ভুয়া ডি নথি প্রদানকারী রুহুল আমিন আছেন বহাল তবিয়তে
মিথ্যা অভিযোগে অফিস সহায়ক ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে
দেশের আবাসন খাতের অন্যতম নিয়ন্ত্রক সংস্থা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (জাগৃক) এখন গভীর সংকটে। প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার পাশাপাশি আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙ্গে পড়েছে। গত প্রায় ১ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন চেয়ারম্যান মোসা. ফেরদৌসী বেগম । নথি গায়েব সংক্রান্ত বিষয়ে, সুষ্ঠু তদন্ত না হলেও ৭১ সালের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মিরপুর অফিসের অফিস সহায়ক মোঃ হাফিজ আল হোসেনের উপর দায় চাপিয়ে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন ও তার সিন্ডিকেট কে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে জাগৃক প্রধান কার্যালয়ের চক্রটি । জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) এর কার্যালয় থেকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ খেয়ে মূল নথি গায়েব করেন, প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এস্টেট) রুহুল আমিন ।
অনুসন্ধানের বেরিয়ে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য, দুটি চিঠি হাতে এসে পৌঁছেছে প্রতিবেদকের হাতে । যে চিঠি দুইটা জট খুলতে সহযোগিতা করবে প্রকৃত জালিয়াতি চক্রের প্রধান কে বা কারা ?
একটি চিঠি তে তৎকালীন মিরপুর অফিসের, প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এস্টেট) রুহুল আমিন
গত ২৯/০৬/২০২৫ ইং তারিখে স্মারক নম্বর-২৫.৩৮.২৬৪৮.৬০৬.৫৭.২০৬.২০২৩.৮৪৮ তে জাগৃকের চেয়ারম্যান বরাবর এবং দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়,পরিচালক ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ,জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ সেগুনবাগিচা ঢাকা বরাবর একটি একটি চিঠি প্রেরণ করেন ।
বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়,ঢাকার মিরপুরস্থ সেকশন-৬,ব্লক-সি,রোড-১১ এর ১ নং বাড়িটি হস্তান্তর ও নামজারির অনাপত্তি পত্রের আবেদন প্রসঙ্গে।
কিন্তু এখানে তিনি জালিয়াতির মাধ্যমে ২০২৫ সালে এসেও ২০২৩ সালের ডিজিটাল নং ব্যবহার করেন,এবং ৮৪৮ ইস্যু নং টি রেজিঃ খাতায় সঠিক ঠিকানা ৬সি,১১/১ না লিখে, ১২/সি১০/৪ ভুল ঠিকানা উল্লেখ করেন রুহুল আমিন সিন্ডিকেট । (ইস্যু রেজিঃ খাতার কপি সংরক্ষিত) উল্লেখ্য যে তখন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন সৈয়দ নুরুল বাশির ।
আরেক টি চিঠিতে দেখা যায়,
গত ২৭/১০/২০২৫ ইং তারিখে তৎকালীন মিরপুর প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এস্টেট) দপ্তরের হিসাব সহকারী, মোস্তাকিম হোসেন স্বাক্ষরিত,ডি নোটের মাধ্যমে, স্মারক নম্বর:২৫.৩৮.০০০০,০০০,৬০৬.৩৯.০০০২.২৫ উল্লেখ করেন, অফিস সহায়ক মোঃ হাফিজ আল হোসেন স্বাক্ষর জাল ও ভূয়া ইস্যু নম্বর দিয়ে প্রতিবেদন প্রেরণ করেছেন ।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, উপ-পরিচালক, ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা শাখা, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, সেগুনবাগিচা, ঢাকা কর্তৃক স্মারক নং- ৭৬০৪, তারিখঃ ২৫/০৮/২০২৫ ইং মূলে মিরপুরস্থ সেকশন-০৬,
ব্লক-ডি, লেন-০২, এর ১১ নং বাড়ির প্রতিবেদন অত্র দপ্তরে চাওয়া হয়।সে প্রেক্ষিতে জনৈক ফয়েজ অত্র দপ্তরে কর্মরত অফিস সহায়ক হাফিজ আল হোসেনকে প্রতিবেদনের চিঠি প্রদান করেন।
এখানে প্রশ্ন হলো কে এই ফয়েজ ? অফিসিয়াল চিঠি জনৈক ফয়েজ (কাল্পনিক একটি চরিত্র) কেন অফিস সহায়ক মোঃ হাফিজ আল হোসেনকে দিবেন ? অফিসিয়াল চিঠি তো আসার কথা ছিল অফিসিয়াল প্রসেসের মাধ্যমে ।কেনই বা ফয়েজের এখানে আগমন ঘটলো ?
ঐ একই দিনে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এস্টেট) রুহুল আমিন একই স্মারকের ডিজিটাল নাম্বার একই রেখে, ইস্যু নং ১৪০৯ দিয়ে তড়িঘড়ি করে চিঠি পাঠান সদস্য (অর্থ প্রশাসন) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর ।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিনের নেতৃত্বে সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট ভিত্তিহীন অভিযোগ , হামলা, বিচার বিভাগীয় মামলা, বদলি, সর্বশেষ সাসপেন্ড করে ও থেমে নেই এই চক্র । মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের চাকরি থেকে বের করে দেওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে চক্রটি ।
গত তিন মাস যাবত, দৈনিক সকালের সময় পত্রিকায় একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, দেশ টেলিভিশন একাধিক নিউজ প্রচার করেছে, তারপরও নেওয়া হয়নি রুহুল আমিন সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা ।
অথচ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান অফিস সহায়ক মোঃ হাফিজ আল হোসেন এর বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে একাধিক শাস্তি মূলক ব্যবস্থা ।
গত ৩০-১০ ২০২৫ ইং তারিখে তাকে ভুলে ভরা বদলির আদেশ দেওয়া হয় ।
২-১১-২৫ ইং তারিখে তাকে আরেকটি বদলির আদেশ দেওয়া হয়। ৯-১১-২৫ ইং তারিখে তাকে পুনরায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়, ১০-১১-২০২৫ ইং তারিখে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়, আবারো চিঠিতে ভূল হওয়ার কারণে ১০-১১-২০২৫ ইং তারিখে আরেকটি সাময়িক বরখাস্তের চিঠি দেওয়া হয় । গত ১০-১১-২০২৫ ইংরেজি তারিখে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব প্রদান করেন মোঃ হাফিজ আল হোসেন । ১১-১২-২০২৫ ইং তারিখে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার রুজু করা হয় । মামলা নম্বর ৩/২০২৫ । ১-২- ২০২৬ ইং তারিখের চেয়ারম্যানের রুমে হাজিরা, ২-৪-২০২৬ ইং তারিখে নির্বাহী প্রকৌশলীর রুমে শুনানি । ২-৪-২৬ ইং তারিখে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ অনুযায়ী মামলা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় । ২৬-৪- ২০২৬ ইং তারিখে আরেকটি বিভাগীয় মামলার রুজু করা হয় । মামলা নম্বর ২ /২০২৬ । ১০-৫- ২০২৬ ইং তারিখে বিভাগীয় মামলার জবাব প্রদান করেন অফিস সহায়ক হাফিজ আল হোসেন । ২৯-৪- ২০২৬ ইং তারিখে মারিয়া হকের কাছে শুনানি হয় । এত কিছুর পরও অফিস সহায়ক মোঃ হাফিজ আল হোসেন চাকরি ফিরে পেতে অফিসারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন । পরিবার-পরিজন নিয়ে অসহায় ভাবে জীবন যাপন করছেন ।
ওদিকে তড়িঘড়ি করে সিন্ডিকেট এর সকল সদস্যদের অন্যত্র বদলি করা হয়েছে । ৮-১২-২০২৫ ইং তারিখে রুহুল আমিনের বদলির আদেশ দেওয়া হয় । ৯-১২-২০২৫ ইং তারিখে শহিদুল্লাহ কে বদলি করা হয় । ২৪-১২-২০২৫ ইং তারিখে তাজুল ইসলাম কে বদলী করা হয় । তাদেরকে বদলি করেই মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে ।
এ বিষয়ে জানতে, মিরপুর প্রশাসনিক কর্মকর্তা (এস্টেট) দপ্তরের হিসাব সহকারী, মোস্তাকিম হোসেনের নিকট জানতে চাওয়া হয়, তিনি যে ডি নোট প্রদান করেছেন কি প্রমাণ আছে তার কাছে ? উত্তরে তিনি বলেন আমার কাছে কোন কিছুই নাই, তিনি বলেন রুহুল আমিন স্যারের নির্দেশে আমি চিঠি ইস্যু
এমএসএম / এমএসএম
মিথ্যা অভিযোগে অফিস সহায়ক ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে
মিরপুর কলেজের দেয়াল ধস: তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস ফেরদৌসী আহমেদ এমপির
মিরপুরে দেয়াল ধসে ২ জন নিহত
ন্যায্যভিত্তিক সমাজ গঠনে বিভাজনের বদলে ঐক্যের আহ্বান
নলতায় ফারজানার লাশ দেখে অজ্ঞান হন হত্যা মামলার সাক্ষী হামিদুল মোড়ল
টেন্ডার শেষ হওয়ার আগেই বরাদ্দ, নাফরিজা শ্যামার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের প্রস্তুতি: ORAT কার্যক্রম শুরুর তাগিদ
বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবসে ঢাকায় দ্বিতীয় মিয়াওয়াকি আরবান ফরেস্ট উদ্বোধন
খিলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী পাগলা সোহেল গ্রেফতার পর এলাকায় স্বস্তি মিলেছে
রাজউকের জোন-৭/১ এলাকায় মোবাইল কোর্ট: ১২ ভবনে অভিযান, ১৮টি বিদ্যুৎ মিটার জব্দ
অন্যায্যভাবে চাকরিচ্যুত ৫৬২ পুলিশ সদস্যের পুনর্বাহাল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি মানববন্ধন
স্বার্থান্বেষী মহলের অপপ্রচারের শিকার হচ্ছে জাতীয়তাবাদীর আদর্শের সৈনিক ওসি কামরুল হাসান