ঢাকা সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাণিজ্যিক চাষে কাজু-কফির সম্ভাবনা


টি আই এস বিউটি photo টি আই এস বিউটি
প্রকাশিত: ৬-৯-২০২৬ বিকাল ৬:১

দেশের পার্বত্য ও সম্ভাবনাময় অঞ্চলে কাজুবাদাম ও কফি চাষ সম্প্রসারণে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। উৎপাদন ও সম্প্রসারণকে মূল লক্ষ্য ধরে বাস্তবায়িত ‘কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর মাধ্যমে চাষের আওতা প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেড়েছে। প্রকল্প শুরুর আগে যেখানে কাজুবাদাম ও কফি চাষের আওতা ছিল প্রায় ২ হাজার হেক্টর, সেখানে প্রকল্প শেষে তা বেড়ে প্রায় ৭ হাজার হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৬০ হাজার কৃষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং গড়ে উঠেছে প্রায় ১১ হাজার বাগান। তবে এখনই প্রকল্পের চূড়ান্ত সাফল্য নির্ধারণ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক শহিদুল ইসলাম। তাঁর মতে, কাজুবাদাম ও কফি দীর্ঘমেয়াদি ফসল হওয়ায় বাণিজ্যিক উৎপাদনের পূর্ণ সুফল পেতে আরও অন্তত তিন থেকে চার বছর অপেক্ষা করতে হবে। ইতোমধ্যে কয়েক বছর আগে রোপণ করা গাছগুলোতে উৎপাদন শুরু হলেও সেগুলোকে এখনো পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদন বলা যাচ্ছে না।
প্রকল্প পরিচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য ছিল কাজুবাদাম ও কফির উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ—দুই দিকেই কাজ করা। উৎপাদন এলাকা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের মধ্যে এ দুটি ফসলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা তৈরি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ২ হাজার হেক্টর থেকে ৭ হাজার হেক্টরের মতো এলাকায় চাষ সম্প্রসারণ করা। সেই লক্ষ্যমাত্রা আমরা অর্জন করতে পেরেছি। কিন্তু উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিষয়টি ধাপে ধাপে এগোবে। বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসতে গাছের পাঁচ-ছয় বছর পর্যন্ত সময় লাগে।
শহিদুল ইসলাম আরও বলেন, আজ থেকে তিন-চার বছর আগে যে গাছগুলো লাগানো হয়েছে, সেগুলো এখন উৎপাদনে আসছে। তবে এগুলোকে এখনই বাণিজ্যিক উৎপাদন বলা যাবে না। গাছের বয়স ও পরিপক্বতার সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন বাড়বে। তাই প্রকল্পের প্রকৃত প্রভাব বুঝতে আরও তিন-চার বছর অপেক্ষা করতে হবে।
৬০ হাজার কৃষককে প্রশিক্ষণ: প্রকল্পের আওতায় উপজেলা পর্যায়ে প্রায় ৬০ হাজার কৃষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১১ হাজার বাগান গড়ে উঠেছে। কৃষকদের বাগান ব্যবস্থাপনা, চাষাবাদ ও পরিচর্যার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৬০ হাজার কৃষকের প্রশিক্ষণ হয়েছে। প্রায় ১১ হাজার বাগান হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে উপকারভোগী ও প্রশিক্ষণার্থীদের নির্বাচন করা হয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে।
কৃষকের আয় বাড়ার ইঙ্গিত: কাজুবাদাম ও কফির বাজার সম্প্রসারণের কারণে কৃষকের আয়ও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগে কাঁচা কাজুবাদাম প্রতি কেজি প্রায় ৪০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা প্রায় ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে কফির দাম আগে যেখানে প্রায় ৮০ টাকা ছিল, বর্তমানে তা ২০০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তবে প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকের আয় কত শতাংশ বা কত টাকা বেড়েছে—এমন নির্দিষ্ট হিসাব এখনই দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
শহিদুল ইসলাম বলেন, আগে যে কাঁচা কাজুবাদাম ৪০ টাকা দরে বিক্রি হতো, এখন সেটি প্রায় ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কফি আগে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হতো, এখন ২০০ থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এতে বোঝা যায় কৃষকের আয় বাড়ছে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে আয় বৃদ্ধির ক্যালকুলেশন এখনই দেওয়া সম্ভব নয়।
পার্বত্য অঞ্চলে অনাবাদি জমিতে চাষাবাদ: প্রকল্পটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল দুর্গম পার্বত্য এলাকায় কাজুবাদাম ও কফি চাষের সম্প্রসারণ। বিশেষ করে যেসব এলাকায় আগে কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রম পৌঁছানো কঠিন ছিল, সেসব এলাকায় গিয়ে কৃষকদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের অনেক কৃষক জীবিকার জন্য জুম চাষের ওপর নির্ভরশীল। এসব এলাকার অনাবাদি ও জুমচাষের জমিকে বিকল্প বাণিজ্যিক কৃষির আওতায় আনার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের এমন অনেক এলাকায় আমরা পৌঁছাতে পেরেছি, যেখানে আগে যাওয়া বা কাজ করা কঠিন ছিল। বিশেষ করে রুমা, থানচিসহ ৫০০ থেকে ৬০০ মিটারের বেশি উচ্চতার এলাকায় জুম চাষ বেশি হতো। আমরা এসব এলাকায় কাজুবাদাম ও কফি চাষের মাধ্যমে বিকল্প কৃষির সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করেছি।
কাজু-কফির বাজার সৃস্টি: শহিদুল ইসলামের মতে, প্রকল্পের অন্যতম বড় অর্জন হলো দেশে কাজুবাদাম ও কফি চাষ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে ব্যাপক পরিচিতি তৈরি হওয়া। একই সঙ্গে দেশে এ দুটি পণ্যের বাজারও তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, পাঁচ বছর আগেও অনেকে জানতেন না বাংলাদেশে কফি ও কাজুবাদাম উৎপাদন হয়। এখন মানুষ জানে বাংলাদেশে কফি ও কাজুবাদাম হচ্ছে। কফি নিয়ে নতুন একটি জেনারেশন তৈরি হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অফিস থেকে শুরু করে বাসাবাড়িতে কফির ব্যবহার বাড়ছে। একইভাবে শিশুরাও কাজুবাদাম খেতে অভ্যস্ত হচ্ছে। তাঁর মতে, দেশে এখন চাহিদা তৈরি হয়েছে। পরবর্তী ধাপে উৎপাদন বাড়িয়ে প্রথমে স্থানীয় চাহিদা পূরণ এবং পরে বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্য রয়েছে।
গবেষণায় কফির দুটি জাত উদ্ভাবন: প্রকল্পের গবেষণা অংশে কাজুবাদাম ও কফির নতুন জাত উদ্ভাবনের কাজ চলছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে। ইতোমধ্যে কফির দুটি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক। কাজুবাদামের নতুন জাত উদ্ভাবনের কাজও চলমান রয়েছে।
শহিদুল ইসলাম বলেন, কাজুবাদাম ও কফির নতুন জাত উদ্ভাবন গবেষণা অংশের কাজ। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এ কাজ করছে। ইতোমধ্যে কফির দুটি ভ্যারাইটি বের হয়েছে। কাজুবাদামের জাত উদ্ভাবনের কাজও লাইনে রয়েছে। প্রকল্প শেষ হলেও বাগানগুলো যাতে নষ্ট না হয় এবং কৃষকরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ পান, সে বিষয়ে একটি এক্সিট প্ল্যান রাখা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রকল্প শেষ হওয়ার আগে আমাদের একটি এক্সিট প্ল্যান থাকে। বর্তমান যে সেটআপ আছে—উপজেলা কৃষি অফিস ও ডিডি অফিস—তাদের মাধ্যমে বাগানগুলো মেইনটেন করা হবে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের এ বিষয়ে গাইডলাইনও রয়েছে।
প্রয়োজন প্রসেসিং ও উদ্যোক্তা: প্রকল্প পরিচালক মনে করেন, পরবর্তী পর্যায়ে শুধু বাগান সম্প্রসারণ নয়, বরং উৎপাদিত কাজুবাদাম ও কফি প্রক্রিয়াজাতকরণ, মূল্য সংযোজন এবং উদ্যোক্তা তৈরিতে বিনিয়োগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, আগের প্রকল্পটি ছিল মূলত সম্প্রসারণ নিয়ে। এখন নতুন প্রকল্প দরকার প্রসেসিং নিয়ে। আমাদের উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে। সেখান থেকে উদ্যোক্তা বের করে বাংলাদেশি কাজুবাদাম ও কফির ব্র্যান্ডিং করতে হবে। তাঁর মতে, উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রসেসিং অবকাঠামো তৈরি করা না গেলে সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন হবে।
১৫৮ কোটি টাকার প্রকল্প: প্রকল্পটির মোট বাজেট ছিল প্রায় ১৫৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ১৫১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক। অব্যয়িত অর্থকে সাশ্রয় বা সেভিংস হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের মোট প্রকল্প বাজেট ছিল ১৫৮ কোটি টাকা। ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৫১ কোটি টাকা। অব্যয়িত অর্থ মূলত সেভিংস। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের সব কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের কাজের কোনো ঘাটতি নেই। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকার টেন্ডার হয়েছে এবং প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় অডিট আপত্তি: প্রকল্পের অডিটে কিছু আপত্তি উঠেছিল বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক। এর মধ্যে সম্মানী বেশি দেওয়ার অভিযোগ এবং জ্বালানি তেল ব্যবহারের মতো বিষয়ও ছিল। এসব আপত্তির জবাব দেওয়া হচ্ছে এবং নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।
২০২৬ সালের জুনের শেষ দিকে প্রকল্পটির কার্যক্রম শেষ হয়েছে। তবে প্রকল্প সমাপ্তি প্রতিবেদন—পিসিআর এখনো জমা দেওয়া হয়নি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রকল্পের কাজ ২০২৬ সালের জুনের শেষে শেষ হয়েছে। পিসিআর এখনো জমা দেওয়া হয়নি। যেহেতু সময় আছে, তাই কাজ চলছে। আইএমইডির পক্ষ থেকেও সম্প্রতি মনিটরিং হয়েছে। পিসিআর জমা দেওয়ার পর মাঠপর্যায়ে আইএমইডির মূল্যায়ন হবে।
প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপ তৈরির পরিকল্পনা: কাজুবাদাম ও কফিকে বাণিজ্যিকভাবে এগিয়ে নিতে ভবিষ্যতে নতুন বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে উৎপাদিত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, মূল্য সংযোজন, উদ্যোক্তা তৈরি এবং ব্র্যান্ডিংয়ের ওপর জোর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক। তিনি বলেন, আমাদের এখন পর্যন্ত কাজ ছিল উৎপাদন এলাকা বাড়ানো এবং উৎপাদনের ভিত্তি তৈরি করা। এখন প্রসেসিংয়ে বিনিয়োগ করতে হবে। উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে। আমাদের যে রিসোর্স তৈরি হয়েছে, সেটআপ, কৃষক ও উদ্যোক্তাদের যদি ধরে রাখতে পারি, তাহলে ভবিষ্যতে ভালো বেনিফিট পাওয়া যাবে। তাঁর মতে, আগের প্রকল্পের সম্প্রসারণ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে নতুন প্রকল্পে প্রসেসিং ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের দিকে যেতে হবে। দ্বিতীয় ধাপে প্রসেসিং ও উদ্যোক্তা তৈরিতে জোর দিতে হবে।
এদিকে কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প সম্পর্কে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের উপযোগী জমি ও পরিবেশ বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এসব এলাকায় কাজুবাদাম ও কফির চাষের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, এই প্রকল্পটি পার্বত্য এলাকার উপযোগী অঞ্চলগুলোকে বেছে নিয়ে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রায় ৬০০-৭০০ ফুট উচ্চতায় কাজুবাদাম ও কফির চাষ ভালো হয়। এই প্রকল্পে সম্প্রসারণ ব্যাপক হয়েছে।
আব্দুর রহিম বলেন, প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে শুধু চাষ সম্প্রসারণ নয়, উৎপাদিত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপ দরকার। দ্বিতীয় ধাপে প্রসেসিং ও উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে। তাহলে দেশে উৎপাদিত কাজুবাদাম ও কফির মূল্য সংযোজন করা সম্ভব হবে এবং বাণিজ্যিকভাবে এ খাত আরও এগিয়ে যাবে।
মহাপরিচালক জানান, প্রকল্প শেষ হয়ে গেলেও কাজুবাদাম ও কফি চাষিদের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ দেবেন। তিনি বলেন, প্রকল্প শেষ হলেও কাজুবাদাম ও কফি চাষিরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাবেন।
সামনে বড় সম্ভাবনা: মহাপরিচালকের মতে, বাংলাদেশে কাজুবাদাম ও কফির বাজার ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। এখন প্রয়োজন উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, ব্র্যান্ডিং এবং বাজার ব্যবস্থাপনা। দীর্ঘমেয়াদি এ ফসলের গাছ পরিপক্ব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন বাড়লে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানির সুযোগও তৈরি হতে পারে। তবে সেই পর্যায়ে যেতে সময় লাগবে। কারণ কাজুবাদাম ও কফির মতো দীর্ঘমেয়াদি ফসলের ক্ষেত্রে বাগান স্থাপনের কয়েক বছর পর উৎপাদন শুরু হলেও পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে আরও সময় প্রয়োজন। ফলে সম্প্রসারণ প্রকল্পের মাধ্যমে যে ভিত্তি তৈরি হয়েছে, সেটিকে ধরে রেখে পরবর্তী ধাপে প্রসেসিং, উদ্যোক্তা তৈরি ও ব্র্যান্ডিংয়ের দিকে এগোতে পারলেই দেশে কাজুবাদাম ও কফি খাত একটি সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক শিল্পে পরিণত হবে।

এমএসএম / এমএসএম

বাণিজ্যিক চাষে কাজু-কফির সম্ভাবনা

মাসে দেড়শ' কোটি টাকা যাচ্ছে অমুক্তিযোদ্ধার পেটে

সরকারি চাকরিজীবীদের স্বস্তি, জনজীবনে দুঃখের বোঝা

রেলওয়ের মেগা প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

দুধ-মাংস-ডিমে বদলাবে চরবাসীর জীবন

মেট্রোরেলে টেন্ডার ছাড়াই নতুন চুক্তি

মসলায় স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে বাংলাদেশ

প্রিন্সিপাল সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

নুরুন্নবী দুর্নীতির মহাকবি

গণপূর্ত সচিবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট-প্লট জালিয়াতি ও তথ্য পাচারের অভিযোগ

শান্তিনগরে অনুমোদনহীন ১১ তলা ভবন

রোবটিক্স-অটোমেশনে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রস্তুতি

বন মামলার নথি বদল: সংবাদ প্রকাশের পর তদন্তের নির্দেশ