডাকযোগে প্রবেশ পত্র দেবার নামে প্রবেশপত্র না পাবার আগেই পরীক্ষা নিয়ে নেয়া , তরিঘড়ি করে ফল প্রকাশ, মেধাবীদের বাদ দিয়ে সিডিএ’র কর্মকর্তাদের নিকটজনদেরকে পাস দেখানো,  প্রবেশপত্রে রোল নং ও কেন্দ্র ভুল ছাপিয়ে পরীক্ষাদের হয়রানি ও সময়ক্ষেপণ করা সর্বোপরি পত্রিকার বিজ্ঞাপনেও ভুল ‘তারিখ’ ও ‘বার’ ছাপিয়ে নানান অসংগতি ও বিভ্রান্তি তৈরী করে সিডিএ’র ভাবমূর্তি নগরবাসীর কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠছে ।
এসব বিষয়ে জানতে সিডিএ’র সচিব রবীন্দ্র চাকমার মোবাইলে কল দিলেও ফোন রিসিভ না হওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি। মেসেজ দিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গতবছরের ২১ অক্টোবর ৩১টি পদের অনুকূলে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সিডিএ। নিয়মমতো পে-অর্ডারসহ আবেদন জমা দিয়েও যথাসময়ে প্রবেশপত্র পায়নি অনেকে আবার অনেককে পড়তে হয়েছে ভোগান্তিতে। তাদের অনৈতিক ফায়দার পায়তারা না থাকলে অণলাইন ডিভাইসের মাধ্যমে দ্রুত প্রবেশপত্র পাঠাতে পারতো। ফলে ভোগান্তি হতো না।

Aminur / Aminur

জাইকার সহায়তায় ৯৮২ কোটি টাকায় হচ্ছে ভূমিকম্প সহিষ্ণু ভবন

বিটিসিএল’এ কোটি কোটি টাকার রাজস্ব অবৈধভাবে ভোগকারীরা পগার পার!

সিডিএ’র জনবল নিয়োগ: পরীক্ষা না দিয়েই পাশ!

নতুন নকশার ই-রিকশা বন্ধে উচ্চ আদালতে রিটপিটিশন

আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সচিবের চাঞ্চল্যকর নিয়োগ জালিয়াতি

নতুন নকশার ই-রিকশা বন্ধে উচ্চ আদালতে রিটপিটিশন

বেশি দামের গাছ কম দামে বিক্রি করায় তার নেশা

মামলা ও বিতর্কের মধ্যেই পদোন্নতি পেতে দৌড়ঝাপ, ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন বঞ্চিতরা

বিটিসিএল’র ডিজিএম মালেক ও ম্যানেজার রাব্বির দুর্নীতি চরমে

গণপূর্তের পিপিআর আইন সংশোধনের পরও এটিএম-এলটিএম টেন্ডারে দুর্নীতি

বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার রতন লাল মাহুতের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

ডিবি’র হারুনকে দিয়ে ২ নারী ব্যবসায়ীদের প্রতারণার জালে ফেলতো

নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করছে বন বিভাগের কিছু লোক