ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬

পুষ্টি, কর্মসংস্থান ও নারী উদ্যোক্তা তৈরি

নতুন সম্ভাবনার নাম মাশরুম


টি আই এস বিউটি photo টি আই এস বিউটি
প্রকাশিত: ২-৭-২০২৬ দুপুর ১:২১

একসময় যে মাশরুম ছিল অনেকের কাছে অপরিচিত একটি খাদ্য, সেটিই এখন দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং নারী উদ্যোক্তা তৈরির সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্য হিসেবে নতুন আশার নাম। অল্প জায়গা, কম খরচ ও স্বল্প সময়ে উৎপাদন সম্ভব হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাশরুম চাষ দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা পেয়ে বহু নারী ও তরুণ উদ্যোক্তা স্বাবলম্বী হচ্ছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় বাজারে পুষ্টিকর খাদ্যের জোগান বাড়ার পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পরিকল্পিতভাবে উত্তম কৃষি চর্চা অনুসরণ করে উৎপাদিত মাশরুম শুধু পরিবারের আয় বাড়াচ্ছে না, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনও আনছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, দারিদ্র্য হ্রাস, কৃষির বহুমুখীকরণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে আগামী দিনের অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত হতে পারে মাশরুম শিল্প।
সম্প্রতি প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম, গবেষণাগার ও মাশরুমের বিভিন্ন জাত সরেজমিনে ঘুরে দেখানোর পর সকালের সময়কে বলেন প্রকল্প পরিচালক ড. আখতার জাহান কাঁকন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মাশরুম একটি অসীম সম্ভাবনাময় ফসল। পুষ্টি, নিরাপদ খাদ্য এবং কর্মসংস্থানের জন্য এটি নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। আবাদি জমি ছাড়াই ঘরের ভেতর মাশরুম উৎপাদন সম্ভব হওয়ায় শিক্ষিত বেকার যুবক ও নারীদের জন্য এটি আয়ের একটি কার্যকর মাধ্যম। তিনি জানান, বর্তমানে মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, ৩৩টি হর্টিকালচার সেন্টার এবং দেশের ১৬০টি উপজেলায় প্রকল্পের কার্যক্রম চলছে। দেশের সব ৬৪ জেলাই এ কার্যক্রমের আওতায় রয়েছে।
ড. কাঁকন বলেন, প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য ছিল দেশের উপযোগী নতুন জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন। ২৫টি জার্মপ্লাজম সংগ্রহের লক্ষ্য থাকলেও ইতোমধ্যে ৩৫টি সংগ্রহ করা হয়েছে। নতুন ১৮টি উৎপাদন প্রযুক্তি এবং মোট ২৫-৩০টি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন ও উন্নয়ন করা হয়েছে। বিদেশ থেকেও কিছু প্রযুক্তি আনা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় ৭২০ জন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও ইতোমধ্যে ৬০০ উদ্যোক্তা গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি ১৮ হাজার দলভুক্ত চাষি তৈরি হয়েছে, যারা উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে স্পন সংগ্রহ করে মাশরুম উৎপাদন করছেন।
প্রকল্প পরিচালক বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় উদ্যোক্তারা সফলভাবে ওয়েস্টার, মিল্কি, কান ও ঋষি (রেইশি) মাশরুমের বাণিজ্যিক উৎপাদন করছেন। কেউ কৃষি পর্যটন গড়ে তুলেছেন, কেউ প্রক্রিয়াজাতকরণ, টিস্যু কালচার কিংবা রেস্টুরেন্টভিত্তিক ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। অনেক উদ্যোক্তা এখন নিজেরাই নতুন উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। প্রকল্প শেষ হলেও যেন বীজ উৎপাদন ও গবেষণা বন্ধ না হয়, সে জন্য ৩৩টি হর্টিকালচার সেন্টার ও মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউটকে মাতৃবীজ উৎপাদনের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে ভবিষ্যতেও সারাদেশে উদ্যোক্তাদের বীজ সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।
গবেষণার বিষয়ে ড. কাঁকন জানান, প্রতিবছর ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা গবেষণা খাতে ব্যয় করা হচ্ছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয়, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণার মাধ্যমে মাশরুমের উন্নয়নে কাজ চলছে। প্রতিবছর গবেষণার ফলাফল নিয়ে দুটি জার্নাল প্রকাশ করা হয় এবং ব্যবহার উপযোগী প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে নারীদের উদ্যোক্তা হওয়ার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মাত্র দুই হাজার টাকা বিনিয়োগ করেই একজন নারী মাশরুম চাষ শুরু করতে পারেন এবং প্রথম মাসেই প্রায় পাঁচ হাজার টাকা আয় করার সুযোগ রয়েছে।
ঔষধিগুণসম্পন্ন ঋষি (রেইশি) মাশরুম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি থেকে ক্যাপসুল, ট্যাবলেট, চা এবং প্রসাধনী তৈরি করা সম্ভব। এতে থাকা ট্রাইটারপিন নামক উপাদান ক্যানসারের টিউমার কোষের বৃদ্ধি প্রতিরোধে সহায়ক বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। এ খাতে শিল্প উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগেরও ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। মাশরুমকে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে অন্তর্ভুক্ত করতে পুষ্টিবিদ, চিকিৎসক, কৃষি তথ্য সার্ভিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার কথাও জানান তিনি। ‘মাশরুম রান্নাঘর’ নামে ইউটিউবভিত্তিক প্রচারণা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে ড. আখতার জাহান কাঁকন বলেন, প্রকল্পটি ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। তবে আমি চাই, এটি যেন শুধু প্রকল্পেই সীমাবদ্ধ না থাকে। হর্টিকালচার উইংয়ের মাধ্যমে স্থায়ী রাজস্ব বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করে কার্যক্রম চালু রাখা গেলে মাশরুম খাত টেকসই ভিত্তি পাবে। সরকারের পাশাপাশি গণমাধ্যমও যদি মাশরুমের পুষ্টিগুণ, ঔষধিগুণ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরে, তাহলে দেশে পুষ্টি উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানে এই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্পের সিনিয়র মনিটরিং কর্মকর্তা মো. নুরুজ্জামান বলেন, বর্তমানে প্রকল্পের কার্যক্রম দেশের ৩৩টি হর্টিকালচার সেন্টার এবং ১৬০টি উপজেলায় পরিচালিত হচ্ছে। হর্টিকালচার সেন্টারগুলো প্রকল্পের কনসেন্ট্রেশন সেন্টার হিসেবে কাজ করছে, যেখানে মাশরুমের মাদার স্পন (বীজ) উৎপাদন করা হয়। পরে সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন জেলার উদ্যোক্তাদের কাছে মাদার স্পন সরবরাহ করা হয়। তিনি বলেন, সাভারে অবস্থিত মাশরুম ইনস্টিটিউট থেকে দেশের সব উদ্যোক্তার কাছে সরাসরি বীজ পৌঁছে দেওয়া কঠিন। তাই জেলা পর্যায়ের হর্টিকালচার সেন্টারগুলোতেই মাদার স্পন উৎপাদন ও বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উদ্যোক্তা ও কৃষকরা সেখান থেকে স্পন সংগ্রহ করে মাশরুম উৎপাদন করছেন। তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় ৬০টি উপজেলায় মাঠ পর্যায়ে প্রদর্শনী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। উদ্যোক্তাদের জন্য মাশরুম ইনস্টিটিউটে ১০ দিনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা নিজ নিজ এলাকায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ৩০ জন করে দলভুক্ত কৃষক নির্বাচন করেন। নির্বাচিত কৃষকদের জন্যও দুই দিনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়, যা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট হর্টিকালচার সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়।
নুরুজ্জামান বলেন, একজন উদ্যোক্তার সঙ্গে ৩০ জন দলভুক্ত কৃষককে যুক্ত করে প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের সহায়তায় কৃষকদের কাছে স্পন প্যাকেট ও মাদার স্পন পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম উৎপাদনে অংশ নিতে পারেন। তিনি বলেন, সরকার সরাসরি কৃষকদের আর্থিক সহায়তা না দিলেও প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী বাস্তবায়ন এবং উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সহায়তা করছে। বর্তমানে উপজেলা ও হর্টিকালচার সেন্টার এই দুই স্তরে সমন্বিতভাবে প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। 
নারী উদ্যোক্তা মরিয়ম আক্তার লতা বলেন, ২০০৩ সাল থেকে তিনি মাশরুম নিয়ে কাজ শুরু করেন। তবে মাশরুমকে শুধু উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ জোরদার হয় ২০০৮ সালের পর। তিনি বলেন, বর্তমান প্রকল্প পরিচালক ড. আখতার জাহান কাঁকনের উৎসাহ ও দিকনির্দেশনায় মাশরুমভিত্তিক খাদ্যপণ্যের নতুন যাত্রা শুরু হয়। একসময় তাঁর প্রতিষ্ঠান শুধু মাশরুম উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং ‘নারায়ণগঞ্জ মাশরুম উন্নয়ন সেন্টার’ নামে পরিচিত ছিল। পরে তিনি উপলব্ধি করেন, শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, মানুষের খাদ্যাভ্যাসে মাশরুমকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এ চিন্তা থেকেই প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রথমে মাশরুমের বিস্কুট ও কেক তৈরি শুরু হয়। এরপর ধাপে ধাপে ২০০টিরও বেশি মাশরুমভিত্তিক খাদ্যপণ্য তৈরি করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৮টি ইতোমধ্যে রপ্তানিযোগ্য মান অর্জন করেছে।
লতা বলেন, ব্ল্যাক মাশরুম দিয়ে জেলি ও চাটনি তৈরির ধারণাও প্রকল্প পরিচালক ড. আখতার জাহান কাঁকনের কাছ থেকেই এসেছে। সেই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিয়ে নতুন পণ্য বাজারে আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, একসময় উদ্যোক্তাদের প্রধান প্রশ্ন ছিল, উৎপাদিত মাশরুম কোথায় বিক্রি হবে। এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে। মানুষ আর বলে না যে মাশরুম খায় না; বরং বলে, ‘মাশরুম পাওয়া যায় না।’ বর্তমানে তিনি সারা দেশের উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত প্রায় ৫০ শতাংশ মাশরুম কিনে থাকেন। নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, আড়াইহাজার, নরসিংদী, সিলেট, টাঙ্গাইল ও সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁর ১৫০টিরও বেশি উদ্যোক্তার মাধ্যমে বিক্রয়কেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া মাশরুমভিত্তিক খাদ্য উৎপাদনে যুক্ত প্রায় ৫৫০ জন উদ্যোক্তা তাঁর সঙ্গে কাজ করছেন। তিনি বলেন, তাঁর উদ্যোগে ৮০ শতাংশ নারী এবং ২০ শতাংশ পুরুষ কাজ করছেন। শুরুতে শুধু নারীদের নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা থাকলেও পুরুষদের আগ্রহের কারণে তাদেরও যুক্ত করা হয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, বাংলাদেশের নারীরা শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও মাশরুমভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের অবস্থান তৈরি করতে পারবেন।
সরকারের কাছে তাঁর প্রত্যাশা, দেশের প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি করে মাশরুম বিক্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলা হোক। তিনি বলেন, ‘আমি শুধু একজন মরিয়ম আক্তার লতা হতে চাই না; দেশের প্রতিটি জেলায় আরও অনেক লতা তৈরি হোক।
পুরুষ উদ্যোক্তা মেহেদী হাসান বলেন, শুরুতে মাশরুম সম্পর্কে আমার তেমন কোনো ধারণা ছিল না। নিজের আগ্রহ থেকে ছোট পরিসরে কাজ শুরু করি। পরে হর্টিকালচার সেন্টারের মাধ্যমে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ’ প্রকল্প সম্পর্কে জানতে পারি। উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ১০ দিনের উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। তিনি বলেন, প্রকল্প থেকে ল্যাব স্থাপনে সহায়তা, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, ফুড কার্ট এবং প্রায় তিন লাখ টাকার প্রণোদনা পেয়েছি। এসব সহযোগিতার কারণেই বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম উৎপাদন শুরু করতে পেরেছি।
মেহেদী হাসান জানান, মাশরুমের সবচেয়ে বড় সমস্যা এর স্বল্প সংরক্ষণকাল। এ কারণে অনেকেই চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। এই সমস্যা সমাধানে আমি মাশরুমের চিপস, ফ্রোজেন চপ, কাটলেট ও ড্রাই মাশরুমসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত পণ্য তৈরি শুরু করি। এর মধ্যে মাশরুমের চিপস বাজারে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এটি শিশুদের জন্যও নিরাপদ, কারণ এতে কোনো ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না।
তিনি বলেন, বর্তমানে আমার সঙ্গে প্রায় ৩০ জন চাষি যুক্ত আছেন। তারা আমার কাছ থেকে মাতৃবীজ নিয়ে মাশরুম উৎপাদন করেন এবং উৎপাদিত মাশরুম আমাকে বিক্রি করেন। পরে আমি সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করি। আমার পুরো টিমে নারী সদস্যরাই কাজ করছেন। এই প্রকল্পের সহযোগিতায় আমরা জাতীয় পর্যায়ের মেলায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। রংপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ঢাকার মতো বড় প্ল্যাটফর্মে এসে পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ পাওয়া আমাদের জন্য বড় অর্জন। প্রকল্প পরিচালক ড. আখতার জাহান কাকনের সহযোগিতা না থাকলে এই অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব হতো না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম ‘সকালের সময়’-কে বলেন, দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নিরাপদ খাদ্যের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি এবং বেকার যুবক-যুবতী ও নারীদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি এই তিনটি লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সরকার মাশরুম খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, মাশরুম অত্যন্ত পুষ্টিকর, নিরাপদ এবং পরিবেশবান্ধব খাদ্য। এতে উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ ও খাদ্যআঁশ রয়েছে, যা দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে মাশরুমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী, কৃষক সমাবেশ, গণমাধ্যমে প্রচার এবং উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি রাঙামাটিতে পাহাড়ি উদ্যোক্তাদের মাশরুম চাষ কার্যক্রম এবং বগুড়ায় নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদন কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ করে নারী ও তরুণদের মধ্যে মাশরুম চাষের প্রতি আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেক নারী ঘরে বসেই স্বল্প পুঁজি ও অল্প জায়গায় মাশরুম উৎপাদন করে পরিবারের আয় বাড়াচ্ছেন এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। এটি শুধু আয় বৃদ্ধিই নয়, নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
মহাপরিচালক বলেন, দরিদ্রতা হ্রাসে মাশরুম চাষ একটি কার্যকর আয়বর্ধক কর্মসূচি হিসেবে ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা, উন্নত মানের স্পন (বীজ) সরবরাহ এবং উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে এ খাতকে আরও সম্প্রসারণের কাজ করছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা এবং উৎপাদিত মাশরুমের বাজারজাতকরণে কার্যকর সংযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান প্রেক্ষাপটে মাশরুম চাষ একটি টেকসই কৃষি উদ্যোগ। এতে উর্বর জমির প্রয়োজন হয় না, কৃষি ও জৈব বর্জ্য ব্যবহার করে উৎপাদন সম্ভব এবং তুলনামূলকভাবে কম পানি ও কম খরচে ভালো ফলন পাওয়া যায়। ফলে এটি পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মাশরুম উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তিনি বলেন, সংরক্ষণ সুবিধার সীমাবদ্ধতা, বাজার সম্প্রসারণ এবং ভোক্তা পর্যায়ে সচেতনতার ঘাটতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। এসব সমস্যা সমাধানে কোল্ড চেইন উন্নয়ন, প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের বিকাশ, বাজার সংযোগ বৃদ্ধি এবং উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে কাজ চলছে। 
তিনি বলেন, শিক্ষিত বেকার ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য মাশরুম চাষ একটি সম্ভাবনাময় খাত। তাই তাদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাশরুমভিত্তিক ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প গড়ে তুলে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে মাশরুম চাষের বিস্তার ঘটিয়ে পুষ্টি উন্নয়ন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান মহাপরিচালক আব্দুর রহিম।

এমএসএম / এমএসএম

নতুন সম্ভাবনার নাম মাশরুম

বন কেটে বাউন্ডারি শহীদের সাম্রাজ্য

GAP-এর মাধ্যমে নিরাপদ কৃষি ও রপ্তানির নতুন দিগন্ত: বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের কৃষি

৩৩.৩৫ কোটিতে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের কন্ট্রোলার

মন্ত্রীর সঙ্গে দখলের তালিকায় দেশের শীর্ষ শিল্পগ্রুপ

বনবিভাগের মালি থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক বাউন্ডারি শহিদ

বন রক্ষকই যখন দখলের গডফাদার

বাস কোম্পানির চাঁদায় চলে এসপি অফিসের চা খরচ

ডিপফেক ও এআই প্রযুক্তি চ্যালেঞ্জে এমএস-১৩ গ্যাং এর আদলে অপরাধীরা সক্রিয়

বিসিকের অসংতিপূর্ণ টেন্ডার কার্যক্রম!

কুরিয়ারে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে জাল টাকা

শুল্কফাঁকি দিয়ে অ’বৈধ বাজাজ সিএনজি আমদানির নামে শত কোটি টাকার মালিক এখন হাজী আব্দুর রশিদ বুলু

যৌন সহিংসতা - সামাজিক অস্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার তীব্র সংকটে বাংলাদেশ