অনাবাদি জমিতে রোজেলা চাষে নতুন সম্ভাবনা
বাংলাদেশের কৃষিতে নতুন অর্থকরী ফসল হিসেবে সম্ভাবনা তৈরি করছে রোজেলা বা চুকুর। পুষ্টিগুণ, আকর্ষণীয় লাল রং এবং বহুমুখী ব্যবহারের কারণে ফসলটি কৃষক ও উদ্যোক্তাদের আগ্রহ বাড়াচ্ছে। রোজেলা থেকে চা, জুস, জ্যাম, জেলি, আচার ও চাটনিসহ বিভিন্ন মূল্য সংযোজিত পণ্য তৈরির সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি এর পাতা পোল্ট্রি খাদ্যে ব্যবহারের উপযোগিতা নিয়েও গবেষণা চলছে। ফসলটির বাণিজ্যিক চাষ সম্প্রসারণ, নতুন জাত
উদ্ভাবন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে প্রায় ১০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআর-আই)। 'সকালের সময়'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিজেআরআইয়ের মহাপরিচালক ক ষিবিদ ড. নার্গীস আক্তার এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের এক বিজ্ঞানীর উদ্যোগে রোজেলা নিয়ে গবেষণা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে এর পুষ্টিগুণ ও খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা সামনে আসায় গবেষণা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। গবেষণা থেকে খাদ্যোপযোগী জাত উদ্ভাবন: বিজেআরআইয়ের মূল কাজ পাট ও পাটজাত বিভিন্ন প্রজাতি নিয়ে গবেষণা করা। দেশি ও তোষা পাটের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি হাইবিস্কাস গোত্রের মেস্তা ও কেনাফ নিয়ে কাজ করে। মেস্তার কিছু জাত আঁশ উৎপাদনে ব্যবহৃত হলেও অন্য কিছু জাতের পাতা ও মাংসল বৃতি খাদ্য হিসেবে উপযোগী। রোজেলা বা চুকুর বাংলাদেশে মেস্তা নামেও পরিচিত।
মহাপরিচালক বলেন, রংপুরে কর্মরত বিজেআরআইয়ের এক বিজ্ঞানীর উদ্যোগে রোজেলা নিয়ে কাজ এগিয়ে যায়। পরে ড. ফজল মোল্লা ও তাঁর সহযোগীরা এর পুষ্টিগুণ বিশ্লেষণ এবং চা হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করেন।
প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্য মেস্তার এম-৭১৫ সারি থেকে বিশুদ্ধ সারি নির্বাচন ও প্রজনন গবেষণার মাধ্যমে সবজি হিসেবে ব্যবহারযোগ্য জাত উন্নয়নের কাজ হয়েছে। ২০১০ সালে জাতীয় বীজ বোর্ডের মাধ্যমে বিজেআরআই মেস্তা-২ নামে একটি জাত অবমুক্ত করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত মেস্তার পাঁচটি জাত উদ্ভাবন করেছে বলে জানিয়েছে। এর মধ্যে বিজেআরআই মেস্তা-২ বা ভেজিটেবল মেস্তা-১ এবং বিজেআরআই মেস্তা-৪ বা ভেজিটেবল মেস্তা-২ সবজি হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী।
বর্তমানে লাল রঙের খাদ্যোপযোগী সবজি মেস্তা-১ বা ভিএমএস-১ কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে বলে জানান মহাপরিচালক। সবুজ রঙের একটি ধরন নিয়েও গবেষণা চলছে, যা পানিতে ফুটালে হালকা গোলাপি পানীয় তৈরি করে। হলুদ, কমলা ও বেগুনি রঙের ধরন উদ্ভাবনেও প্রজনন গবেষণা চলছে। চা থেকে জ্যাম-জেলি, বহুমুখী ব্যবহারের সুযোগ: রোজেলার সবচেয়ে পরিচিত
ব্যবহার এর মাংসল বৃতি থেকে তৈরি পানীয়। শুকনো বৃতি গরম পানিতে ফুটিয়ে টক স্বাদের লালচে চা তৈরি করা যায়। স্বাদ বাড়াতে এতে মধু বা লেবুর রস যোগ করা সম্ভব। এ ছাড়া জুস, জ্যাম, জেলি, আচার, চাটনি ও অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য তৈরির সুযোগ রয়েছে। বিজেআরআইয়ের ফাইবার কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট বিভাগের পোস্টহারভেস্ট প্রসেসিং শাখার বিজ্ঞানীরা এসব পণ্যের প্রস্তুতপ্রণালি, সংরক্ষণ ও পুষ্টিগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে কাজ করছেন।
রোজেলার বৃতিতে অ্যান্থোসায়ানিন, ফেনলিক যৌগ, ফ্ল্যাভোনয়েড, জৈব অ্যাসিড ও ভিটামিন সি-সহ বিভিন্ন উপাদান পাওয়া যায়। এর কিছু উপাদান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যকারিতার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে রোজেলা চা পান করলে ডায়াবেটিস, ক্যানসার বা হৃদ্রোগ প্রতিরোধ হবে কিংবা ওজন কমবে-এমন দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য আরও নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ প্রয়োজন।
কৃষকের আয় ও উদ্যোক্তা তৈরির সম্ভাবনা: উপযুক্ত জমি নির্বাচন, উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং নিশ্চিত বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে রোজেলা কৃষকের বাড়তি আয়ের উৎস হতে পারে। বাড়ির আঙিনা, জমির আইল ও উপযোগী পতিত জমিতে এর চাষ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। বিজেআরআইয়ের উদ্যোগে কৃ ষকদের মধ্যে চাষ ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ চলছে। কুদ্দুস আলী, চিলমারী এলাকার কৃষক এবং নাটোরের শহিদুল ইসলামের মতো উদ্যোক্তা ও চাষিরা এ কাজে যুক্ত হয়েছেন।
তবে সব অনাবাদি জমিতে সমান ফলন পাওয়া যাবে কিংবা চাষে ব্যয় খুব কম হবে-এমন ধারণার ভিত্তি নেই। জমির ধরন, বীজ, শ্রম, পরিচর্যা, সেচ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ, ফসল সংগ্রহ ও শুকানোর ব্যয় হিসাব করেই লাভ নির্ধারণ করতে হবে।
রোজেলা ঘিরে উদ্যোক্তা তৈরির উদাহরণও রয়েছে। সরবরাহ করা তথ্য অনু-যায়ী, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের তিন শিক্ষার্থী ২০১৭ সালে প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে যুক্ত হন। পরে তাঁরা ক্যালিক্স ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করে রোজেলা চা উৎপাদন শুরু করেন।
উদ্যোক্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, পাবনার সাঁথিয়ায় চার বিঘা জমিতে চাষ করে প্রায় ৩ দশমিক ৫ টন কাঁচা ক্যালিক্স সংগ্রহ করা হয়েছিল। প্রক্রিয়াজাতকরণের পর শুকনো ক্যালিক্স পাওয়া যায় প্রায় ৩২০ কেজি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ১২ লাখ টাকা। তবে এটি নিট মুনাফা নয়; উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন ও বিপণন ব্যয় বাদ দিয়ে প্রকৃত আয় হিসাব করতে হবে। উদ্যোক্তারা বিজেআরআইয়ের বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে সহযোগিতা পেয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
মান নিয়ন্ত্রণ ও বাজারব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ: রোজেলা চা বাজারজাত করতে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ। মহাপরিচালক জানিয়েছেন, পণ্যটির মান এবং ভারী ধাতুসহ বিভিন্ন বিষয় পরীক্ষা করা হয়েছে; বিএসটিআইয়ের অনুমোদনসংক্রান্ত প্রক্রিয়াও এগিয়েছে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদন বা সনদ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের নামে সনদের অবস্থা এবং প্রযোজ্য মান যাচাই করা প্রয়োজন।
বিজেআরআইয়ের নিজস্বভাবে কৃষকদের কাছ থেকে রোজেলা কেনা কিংবা সারা দেশে বাজারজাত করার ব্যবস্থা নেই। তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সংযোগ তৈরির উদ্যোগ রয়েছে। ফলে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি স্থায়ী ক্রেতা, প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠান এবং কার্যকর বিপণনব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
পোল্ট্রি খাদ্যে পাতার ব্যবহার নিয়ে গবেষণা: রোজেলার আরেকটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র পোল্ট্রি খাদ্য। সরবরাহ করা তথ্যমতে, বিজেআরআই ও বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে রোজেলা ও কেনাফ পাতার পুষ্টিমান, ফাইটোকেমিক্যাল উপাদান এবং পোল্ট্রি খাদ্যে ব্যবহারের উপযোগিতা নিয়ে গবেষণা করছে।
এতে পাতার ফেনোলিক যৌগ, ফ্ল্যাভোনয়েড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদানের পাশাপাশি ট্যানিন, ফাইটেট, অক্সালেট ও স্যাপোনিনের মতো অ্যান্টি-নিউট্রিশনাল উপাদানও বিবেচনা করা হচ্ছে। এসব উপাদানের পরিমাণ, পাতা সংগ্রহ ও শুকানোর পদ্ধতি এবং খাদ্যে ব্যবহারের মাত্রা পোল্ট্রির পুষ্টি ও উৎপাদন দক্ষতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষণায় ব্রয়লারের খাদ্য গ্রহণ, ওজন বৃদ্ধি, ফিড কনভার্সন রেশিও (এফ-ি সআর), পুষ্টি হজম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অবস্থা এবং মাংসের গুণগত মান বিশ্লেষণের কথা রয়েছে। ফল ইতিবাচক হলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পাতা বিকল্প খাদ্য উপাদান হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে গবেষণার ফল পাওয়ার আগে একে ভুট্টা বা সয়াবিন মিলের সরাসরি বিকল্প কিংবা উৎপাদন ব্যয় কমানোর প্রমাণিত উপায় বলা যাবে না।
লবণাক্ততা সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবনের উদ্যোগ: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও উপকূলীয় অঞ্চলে ফসলের বৈচিত্র্য বাড়াতেও রোজেলা ভূমিকা রাখতে পারে। বিজেআরআই নতুন জাত উদ্ভাবন, রোগবালাই প্রতিরোধ এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে গবেষণা করছে। বিশেষ করে খুলনা, পটুয়াখালী ও সাতক্ষীরার মতো লবণাক্ততাপ্রবণ অঞ্চলের উপযোগী জাত উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মহাপরিচালকের দেওয়া তথ্যে ৮ ও ১২ ডিএস মাত্রার লবণাক্ততা সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবনের লক্ষ্যের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে এখানে লবণাক্ততার একক, পরীক্ষার পরিবেশ এবং মাটি না পানির লবণাক্ততা বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। পরীক্ষাগারে সহিষ্ণুতা দেখানো এবং মাঠপর্যায়ে স্থিতিশীল ফলন পাওয়া এক বিষয় নয়; তাই মাঠপর্যায়ের পরীক্ষার ফল গুরুত্বপূর্ণ।
বাণিজ্যিকীকরণে ১০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব: রোজেলার উৎপাদন ও ব্যবহার সম্প্রসারণে প্রায় ১০ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ড. নার্গীস আক্তার। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে নতুন জাত উদ্ভাবন, কৃষক পর্যায়ে চাষ সম্প্রসারণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং বাজার সংযোগ জোরদারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো আর সরকারি অনুমোদন পাওয়া এক নয়। প্রকল্পের মেয়াদ, বরাদ্দ, অর্থ ছাড়, বাস্তবায়ন এলাকা ও লক্ষ্যমাত্রা সরকারি নথি থেকে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
রোজেলাকে বাণিজ্যিক ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠায় মানসম্মত বীজ, কৃষকের প্রশিক্ষণ, উৎপাদন ব্যয় ও লাভের হিসাব, নিরাপদ প্রক্রিয়াজাতকরণ, মান নিয়ন্ত্রণ, পণ্যের নিবন্ধন এবং নিশ্চিত ক্রেতা-সবকিছুর সমন্বয় জরুরি। কৃষকেরা যাতে চাষের আগে সম্ভাব্য ক্রেতা, ক্রেত প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যয় ও বিক্রয়মূল্য সম্পর্কে ধারণা পান, সে ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে।
বিজেআরআইয়ের জাত উন্নয়ন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ গবেষণা, বিএলআরআইয়ের সঙ্গে পোল্ট্রি পুষ্টি বিষয়ে যৌথ কাজ এবং উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ রোজেলাকে বহুমুখী কৃষিপণ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে এর দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে গবেষণার ফল মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ, পরীক্ষিত ফলন, উৎপাদন ব্যয়, বাজারদর এবং কৃষকের প্রকৃত নিট আয়ের ওপর।
এমএসএম / এমএসএম
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা, জনমতের প্রতিফলন এবং সরকারের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার সফলতা
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ‘কফি শপ’ নামে মাদক সেবীদের আশ্রম করেছে গণপূর্ত
সাবেক শ্রমিক লীগ নেতাদের পদায়ন ও পদ বাণিজ্যের অভিযোগ
অনাবাদি জমিতে রোজেলা চাষে নতুন সম্ভাবনা
বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষে ফ্যাসিবাদের দোসর উপপরিচালক শাহরিয়ার আল হাসান এর অসীম দৌরাত্ম!
ধানমন্ডির অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পুরাতন ঢাকা ক্যাম্পাস শিশু শিক্ষার্থীকে শারীরিক নির্যাতন করার অভিযোগ
দূর্যোগে ঘুরে দাঁড়াবে কৃষি
মাশরুম চাষে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন
কৃষি ব্যবসায় যুক্ত হচ্ছে ২০ হাজার উদ্যোক্তা
বিআরটিএর দুর্নীতিবাজ সুব্রত দেবনাথের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ দায়ের
নোমান গ্রুপের সুনাম নষ্ট ও ক্ষতি করতে সংঘবদ্ধ চক্র মাঠে
বন্ধ হচ্ছে না রেললাইন নির্মাণ