নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন
চাকরির প্রলোভনে কোটি টাকার প্রতারণা
চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জের জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের এক অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত সাউদ নূর নামের ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে প্রায় ২১ লাখ টাকা নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ভুক্তভোগী রাহুল কুন্ডু অভিযোগ করে জানান, তার দুই ভাইয়ের স্বাস্থ্য সহকারী পদে নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষা, ফলাফল এবং ভাইভা প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে সাউদ নূর নিজেকে সিভিল সার্জনের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটানোর আশ্বাস দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময়ে অগ্রিম হিসেবে টাকা নেওয়া শুরু করেন তিনি। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে ধাপে ধাপে ২০ হাজার, ৫০ হাজার ও ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে ভাইভা পরীক্ষার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই ভাইয়ের চাকরি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোট ২১ লাখ টাকা গ্রহণ করেন সাউদ নূর। এ সময় তিনি ভুক্তভোগীদের আত্মীয়দের নামে দুটি ব্যাংক চেক প্রদান করেন, যার একটি ১১ লাখ এবং অন্যটি ১০ লাখ টাকার। যাহার নম্বর সাউদের ব্যাংক একাউন্ট ০৬৫৩০১০০২৪১২৫, রূপালী ব্যাংক, এসকে রোড, কর্পোরেট শাখা, নারায়ণগঞ্জ। চেক নং - SBLR ৮২৪৯৯৯৫ [১১ লক্ষ টাকা, মো. আনোয়ার জাহিদ] চেক নং- SBLR ৮২৪৯৯৯৪ [১০ লক্ষ টাকা, সুমন্ত কুমার বিশ্বাস]
ভুক্তভোগীর দাবি, পুরো লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কল রেকর্ড, ভিডিও ফুটেজ এবং ব্যাংক চেকসহ বিভিন্ন প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে। ভাইভা শেষে চাকরি না হওয়ায় যোগাযোগ করলে অভিযুক্ত নানা অজুহাত দিতে থাকেন এবং অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে দীর্ঘ সময় ঘুরাতে থাকেন। রাহুল কুন্ডু আরও জানান, বিষয়টি সিভিল সার্জনকে অবহিত করা হলে তিনি প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগের কথা জানান। তবে অভিযুক্ত সাউদ নূর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। এদিকে, অভিযোগ রয়েছে যে সাউদ নূর স্থানীয় বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালের সঙ্গে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে রোগী পাঠানোর মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেন। প্রতিদিন বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ও ক্লিনিক সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকেও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীরা জানান, টাকা ফেরতের আশ্বাস দিয়ে বারবার সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে তাদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এখনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনিক কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। সকালের সময় থেকে অভিযুক্ত সাউদ নুর-এ শফিউল কাদেরের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে জানতে একাধিকবার টেলিফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা. এফ. এম. মুশিউর রহমানের সঙ্গে সকালে সময়ের প্রতিবেদক টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ভুক্তভোগী রাহুল ইতোমধ্যে তার কার্যালয়ে এসে লিখিত ও মৌখিকভাবে বিষয়টি অবহিত করেছেন। তিনি আরও জানান, সাউদ নুরের কল রেকর্ড ও হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের প্রমাণাদি তার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। সিভিল সার্জন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল রাহুল যেন ন্যায়বিচার পায়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
Aminur / Aminur
বঙ্গোপসাগর ঘিরে ভুরাজনীতিঃ বাংলাদেশ কী করবে?
ডিএইতে পরিবর্তনের চেষ্টা করেছি : মহাপরিচালক আব্দুর রহিম
বেবিচকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নুরউদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়: পদ আঁকড়ে কোটি কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ
নিরাপত্তা ঘাটতি, ক্ষতিপূরণহীন পরিবার আর অপূর্ণ সুপারিশ
সার সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ল বিএডিসির
নদী বন্দর শাখার সাবেক পরিচালক এ.কে এম আরিফ উদ্দিন নারী কেলেঙ্কারিতে বরখাস্ত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যেই অন্য বিভাগে পদায়ন
ই-জিপি ছাড়াই, মেট্রোরেলের টেন্ডার
প্রকৌশল বিভাগে ঘুষের বিনিময়ে পদোন্নতির অভিযোগ
রাজধানীর গুলশান-বনানী স্পা সেন্টারের আড়ালে ভয়ঙ্কর অপরাধীদের আখঁড়া
তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুল আলমের সম্পদের ‘বিস্ময়কর’ উত্থান
বেনজীর ইউরোপের কোন দেশে পালানোর চেস্টা করছেন
ভুয়া ডি-নোট বিতর্কে রুহুল আমিন বহাল, অফিস সহায়ক ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে