শুল্কফাঁকি দিয়ে অ’বৈধ বাজাজ সিএনজি আমদানির নামে শত কোটি টাকার মালিক এখন হাজী আব্দুর রশিদ বুলু
অবৈধভাবে অনুমোদনবিহীন উচ্চক্ষমতার বাজাজ সিএনজি অটোরিকশা আমদানি, শুল্ক ফাঁকি ও অবৈধ রেজিস্ট্রেশনের নামে প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে হাজী আব্দুর রশিদ বুলু এখন শতকোটি টাকার মালিক।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাম্প্রতি এক অনুসন্ধানে এসব অনিয়মের তথ্য পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র একটি জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশে বাজাজ ব্র্যান্ডের অনুমোদিত সিএনজি থ্রি-হুইলারের ইঞ্জিন ক্ষমতা ১৯৮.৮৮ সিসি। এই প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে রানার অটোমোবাইলস পিএলসি ও উত্তরা মোটরস দেশে বৈধভাবে সিএনজি সংযোজন ও বাজারজাত করছে। দেশের ময়মনসিংহের ভালুকায় আধুনিক কারখানা স্থাপন করে রানার গ্রুপ ভারত থেকে যন্ত্রাংশ এনে স্থানীয়ভাবে এসব যানবাহন সংযোজন করছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘হালিমা রশিদ ট্রেডিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে ২৩৬.২ সিসির উচ্চক্ষমতার বাজাজ সিএনজি অটোরিকশা আমদানি করছে। অভিযোগ রয়েছে, সিসি ও পণ্যের মূল্য কম দেখিয়ে (আন্ডার-ইনভয়েসিং) শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে।
আর শুল্ক ফাঁকি অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে হাজী আব্দুর রশীদ বুলু ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মো. আল আমীন নামের এক ব্যক্তি গত ২১ মে দুদকের চেয়ারম্যান ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। উক্ত অভিযোগে বলা হয়েছে, হাজী আব্দুর রশিদ ওরফে বুলু প্রোপ্রাইটার ‘দ্বীন ইসলাম মোটরস’ মগবাজার-ঢাকা। তার সহযোগি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে, হালিমা রশিদ ট্রেডিং। অভিযুক্তরা আন্ডার ইনবয়েসিংয়ের মাধ্যমে বাজাজ সিএনজি আমদানীতে গত ২ বছরে প্রায় ৭ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন। গত ২০২৬ এর ৯ মার্চ এক চালানে প্রতি ইউনিট মাত্র ১.৫০০ ডলার মূল্য দেখিয়ে প্রায় ৭৪ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকি ও অর্থ পাচার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কাস্টমস ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৪ সাল থেকে গত ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত মোট ১৭টি চালানে ৭২৫ ইউনিট সিএনজি অটোরিকশা আমদানি করেছে রানার অটোমোবইল ও উত্তরা মোটরস। এতে বাংলাদেশ সরকারের প্রায় ৭ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে ওই সূত্রটি দাবি করেছেন। এতে প্রতি বছরভিত্তিক হিসাব মতে গত ২০২৪ সালে ২২ ইউনিট সিএনজি আমদানিতে প্রায় ২১ লাখ টাকা, ২০২৫ সালে ২৩৪ ইউনিটে প্রায় ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা এবং ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ৪৫১ ইউনিট আমদানিতে প্রায় ৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
আবার চলতি বছরের গত মার্চে ৭২ ইউনিট অটোরিকশার একটি চালানে প্রতি ইউনিট মাত্র ১,৫০০ মার্কিন ডলার মূল্য ঘোষণা করা হয়। তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের মূল্যায়ন ও বাজারদরের সঙ্গে তুলনা মতে প্রকৃত মূল্য আরও বেশি হওয়ার কথা ছিল। ওই এক চালানেই প্রায় ৭৪ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিস্টরা দাবি করেছেন।
জানা গেছে, রানার মোটরসাইকেলের ডিলার ও ব্যবসায়ী হাজী আব্দুর রশিদ ওরফে বুলু’র বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দালালি ও অবৈধ রেজিস্ট্রেশন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ মতে, বিভিন্ন সময় বিআরটিএর কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে অবৈধভাবে হাজার হাজার সিএনজি রেজিস্ট্রেশন করানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি করছেন, প্রতিটি সিএনজির বিপরীতে ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত অবৈধ অর্থ লেনদেন করা হয়েছে। এছাড়া এই অর্থ দিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে।
সরকারি নির্দেশনা মতে, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনো মোটরযান বিক্রি বা রাস্তায় নামানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। মোটরযান অধ্যাদেশ অনুযায়ী, এমন অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে জেল, জরিমানা এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বিধান রয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, দেশের রাজস্ব সুরক্ষা, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অবৈধ আমদানি ও রেজিস্ট্রেশন সিন্ডিকেট বন্ধে দ্রুত তদন্ত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে এনবিআর, বিআরটিএ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত পদক্ষেপের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
এ ব্যাপারে রানার অটোমোবাইলসের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) সনদ দত্ত বলেন, “২৩৬ সিসির ইঞ্জিন মূলত ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য। বাংলাদেশে এই মডেল অনুমোদিত নয়। অননুমোদিত উৎস থেকে এসব গাড়ি আমদানির ফলে বাজারে বাজাজ ব্র্যান্ডের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
আরেক সূত্র জানায়, ১০০টি বাজাজ সিএনজি অটোরিকসা তৈরী করতে রানারকে ৬ কনটেইনার পার্টস আমদানী করতে হয়। যার শুল্কায়নযোগ্য মূল্য হচ্ছে প্রায় কোটি ৬৮ লাখ টাকা । আর দেশের বাজারে সব ট্যাক্স ভ্যাট মিলিযৈ একটি বৈধ বাজাজের সিএনজি এর বিক্রয় মূল্য পড়ে প্রায় ৫ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। ২৩৬ ইঞ্জিনটি মূল্রক ভারতের অভ্যান্তনীন বাজারের জন্র বাংলাদেশে আমাদিন জন্য নয়।
জানা গেছে, হালিমা রশিদ ট্রেডিং বাজাজের অফিসিয়াল সোর্স থেকে পন্য আনছেনা, এধরণের অনুনমোদিত আমদানির ফলে বাজারের বাজাজ ব্যান্ডের সুনাম ও বাজার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
অপরদিকে ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১ মিরপুর বিআরটিএর অীপস যেনো ঘুষ দুর্নীতি ও অনিমমের আখাড়ায় পরিণত হয়েছে। মোটরযান পরিদর্শক আফজাল হোসেনের সেবামূলক মহানুভবতার সুপরিচিতির অন্তরালে চলছে অনিয়মই নিয়ম। দুপুরে পরিক্ষার্থীকে ফেল করানো হয়, আর সেই পরিক্ষার্থীকে সন্ধ্যায় আবার পাশ করানো হয়। এই নিয়ম এখন ব্যাপক জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান পেয়েছে। এজন্য নির্বিঘ্নে অদক্ষ নাম সই করতে পারেন না, এমন ব্যক্তিদের আবার হরহামেসায় লাইসেন্স পাচ্ছেন। ফলে দেশের সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে প্রতিনিয়ত শত শত মানুষ হতাহতের ঘটনা ঘটছে।
আর মোটরযান পরিদর্শক আফজাল হোসেন ঘুষ ও দুর্নীতি অনিয়মের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থে গড়ে তুলেছেন নামে বেনামে অবৈধ সম্পদের পাহাড়। প্রতি কর্মদিবসে ২০০ আবেদন লাইসেন্স এর জন্য তার টেবিলে জমা পড়ে। আর নবায়নের জন্য ১০০ থেকে ১১০টি আবেদন জমা পড়ে মোটরযান পরিদর্শক আফজাল হোসেনের টেবিলে। এতে প্রতিমাসে সরকারি খরচ বাদে তার লাখ লাখ টাকা আয় হচ্ছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ‘হালিমা রশিদ ট্রেডিং’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাজী আব্দুর রশিদ বুলু সঙ্গে যোগাযোগ করতে তার সেল ফোনে একাধিকবার কল করা হয়। একপর্যায়ে তিনি প্রতিবেদক এর সেল ফোনে কল করলে শুল্কফাঁকি ও দুর্নতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আইম ইনভেস্টর না আর আমদানিও করি না। ইনভেস্টর হচ্ছে, আমার চেরে দীন ইসলাম, সেই বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারবে। এরপর তার সেল ফোন নম্বরটি চাইলে তিনি জানান, তাকে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হবেনি।
এমএসএম / এমএসএম
শুল্কফাঁকি দিয়ে অ’বৈধ বাজাজ সিএনজি আমদানির নামে শত কোটি টাকার মালিক এখন হাজী আব্দুর রশিদ বুলু
যৌন সহিংসতা - সামাজিক অস্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার তীব্র সংকটে বাংলাদেশ
প্রাণীসম্পদ খাতকে রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপ দিতে কাজ করছে সরকার : শাহজামান খান
দলিল বাণিজ্যের অন্দরমহল
ঢাকার সড়কে "এআই নজরদারি": ডিজিটাল মামলার ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে ট্রাফিক চিত্র
ব্লাডব্যাংকের নামে মরন ফাঁদ, মিছে বাঁচার আশা
জালিয়াতির মাধ্যমে বিআরটিএ’র দালাল রুবেল এখন কোটিপতি
পেঁয়াজ কেলেঙ্কারিতে স্টান্ড রিলিজের পর বহাল তবিয়তে বনি আমিন খান
জাগৃক এর প্রধান অফিস থেকে নথি গায়েব চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে অভিযুক্তকে বাঁচানোর চেষ্টা
মোবাইল অ্যাপে ঋণের ফাঁদ এক সপ্তাহেই অস্বাভাবিক সুদ, দেরি হলেই হুমকি-হয়রানি
ড্রেজার ব্যবসায়ী সন্ত্রাসীদের কাছে কয়েক হাজার কৃষক জিম্মি
রায়ের কপি’ বেঁচে প্রতারকচক্র একেকজন কোটিপতি, প্রাইভেট সিএনজি অটোরিকসা কল্যাণ সমিতির