ডিএইতে পরিবর্তনের চেষ্টা করেছি : মহাপরিচালক আব্দুর রহিম
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে (ডিএই) দায়িত্ব নেওয়ার পর গত সাত মাসে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব বণ্টন, বদলি-পদায়ন, মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম এবং অবকাঠামোগত বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম।
তাঁর দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছু 'দুষ্ট প্রকৃ তির' কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এরপর থেকেই একটি পক্ষ আড়ালে থেকে তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে পরিচয়হীন বা আড়াল থেকে করা অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
মহাপরিচালক বলেন, তাঁর পরিচালনা বা সিদ্ধান্ত নিয়ে কারও অভিযোগ থাকলে পরিচয় গোপন না করে সামনে এসে অভিযোগ করা উচিত। অভিযোগের ভিত্তি থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তা যাচাই-বাছাই করা যেতে পারে। সম্প্রতি জাতীয় দৈনিক সকালের সময়কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম এসব কথা বলেন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে মহাপরিচালক আব্দুর রহিম বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই চেষ্টা করেছি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাজের পরিবেশ আরও
শৃঙ্খলাপূর্ণ করতে। প্রশাসনিক নিয়ম-কানুন মেনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছি। যেখানে প্রয়োজন হয়েছে, সেখানে বদলি ও পদায়নের মাধ্যমে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছি। তিনি বলেন, আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কৃষক। কৃষি অফিস যদি কৃষকের কাজে না আসে, তাহলে সেই অফিসের কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়।
তাঁর ভাষ্য, অধিদপ্তরে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেসব ক্ষেত্রে পরিবর্তন প্রয়োজন মনে হয়েছে, সেসব বিষয়ে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর কর্মকর্তাদের বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে আব্দুর রহিম বলেন, কিছু দুষ্ট প্রকৃতির কর্মকর্তা ছিল। তাদের সরানো হয়েছে। আর এরপর থেকেই একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে এবং কৃষি
সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে কারও বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে প্রমাণসহ তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, আমি যদি কোনো ভুল করে থাকি, আমার সিদ্ধান্তের মধ্যে কোনো অসংগতি থাকে, তাহলে সামনে এসে বলুন। প্রমাণসহ অভিযোগ করুন। কিন্তু পরিচয় গোপন রেখে বা আড়ালে থেকে অপপ্রচার চালালে সেটার জবাব দেওয়া কঠিন। নিজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও সমালোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরিচয়হীনভাবে কেউ অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেব কীভাবে? তারা তো আন্ডারগ্রাউন্ডে। অভিযোগকারী কে, অভিযোগের ভিত্তি কী এসব জানা প্রয়োজন। তাঁর মতে, সরকারি কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায়
উপস্থাপন করা উচিত। অভিযোগের সত্যতা থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। তিনি বলেন, সমালোচনা থাকতেই পারে। কাজ করলে সমালোচনা হবেই। তবে সমালোচনা হতে হবে গঠনমূলক এবং তথ্য-প্রমাণভিত্তিক।
নিজের দায়িত্ব মূল্যায়ন করতে গিয়ে আব্দুর রহিম বলেন, আসলে আমি এতটুকুই বলতে পারি, আমি সততার সঙ্গে কাজ করেছি এবং সরকারের নিয়মনীতি মেনে কাজ করার চেষ্টা করেছি। নিজের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রচার না করে সরেজমিনে কাজ দেখার আহ্বান জানান তিনি। নাটায় গেলে কাজের চিত্র দেখা যাবে
দায়িত্বকালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কার্যক্রমের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মহাপরিচালক বলেন, গাজীপুরের নাটায় না গেলে সেখানে কী কাজ হয়েছে, তা বোঝা যাবে না। আমি নিজের ঢোল নিজে পেটাতে পছন্দ করি না। সরেজমিনে গেলে কাজের চিত্র দেখা যাবে।
জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি, কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন একটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, যেখানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের আবাসিক ও ইন-হাউজ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। নাটা'র সরকারি ওয়েবসাইটে কৃষি প্রযুক্তি, জলবায়ু পরিবর্তন, ফার্ম ম্যানেজমেন্ট, GAP, 4IR Technology, GIS Remote Sensing সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের তথ্য রয়েছে। নাটা'র প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ এই দুইটি প্রধান উইং রয়েছে এবং প্রশিক্ষণ উইংয়ের অধীনে একাধিক অনুষদ কাজ করছে।
মহাপরিচালকের বক্তব্য অনুযায়ী, নাটা'র কার্যক্রম ও সেখানে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ সরেজমিনে দেখলে তাঁর দায়িত্বকালের কাজের বাস্তব চিত্র পাওয়া যাবে। নিজের চাকরি জীবনের শুরু থেকে মাঠপর্যায়ের কৃষকদের সঙ্গে সম্পর্কের কথা তুলে ধরে আব্দুর রহিম বলেন, আমার চাকরি জীবনের শুরু থেকেই মাঠপর্যায়ের কৃষকদের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। বগুড়ার ধুনট, শেরপুর, সিরাজ-গঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। তখন কৃ ষকদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ হয়েছে।
তিনি বলেন, বগুড়া হর্টিকালচার সেন্টারে দায়িত্ব পালন করার সময়ও কৃষির ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য কাজ করেছি। সেখানকার যে গেটটি রয়েছে, সেটিও আমার উদ্যোগে করা হয়েছিল।
মহাপরিচালক জানান, মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিন যেসব কৃষকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক রয়েছে, তাঁদের অনেকে এখনো তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কেউ সরাসরি কৃ ষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে এসে দেখা করেন, আবার কেউ ফোনে কৃষি বিষয়ে পরামর্শ নেন। বগুড়া থেকে অনেক কৃষক এসেছেন। তাঁরা শুধু আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। আলু, পেঁয়াজ, সবজি বিভিন্ন ফসলের ভালো জাত ও মানসম্মত বীজ নিয়ে তাঁরা পরামর্শ নিতে চান। এটা আমার কাছে ভালো লাগার বিষয় বলে জানান তিনি।
সাক্ষাৎকারে কৃষকদের স্বার্থে সরকারের কৃষক কার্ড কর্মসূচি নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ডিএই মহাপরিচালক। তিনি বলেন, আমাদের দেশের কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। কৃষক কার্ড কর্মসূচি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে কৃষকের ভাগ্যের উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। প্রি-পাইলট পর্যায়ে ১০ জেলার ১১টি উপজেলায় ২২,০৬৫ জন কৃষককে কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কার্ডের মাধ্যমে কৃষি উপকরণে ভর্তুকি, কৃষিঋণ, কৃষিযন্ত্র, কৃ যি বীমা, প্রশিক্ষণ, সেচ, বাজার ও আবহাওয়া তথ্য এবং ফসলের রোগ-পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সহায়তার মতো বিভিন্ন সেবা পর্যায়ক্রমে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি তথ্যেও কৃষক কার্ডকে কৃষকদের জন্য ডিজিটাল ডেটাবেস ও সরকারি কৃষিসেবার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরির একটি উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
আব্দুর রহিম বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকের পরিচয়, কৃষি সহায়তা এবং উৎপাদনসংক্রান্ত তথ্য আরও সুশৃঙ্খলভাবে ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি হবে। এটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে কৃষকের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছানো আরও সহজ ও স্বচ্ছ হতে পারে। তাঁর মতে, ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষক ও সরকারি সেবার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হলে মধ্যস্বত্বভোগী বা অনিয়মের সুযোগ কমানোর সম্ভাবনা তৈরি হবে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে কৃষিপণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রেও উৎপাদন থেকে বাজার পর্যন্ত তথ্য সংরক্ষণ ও শনাক্তকরণের আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে উঠলে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের পরিচিতি ও মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় সুবিধা হবে। তবে কৃষক কার্ডে রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্যের প্রতিটি পণ্যের পূর্ণাঙ্গ তথ্য ছজ কোডে সংরক্ষণের বিষয়টিকে বর্তমানে প্রকাশিত সরকারি সেবার তালিকার নিশ্চিত সুবিধা হিসেবে নয়, বরং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও তাঁর ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে দেখা উচিত।
দায়িত্বের সাত মাসের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে মহাপরিচালক বলেন, মাঠপর্যায়ের কৃ ষকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগই তাঁর কাজের অন্যতম শক্তি। তাঁর ভাষায়, কৃষক যখন সরাসরি এসে তার সমস্যার কথা বলেন, তখন বাস্তব পরিস্থিতি বোঝা সহজ হয়। কৃষি অফিসারের কাজই হচ্ছে মাঠের কৃষকের পাশে থাকা। তিনি বলেন, আমি চাই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আরও কৃষকবান্ধব হোক। কৃষক যেন তার প্রয়োজনের সময় কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সেবা পান।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মূল কাজ মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও কৃষিসেবা পৌঁছে দেওয়া। তাই প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর জোর দেওয়ার কথা জানান মহাপরিচালক। তিনি বলেন, কৃষি কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীদের কার্যক্রমের সঙ্গে কৃষকের বাস্তব প্রয়োজনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ফলে কৃষকের সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করে সমাধানে উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন।
সর্বশেষে নিজের বিরুদ্ধে সমালোচনার প্রসঙ্গে আব্দুর রহিম বলেন, সমালোচনা থাকতেই পারে। কিন্তু সেটা গঠনমূলক হওয়া উচিত। আমার কাজের মধ্যে ভুল থাকলে সামনে এসে বলুন। প্রমাণসহ অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান। কিন্তু পরিচয় গোপন রেখে বা আড়ালে থেকে অপপ্রচার করলে সেটার জবাব দেওয়া কঠিন। তিনি বলেন, কৃষকের উৎপাদন বাড়ানো, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং সরকারি কৃষিসেবা সরাসরি মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার মধ্য দিয়েই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে আরও কার্যকর ও কৃষকবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্য রয়েছে।
এমএসএম / এমএসএম
বঙ্গোপসাগর ঘিরে ভুরাজনীতিঃ বাংলাদেশ কী করবে?
ডিএইতে পরিবর্তনের চেষ্টা করেছি : মহাপরিচালক আব্দুর রহিম
বেবিচকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরউদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়: পদ আঁকড়ে কোটি কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ
নিরাপত্তা ঘাটতি, ক্ষতিপূরণহীন পরিবার আর অপূর্ণ সুপারিশ
সার সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ল বিএডিসির
নদী বন্দর শাখার সাবেক পরিচালক এ.কে এম আরিফ উদ্দিন নারী কেলেঙ্কারিতে বরখাস্ত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যেই অন্য বিভাগে পদায়ন
ই-জিপি ছাড়াই, মেট্রোরেলের টেন্ডার
প্রকৌশল বিভাগে ঘুষের বিনিময়ে পদোন্নতির অভিযোগ
রাজধানীর গুলশান-বনানী স্পা সেন্টারের আড়ালে ভয়ঙ্কর অপরাধীদের আখঁড়া
তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুল আলমের সম্পদের ‘বিস্ময়কর’ উত্থান
বেনজীর ইউরোপের কোন দেশে পালানোর চেস্টা করছেন
ভুয়া ডি-নোট বিতর্কে রুহুল আমিন বহাল, অফিস সহায়ক ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে