মেট্রোরেলে টেন্ডার ছাড়াই নতুন চুক্তি
ঢাকা মেট্রোরেলে আউটসোর্সিং জনবল সরবরাহের চলমান চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে বৈষম্য এবং প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই নতুন একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে সেবা দিয়ে আসা বৈশাখী সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেডকে বাদ দিয়ে আইআইএফসি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে এমন অভিযোগ করেছে বৈশাখী কর্তৃপক্ষ। তবে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ বলছে, বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি প্রতিষ্ঠান আইআইএফসির সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে।
বৈশাখী সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেডের দাবি, মেট্রোরেলের প্যাকেজ-৩-এর আওতায় আগারগাঁও থেকে মিরপুর-১১ পর্যন্ত পাঁচটি স্টেশনে ২০২৩ সালের ৬ এপ্রিল থেকে তারা সুপারভাইজার, নিরাপত্তাকর্মী, ক্লিনার, ইলেকট্রিশিয়ান/প্লাম্বার হেলপারসহ বিভিন্ন ধরনের জনবল সরবরাহ করে আসছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ক্লিনিং যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামও সরবরাহ করছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের সঙ্গে চলমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত।
প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে, ২৮ আগস্ট ই-মেইলের মাধ্যমে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ তাদের চুক্তি নবায়ন না করার বিষয়টি জানায়। একই সঙ্গে ৩১ আগস্ট রাত ১২টার মধ্যে সেবা কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে বৈশাখী।
অন্যদিকে, একই সময়ে কার্যাদেশ পাওয়া এ.কে ট্রেডার্স প্যাকেজ-১ ও প্যাকেজ-২-এর আওতায় মিরপুর-পল্লবী থেকে ডিপো এলাকা পর্যন্ত সেবা কার্যক্রমের চুক্তি নবায়নের সুযোগ পেয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বৈশাখী। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের এবং এ.কে ট্রেডার্সের কার্যাদেশ ও চুক্তির মেয়াদ একই সময়ের হলেও চুক্তি নবায়নের ক্ষেত্রে দুই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভিন্ন আচরণ করা হয়েছে।
বৈশাখীর আরও অভিযোগ, তাদের চুক্তি নবায়ন না করে টেন্ডারে অংশ না নেওয়া আইআইএফসি নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা ও সমতার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির।
বৈশাখী কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, মেট্রোরেলে তাদের সরবরাহ করা সেবা সন্তোষজনক হওয়ায় কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি এবং ২০২৬ সালের ২৯ জুন দুটি সন্তোষজনক প্রত্যয়নপত্র দিয়েছে। এ কারণে পূর্বের সেবা অব্যাহত রাখার স্বার্থে তাদের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন বা মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ থাকার কথা বলছে প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে বৈশাখী সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেড দাবি করেছে, মেট্রোরেলের সেবা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তারা বাংলাদেশ কমিউনিটি ব্যাংক পিএলসি থেকে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে। চুক্তি নবায়ন না হলে প্রতিষ্ঠানটি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে এবং ঋণ পরিশোধেও সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
চুক্তি নবায়নের বিষয়ে বৈশাখী কর্তৃপক্ষ পিপিআর-২০২৫-এর বিধি ৯৯(৫)-এর উল্লেখ করে দাবি করেছে, সন্তোষজনকভাবে সেবা প্রদানকারী বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পূর্বের ন্যায় সরাসরি চুক্তি নবায়ন বা মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। তাদের প্রশ্ন, প্রতিযোগিতামূলক ক্রয়প্রক্রিয়া ছাড়া অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধান কীভাবে প্রযোজ্য হয়েছে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
তবে পিপিআর-২০২৫-এর সংশ্লিষ্ট বিধানের সঠিক প্রয়োগ, আইআইএফসির সঙ্গে চুক্তির ধরন এবং এ ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক ক্রয়প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না এসব বিষয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে চলমান সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া সন্তোষজনক প্রত্যয়নপত্রের পরও কেন তাদের বাদ দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হলো, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে মেট্রোরেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. শাওগাতুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
পরে মেট্রোরেলের পরিচালক (প্রশাসন) এ. কে. এম. খায়রুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মেট্রোরেলের জনসংযোগ কর্মকর্তার (পিআরও) সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। পিআরওর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মহাব্যবস্থাপক (স্টোর অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বোর্ড মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি কোম্পানি আইআইএফসির সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই।”
তবে বোর্ডের সিদ্ধান্তের ভিত্তি, চুক্তির ধরন, পূর্বের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের চুক্তি নবায়ন না করার কারণ এবং এ ক্ষেত্রে পিপিআর-২০২৫-এর কোন বিধান অনুসরণ করা হয়েছে,এসব বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
ফলে মেট্রোরেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিবহন ব্যবস্থায় আউটসোর্সিং জনবল সরবরাহের ক্ষেত্রে চুক্তি নবায়ন ও নতুন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির পুরো প্রক্রিয়াটি কতটা স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক এবং প্রচলিত সরকারি ক্রয়বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এমএসএম / এমএসএম
মেট্রোরেলে টেন্ডার ছাড়াই নতুন চুক্তি
মসলায় স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে বাংলাদেশ
প্রিন্সিপাল সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ
নুরুন্নবী দুর্নীতির মহাকবি
গণপূর্ত সচিবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট-প্লট জালিয়াতি ও তথ্য পাচারের অভিযোগ
শান্তিনগরে অনুমোদনহীন ১১ তলা ভবন
রোবটিক্স-অটোমেশনে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রস্তুতি
বন মামলার নথি বদল: সংবাদ প্রকাশের পর তদন্তের নির্দেশ
বঙ্গোপসাগর ঘিরে ভুরাজনীতিঃ বাংলাদেশ কী করবে?
ডিএইতে পরিবর্তনের চেষ্টা করেছি : মহাপরিচালক আব্দুর রহিম
বেবিচকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরউদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়: পদ আঁকড়ে কোটি কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ
নিরাপত্তা ঘাটতি, ক্ষতিপূরণহীন পরিবার আর অপূর্ণ সুপারিশ