ঢাকা শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬

অঢেল সম্পদের মালিক এনবিআর কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৭-১-২০২৬ দুপুর ৩:৫৮

# এক কোটি আশি লাখ টাকার মেহগনি বাগান।
# শত বিঘার উপরে সম্পত্তি ক্রয়।
# বিশাল এক ডেইরী ফার্ম। 
# দশ কেজি স্বর্ণ! 

সম্প্রতি শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর- এর একজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার কয়েক বছরের চাকরি জীবনের ব্যবধানে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। 
সূত্রমতে, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম (কাঁকন) এর বাবার নাম মহির উদ্দিন। নাটোর জেলার লালপুর উপজেলার শ্রীরামগাতি গ্রামে তার বাড়ি। এলাকার লোকজনের কাছ থেকে জানা যায়, মহির উদ্দিন এলাকার হাট-বাজারে ধনিয়া, জিরা, আদা, হলুদ, মরিচ, পিয়াজ, রসুন অর্থাৎ মসলা জাতীয় জিনিসপত্র বেচাকেনা করতো। হাটের দিন বাদে মহল্লায় ফেরি করেও বিক্রি করতো ওইসব মসলা-পাতি।
এর মধ্যদিয়েই তার দুই কন্যা ও একমাত্র ছেলে শহিদুল ইসলাম কাঁকনকে লেখাপড়া করিয়েছেন। 
১২/১৩ বছর আগে তৎকালীন ক্ষমতাসীন স্বৈরাচারী আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে এনবিআর-এ শহিদুল ইসলামের চাকরি হয়। আর ভাগ্যের চাকা ঘুরে যায়- পরিবারটির। ধীরে ধীরে শহিদুলের অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে থাকে। হয়ে উঠেন এনবিআর এর একজন ক্ষমতাধর কর্মকর্তা। যদিও পদ-পদবীতে অতোটা নয়। রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে পরিণত হন তিনি। 
শ্রীরামগাতি গ্রামে গিয়ে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা  যায়, শহিদুল ইসলাম তার নিজের ও পরিবারের লোকজনের নামে প্রায় শত বিঘা সম্পত্তি ক্রয় করেছেন। তৈরি  করছেন বিশাল এক ডেইরী ফার্ম। এক কোটি ৮০ লক্ষ টাকায় বাড়ির পাশে জমিসহ কিনেছেন মেহগণি গাছের বিশাল এক বাগান। বাড়িটা করেছেন দৃষ্টিনন্দন।
এছাড়াও, ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট ও গাড়ি কেনার তথ্য পাওয়া গেছে- এ বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। যা- ধারাবাহিক প্রতিবেদনের ২য় পর্বে তুলে ধরা হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার অনেকেই বলেন- এসবই করেছেন মহির উদ্দিনের ছেলে শহিদুল ইসলাম। অথচ তার বাবা সারা জীবন অভাবের সাথে লড়াই করে এসেছেন।
দৈনিক সকালের সময় এর অনুসন্ধানে আরো কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। শহিদুল ইসলামের হঠাৎ করে এত বড় উত্থানের পেছনের কাহিনী আরো ভয়ংকর। জানা যায়, চাকরী জীবনে একাধিক বন্দরে দায়িত্ব পালনকালে চোরা কারবারীদের সাথে তার বিশেষ সখ্যতা তৈরি হয়। এরই সুবাদে মোটা অংকের কমিশনের বিনিময়ে নিরাপদে পাচারকৃত পণ্য পারা-পারে সহযোগিতায় ব্যাপক অভিযোগ আছে তার নামে।
গ্রামের এক মুরুব্বি (নাম গোপন রাখার শর্তে) বলেন, শুনেছি "শহিদুল ইসলাম একবার ১০ কেজি স্বর্ণ চোরাচালানে সহযোগিতা করায় ধরা পড়েছিল। তখন শহিদুল ইসলাম গর্ব করে গ্রামের মানুষকে বলে বেড়াত যে, ১০ কেজি স্বর্ণে ধরা খাইছি, ২ কেজি স্বর্ণ বিক্রির টাকা দিয়ে সব ম্যানেজ করেছি, তাতে কি হয়েছে, বাকি ৮ কেজি তো আছে।" 
অভিযোগের প্রেক্ষিতে দৈনিক সকালের সময়-এর অনুসন্ধানী টিম শহিদুলের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে রাজশাহীতে তার অফিসে গেলে প্রথমে তিনি নিজের পরিচয় গোপন করেন। এক পর্যায়ে আমাদের টিম নিশ্চিত হয়ে তার মতামত জানতে চাইলে, তিনি অভিযোগসমূহ অস্বীকার করেন। সকল তথ্য প্রমাণের ছবি দেখানোর পর তিনি বলেন, এগুলো আমার না, আমার পরিবারের সম্পত্তি।" তখন তার বাবার অস্বচ্ছলতার কাহিনী তুলে ধরা হলে, তিনি আর কোন বলতে রাজি হননি।
অন্য আরেকটি সূত্র থেকে জানতে পারি, পদে খুব বড় না হলেও শহিদুলের হাত নাকি অনেক লম্বা। অনুসন্ধান কালে আমরা রাজশাহীতে তার কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে আসার কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ঢাকা থেকে একাধিক সাংবাদিক নেতা শহিদুলের পক্ষ নিয়ে নিউজটি না করার জন্য আমাদের নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করেন।

এমএসএম / এমএসএম

বিরুদ্ধে দুর্নীতি ছাড়াও নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগ

অঢেল সম্পদের মালিক এনবিআর কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম

অভিযুক্ত বিপ্লব কুন্ডুই তদন্ত কমিটির প্রধান

গার্ল গাইডস্রে টাকা মেরে দেয়ার অভিযোগ কাজী জেবুন্নেছার বিরুদ্ধে

জাইকার সহায়তায় ৯৮২ কোটি টাকায় হচ্ছে ভূমিকম্প সহিষ্ণু ভবন

বিটিসিএল’এ কোটি কোটি টাকার রাজস্ব অবৈধভাবে ভোগকারীরা পগার পার!

সিডিএ’র জনবল নিয়োগ: পরীক্ষা না দিয়েই পাশ!

নতুন নকশার ই-রিকশা বন্ধে উচ্চ আদালতে রিটপিটিশন

আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সচিবের চাঞ্চল্যকর নিয়োগ জালিয়াতি

নতুন নকশার ই-রিকশা বন্ধে উচ্চ আদালতে রিটপিটিশন

বেশি দামের গাছ কম দামে বিক্রি করায় তার নেশা

মামলা ও বিতর্কের মধ্যেই পদোন্নতি পেতে দৌড়ঝাপ, ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন বঞ্চিতরা

বিটিসিএল’র ডিজিএম মালেক ও ম্যানেজার রাব্বির দুর্নীতি চরমে