নুরুন্নবী দুর্নীতির মহাকবি
ভুক্তভোগীরা জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিস্টারের উপাধি দিয়েছে একেএম নূরুন্নবী দুর্নীতির মহাকবি। বিভিন্ন সুত্র বলছে জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিস্টার নুরুন্নবী গত ২ বছরে দুর্নীতি করে কমপক্ষে ২ শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অভিযোগ আছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন দুর্নীতিবাজ কর্মচারী নুরুন্নবীকে অপকর্মে প্রতিপোষণ দিয়েছে।
টাকা দিলে নতুন কোম্পানি বা সোসাইটি কিংবা সংগঠনের সরকারি নিবন্ধন পাওয়া যায় একদিনে। আবেদন দেয়ার একদিন পরেই ১ থেকে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দিলে পাওয়া যায় সংস্থা বা কোম্পানির অনুমতি। তবে ঘুষ না দিলে যতোই নিয়মতান্ত্রিক হোক কিংবা আবেদনকারী ক্ষমতাধর হোক কাউকে নিবন্ধন দেবে না রেজিস্টার নুরুন্নবী। এতেই ভুক্তভোগীরা যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর বা আরজেসির অফিস ভবন বা টিসিবি ভবনের দেয়ালে পোস্টারিং করেছে "রেজিস্টার একেএম নুরুন্নবী দুর্নীতির মহাকবি"। গতকাল সকলে পোস্টার দেখা গেলেও দুপুরে দেয়াল থেকে উধাও হয়েছে রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে ছড়ানো পোস্টার।
টিসিবি ভবন ১ নং কারওয়ান বাজারে বসেন দুর্নীতির এই মহাকবি। সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তিনি দুর্নীতি করেও হয়েছেন নাম্বার ওয়ান (১ নং)। তার কার্যালয়ের প্রায় সকল কর্মকর্তা কর্মচারী সরকারি সেবা দেয়ার আগে গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ টাকা ঘুষ লেনদেনের সাথে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। তবে, জয়েন্ট স্টকের সৎ কর্মকর্তা কর্মচারীরা গ্রাহকের সাথে সরাসরি টাকা লেনদেন না করে, দালাল চক্রের মাধ্যমে ঘুষ লেনদেন করে থাকে। ১নং কারওয়ান বাজার টিসিবি ভবনে বহু সরকারি বেসরকারি অফিসের ব্যবহারের জন্য বৃহৎ ৪টি লিফট থাকলেও শত-শত দালাল লাইন দিয়ে জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে চলাচল করে লিফটগুল সর্বদা ব্যাস্ত রাখে। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে সিঁড়ি দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
টিসিবি ভবনের নিচ তলা ও তার আশেপাশে কাব্যকস ভবন, তাজ ম্যানশন, এসি ভবন ছাড়াও কম্পিউটার নিয়ে ছড়িয়ে থাকা শতশত দালাল বসে থাকে জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিষ্ট্রেশন করিয়ে দেয়ার জন্য। দোকানের সামনে ঝুলে থাকা ব্যনারে লেখা আছে; "জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিষ্ট্রেশন কনসালটেন্ট ফার্ম"। টিসিবি ভবনের পেছনে পেট্রোবাংলা গলি বা কাঠপট্টির গলিতে এসি ভবন ৩/বি ঠিকানা বসে সোহাগ ভুঁইয়া। সোহাগ ভুঁইয়ার বসার স্থান একটি যতোটুকু তাতে ছোট্ট একটি প্লাস্টিকের চেয়ার বসবে কোনরকমে। তার ছোট্ট একটি চেয়ার ও কম্পিউটার নিয়ে বসার স্থান সামনে পেছনে এক গজ জায়গায় হবে। তার ভিজিটিং কার্ডে লেখা রয়েছে তিনি সিএফ কনসালটেন্সির উপদেষ্টা। ভবনের গলিতে মানুষ চলাচল করলে এই উপদেষ্টার বসার চেয়ারে ধ্বাক্কা লাগে। উপদেষ্টা সোহাগ ভুঁইয়া সেই স্থানে বসতে মাসিক ভাড়া দেয় ৩৫ হাজার। এর পরে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের টাকা দেয়া ছাড়াও অন্য অন্য খরচ করতে হয় তাকে। সোহাগ ভুঁইয়া বলেছেন তিনি ইউনুস সরকারের (ইন্টেরিয়াম সরকার) শুরু থেকে আজ পর্যন্ত কয়েকশো সোসাইটি ও কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন নেয়ার আবেদন করিয়েছে। চোর, ডাকাত, মাদকাসক্ত, চোরাকারবারি, ছিনতাইকারী, পলাতক আসামি, খুনি, বখাটে, হিরোইনখোর, (নতুন ভোটার হয়েছে এমন) নানাপ্রকার কিশোর অপরাধীরা নামে-বেনামে কোম্পানি ও সংগঠন রেজিষ্ট্রেশন করিয়ে নিয়েছে। সোহাগ ভুঁইয়ার বিকাশ নাম্বার চেক করলে বের হবে কতো লাখ টাকা লেনদেন হয় মাসে।
সোহাগ ভুঁইয়ার মতো শতশত দালাল ওঁৎ পেতে বসে আছে কম্পিউটার নিয়ে, নানাবিধ কনসালটেন্সি ফার্মের নাম দিয়ে। তাদের বক্তব্য গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই যাচাই-বাছাই করে না এই সুযোগ গ্রহণ করছে জয়েন্ট স্টকের লোকসহ সকলে। সবচেয়ে বেশি সুবিধাজনক অবস্থায় আছে জয়েন্ট স্টকের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। আবেদন দেয়ার সাথে সাথেই রেজিষ্ট্রেশন। শুধু দরকার হবে নগদ টাকা। সোহাগ ভুঁইয়া মতো শতশত উপদেষ্টা, পরিচালক, এমডি, প্রোপ্রাইটর পরিচয় দিয়ে একটি গঠনতন্ত্র সকল মানুষের প্রয়োজনে ব্যবহার করে। শুধু সোসাইটি বা কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে মালিকানা সংশোধন এবং উদ্যোক্তাদের নাম ছবি পরিচয় পরিবর্তন করেই নতুন সংস্থা বা কোম্পানির কাগজ তৈরি করে আবেদন জমা দেয়। জয়েন্ট স্টক কোম্পানির রেজিষ্ট্রেশন ব্যবস্থা করে দিতে এই কম্পিউটার অপারেটারদের ক্ষমতা লক্ষনীয়। তারা চাইলে এক দিনের মধ্যেই রেজিস্টেশন হয়। বেশি দিন লাগলে সর্বোচ্চ দুই দিন। নামের ছাড়পত্রের জন্য ২৩ শতো এবং রেজিষ্ট্রেশনের জন্য সরকারি ফি ১৮ হাজার, মোট ২০ হাজার পাচ শতো খরচ। সোসাইটির গঠনতন্ত্র ও কমিটির নাম ছবি সাজিয়ে দিতে কম্পিউটার অপারেটরেরা গ্রাহকদের নিকট থেকে নেয় ১৫ হাজার। টোটাল খরচ ৩৫ হাজার। ১৫ হাজার টাকা নিয়ে এক ঘন্টায় কাজ কমপ্লিট করে। ১৫ হাজার টাকার এই কাজ অন্য কোথাও করলে খরচ হওয়ার কথা সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা।
কম্পিউটার অপারেটর সোহাগ ভুঁইয়ার জবানবন্দিতে জানা জায় তিনি "বাংলাদেশ সার্ভেয়ার সোসাইটি" নামের একটি সংস্থার অনুমতি এনে দিতে ৭০ হাজার টাকা ঘুষ লেনদেনেরের সাথে যুক্ত হয়। সোহাগ ভুঁইয়া নিজে ওই সংস্থার সব ধরনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে জয়েন্ট স্টকে রেজিস্টেশনের জন্য আবেদন জমা দেয়। ২০২৬৩৯৭৩২৭ আবেদনটির সাবমিট নাম্বার। রেজিস্ট্রারের নিকট থেকে সংস্থাটির রেজিষ্ট্রেশন এনে দিতে পারবে এমন একজন সাংবাদিকের সাথে সোহাগ ভুঁইয়া কন্টাক্ট করে ৪০ হাজার টাকায়। বাংলাদেশ সার্ভেয়ার সোসাইটি নামের ওই সংস্থা অনুমতি নেয়ার ব্যাপারে করা কন্টাক্ট ২দিন পরেই প্রত্যাহার করে সোহাগ ভুঁইয়া ওই সাংবাদিককে জানায় লাইসেন্স হয়েগেছে। জুলাই এর ২ তারিখ বাংলাদেশ সার্ভেয়ার সোসাইটি জয়েন্ট স্টকের কম্পিউটার অপারেটর রিয়াজ উদ্দিনের টেবিলে পরীক্ষাধীন ছিলো। রিয়াজ উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করে জানাযায় তার টেবিল থেকে ফরোয়ার্ড করে যথাযথ কর্মকর্তার কাছে দেয়া হয়েছে। সংস্থাটির অনুমতিতে কোন ঘুষ লেনদেন হওয়ার ব্যাপারে এই কম্পিউটার অপারেটার কোন মন্তব্য করতে চায়নি।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য ; সজল নামের নারায়নগঞ্জের একজন বাসিন্দার সাথে সাক্ষাৎ হয়। তিনি বলেন তার জন্মস্থান এলাকা বরিশালের একটি গ্রামীণ উন্নয়ন সোসাইটির রেজিষ্ট্রেশনের জন্য তিনি এসে বহুরকম হয়রানির স্বীকার হয়েছেন। এক পর্যায়ে জয়েন্ট স্টক কোম্পানির নিবন্ধকের সহকারী খায়েরকে ৮০ হাজার টাকা দিয়ে তার সোসাইটি অনুমোদন পেয়েছে। ঘুষ নেয়ার অভিযোগের সত্যতা জানতে জয়েন্ট স্টেকের উচ্চমান সহকারী মোহাম্মদ আবুল খায়ের (পিএ টু রেজিস্ট্রার) কোন মন্তব্য করেনি। তার হটসঅ্যপে টেক্সট দিয়ে উত্তর জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে। একই দিনে মোঃ শামসুদ্দিন শামস নামের আরো একজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, জয়েন্ট স্টক কোম্পানির অধিকাংশ কর্মকর্তা কর্মচারী ঘুষ লেনদেনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। এরা এক হাতে টাকা নেয় অন্য হাতে রেজিষ্ট্রেশন দেয়। নিবন্ধক একেএম নূরুন্নবী কবির, রণজিৎ কুমার রায় উপ নিবন্ধক, যাদব কুমার পোদ্দার সহকারী নিবন্ধক, আবুল খায়ের পিএ টু রেজিস্ট্রার ছাড়াও কয়েকজন কর্মকর্তা শামসুদ্দিন শামসের কাছে সরাসরি টাকা চেয়ে বলেন, টাকা ছাড়া আসলে কোন সোসাইটি বা সংস্থার অনুমতি হয় না। রেজিস্ট্রার স্যারের নির্ধারিত খাম রাখতে হয়, এর পরেই রেজিষ্ট্রেশন। লেনদেন কম বা চাহিদা মাফিক না হওয়ায় এক পর্যায়ে শামসুদ্দিন শামসের সাথে আবুল খায়ের পিএ টু রেজিস্ট্রার বাদানুবাদে জড়িয়ে পরে। এই ভুক্তভোগী বলেছেন, তার সোসাইটির অনুমতির জন্য তিনি হাইকোর্ট যাবেন এবং জয়েন্ট স্টক কোম্পানির কর্মকর্তাদের দুর্নীতি তদন্ত ও বিচার চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অবহিত করবেন।
খুঁটির জোর: মন্ত্রণালয় সাংবাদিক ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আলম বলেন মন্ত্রণালয়ের অনেকেই জয়েন্ট স্টকের রেজিস্ট্রার নুরুন্নবীর নিকট থেকে কোটি কোটি টাকা ঘুষের অংশ গ্রহণ করে। নিয়মনীতি উপেক্ষা করে টাকা দিলেই কোম্পানি বা সংস্থা অনুমতির জন্য ঘুষ লেনদেনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের শুরু থেকে তার সংগঠনের অনুমোদন পেতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টিও শাখায় আবেদন করে অনুমতির জন্য। মন্ত্রী ও সচিব এবং টিও শাখার মহাপরিচালক সকলের কাছে যেতে যেতে বহু হয়রানি হওয়ার এক পর্যায়ে টিও শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব আশরাফুল সিদ্দিক স্বাক্ষরিত একটি পত্র পেয়েছেন সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আলম। চার মাস হয়রানির পরে পাওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে- জয়েন্ট স্টকের রেজিস্ট্রারের কাছে যেতে। জয়েন্ট স্টক রেজিস্ট্রার নুরুন্নবী তার সহকারী আবুল খায়েরকে দেখিয়ে ফয়সাল আলমকে বলেন তার সাথে যোগাযোগ রাখতে। পরের দিন আবুল খায়ের ১৪ লাখ টাকা চেয়ে ফয়সাল আলমকে জানিয়েছে আগামীকাল আপনার ফাউন্ডেশন রেজিষ্ট্রেশন হবে। এতে বিস্মিত হয়ে ফয়সাল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠি নিয়ে গেলাম, রেজিস্ট্রার মন্ত্রণালয়ের চিঠি গুরুত্ব দিলো না। বিষয়টি মন্ত্রণালয় সাংবাদিক ফোরাম এর সাধারণ সভায় উপস্থাপন করলে পরে খারিজ হয়ে যায়। টাকা দিয়ে সংস্থা অনুমতি নিতে আগ্রহী নয় তার কমিটির সদস্যরা।
১৪ লাখে সোসাইটির নিবন্ধন দেয়ার ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রেফারেন্স ব্যবহার করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সাংবাদিক ফোরাম অনুমতি চেয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টিও শাখায় আবেদন করেন ফয়সাল আলম। আবেদনের জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জয়েন্ট স্টকের রেজিস্ট্রারের কাছে যাওয়া অনুরোধ করলে ফয়সাল আলম ওই রেজিস্ট্রারের সহযোগিতা চায়। একদিন পরে ফয়সাল আলমকে ফোন করে রেজিস্ট্রার বলে, আপনার নামে অন্য এক সাংবাদিক অভিযোগ দিয়েছে তাই আপনার সংগঠন অনুমতি পেতে বিলম্ব হবে। এর পরের দিন আবু তালেব নামের একজন লোক এই সংস্থার অনুমতি দিতে পারবে বলে ১৪ লাখ টাকা দাবি করে। জয়েন্ট স্টকের পাশে "কাব্যকস" নামের একটি ভবনে আবু তালেবের অফিস রয়েছে। জয়েন্ট স্টক থেকে কোম্পানির অনুমতি পাইয়ে দিতে ক্লায়েন্টকে আইনি সহায়তা দিয়ে থাকেন এই আবু তালেব। ফয়সাল আলম বলছেন জয়েন্ট স্টকের চারপাশে এরকম শতাধিক আবু তালেব আছে, যারা রেজিস্ট্রার নুরুন্নবীর ঘুষ লেনদেনের সহযোগীতা করার জন্য অফিস খুলে বসছে। ফয়সাল আলম নিশ্চয়তা দিয়ে অভিযোগ পুনঃব্যক্ত করেছেন; রেজিস্ট্রার নুরুন্নবী ইশারা ইঙ্গিতে টাকা চেয়েছে।
ফয়সাল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টিও শাখার ডিজি যুগ্মসচিব মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল হায়দারকে নজরদারি করেছি তিন মাসের বেশি সময়। পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, সচিব দুর্নীতি করবেই এটা স্বাভাবিক। তবে তাকে নানাভাবে দুর্নীতির পথ দেখায় আশেপাশের কর্মচারীরা। সচিবের দুর্নীতির বড় সহায়তাকারী হচ্ছে দুর্নীতিবাজ কর্মচারী বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালক যুগ্মসচিব মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল হায়দার। বাণিজ্য সংগঠনের অনুমতি নিতে আসা লোকজনের নিকট থেকে এই মহাপরিচালক নানারূপের সুবিধা ও সহায়তা গ্রহণ করে। ফয়সাল আলম বলেন, তিনি সরকারের অসৎ কর্মচারী। তার দুর্নীতির পাল্লা খুবই ভার। তিনি রাষ্ট্রের সামান্য কর্মচারী হয়েও সর্বক্ষণ তার অফিস কক্ষ ভেতর থেকে লক করে রাখে। মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ এরিয়া রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টনীতে রয়েছে। যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত অফিস করেন। সেখানে একজন সামান্য যুগ্মসচিব নিজের কক্ষে ভেতর থেকে তালা দিয়ে রাখে। নাজমুল নামের একজন অফিস সহকারী মহাপরিচালকের কক্ষের দরজায় দাঁড়ানো থাকে সশস্ত্র বাহিনীর নিরাপত্তা কর্মীর স্টাইলে। এমন স্টাইলে দেখা যায় না কোন সচিবের নিরাপত্তা কর্মীকেও। মন্ত্রণালয়ে আরো শতাধিক যুগ্মসচিব আছে। সকলের কক্ষ সর্বসাধারণের জন্য স্বাভাবিক ভাবেই খোলা দেখা যায়। সেখানে প্রবেশ করা যায়, সেবা নেয়া যায়। কিন্তু এই মহাপরিচালক নিশ্চয়ই মহাদুর্নীতি করে আত্মরক্ষার জন্য এভাবে অফিস রূদ্ধ করে রাখে। কিছুদিন আগে তিনি এক মাসের বেশি সময় যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেছেন। কি কারনে এই দীর্ঘ ছুটিতে ছিলো সেই সম্পর্কে কেউ কিছু জানে না। এব্যাপারটা তার মন্তব্য নিতে মহাপরিচালক মোস্তফা জামাল হায়দারের সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে তার কক্ষে প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ও নিষিদ্ধ থাকায় তার সাথে সাক্ষাৎ করা সম্ভব হয়নি। মোবাইলে কল করলেও তিনি পরে কল ব্যক করবেন বলে সক্রিয় টেক্সট দেন। কিন্তু পরে আর কথা বলেন না।
রেজিস্ট্রারের বক্তব্য : টাকা নিয়ে সনদ কোম্পানি বা সোসাইটির অনুমতি দেয়ার অভিযোগ নিয়ে ২০ আগষ্ট বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় জয়েন্ট স্টকেক রেজিস্ট্রার নুরুন্নবী কবিরকে জিগ্যেস করলে তিনি বলেন; "আজ আমার চাকুরি জীবনের শেষ বৃহস্পতি। আপনি আরো কয়েকদিন ফোন করেছিলেন, ধরতে পারিনি অফিসে খুব বিজি থাকি। এই মুহুর্তে আমার সামনে ১০ লোক, ২টি হাত দিয়ে কাজ করি আরো ২টি হাত বেশি থাকলে আরেকটু বেশি কাজ করতে পারতাম। আমি আগামী রবিবার অফিস করবো না। সোমবার আসবো, সেদিন আপনি আসেন"। চলতি সপ্তাহে রেজিস্ট্রার নুরুন্নবী সরকারি চাকুরি থেকে অবসরে যাবেন। সুত্র বলছে, অবসরের সাথে সাথেই তিনি বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সকল প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। কিছুদিন আগে তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল কাগজ হারিয়ে যাওয়ার করা বলে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছে। বিজ্ঞাপনে দেখা যায় এ, কে, এম, নূরুন্নবী কবির (৫৮), পিতা: মোঃ জয়েন উদ্দিন, মাতা: মোসাঃ নুরজাহান বেগম, ঠিকানা (বর্তমান)-কাওরান বাজার টিসিবি ভবন, গ্রাম-কাওরান বাজার, ইউনিয়ন/ওয়ার্ড-ওয়ার্ড নং-নতুন-২৬ (পুরাতন-৩৯), থানা-তেজগাঁও, জেলা-ঢাকা। এস.এস.সি, সাল ১৯৮২, রোল নং - ৫৯৯০৯, রেজি: নং - ৪১২৫৯, এইচ.এস.সি সাল ১৯৮৪, রোল নং-১২৯২৬, রেজি: নং- ২৪১৪ উভয় ঢাকা বোর্ড এবং বি.এস.সি. (সম্মান), রসায়ন বিভাগ, সাল-১৯৮৭ এবং এম.এস.সি. সাল-১৯৮৮, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তেজগাঁও থানা জিডি নং: ১৮৬৯ তারিখ: ২৯/০৬/২০২৬। তার সরকারি সার্ভিস আইডি নং ৫৯১৪ ভোটার আইডি 19675611076707257
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দপ্তরের এক কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে বলছেন, জয়েন্ট স্টকের এ.সি.আর অত্যন্ত অসন্তোষজনক। কোন পক্ষ যদি মন্ত্রী পরিষদের কাছে অভিযোগ দেয় তা যথাযথ ভাবে বিশ্লেষণ করে দেখা হতে পারে। বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এ.সি.আর) হচ্ছে কোনো সরকারি কর্মচারীর কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন করে তার অব্যবহিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার প্রদত্ত প্রতিবেদন। শুধু কর্মদক্ষতা মূল্যায়নই নয়, এতে তার আচরণ, চরিত্র এবং সততা সম্পর্কেও সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ উল্লেখ করা হয়।
এমএসএম / এমএসএম
নুরুন্নবী দুর্নীতির মহাকবি
গণপূর্ত সচিবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট-প্লট জালিয়াতি ও তথ্য পাচারের অভিযোগ
শান্তিনগরে অনুমোদনহীন ১১ তলা ভবন
রোবটিক্স-অটোমেশনে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রস্তুতি
বন মামলার নথি বদল: সংবাদ প্রকাশের পর তদন্তের নির্দেশ
বঙ্গোপসাগর ঘিরে ভুরাজনীতিঃ বাংলাদেশ কী করবে?
ডিএইতে পরিবর্তনের চেষ্টা করেছি : মহাপরিচালক আব্দুর রহিম
বেবিচকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরউদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়: পদ আঁকড়ে কোটি কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ
নিরাপত্তা ঘাটতি, ক্ষতিপূরণহীন পরিবার আর অপূর্ণ সুপারিশ
সার সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ল বিএডিসির
নদী বন্দর শাখার সাবেক পরিচালক এ.কে এম আরিফ উদ্দিন নারী কেলেঙ্কারিতে বরখাস্ত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যেই অন্য বিভাগে পদায়ন
ই-জিপি ছাড়াই, মেট্রোরেলের টেন্ডার