নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা ইসলাম ব্যবস্থা নিচ্ছেন না
ড্রেজার ব্যবসায়ী সন্ত্রাসীদের কাছে কয়েক হাজার কৃষক জিম্মি
ঢাকার নবাবগঞ্জ আগলা মাঝপাড়া এলাকার বাসিন্দারা ড্রেজার ব্যবসায়ী সন্ত্রাসী চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। ভুক্তভোগিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করলেও দীর্ঘ দিনেও তিনি কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহন করছেন না বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগলা মাঝপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে মো. ইমরান হোসেন, মো. আওলাদ হোসেন সেলিম ও রানা দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির বাড়ি, ঘর, উঠান ও আবাদি জমির উপর দিয়ে ড্রেজারের পাইপ স্থাপন করে মাটির ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। ফলে এলাকার বাসিন্দারা তাদের ঘর উঠান ও আবাদি জমি থেকে পাইপ অপসারণ করার জন্য মৌখিকভাবে বলে আসছেন। এতে উক্ত সন্ত্রাসীরা তাদের উপর চড়াও হয়ে নানা প্রকার ভয়ভীতি এমনকি হত্যার হুমকি ছাড়াও মিথ্যা মামলা দিয়ে আসছেন।
পরে বাধ্য হয়ে স্থানীয় ভুক্তভোগি বাসিন্দা ও আবাদি কৃর্ষি জমির মালিকগন নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলরুবা ইসলাম এর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ইউএনও এর দপ্তর থেকে উক্ত অভিযোগের সংবাদ পেয়ে সন্ত্রাসীরা ভুক্তভোগিদের বাড়িতে গিয়ে তাদের পরিবার এমনকি সন্তানদের অপহরণসহ বড় ধরণের ক্ষতির হুমকি দিয়ে আসছেন।
নবাবগঞ্জ আগলা মাঝপাড়া এলাকার ভুক্তভোগি মো. ইমরান চৌধুরী গত ৪ মার্চ নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগে বলেছেন, সন্ত্রাসী সেলিম হোসেন, ইমরান ও রানা এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধভাবে তাদের বাড়ির উঠানের উপর দিয়ে ড্রেজারের পাইপ বসিয়ে বালুর ব্যবসা চালিয়ে আসছে। চলতি বছরের গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকাল পৌনে ৬ টার দিকে ভুক্তভোগি ইমরানের বড় ভাই সন্ত্রাসী রানা চৌধুরীকে তার বাড়ির উপর দিয়ে নেওয়া ড্রেজারের অবৈধ পাইপ সরিয়ে নেওয়ার জন্য বলেন। এতে তিনি ক্ষীপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকে এবং তাকে হত্যার হুমকি দেন।
উল্লেখিত ঘটনাটির পর নবাবগঞ্জ থানায় গত ২০ ফেব্রয়ারি লিখিতভাবে তিনি অভিযোগ করেছেন। কিন্তু পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। উল্টো পুলিশের অসহযোগিতার কারণে সন্ত্রাসীরা তাদের প্রতি আরো বেশী ক্ষীপ্ত হয়। এতে ভুক্তভোগি ইমরান ও তার পরিবারের সদস্যরা বড় ধরণের ক্ষতির আশঙ্কায় পড়েছেন। সন্ত্রাসীরা প্রভাবশালী হওয়ার কারণে তারা আইনের প্রতি কোন প্রকার তোয়াক্কা না করেই তাদের বাড়ির উঠানের উপর দিয়ে ড্রেজার বসিয়ে বালুর ব্যবসা করছেন।
ভুক্তভোগি ইমরান সকালের সময়কে জানান, চলতি বছরের গত ৩ মার্চ সকাল দশটার দিকে উক্ত সন্ত্রাসীরা তাদের বাড়িতে গিয়ে তাকে ও তার ভাইকে হত্যাসহ দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে তাদের বাড়ির সামনে ত্রাসের রাজত্ব কায়েক করে। এরপর তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
এছাড়া নবাবগঞ্জের কালুহাটি মাঝপাড়া এলাকার মৃত কদম আলীর ছেলে মো. দুলাল বেপারী অভিযোগ করে জানান, সন্ত্রাসী আওলাদ হোসেন সেলিম, ইমরান হোসেন ও রানা এলাকায় সন্ত্রাসী ভুমিদস্যু হিসেবে পরিচিত। সন্ত্রাসী ইমরানের নেতৃত্বে এলাকায় একটি লাঠিয়াল বাহিনী গড়ে তুলেছেন। তারা ইছামতি নদী ছাড়াও বিভিন্ন ব্যক্তির কৃর্ষি জমির মাটি রাতের বেলায় কেটে নিয়ে তা ড্রেজারের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে আসছেন। তাদের কারণে অনেক অসহায় লোকজন আবাদি জমিতে চাষ করতে পারছেন না। তারা কৃর্ষি জমির ধানক্ষের উপর দিয়ে পাইপ বসিয়ে মাঠির ব্যবসা করছে। তার পাইপগুলো সরিয়ে নিতে বললে তারা তার প্রতিক্ষীপ্ত হয়ে নানা ধরণের হুমকি দিয়ে আসছেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগি দুলাল বেপারী স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও গণমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার দিয়েও কোন প্রকার প্রতিকার পাননি। তার ক্ষেতের উপর পাইপ বসিয়ে কৃর্ষিকাজে বন্ধ রাখায় তিনি প্রতি বছর লাখ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। শুধু তাই নয়, সন্ত্রাসীরা ভুক্তভোগিদের বাড়ি ঘরে পুলিশ পাঠিয়ে হয়রানী করছে বলে অভিযোগে জানা গেছে।
আবার এলাকার আগলা মকিমপুর এলাকার মৃত শেখ শহর আলীর ছেলে অহিদ মিয়া গত ১৫ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অপর এক লিখিত অভিযোগ করেছেন। উক্ত অভিযোগে তিনি বলেছেন, তার বাড়ি ও জমির উপর দিয়ে ১২টি ড্রেজারের পাইপ বসিয়ে মাটির ব্যববসা করছেন সন্ত্রাসী বাহিনী। এতে তিনি প্রায় দশ লাখ টাকার বেশী ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এই সন্ত্রাসীরা এলাকায় মাদকসহ নানা ধরণের অপরাধের সঙ্গে জড়িত। তারা একটি লাঠিয়াল বাহিনী গড়ে তুলেছেন। তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও অবৈধ মাটির ব্যবসার ড্রেজার সরিয়ে ফেলার কথা বলায়, তাদেরকে পুলিশ দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ভুক্তভোগিদের মাদকদিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার করানোরও হুমকি দিয়ে আসছেন।
স্থানীয়রা জানান, ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা ইউনিয়ন, আবার নয়নশ্রী ইউনিয়নের ভূরাখালী এলাকায় পরিবেশ আইন অমান্য করে কৃষিজমির উপর ড্রেজার বসিয়ে উপরিভাগের মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রাতের আঁধারে ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে একটি চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। খননযন্ত্র (ভেকু) ব্যবহার করে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কেটে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও তারা স্থায়ী সমাধান পাচ্ছেন না।
ভ্ক্তুভোগিরা জানান, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নেই দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে মাটি কাটার ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে আগলা ইউনিয়র, কৈলাইল, চুড়াইন, শোল্লা, বাহ্রা, শিকারীপাড়া, নয়নশ্রী ও বান্দুরা এলাকায় বেশি দেখা যায়। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়ছে। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দাদের অভিযোগ, আগে মাঝে মধ্যে প্রশাসন অভিযান চালিছে। কিন্তু অভিযান শেষে প্রশাসন চলে যাওয়ার কিছুদিন পর আবারও মাটি কাটা শুরু।
একই এলাকায় মনোয়ার মাহমুদ নামের একজন ভুক্তভোগি সন্ত্রাসী মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসী মাহমুদ, আওলাদ হোসেন সেলিম ও রানা দীর্ঘ দিন ধরেই ইছামতি নদী ছাড়াও বিভিন্ন ব্যক্তির জমিজমা হতে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করছে। আর এই মাটি বিক্রি করতে, তার সহ বিভিন্ন ব্যক্তির বাড়ি ঘর, মসজিদ ও স্কুলের দেওয়াল ভেঙে ড্রেজারের পাইপ বসিয়ে মাটি বিক্রি করছেন। তাদের এই অবৈধ ব্যবসার প্রতিবাদ করে এলাকাবাসী লাঠিয়াল বাহিনীর হুমকির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করার পরও কোন প্রকার প্রতিকার পাচ্ছে না।
এ ব্যাপারে আগলা ইউনিয়র পরিষদের প্যালেন চেয়ারম্যান মো.রিজু মিয়া সকালের সময়কে বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্যার আমার কাছে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে মাটি ব্যবসায়ীদের পাইপ স্থাপনসহ ভুক্তভোগিদের অভিযোগের বিষয়ে ছবিসহ প্রতিবেদন চেয়ে নোটিশ করেছিলেন। এরপর সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে আমি প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। উপজেলা নির্বাহী স্যার আগামিকাল আসবেন। তিনি এসে বিষয়টির ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলরুবা ইসলাম ভুক্তভোগিদের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, এ বিষয়ে আমি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এর কাছে সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন চেয়েছি। সেই প্রতিবেদন পাওয়ার পরই আমি তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মাটি ব্যবসায়ী ইমরান সকালের সময়কে জানান, তিনি বিআইডব্লিউটিএ থেকে লাইসেন্স নিয়ে ড্রেজার ব্যবসা করছেন। যেখানে পাইপ নেওয়া হয়েছে, সেই সব ক্ষেতের মালিক যে ধান পান, তার দ্বিগুন ধানের টাকা দেই। তাদের কোন অভিযোগ নেই। চাঁদার দাবিতে আমার ড্রেজারে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। সেই মামলার আসামিরাই আমার বিরুদ্ধে ইউএনও অফিসে অভিযোগ করেছেন। তারা যাই করুন না কেন, আমি কাউকে চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করবো না।
এমএসএম / এমএসএম
ড্রেজার ব্যবসায়ী সন্ত্রাসীদের কাছে কয়েক হাজার কৃষক জিম্মি
রায়ের কপি’ বেঁচে প্রতারকচক্র একেকজন কোটিপতি, প্রাইভেট সিএনজি অটোরিকসা কল্যাণ সমিতির
কাস্টমস’র বন্ড এর যুগ্ম কমিশনার কামরুলের বিরুদ্ধে সাংবাদিক নির্যাতনে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অভিযোগ
চাকরির প্রলোভনে কোটি টাকার প্রতারণা
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে নিয়োগ বাণিজ্যের কেলেঙ্কারি: খাতা রাখা হলো থানা হেফাজতে
ঢাকা দক্ষিণ ও পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেটে বহিরাগতদের নেতা সুকান্ত হালদার দৌরাত্ম্য
রায়ের কপি’ বেঁচে ‘প্রাইভেট সিএনজি মালিক কল্যাণ সমিতি’র নেতারা কোটিপতি
কেরানীগঞ্জে বিআরটিএ’র কর্মকর্তারা দালালদের মোবাইল ফোনেই সেবা প্রত্যাশীদের সমস্যা সমাধান করছেন
সরকারি স্টাফ ও দালাল সিন্ডিকেটে জিম্মি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ
শতকোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ : আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধ দুদকে আবেদন
আওয়ামী সরকারের জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরাদের আশীর্বাদ পুষ্ট আলাউদ্দিনকে ফায়ার সার্ভিসে নিয়োগ
পাউবো’র নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদী দখলের চাঞ্চল্যকর তথ্য