উপপরিচালকের স্বাক্ষরে বদলী অপরজনের স্বাক্ষরে বদলি বাতিল
বিআরটিএর ভাতিজা রফিক এর তোঘলতি বদলি বাণিজ্য
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) নুতন সরকার আসার সাথে সাথেই তোঘলকি কাণ্ডের ঘটনা ঘটানোর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। একজন উপ-পরিচালককে কয়েক ঘন্টা আগে বদলী করা হলেও অপর একজন উপ-পরিচালকের স্বাক্ষরে তা আবার বাতিলের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃস্টি হয়েছে।
সূত্র জানায়, বিআরটিএর এই একজন উপ-পরিচালকের বদলী করা ও বদলীর আদেশ বাতিলের ঘটনায় মোটা অংকের টাকার ঘুষ লেনদেন করা হয়েছে বলেও জল্পনা কল্পনা চলছে। অনেকেই বলেছেন, এই বলদী বাণিজ্যের নেপথ্যে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের প্রভাব বিস্তার করছে। আর এই সিন্ডকেটের সদস্যরা স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের ফ্যাস্টিস মন্ত্রী ওবায়দুর কাদের এর আস্তাভাজন ছিলেন।
গত ৭ মার্চ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এর উপ-পরিচালক (প্রশাসন) তানভীর আহমেদ সিদ্দিক এর স্বাক্ষরিত এক আদেশে স্বারক নম্বর ৩৫.০৩. - - -২৫.৪৯৮ এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির বিতর্কিত কর্মচারী মো. রফিকুল ইসলাম কে বিআরটিএর চট্টগ্রাম ঢাকা মেট্রো-৪ সার্কেল, ঢাকা হতে বিআরটিএর বিভাগীয় অীফস রাজশাহীতে বদলী করা হয়। তাকে প্রশাসনিক শৃঙ্খলার স্বার্থে বদলী করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
কিন্তু মাত্র একদিন পরই তার সেই বদলির আদেশ বাতিল করা হয়। অথাৎ গত ৯ মার্চ সেই আদেশ বাতিল রহস্যজনক কারণে করা হয়েছে বলে কর্মচারী কর্মকর্তাদের মাঝে আলোচনা সমালোচনা চলছে।
জানা গেছে, বিআরটিএ’র স্বারক নম্বর ৩৫প.০৩.- - - -২৫-৫২৫ এ স্বাক্ষর করেছেন বিআরটিএর অপর একজন উপ-পরিচালক (প্রশাসন) হেমায়েত উদ্দিন। এখানে প্রধান আলোচনার বিষয় হচ্ছে, কিভাবে একজন কর্মকর্তার আর্দেশ অন্য একজন কর্মকর্তা এতো দ্রুত সময়ের মধ্যে বাতিল করেন। ওই আদেশে বলা হয়েছে, বিআরটি এর কার্যালয়ের গত ৭ তারিখের স্বারক -৩৫.০৩.---২০১৪/৪৯৮-এর বদলি সংক্রান্ত আদেশটি এতদ্বারা বাতিল করা হয়েছে। উক্ত আদেশটি সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
আবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ এর দুর্নীতিবাজ হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত মো. রফিকুল ইলামের খুটির জোর কোথায় ? যে সামান্য কয়েক ঘটনার মধ্যেই তার সেই বদলির আদেশ ঠেকিয়ে উচ্চ-বাচ্চ্য করছেন। তাহলে কি লাখ লাখ টাকা ব্যায় করেছেন, যে অর্থের বিনিময়ে উক্ত বদলির আদেশ বাতিল করা হয়েছে ? তার বদলি নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ক্ষোভের সৃস্টি হয়েছে। তারা বলছেন, এভাবে বদলি আদেশ যদি কয়েক ঘন্টার মধ্যেই বাতিল করা হয়, তাহলে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সৎ ও কর্মঠ কর্মকর্তাগণ তাদের জনগণ এর সেবা প্রধানে বাঁধা গ্রস্থ হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআরটিএর একজন কর্মকর্তা জানান, একই পদের দুইজন কর্মকর্তার র্ভিন্ন ভিন্ন আদেশে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআ্রটিএ) চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। সাধারণত বদলী প্রক্রিয়ায় এমন ইউটার্ন এর ঘটানা সাধারণ কোন ঘটানা নয় বলে অনেকেই বলছেন। আর এই চাঞ্চল্যকর বদলী বাতিলের ঘটনা বিআরটি’র উচ্চপর্যায় থেকে তদন্ত কমিটি করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন অনেকেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম ওরফে “ভাতিজা রফিক”এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বদলি বাণিজ্য, রেজিস্ট্রেশন জালিয়াতি,ঘুষ-দুর্নীতি এবং দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। তার কথিত চাচার রাজনৈতিক প্রভাবকে পুঁজি করে তিনি কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ।
আওয়ামী লীগের ক্ষমতাসীন সময়ে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ দিয়ে রফিকুল ইসলাম বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকান্ডে পেছন থেকে অর্থায়ন করেছেন বলে জানা গেছে। গত ২০২৪ ইং সালের ১৪ ই অক্টোবর এক আদেশে তাকে ঢাকা মেট্রো-১ সার্কেল থেকে বরিশাল বিভাগীয় অফিসে বদলি করা হয়। এর আগেও, গত ২০১৫ ইং সালে চট্টগ্রাম মেট্রো সার্কেল-১ এ সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সিএনজি অটো-রিকশার নতুন রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার নামে উত্তরা মোটরসের ৮টি ডিলারের মাধ্যমে সাধারণ মালিকদের কাছ থেকে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে উঠে। সেই ঘটনায় মন্ত্রণালয়ে তদন্তও শুরু হয়।তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে তার চাকরি ঝুঁকিতে পড়ে। তবে কথিত চাচা,সাবেক মন্ত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের হস্তক্ষেপে তিনি সেই বিপদ থেকে রক্ষা পান। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলির পর রফিকুল ইসলাম বিভিন্ন বদলি বাণিজ্যের সাথে যুক্ত হয়ে যান।যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন, মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন,ফিটনেস-সব ক্ষেত্রেই তিনি দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঘুষ বাণিজ্য চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১ এ যোগদানের পর মিরপুর-১০ এর শাহাবাস্তি এলাকায় “শাহাবাস্তি বিজনেস সেন্টার” নামের অফিস গড়ে তোলেন।হারুন অর রশিদ ওরফে রুবেলের সাথে মিলিত হয়ে সেখানে একটি শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট তৈরি করা হয়।এই সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীরা দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়ে আসছিলেন। ২০২৪ ইং সালে তিনি সহকারী পরিচালক থেকে উপ-পরিচালক পদে পদোন্নতি পান। বর্তমানে তিনি বিআরটিএ সদর দপ্তরের উপ-পরিচালক (অপারেশন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং একই সাথে ঢাকা মেট্রো সার্কেল-৪ এর অতিরিক্ত দায়িত্বেও রয়েছেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থে তিনি আত্মীয়-স্বজনের নামে বিপুল সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন।রাজধানীর মগবাজারে আর এম মোটরস (রাইন রাজ্জাক প্লাজা) নামের মোটরসাইকেল শোরুম পরিচালনা করেন তার ছোট ভাই রিয়াজ।এ ছাড়া মগবাজারেরই আর.এম ইন্টারন্যাশনাল নামের আরেকটি মোটরসাইকেল শোরুম পরিচালনা করেন তার শ্যালক।এই দুই শোরুমও দালাল সিন্ডিকেটের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন রফিকুল ইসলামের বাল্যবন্ধু আসাদ।
আবার গত ২০১৬ ইং সালে ঢাকা জেলা সার্কেলে সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রফিকুল ইসলাম সিএনজি অটো-রিকশার রেজিস্ট্রেশনের নামে বড় ধরনের অনিয়মমূলক প্রক্রিয়া শুরু করেন।উত্তরা মোটরসের ডিলার আব্দুর রশিদ ওরফে বুলু (দ্বীন ইসলাম মোটরস) ও হাজী সুলতানের (সুলতান মোটরস) সহযোগিতায় ঢাকা জেলার নামে হাজারো সিএনজি অটো-রিকশা রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়।
স্বাধীনতার পর কখনোই ঢাকা জেলা থেকে বাণিজ্যিক সিএনজি অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়নি। কিন্তু রফিকুল ইসলামের সময় একেকটি রেজিস্ট্রেশনের জন্য ন্যূনতম ১ লাখ টাকা করে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ ওঠে। আর ২০১৯ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৫ হাজার সিএনজি রেজিস্ট্রেশন করিয়েছেন বলে জানা গেছে। অধিকাংশ মালিকই ঢাকা জেলার বাসিন্দা নন,বরং ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে ঢাকা মহানগরীর মালিকদের নামে এসব রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়-যা আইনগতভাবে সম্পূর্ণ অবৈধ।এতে রাজধানীতে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয় এবং সিএনজির দামও লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পায়।বদলি নয়,কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবহন সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগী বলেন “রফিকুল ইসলামের মতো অসাধু কর্মকর্তাদের শুধু বদলি করলেই হবে না।তাদের সাময়িক বরখাস্ত করে পরিবারের সদস্যদের নামে যেসব অবৈধ সম্পত্তির পাহাড় গড়ে তুলেছেন-তার সবগুলোর তদন্ত হওয়া জরুরি।তদন্ত হলেই থলের বিড়াল বের হয়ে আসবে”।বিআরটিএর মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাখাতে
দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের অনিয়ম,সিন্ডিকেটচক্র ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়।তবে রফিকুল ইসলামকে ঘিরে উঠা ধারাবাহিক অভিযোগগুলো আবারও প্রশ্ন তুলছে-কেবল বদলি করলেই কি দুর্নীতি বন্ধ হবে,নাকি প্রয়োজন কঠোর আইনগত ব্যবস্থা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহনের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মীর আহমেদ তারিকুল ওমর এর সেল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এমএসএম / এমএসএম
বিআরটিএর ভাতিজা রফিক এর তোঘলতি বদলি বাণিজ্য
চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মোল্লা রেজাউল করিম গিলে খাচ্ছে চট্টগ্রামের বনাঞ্চল
তথ্যপ্রাপ্তির আবেদনের প্রেক্ষিতে তথ্য প্রদানে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন বিপ্লব কুন্ডু
‘ফাঁসির মঞ্চ’ থেকে ফিরে সংসদে যাচ্ছেন যারা
এনবিআর সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের এত সম্পদের উৎস কোথায়
চট্টগ্রামে ফরেস্ট চেক স্টেশন ধুমঘাটে ডেপুটি রেঞ্জার ইলিছুর রহমান এর চাঁদাবাজি
বিরুদ্ধে দুর্নীতি ছাড়াও নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগ
অঢেল সম্পদের মালিক এনবিআর কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম
অভিযুক্ত বিপ্লব কুন্ডুই তদন্ত কমিটির প্রধান
গার্ল গাইডস্রে টাকা মেরে দেয়ার অভিযোগ কাজী জেবুন্নেছার বিরুদ্ধে
জাইকার সহায়তায় ৯৮২ কোটি টাকায় হচ্ছে ভূমিকম্প সহিষ্ণু ভবন
বিটিসিএল’এ কোটি কোটি টাকার রাজস্ব অবৈধভাবে ভোগকারীরা পগার পার!