ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

গণপূর্তে আরেক ‘আলাদিনের প্রদীপ !

তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুল আলমের সম্পদের ‘বিস্ময়কর’ উত্থান


কে এম রায়হান  photo কে এম রায়হান
প্রকাশিত: ৬-৮-২০২৬ দুপুর ১০:৫

সরকারি চাকরিতে বেতন স্কেল নির্দিষ্ট ও সীমিত। কিন্তু সেই চাকরিতে থেকেই অর্জিত হয়েছে অঢেল সম্পদ! গড়ে উঠেছে একের পর এক ফ্ল্যাট, বহুতল ভবন আর শতকোটি টাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খানকে ঘিরে এখন এমনই এক ‘বিস্ময়কর’ সম্পদ বৃদ্ধির কাহিনী ঘুরপাক খাচ্ছে।

‎​তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অনিয়ম, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার, ঠিকাদারি কাজে অনৈতিক সুবিধা প্রদান এবং বিশাল অংকের কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।

‎​​অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য ও প্রাপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রগুলোতে বদরুল আলম ও তাঁর পরিবারের সম্পদের বিস্তার নজরকাড়া তেজগাঁও এলাকায় রয়েছে একটি আলিশান বাড়ি। বাসাবো এলাকায় রয়েছে এক বা দুটি নয় একাধারে ৬টি বহুতল ভবন। ব্যবসা ও বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র কারওয়ান বাজারে কিনেছেন একাধিক ফ্ল্যাট। সবচেয়ে বড় চমক গাজীপুরে অবস্থিত ‘প্রচেষ্টা’ নামের একটি তৈরি পোশাক কারখানা (গার্মেন্টস)। দাবি করা হচ্ছে, শুধু এই প্রতিষ্ঠানের বাজারমূল্যই ৫০ কোটি টাকার বেশি। সরকারি চাকরির সীমিত বেতন দিয়ে রাজধানীতে এত বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ গড়ে তোলা কীভাবে সম্ভব সেই প্রশ্নই এখন সামনে আসছে সবচেয়ে জোর দিয়ে। ​বদরুল আলমের সম্পদ বৃদ্ধি নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলো স্রেফ গুঞ্জন নাকি বাস্তব, তা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের মতে, চাকরির শুরুতে দেওয়া তাঁর সম্পদ বিবরণী, বর্তমান আয়কর রিটার্ন, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং জমি-ফ্ল্যাটের দলিল পাশাপাশি রাখলেই এই ‘অলৌকিক’ ধনবৃদ্ধির রহস্য উন্মোচিত হতে পারে। ​তাঁর অর্জিত বিপুল সম্পদ ঘোষিত ও বৈধ আয়ের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে। ​‘ভাইদের ব্যবসা’ নাকি আত্মরক্ষার ঢাল? ​অভিযোগ রয়েছে, ইতিপূর্বে সম্পদ অনুসন্ধানের বা আয়ের উৎস সংক্রান্ত প্রশ্নে বদরুল আলম তাঁর দুই ভাইয়ের ব্যবসাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছেন। ​বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বজনদের বৈধ ব্যবসা থেকে অর্থ আসা অসম্ভব নয়। তবে মৌখিক দাবির চেয়ে লিখিত প্রমাণই আসল। সেই ব্যবসার প্রকৃত মালিকানা কাঠামো, ব্যাংক লেনদেন, কর পরিশোধের রশিদ এবং বিনিয়োগের নথি যাচাই করা ছাড়া এই ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। ​টেন্ডার সিন্ডিকেট ও কমিশন বাণিজ্য ​শুধু সম্পদ অর্জনই নয়, গণপূর্তের উন্নয়ন প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগও ঝুলছে বদরুল আলমের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, নির্দিষ্ট প্রভাবশালী ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সরাসরি প্রভাব বিস্তার করা। প্রকল্প বাস্তবায়ন, কাজের কার্যাদেশ এবং বিল অনুমোদনে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেওয়া। বড় বড় প্রকল্প থেকে নির্দিষ্ট হারে মোটা অংকের ‘কমিশন’ বাণিজ্য। ​তদন্ত জরুরি ​সরকারি পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ অর্থ উপার্জনের অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। এই কমিশন বাণিজ্য ও অনৈতিক আর্থিক সুবিধার সঙ্গেই তাঁর কথিত সম্পদ বৃদ্ধির কোনো সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না তা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসা উচিত।

এমএসএম / এমএসএম

পাটের অতিরিক্ত সচিব রায়না চক্রের জুলুম

নেত্রীর পাশে আঠারো বছর: একজন শিমুল বিশ্বাসের আস্থা ও আনুগত্যের গল্প

দুবাই, কুয়েত, বাহরাইন, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব থেকে স্বর্ণ পাচারে কাজ করছে ৫০ মাফিয়া

চাকুরীর বয়স শেষ তবুও প্রধান প্রকৌশলী হতে মরিয়া গণপূর্তের আবুল খায়ের!

বাণিজ্যিক চাষে কাজু-কফির সম্ভাবনা

মাসে দেড়শ' কোটি টাকা যাচ্ছে অমুক্তিযোদ্ধার পেটে

সরকারি চাকরিজীবীদের স্বস্তি, জনজীবনে দুঃখের বোঝা

রেলওয়ের মেগা প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ

দুধ-মাংস-ডিমে বদলাবে চরবাসীর জীবন

মেট্রোরেলে টেন্ডার ছাড়াই নতুন চুক্তি

মসলায় স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে বাংলাদেশ

প্রিন্সিপাল সাইফুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

নুরুন্নবী দুর্নীতির মহাকবি