কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে নিয়োগ বাণিজ্যের কেলেঙ্কারি: খাতা রাখা হলো থানা হেফাজতে
শূন্য পদে জনবল নিয়োগ দিতে গিয়ে বিশাল অঙ্কের ঘুষ বাণিজ্যের কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর’ (ডিআইএফই)। নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠায় খোদ মন্ত্রণালয়ের সচিবের হস্তক্ষেপে নিয়োগ পরীক্ষার উত্তরপত্র উদ্ধারের পর তা থানা হেফাজতে রাখার নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা ও নিয়োগ কমিটির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র জানায়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি অধিদপ্তরের ১৩টি ক্যাটাগরির ৬৯টি শূন্য পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ এপ্রিল রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার চারটি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রায় ৪ হাজার পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা শেষে খাতা সিলগালা করে নির্দিষ্ট স্থানে নেওয়ার কথা থাকলেও, নিয়োগ কমিটির সভাপতি যুগ্ম সচিব আরিফুল ইসলাম খান ও সদস্য সচিব প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফরিদ আহমেদের নির্দেশে ২১ জন কর্মকর্তার একটি দল কেন্দ্রেই খাতা নিরীক্ষণের তোড়জোড় শুরু করেন। এই ঘটনা জানাজানি হলে নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়।
অভিযোগ উঠেছে, অধিদপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ নেহারুল ইসলাম, উচ্চমান সহকারী মো. রেজাউল করিম এবং অফিস সহকারী গোলাম সরোয়ার এই অনৈতিক প্রক্রিয়ায় সরাসরি সহায়তা করেছেন। নিয়োগ বাণিজ্যের খবর ছড়িয়ে পড়লে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারের নেতৃত্বে একটি দল পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে ঝটিকা অভিযান চালান। অনিয়মের সত্যতা পেয়ে খাতাগুলো ট্রাংক ভর্তি করে সিলগালা করা হয় এবং পরবর্তীতে তা রাজধানীর শাহজাহানপুর থানা হেফাজতে রাখা হয়।
অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক ওমর ইমরুল মহসীনের বিরুদ্ধেও এই নিয়োগ বাণিজ্যে সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, রানা প্লাজা ও তাজরীন ফ্যাশনসের মতো দুর্ঘটনার পর এই অধিদপ্তরকে শক্তিশালী করা হলেও একশ্রেণির কর্মকর্তার দুর্নীতির কারণে কলকারখানার কর্মপরিবেশ এখনো অনিরাপদ রয়ে গেছে। পরিদর্শকদের মাঠ পর্যায়ের ঘুষের ভাগ খোদ মহাপরিদর্শক পর্যন্ত পৌঁছানোর গুঞ্জনও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুখে মুখে।
শাহজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিয়োগ পরীক্ষার খাতা ভর্তি একটি ট্রাংক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা থানা হেফাজতে রেখেছিলেন, যা গত ১৬ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) তাঁরা পুনরায় নিয়ে গেছেন।
এ বিষয়ে জানতে অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শকের ফোনে একাধিকবার কল ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা দেওয়া হলেও তিনি উত্তর দেননি। তবে প্রশাসনিক কর্মকর্তা নেহারুল ইসলাম অভিযোগগুলো ‘মিথ্যা প্রোপাগান্ডা’ দাবি করে জানান, একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে খাতাগুলো থানায় রাখা হয়েছিল এবং মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।
এমএসএম / এমএসএম
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে নিয়োগ বাণিজ্যের কেলেঙ্কারি: খাতা রাখা হলো থানা হেফাজতে
ঢাকা দক্ষিণ ও পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেটে বহিরাগতদের নেতা সুকান্ত হালদার দৌরাত্ম্য
রায়ের কপি’ বেঁচে ‘প্রাইভেট সিএনজি মালিক কল্যাণ সমিতি’র নেতারা কোটিপতি
কেরানীগঞ্জে বিআরটিএ’র কর্মকর্তারা দালালদের মোবাইল ফোনেই সেবা প্রত্যাশীদের সমস্যা সমাধান করছেন
সরকারি স্টাফ ও দালাল সিন্ডিকেটে জিম্মি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ
শতকোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ : আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধ দুদকে আবেদন
আওয়ামী সরকারের জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরাদের আশীর্বাদ পুষ্ট আলাউদ্দিনকে ফায়ার সার্ভিসে নিয়োগ
পাউবো’র নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদী দখলের চাঞ্চল্যকর তথ্য
উপ-পরিচালক ডা. তউহিদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার ছাড়ালে বছরে তেল বাবদ বেশি খরচ হবে ৬১০০০ কোটি টাকা
রক্তের আল্পনায় ঈদযাত্রা ২০২৬: সড়ক, রেল ও নৌপথে অব্যবস্থাপনার পৈশাচিক উৎসব
রাষ্ট্রীয় অর্থে ‘রাক্ষুসে থাবা’