প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর
সাময়িক বরখাস্ত উঠতেই বেপরোয়া পশু ডাক্তার মিঠু
বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার সাবেক কিউরেটর ও বর্তমানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. আতিকুর রহমান মিঠু সাময়িক বরখাস্ত থেকে অব্যাহতি পেয়েই ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, আর্থিক অনিয়ম ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী আচরণের কারণে অধিদপ্তর জুড়ে এখন তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর তার গতিবিধি ও আচরণ আরও অস্বাভাবিক রূপ নিয়েছে, যা পুরো অধিদপ্তরের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ঈদুল আজহার আগে জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে প্রায় ৪২ লাখ টাকা লুটপাট, দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা এবং বিশেষ একটি সাদা রঙের মহিষের নাম প্রদান সংক্রান্ত অনিয়মসহ নৈতিক স্খলনের অভিযোগে ডা. মিঠুকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্ত ও বরখাস্তকাল শেষে সম্প্রতি রহস্যজনকভাবে তার বহিষ্কারাদেশ
প্রত্যাহার করা হয়। চাকরি ফিরে পেয়েই তিনি নতুন করে স্বরূপে আবির্ভূত হয়েছেন বলে অভিযোগ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।
ডা. মিঠুর ব্যক্তিগত জীবনও নানা বিতর্কে ভরা। জানা গেছে, এ পর্যন্ত তিনি তিনটি বিয়ে করেছেন। তার প্রথম স্ত্রীও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে কর্মরত। প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থাতেই তিনি একাধিক অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন, যার ফলে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, প্রথম স্ত্রীর ঘরে থাকা নিজের সন্তানদের কোনো খোঁজখবর নেন না এবং ভরণপোষণও দেন না তিনি। পরবর্তীতে দ্বিতীয়
বিয়ে করলেও একই কারণে সেই সংসার ভেঙে যায়। বর্তমানে তিনি তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করলেও কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের (কেআইবি) ডরমেটরিতে নারীদের নিয়ে নিয়মিত রাতযাপন ও মাদক সেবনের মতো অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
তার রাজনৈতিক অতীত অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ভর্তি হয়েই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি কৌশল বদলে জাতীয়তাবাদী সাজার চেষ্টা
সাময়িক বরখাস্ত
করেন। বিগত ১৭ বছর জাতীয়তাবাদী পেশাজীবীদের কোনো আন্দোলনে বা কর্মকাণ্ডেও তার উপস্থিতি ছিল না। অথচ বর্তমানে নিজের বাড়ি 'বগুড়া' পরিচয় দিয়ে তিনি বড় মাপের জাতীয়তাবাদী নেতা হিসেবে নিজেকে জাহির করছেন। রাজনৈতিক নির্যাতনের দোহাই দিয়ে তিনি ফায়দা নেয়ার চেষ্টা করলেও ইতিহাস বলছে ভিন্ন কথা। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৬ সালে তার বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় মামলা হয়। অনুসন্ধান অনুযায়ী, তৎকালীন সময়ে একটি ভেড়া বিতরণ কর্মসূচির দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও সেখানে না গিয়ে তিনি বাসায় ঘুমিয়েছিলেন। অসৎ আচরণ, অফিসে চরম অবহেলা ও উশৃঙ্খলতার কারণেই মূলত মামলা দুটি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে পুরো ঘটনাটি গোপন করে তিনি রাজনৈতিক ভুক্তভোগী সাজার অপচেষ্টা করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের একাধিক কর্মকর্তা গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, ডা. মিঠুর অস্বাভাবিক আচরণ ও চলাফেরা পুরো ডিপার্টমেন্টের জন্য চরম লজ্জাজনক। তার এই বেপরোয়া ভাব বন্ধ করতে এবং সরকারি চাকুরির শৃঙ্খলা ফেরাতে জাতীয়তাবাদী আদর্শের পরীক্ষিত কৃষিবিদরা তাকে জরুরি ভিত্তিতে ছুটি নিয়ে কোনো মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি এবং মনস্তত্ত্ববিদের (সাইকিয়াট্রিস্ট) পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রতিবেদনে উল্লেখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে ডা. আতিকুর রহমান মিঠুর সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেন।
৪২ লাখ টাকা লুটপাট ও সাদা মহিষ বিতর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, "মহিষটি আমি নিজে নারায়ণগঞ্জ থেকে এনেছি। তার দেখাশোনা, ঘর বানানো-সব আমি করেছি। তাহলে অবহেলা করলাম কোথায়? রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করে আমাকে এভাবে বরখাস্ত করা হয়েছিল।"
রাজনৈতিক নির্যাতনের কারণে তার সংসার ভেঙেছে দাবি করলেও, 'একই স্টেশনে পোস্টিং থাকা সত্ত্বেও কেন সম্পর্কের অবনতি হলো'-এমন প্রশ্নের মুখে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং প্রতিবেদকের ওপর চড়াও হন। প্রথম স্ত্রীর সন্তানদের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, "প্রতিমাসে তাদের খরচের টাকা পাঠাই এবং দেখাও করি।” কেআইবি ডরমেটরিতে নারী ও মদপানের অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, "আমি জীবনে মদ খাইনি, মদ কী জিনিস তা ছুঁয়েও দেখিনি। সিগারেটও খাই না। আপনারা কেআইবিতে এসে কৃষিবিদদের জিজ্ঞেস করবেন ডা. মিঠু কেমন মানুষ। সততা আমার বিশেষ বৈশিষ্ট্য।" নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, "আমি আগাগোড়াই জাতীয়তাবাদী লোক। বিগত আওয়ামী লীগের সময় আমাকে নির্যাতন করা হয়েছে, পাহাড়-পর্বত এলাকায় পোস্টিং দিয়ে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আমি যদি ক্ষমতার দাপট দেখাতাম, তবে আমার পোস্টিং বরিশালে হতো না।”
এমএসএম / এমএসএম
সাময়িক বরখাস্ত উঠতেই বেপরোয়া পশু ডাক্তার মিঠু
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা, জনমতের প্রতিফলন এবং সরকারের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার সফলতা
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘কফি শপ’ নামে মাদক সেবীদের আশ্রম করেছে গণপূর্ত
সাবেক শ্রমিক লীগ নেতাদের পদায়ন ও পদ বাণিজ্যের অভিযোগ
অনাবাদি জমিতে রোজেলা চাষে নতুন সম্ভাবনা
বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষে ফ্যাসিবাদের দোসর উপপরিচালক শাহরিয়ার আল হাসান এর অসীম দৌরাত্ম!
ধানমন্ডির অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পুরাতন ঢাকা ক্যাম্পাস শিশু শিক্ষার্থীকে শারীরিক নির্যাতন করার অভিযোগ
দূর্যোগে ঘুরে দাঁড়াবে কৃষি
মাশরুম চাষে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন
কৃষি ব্যবসায় যুক্ত হচ্ছে ২০ হাজার উদ্যোক্তা
বিআরটিএর দুর্নীতিবাজ সুব্রত দেবনাথের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ দায়ের
নোমান গ্রুপের সুনাম নষ্ট ও ক্ষতি করতে সংঘবদ্ধ চক্র মাঠে