রাজধানীর গুলশান-বনানী স্পা সেন্টারের আড়ালে ভয়ঙ্কর অপরাধীদের আখঁড়া
রাজধানীর গুলশান ও বনানী এলাকার কয়েকটি স্পা সেন্টার, বার ও ক্লাবকে ঘরে অসামাজিক র্কাযকলাপ ছাড়াও নারী সরবরাহ এবং মাদকের পাইকারী কারবারির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এ ব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা বিভাগের উপপরিচালক মেহেদী হাসান সকালের সময়কে জানান, গুলশান বনানী এলাকায় সিসাবারে আমরা অভিযান চালাতে গিয়ে যেখানে মাদক পাওয়া গেছে। সেখানেই আমরা অভিযান চালিয়েছি। আর আমরা শুধু মাদকের বিষয়ে অভিযান চালাতে পারি। স্পা’র বিষয়টি পুলিশের দায়িত্ব। তারপও যদি আমরা কোন স্পা সেন্টারে মাদক সংক্রান্ত সুনিদিষ্ট তথ্য পাই। সেখানে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।
জানা গেছে, এসব স্পাগুলোর আড়ালে অবৈধ ব্যবসা ও সন্ত্রাসী র্কাযকলাপের নেতৃত্বে রয়েছেন, জয় নামের এক ব্যক্তির নাম। আবার দোলা নামে পরিচদানকারী এক তরুনীর সহযোগিতায় ওই ব্যক্তি অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, গুলশান ও বনানী এলাকার স্পা সেন্টার, বার ও ক্লাবগুলোর র্কাযক্রম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে। সুনর্দিষ্টি অভিযোগ বা প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। আবার মানবপাচার, মাদক ও অসামাজকি র্কমকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত যেকোনো ব্যক্তি বা চক্রে বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র জানায়, রাজধানীর গুলশান ও বনানী এলাকার কয়েকটি স্পা সেন্টারকে ঘিরে মাদক সেবন, মাদক সরবরাহ এবং অনৈতকি র্কমকাণ্ড র্দীঘদিন ধরেই চলে আসছে। এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংঘবদ্ধভাবে মদক সেবন ও অসামাজিক র্কাযকলাপ পরিচালিত হলেও প্রশাসনের র্কাযকর অভিযান ও নজরদারির অভাব রয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। মাঝেমধ্যে প্রশাসন র্কতৃক লোক দেখানো অভিযান পরিচালিত হলেও কিছুতেই যেন থামানো যাচ্ছে না এসব অনৈতকি র্কমকান্ড ও মাদকের রমরমা বাণিজ্য।
অভিযোগে জানা গেছে এসব স্পা সেন্টারে অনৈতিক কাজের গোপন ভিডিও ধারণ করে চলে ব্লাকমেইল এর মত সঙ্ঘবদ্ধ অপর্কম। গুলশান বনানীসহ রাজধানীর অভিজাত এলাকা হওয়ায় এসব স্পা সেন্টারে দেশের সনামধন্য ব্যবসায়ীসহ বড় লোকের বিগড়ে যাওয়া ছেলেদের আসা-যাওয়া চলে অবাধে। আর সেসব এলিট শ্রেনীর লোকদের র্টাগেট করেই একটি চক্র অনৈতকি কাজেরর সময় তাদের গোপন ভিডিও ধারণ করে রাখে। পরর্বতীতে কৌশলে তাদের ফোন নাম্বার সংগ্রহ করে হোয়াটসঅ্যাপে অনৈতকি কাজের গোপনে ধারণ করা ভিডিও পাঠিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করা হচ্ছে।
আর লোক লজ্জা ও সংসার ভাঙার ভয়ে অনেকেই তাদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়। এছাড়া অনেক কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের ভিডিও ধারণ করে রেখে পরর্বতীতে ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে বছরের পর বছর তাদের দিয়ে দেহ ব্যবসা করতে বাধ্য করা হয়। গুলশান-১ একটি
টাওয়ারের চর্তুথ তলায় রয়েছে শাহ্ আলমের একটি স্পা সেন্টার। স্থানীয়দের অভিযোগ, আলমের এই স্পা সেন্টারে বশে কয়েককবার র্যাব,সিিট র্কপােরশেন ও পুলিশ অভিযান পরচিালনা কললেও কিছুতেই স্থায়ীভাবে বন্ধ হচ্ছে না মাদক সাপ্লাই ও রমরমা দেহ ব্যবসার বাণিজ্যিক এই প্রতষ্ঠিান। অপরদিকে গুলশান ৯৯ নম্বর রোড, ৩৩/এ, ব্লুবেল ভবনের ষষ্ঠ তলায় বাহার মিয়া, একইভাবে স্পা সেন্টারের আড়ালে পরচিালনা করছে অসমাজকি র্কমকান্ড ছাড়াও চলছে মাদক বাণিজ্য।
এছাড়া গুলশান ২ ল্যাব এইড ভবনের পশ্চিম পাশের বিল্ডিং এর ষষ্ঠ তলায় নুর ইসলামের স্পা সেন্টারের অন্তরালে অবধৈ র্কাযক্রম চলছে বহু বছর ধরে। তবে এই ভবনের প্রতিষ্ঠানটি র্বতমানেও চালু রয়েছে বলে সূত্র দাবি করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, এখান থেকে প্রতিষ্ঠানটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে আবার অনেতেকই প্রশাসন ও গণমাধ্যমের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এখনো চালানো হচ্ছে। তবে গুলশান ২ এর ৪৭ নং রোডের ২৫ নম্বর বাড়ির চর্তুথ তলায় নুর ইসলামের আরেকটি স্পা সেন্টার রয়েছে। সেখানেও ২৪ ঘন্টাই চলে মাদক সেবনের মহোৎসব ও স্পার আড়ালে অনতৈকি দেহ বাণিজ্য।
জানা গেছে গুলশান ৫৫ নম্বর রোডের নুর ইসলামের আরও একটি স্পা সেন্টার রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, গত কিছুদিন আগে সেখানে প্রশাসনিক অভিযান চালানো হয়। যার ফলে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রাখা হলেও পুনরায় চালু করার জন্য জোর পায়তারা চালানো হচ্ছে। তার স্পা সেন্টারের অন্তরালে এসব অনৈতিক কাজের অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে গত জুন মাসে গুলশান এলাকায় স্পা সন্টোরের আড়ালে অসামাজকি র্কাযকলাপ পরিচালনার অভিযোগে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২৮ জনকে গ্রেফতার করে। গুলশান-২ এলাকার অধরা স্পা সেন্টারে এই অভিযান চালানো হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের সাজা দেওয়া হয়েছে। আর গ্রেফতারের পর গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ তথ্য নশ্চিতি করেন।
পুলিশ জানায়, র্দীঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ একটি চক্র রাজধানীর গুলশানের কয়েকটি স্পা সেন্টার চালিয়ে আসছিল। এসব প্রতষ্ঠিানে স্বাস্থ্যসেবা ও সৌর্ন্দযর্চচার আড়ালে অসামাজিক র্কমকাণ্ড পরিচালিত হতো। স্থানীয় বাসন্দিা ও সচেতন মহলের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় অভিযোগ পাওয়া যায়। পরবর্তীকে ওই স্পা সেন্টারে অভিযান চালিয়ে ২৮ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
একজন ভুক্তভোগি জানান, স্পা সন্টোরগুলোতে কোন ব্যক্তি প্রবেশের পরইে গ্রাহকদের সামনে হাজির করা হয় এক ঝাঁক রমণী। সেখানে বিভিন্ন বয়সী তরুণীরা ফ্যাশন শো প্রর্দশনের মত সামনে এসে হাজরি হয়। এরপর যেখানে যে কাউকে বেছে নিতে হয়। তবে টাকার অংক নির্ধারণ হয় সময়ের উপরে। ঘন্টা ও কতবার শারীরিক সর্ম্পক করা হবে তার উপরেই নির্ধারণ হয় টাকার অংক। এক ঘন্টা সময় দুইবার শারীরিক সর্ম্পক স্থাপনে ১০ থেেক ১৫ হাজার টাকা র্পযন্ত নিয়ে থাকে এসব প্রতষ্ঠিানগুলো। আবার অনকে সময় সন্ত্রাসীদের হাজির করে আপত্তিকর ছবি ধারণ ও ভডিওি করে প্রচার করার ভয় দেখিয়ে ব্লাকমইেলংি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি প্রশাসনের নাকের ডগায় বছরের পর বছর স্পা নামের এই প্রতষ্ঠিানগুলোতে অনৈক র্কাযক্রম পরিচালিত হলেও অবৈধ এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধে প্রশাসনের উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো ভূমিকা নেই। মাঝেমধ্যে লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করা হলেও লেজুড়বৃত্তিক মাসোহারায় বছরের পর বছর চলছে এসব অবধৈ র্কাযক্রম।
এমএসএম / এমএসএম
রাজধানীর গুলশান-বনানী স্পা সেন্টারের আড়ালে ভয়ঙ্কর অপরাধীদের আখঁড়া
তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুল আলমের সম্পদের ‘বিস্ময়কর’ উত্থান
বেনজীর ইউরোপের কোন দেশে পালানোর চেস্টা করছেন
ভুয়া ডি-নোট বিতর্কে রুহুল আমিন বহাল, অফিস সহায়ক ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে
লোভনীয় পদায়নে বারবার আলোচনায় নাজমুল হাসান
জাতীয় গৃহায়ণে জালজালিয়াতি ও দুর্নীতি করে প্রাইজপোস্টিংয়ের অভিযোগ
দরকষাকষি করে ঘুষ নেন স্টেশন কর্মকর্তা নাজমুল
বন মামলার নথি বদল
ত্রাণের টিন সরবরাহে অনিয়ম!
বদলির ফাঁদে পার্বত্যের প্রাথমিক শিক্ষকরা
নতুন সম্ভাবনার নাম মাশরুম
বন কেটে বাউন্ডারি শহীদের সাম্রাজ্য