ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ

রায়ের কপি’ বেঁচে প্রতারকচক্র একেকজন কোটিপতি, প্রাইভেট সিএনজি অটোরিকসা কল্যাণ সমিতির


আব্দুল লতিফ রানা photo আব্দুল লতিফ রানা
প্রকাশিত: ২৩-৪-২০২৬ বিকাল ৫:৪৪

উচ্চ আদালতের‘রিটপিটিশনের রায়’ এর ফটোকপি দেখিয়ে পুলিশের সঙ্গে প্রতারণায় জড়িত ‘প্রাইভেট সিএনজি মালিক কল্যাণ সমিতি’র মহাসচিব মো. হোসেন ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনপ্রয়োগ করছে ট্রাফিক পুলিশ।
প্রতারকচক্রের গডফাদার মো. হোসেন ও তার সহযোগি আনোয়ার সাদাত রাসেল, জাকির হোসেন ও সবুজ হওলাদার ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৬ বছরেসিলভার রংয়ের প্রাইভেট সিএনজি অটোরিকসার কল্যাণ সমিতির নামে চাঁদাবাজি করে বাড়ি, হাইস গাড়িসহ আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। এই প্রতারকচক্রের কাছে ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় রাস্তায় দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক পুলিশ ও সার্জেন্টরা অসহায় অবস্থা ছিলেন। আদালতে রিট দায়ের করে তার ফটোকপি পুলিষ সার্জেন্ট দেখিয়ে প্রতারণা করে আসছে এই চক্রের সদস্যরা।  


ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান সকালের সময়কে জানিয়েছেন, ‘ সরকার যে উদ্দেশ্যে (সিলভার কালারের) প্রাইভেট সিএনজি অটোরিকসা দিয়েছেন, সেই উদ্দেশ্যের বাইরে যেন এটা ব্যবহার করতে না পরেন, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, এই (প্রাইভেট সিএনজি অটোরিকসা) সঠিক পরিসংখ্যা টা এই মুহুর্তে আর জানা নেই। প্রতিনিয়তই রাস্তায় প্রাইভেট সিএনজি অটোরিকসা ধরা হচ্ছে। আর সেগুলো আমরা ডাম্পিংয়ে পাঠানো হচ্ছে। সামনে আরো কঠোরভাবে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণা করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্যাট্রোল ইনপেক্টর জানান, ‘প্রাইভেট সিএনটি অটোরিকসা’র লাইসেন্স ও নম্বর প্লেট বিহনী চালানোর দায়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ ধরপাকর করে। এজন্য প্রাইভেট সিএনজি মালিক কল্যাণ সমিতির পক্ষে উচ্চআদালতে একটি রিট পিটিশন করেছে। আর সেই রিট পিটিশনের আদেশকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ঢাকায় প্রায়ভেট সিএনজি অটোরিকসার কথিত মালিকগণ ভাড়ায় চালাচ্ছেন। ‘ প্রতারকচক্রের সদস্যরা ‘প্রাইভেট সিএনজি অটোরিকসা মালিক কল্যাণ সমিতি’র নাম ব্যবহার করে উচ্চ আদালতের একটি রিটপিটিশনের রায়ের অপব্যাখ্যা দিয়ে অভিনব পন্থায় কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি করছেন। শুধু তাই নয়, এসব প্রাইভেট সিএনজি অটোরিকসা মেয়াদোত্তীর্ন হলেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্যের সহযোগিতা  যানবাহনগুলো রাস্তায় নামানোর অভিযোগ পাওয়া যায়।
সূত্র জানায়, গত ২০১০ সালের উচ্চ আদালতের এক আদেশে সিলভার রঙের প্রাইভেট সিএনজি অটোরিকসা আটক বা চালক ও মালিকদের  ট্রাফিক পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কোন প্রকার হয়রানী না করা হয়, সেই নির্দেশনা দিয়েছিলেন আদালত। এরপর থেকে প্রতারকচক্রের সদস্যরা সেই আদেশের ফটোকপির অপর পিটে সই স্বাক্ষর করে প্রাইভেট সিএনজি অটোরিকসা নামে গাড়ির মালিক ও চালকদের কাছে বিক্রি করছেন। আর প্রতিটি গাড়ি প্রতি বছরের জন্য ১০ হাজার টাকা করে আদায় করছে চক্রটি।
‘প্রাইভেট সিএনজি মালিক কল্যাণ সমিতি’র সভাপতি শাহজাহান ও মহাসচিব মো. হোসেন উচ্চ আদালতের সেই আদেশের ফটোকপির উল্টোপিঠে স্বাক্ষর করে তা বিক্রি করছেন। ছয় মাস থেকে এক বছর মেয়াদী এই অনুমতির বিনিময়ে প্রত্যেক চালক ও গাড়ির মালিক মালিকদের কাছ থেকে মোট ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। প্রাইভেট সিএনজি অটো রিকসা চালকদের ধারনা দেওয়া হচ্ছে যে, আদালতের এই পিটিশনের রায়ের কপি থাকলেই ট্রাইফক পুলিশ ও বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ তাদের গাড়ি ধরবে না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআরটিএর এক কর্মকর্তা জানান, এসব প্রাইভেট সিএনজি অটো রিকসার ইকোনমিক লাইফ বা আয়স্কাল ১৫ বছরের মেয়াদ হলেও তা ২০ বছর্রে বেশী সময় ধরে চালানো হচ্ছে। গত ২০১০ সালের হাইকোর্টের রিটপিটিশনের আবেদনে ২৫০০ সিএনজি অটো রিকসার কথা উল্লেখ করা হলেও তা প্রাইভেট লেখা ইস্টিকার লাগিয়ে ৩৯০০টি সিএনজি রাজধানীতে দৌড়িয়ে বেড়াচ্ছে। একে ১৪০০টির মত প্রাইভেট সিএনজি অটোরিকসা চালানো হচ্ছে। এই ১৪শ অটোরিকসার কোন প্রকার বৈধ কাগজপত্র নেই। শুধু মাত্র ‘প্রাইভেট সিএনজি মালিক কল্যাণ সমিতি’র টোকেন এর মাধ্যমে রাজধানীতে চালানো হচ্ছে। একে বাংলাদেশ সরকার প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব হতে বঞ্চিত হচ্ছে। আর সড়কে বিশৃঙ্খলার পরিবেশ সৃস্টি হচ্ছে।এসব গাড়ির মেয়াদকাল ১৫ বছর হলৌ গত ২০ বছর ধরে চালানো হলেও রাস্তা থেকে তুলে নেওয়ার কোন প্রকার পদক্ষেপ নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। এসব গাড়ির চালক ও মালিকদের ‘প্রাইভেট সিএনজি মালিক কল্যাণ সমিতি’র অনির্বাচিত নেতারা শুধু মাত্র অভিনব চাঁদা আদায়ের জন্যই এই গাড়িগুলো রাস্তায় টিকিয়ে রাখছেন। 
সূত্র জানায়, ‘প্রাইভেট সিএনজি মালিক কল্যাণ সমিতি’র মহাসচিব মো. হোসেন, সবুজ ও জাকির হোসেন এই প্রতারকচক্রের অন্যতম সদস্য। সংগঠনের আগের সাধারণ সম্পাদক আব্দু আজিজ পদত্যাগ করার পর মো. হোসেন দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি দায়িত্ব দীর্ঘ দিন পালন  করলেও সংগঠনের বার্ষিক রিটার্ন, ও নির্বাচন না করেই তিনি অবৈধভাবে সাধারণ সম্পাদক পরিচয়ের দায়িত্ব পালনকারী হিসেবে আদালতে মামলা দায়ের করেন। এরপর আদালতের রিটপিটিশনের রায় এর কপি বিক্রির মাধ্যমে প্রতিবছর লাখ লাখ টাকা অভিনব পন্থায় চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। ‘প্রাইভেট সিএনজি মালিক কল্যাণ সমিতি’র অন্যতম নেতা ও চক্রের সদস্য আনোয়ার সাদাত ওরফে রাসেল প্রায় ১ হাজার প্রাইভেট সিএনজি অটোরিকসার মালিক এর কাছে আদালতের রায় এর ফটোকপি বিক্রি করে কোটিপতি বনে গেছেন। শুধু তাই নয়, এই আনোয়ার সাদাত ওরফে রাসেলে গ্যারেজে প্রায় ২শত প্রাইভেট সিএনজি অটোরিকসা রাখা হচ্ছে। আবার তার অন্যতম সহযোগি ও 
প্রতারক চক্রের সদস্য সুবজ হাওলাদার রাজধানীর উত্তরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা ও রামপুরা এলাকায় যতগুলো প্রাইভেট সিএনজি অটোরিকসা আছে। সেগুলোর মালিক ও চালকদের কাছে উক্ত রায়ের কপি বিক্রি করেছেন বলেও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। 
উচ্চ আদালতের রায়ের কপির ফটোকপি দিয়ে চাঁদাবাজির হোতা মো. হোসেন চক্রের রাজধানীতে ৩ হাজার ৯শ, ৫০টি প্রাইভেট সিএনজি অটোরিকসার আড়ালে বিআরটিএর কর্মকর্তাদের যোগসাজসে প্রায় দুই হাজার প্রাইভেট সিএনজি অটোরিকসার রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ও ডিজিটাল প্লেট জালিয়াতি করে অবৈধভাবে গাড়িগুলো চালাচ্ছেন। গত ২০১০ সাল থেকে এই ব্যবসা করে একেক সময় একেকটি রিট পিটিশন করে এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।  
সমিতির অন্যতম সদস্য আনোয়ার সাদাত বলেছেন, অডিট ফার্ম থেকে সমিতির অডিট করা হয়েছে। আর ২০০৭ এ যে আইনের আবেদনের পেক্ষিতে হাইকোর্ট রায় দিয়েছিলেন। সেই রায়টি খারিজ হয়ে গেছে। এরপর ২০১৮ সালের সংশোধনী আইনে পুনরায় আবেদন করা হয়। এরপর বিআরটিএ’ রাইট শেয়ারিং এর আইনে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। সেই আবেদনে সড়ক পরিবহন  পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কমিশনার, বিআরটিএর চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একজন ব্যবসায়ী জানান, পুরাতন বাণিজ্যিক প্রাইভেট সিএনজি অটোরিকসা সিলভার রং করে প্রাইভেট হিসেবে চালানো হচ্ছে। রিটপিটিশনের রায় এর কাগজের ভাড়ার টাকা দিতে বিলম্ব হলে তাদের গাড়ি কতিপয় ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের দিয়ে তা আটক করানো হয়। এজন্যই হাইকোর্টের রায় চীরস্থায়ী হিসেবে ব্যবহার করেছে চক্রের সদস্যরা। পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ ব্যবস্থা না নেওয়ায় সড়কে চলাচলকারী যানবাহন মালিক ও শ্রমিকদের মাঝে নানা ক্ষোভের সৃস্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে সমিতির মহাসচিব মো. হোসেন এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোন কথা বলতে রাজী হননি।

এমএসএম / এমএসএম

রায়ের কপি’ বেঁচে প্রতারকচক্র একেকজন কোটিপতি, প্রাইভেট সিএনজি অটোরিকসা কল্যাণ সমিতির

কাস্টমস’র বন্ড এর যুগ্ম কমিশনার কামরুলের বিরুদ্ধে সাংবাদিক নির্যাতনে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অভিযোগ

চাকরির প্রলোভনে কোটি টাকার প্রতারণা

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে নিয়োগ বাণিজ্যের কেলেঙ্কারি: খাতা রাখা হলো থানা হেফাজতে

ঢাকা দক্ষিণ ও পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেটে বহিরাগতদের নেতা সুকান্ত হালদার দৌরাত্ম্য

রায়ের কপি’ বেঁচে ‘প্রাইভেট সিএনজি মালিক কল্যাণ সমিতি’র নেতারা কোটিপতি

কেরানীগঞ্জে বিআরটিএ’র কর্মকর্তারা দালালদের মোবাইল ফোনেই সেবা প্রত্যাশীদের সমস্যা সমাধান করছেন

সরকারি স্টাফ ও দালাল সিন্ডিকেটে জিম্মি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ

শতকোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ : আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধ দুদকে আবেদন

আওয়ামী সরকারের জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরাদের আশীর্বাদ পুষ্ট আলাউদ্দিনকে ফায়ার সার্ভিসে নিয়োগ

পাউবো’র নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদী দখলের চাঞ্চল্যকর তথ্য

উপ-পরিচালক ডা. তউহিদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার ছাড়ালে বছরে তেল বাবদ বেশি খরচ হবে ৬১০০০ কোটি টাকা