ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্প
বন্ধ হচ্ছে না রেললাইন নির্মাণ
ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্পে রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও বিতর্ক থাকলেও প্রকল্পটি বন্ধ করার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) চেয়ারম্যান ড. মো. মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেছেন, প্রকল্পটির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সরকারের জন্য যেটি লাভজনক হবে, শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তই নেওয়া হবে।
সম্প্রতি দৈনিক সকালের সময়কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেন বিসিআইসি চেয়ারম্যান। রেললাইন প্রকল্পের নির্মাণকাজ বন্ধের জন্য কোনো একটি চক্র বিভিন্নভাবে বিতর্ক সৃষ্টি করছে-এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ড. মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, 'এটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, কাজ চলছে। আমরা তো বন্ধ করিনি। বিভিন্ন ধরনের আলোচনা হয়। বন্ধ করার জন্য সিদ্ধান্ত তো কোনো কিছু হয়নি। বিভিন্ন দিক আছে, সব বিষয়ে আলোচনা হবে। যাই হোক, সরকারের জন্য যেটা লাভজনক সেটাই করা হবে। পজিটিভ-নেগেটিভবলার আসলে সুযোগ নেই। তিনি বলেন, প্রকল্পটির কাজ অনেকটাই ধীরগতিতে চলছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বয় ও
অগ্রগতির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
পিডির অসহযোগিতার অভিযোগ: রেললাইন প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন ধরে চলছে এবং প্রকল্প পরিচালক মো: সাইদুর রহমানের অসহযোগিতার কারণে কাজের গতি কমেছে-নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজনের এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিসিআইসি চেয়ারম্যান বলেন, 'কাজটা তো ডেলিগেটেড ওয়ার্ক। সে কাজ করে আমাকে বুঝিয়ে দেবে। আমরা তাদের বরাদ্দ দিয়েছি, অনেক আগে দেওয়া হয়েছে। কাজটা উনারা করবেন। আমাদের তো কিছু করণীয় নেই। আমাদের কাছে সহযোগিতা চাইলে তখন আমরা সহযোগিতা করব। আমরা রেডি টু কো-অপারেট। তিনি আরও বলেন, কাজটি সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে ডেলিগেট করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব তাদেরই। প্রকল্পটি
শেষ পর্যন্ত বাতিল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে বিসিআইসি চেয়ারম্যান বলেন, 'সত্য-অসত্য আমি এই মুহূর্তে কিছু বলতে পারব না। বিভিন্ন ধরনের আলোচনা হয়। এটা করলে আসলে আমাদের লাভ হবে কি না-সেটা দেখা হচ্ছে। যদি লাভজনক হয়, অবশ্যই সরকার সেটা করবে। এটা তো একটি চলমান কাজ।' রেলপথের পরিবর্তে সড়ক ও নৌপথে সার পরিবহনে বেশি ব্যয় হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হলে তিনি বলেন, পরিবহন ব্যবস্থার ব্যয় ও সুবিধাসহ সংশ্লিষ্ট সব বিষয় বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সার পরিবহনে 'এক ছটাকও' গায়েব হওয়ার সুযোগ নেই: কারখানা থেকে সার পরিবহনের সময় ট্রাক থেকে সার গায়েব হয়ে যাওয়ার অভিযোগ বা এমন
ঘটনা শোনা যায়-এমন প্রশ্নের জবাবে বিসিআইসি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে সার পরিবহনে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা রয়েছে। তার দাবি, এক ছটাক সারও গায়েব হওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, 'আপনাকে আমি এতটুকু বলতে পারি যে এক ছটাকেরও হিসাব আমরা রাখছি। আমাদের সার যখন কারখানা থেকে বের হচ্ছে, সেখানেও আমাদের মনিটরিং আছে। কতটুকু ব্যাগ হচ্ছে, কতটুকু প্রোডাকশন হচ্ছে, কতটা ব্যাগ যাচ্ছে, কোথায় যাচ্ছে-এটা প্রতিদিনই মনিটরিং হয়। যেখানে যাচ্ছে, সেখানে রিসিভ করছে কি না, সেটাও মনিটরিং হয়।'
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে প্রতি মাসে বস্তা গুনে হিসাব মিলিয়ে দেখা হবে। অতীতে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। তবে বর্তমানে এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলে জানান।
'যদি কখনো আপনারা শোনেন যে গায়েব হয়েছে বা কোনো প্রমাণ থাকে, তখন আপনারা দেখবেন কী ধরনের স্ট্রং অ্যাকশন নেওয়া হয়'-বলেন তিনি।
দুই-তিন ঘণ্টায় পুরো কারখানা বোঝা সম্ভব নয়: ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বিসিআইসি চেয়ারম্যান বলেন, তিনি সেখানে প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা অবস্থান করেছেন। তবে এত অল্প সময়ে একটি বড় কারখানার সার্বিক কার্যক্রম পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, 'আসলে দুই-তিন ঘণ্টায় তো সবকিছু সম্ভব না বোঝা। একটা ফ্যাক্টরিতে অনেকগুলো অ্যাক্টিভিটি থাকে। পুরোটা একদিনে বোঝা খুব কঠিন। তবে পরিদর্শনে কারখানার উৎপাদন, ব্যাগিং ও ডিস্ট্রিবিউশনসহ সার্বিক কার্যক্রম আপাতত সন্তোষজনক বলে মনে হয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, 'সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আমাদের প্রোডাকশন রেকর্ড যে অ্যাটেইনেবল লিমিটের মধ্যে আছে। প্রোডাকশনের পর ব্যাগিং, ডিস্ট্রিবিউশন-সবকিছুই ঠিক দেখছি। আপাতত কোনো সমস্যা দেখছি না।'
স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার প্রতিশ্রুতি: বিসিআইসির দায়িত্ব পালনে সরকারি আইন, বিধি ও নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করা হবে বলে জানান চেয়ারম্যান ড. মো. মাহমুদুর রহমান।
তিনি বলেন, 'বিসিআইসিতে আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা, সরকারের আইন-কানুন ও নিয়মের মধ্যে চলবে বিসিআইসি-এটাই প্রথম কথা। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, কাউকে ফেভার করা বা আত্মীয়করণ হবে না। অফিস চলবে অফিসের নিয়ম অনুযায়ী।'
বিসিআইসির উন্নয়ন কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। নতুন প্রকল্প গ্রহণের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। সরকারের নীতির আলোকে বিসিআইসি কাজ করবে।
তিনি বলেন, 'ব্যবস্থাপনার দিক থেকে কোনো ধরনের নিয়মকানুনের ব্যত্যয় হবে না। আমাদের যারা কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন, অবশ্যই শতভাগ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করব আমরা।'
৩৪ বাফার গুদাম প্রকল্পের কাজ সময়ের মধ্যেই শেষ করার লক্ষ্য: সাক্ষাৎকারে ৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণ প্রকল্প নিয়েও কথা বলেন বিসিআইসি চেয়ারম্যান।
তিনি জানান, প্রকল্পটির উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে এবং কোন গুদাম কখন হস্তান্তর করা হবে, সে বিষয়ে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, 'আমরা টার্গেট করে দিয়েছি কবে কোনটা হ্যান্ডওভার করবে। আমাদের ডিসেম্বরের মধ্যে কয়টা করতে পারবে, ওইভাবে টার্গেট করে দিয়েছি। আমাদের আরও দেড় বছরের মতো সময় আছে। আমরা চেষ্টা করব প্রজেক্টের মেয়াদের মধ্যে শেষ করতে।' প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে। ৩৪টি গুদাম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হস্তান্তর করা সম্ভব কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণের সময় মামলা হলে কাজের গতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে বিষয়টি আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
তিনি বলেন, 'কিছু জায়গায় দেখা গেল আমরা জমি অধিগ্রহণ করতে গেলাম, সেখানে একটা মামলা হলো। তখন তো এটা আমাদের হাতে থাকে না, চলে যায় কোর্টে। কোর্টের ওপর তো আর কোনো কিছু করার নেই। কোর্ট যা সিদ্ধান্ত দেবে, সেই অনুযায়ী চলতে হবে।' তবে এসব জটিলতা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার জন্য শতভাগ চেষ্টা থাকবে বলে জানান তিনি।
লালমনিরহাটে বাফার গুদামের কাজ পরিদর্শন: ৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় লালমনিরহাট জেলার একটি গুদামের নির্মাণকাজ সরেজমিনে পরিদর্শনের কথা জানিয়ে বিসিআইসি চেয়ারম্যান বলেন, সেটি ডিসেম্বরের মধ্যে হস্তান্তরের লক্ষ্য রয়েছে। তিনি সাংবাদিকদেরও বাফার গুদাম নির্মাণ প্রকল্পের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শনের আহ্বান জানান। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'অবশ্যই আপনারা পরিদর্শন করবেন। আমাদের কোনো দুর্বলতা নেই। আপনাদের দেখাতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। আপনারা আসেন। প্রয়োজনে আমিও সঙ্গে যাব। তিনি আরও বলেন, 'অনেক সময় ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত অনেক কিছু ঘটে যায়। যদি কোনো দোষত্রুটি থাকে, অবশ্যই আপনারা বলবেন। কেউ দোষী হলে কাউকে ফেভার করার কোনো সুযোগ নেই-সে যেই হোক। বিসিআইসি চেয়ারম্যান বলেন, তিনি দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখবেন। অতীতে যেসব প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানেও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সব মিলিয়ে ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানার রেললাইন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত তা বন্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রকল্পটির অর্থনৈতিক সুবিধা, পরিবহন ব্যয় এবং সরকারের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিসিআইসি চেয়ারম্যান।
এমএসএম / এমএসএম
বন্ধ হচ্ছে না রেললাইন নির্মাণ
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ
পাটের অতিরিক্ত সচিব রায়না চক্রের জুলুম
নেত্রীর পাশে আঠারো বছর: একজন শিমুল বিশ্বাসের আস্থা ও আনুগত্যের গল্প
দুবাই, কুয়েত, বাহরাইন, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব থেকে স্বর্ণ পাচারে কাজ করছে ৫০ মাফিয়া
চাকুরীর বয়স শেষ তবুও প্রধান প্রকৌশলী হতে মরিয়া গণপূর্তের আবুল খায়ের!
বাণিজ্যিক চাষে কাজু-কফির সম্ভাবনা
মাসে দেড়শ' কোটি টাকা যাচ্ছে অমুক্তিযোদ্ধার পেটে
সরকারি চাকরিজীবীদের স্বস্তি, জনজীবনে দুঃখের বোঝা
রেলওয়ের মেগা প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ
দুধ-মাংস-ডিমে বদলাবে চরবাসীর জীবন
মেট্রোরেলে টেন্ডার ছাড়াই নতুন চুক্তি