ঢাকা সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

পেঁয়াজ কেলেঙ্কারিতে স্টান্ড রিলিজের পর বহাল তবিয়তে বনি আমিন খান


টি আই এস বিউটি photo টি আই এস বিউটি
প্রকাশিত: ১১-৫-২০২৬ দুপুর ১:৪৫

সরকারি চাকরিতে বদলির আদেশের পর নির্ধারিত সময়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করা সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত। বিশেষ করে “স্ট্যান্ড রিলিজ” হওয়ার পরও পূর্বের কর্মস্থলে অবস্থান করাকে সরকারি আদেশ অমান্য এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী বলে মনে করা হয়। এ ধরনের ঘটনায় বিভাগীয় ব্যবস্থা, সাময়িক বরখাস্ত কিংবা চাকরির অনিয়মিত হওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার বিধান রয়েছে।

তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) কর্মকর্তা বনি আমিন খানের ক্ষেত্রে ঘটেছে ভিন্ন চিত্র—এমন অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের একটি অংশের পক্ষ থেকে।
বদলির চারমাস পরও পুরোনো কর্মস্থলে অবস্থান। অভিযোগ রয়েছে, পেঁয়াজ আমদানি পারমিশন কার্যক্রমে অনিয়ম ও সিন্ডিকেট তৈরির অভিযোগের প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে বনি আমিন খানকে উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ের অতিরিক্ত উপপরিচালক (আমদানি) পদ থেকে হর্টিকালচার উইংয়ে (ফুল ও ফল) বদলি করা হয়।

কিন্তু স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়ার পরও তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করে আগের স্থানেই দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে নিয়োগ, পদায়ন ও বদলি বাণিজ্য ঘিরে তিনি নতুন একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলেও অভিযোগ করেন একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনলাইনে পেঁয়াজ আমদানির আবেদন কার্যক্রম চালু ছিল। এ সময়ে মোট ২ হাজার ৪৮৫ জন আমদানিকারক আবেদন করেন। এর মধ্যে প্রথম ধাপে মাত্র ৫০ জনকে অনুমতি দেওয়া হয়। প্রতিটি আইপির বিপরীতে সর্বোচ্চ ৩০ টন পেঁয়াজ আমদানির সুযোগ ছিলো।

অভিযোগ উঠেছে, সাবেক কৃষি সচিব এমদাদ উল্লাহ মিয়ার নির্দেশনায় সফটওয়্যারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫০ জনকে অনুমতি দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও একটি প্রভাবশালী চক্র সেই সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রণ করে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের অনুমতি পাইয়ে দেয়। ভুক্তভোগী কয়েকজন আমদানিকারকের দাবি, প্রতি পারমিশনের বিপরীতে প্রায় দুই লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্য, “যারা টাকা দিতে পেরেছেন, তারাই অনুমতি পেয়েছেন। পরিচিত কর্মকর্তা না থাকায় আমরা অনুমতি পাইনি।” সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এডিডি বনি আমিন খান, এডিডি সাব্বির আহমেদ ও সাজেদুল নামে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলে একটি শক্তিশালী গাজীপুর সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন। তারা সবাই গাজীপুরের বাসিন্দা হওয়ায় সাবেক সচিব এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের আশীর্বাদে দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, “অনলাইন আবেদন চালুর পর সাধারণ আবেদনকারীরা সার্ভারে ঢুকতেই পারতেন না। অথচ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ৫০ জনের কোটা পূরণ হয়ে যেত। এটি অনেকটা রেলের টিকিট কালোবাজারির মতো পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়েছে।” তার দাবি, সফটওয়্যার কোম্পানির প্রকৌশলীদের মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে সিস্টেমে জট তৈরি করে রাখা হতো। আরও অভিযোগ রয়েছে, বনি আমিন খানের বিরুদ্ধে তার সাবেক কর্মস্থল নরসিংদীর রায়পুরা, হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ এবং পটুয়াখালীর দশমিনা ও বাউফলে ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল।
সূত্রের দাবি, সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও হয়েছিল এবং পরে তিনি অর্থ ফেরত দেন। তবে সে সময় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি নিজেকে রক্ষা করেন বলেও অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বনি আমিন খানের সঙ্গে একাধিকবার টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি প্রথমে কল রিসিভ করলেও পরিচয় জানার পর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিমের সঙ্গে টেলিফোন ও ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকেও কোনো সাড়া মেলেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, অভিযুক্ত সিন্ডিকেট ভেঙে না দিলে ডিএইর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে বলেও জানান তারা।

এমএসএম / এমএসএম

পেঁয়াজ কেলেঙ্কারিতে স্টান্ড রিলিজের পর বহাল তবিয়তে বনি আমিন খান

জাগৃক এর প্রধান অফিস থেকে নথি গায়েব চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে অভিযুক্তকে বাঁচানোর চেষ্টা

মোবাইল অ্যাপে ঋণের ফাঁদ এক সপ্তাহেই অস্বাভাবিক সুদ, ‎দেরি হলেই হুমকি-হয়রানি

ড্রেজার ব্যবসায়ী সন্ত্রাসীদের কাছে কয়েক হাজার কৃষক জিম্মি

রায়ের কপি’ বেঁচে প্রতারকচক্র একেকজন কোটিপতি, প্রাইভেট সিএনজি অটোরিকসা কল্যাণ সমিতির

কাস্টমস’র বন্ড এর যুগ্ম কমিশনার কামরুলের বিরুদ্ধে সাংবাদিক নির্যাতনে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অভিযোগ

চাকরির প্রলোভনে কোটি টাকার প্রতারণা

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে নিয়োগ বাণিজ্যের কেলেঙ্কারি: খাতা রাখা হলো থানা হেফাজতে

ঢাকা দক্ষিণ ও পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেটে বহিরাগতদের নেতা সুকান্ত হালদার দৌরাত্ম্য

রায়ের কপি’ বেঁচে ‘প্রাইভেট সিএনজি মালিক কল্যাণ সমিতি’র নেতারা কোটিপতি

কেরানীগঞ্জে বিআরটিএ’র কর্মকর্তারা দালালদের মোবাইল ফোনেই সেবা প্রত্যাশীদের সমস্যা সমাধান করছেন

সরকারি স্টাফ ও দালাল সিন্ডিকেটে জিম্মি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ

শতকোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ : আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধ দুদকে আবেদন