ঢাকা শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

এনবিআরের নির্দেশনা উপেক্ষিত

ঢাকা দক্ষিণ ও পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেটে বহিরাগতদের নেতা সুকান্ত হালদার দৌরাত্ম্য


আব্দুল লতিফ রানা photo আব্দুল লতিফ রানা
প্রকাশিত: ১৮-৪-২০২৬ দুপুর ৪:৫৭

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর স্পষ্ট নির্দেশনা উপেক্ষা করে ঢাকা দক্ষিণ ও পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেটজুড়ে বহিরাগতদের বেপরোয়া আধিপত্য বিস্তারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে সাধারণ ব্যবসায়ীরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অভিযোগে জানা গেছে, সরকারের রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে-যা সরাসরি রাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিস্ট কর্মকর্তা কর্মচারীরা। আর সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে, ঢাকা দক্ষিণ ও পশ্চিম এর ভ্যাট দপ্তরের বিভাগীয় কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সার্কেলের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত ও ধারাবাহিক বদলি করা হলেও বহিরাগত সরানোর কোন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। ফলে বহিরাগত ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টদের কোনো ধরনের বদলি বা সরানোর ব্যবস্থা না থাকায় তারা বছরের পর বছর এমনটি যুগের পর যুগ একই স্থানে থেকে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে ঘুষ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন।

বিশেষ করে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ঢাকা (দক্ষিণ) কমিশনারেটের মতিঝিল বিভাগীয় দপ্তরে বহিরাগতদের প্রভাব অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। মতিঝিল ও আরামবাগ সার্কেলে কর্মরত বহিরাগত কম্পিউটার অপারেটর সুকান্ত হালদার দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ঠান্ডা মাথায় হিসাব-নিকাশ, রাজস্ব সংক্রান্ত নথি ও মামলার ফাইল নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখছেন। ফলে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা ঘুষের আয়কৃত অর্থ দিয়ে বহিরাগত সুকান্ত হালদার তার গ্রামের বাড়ি বরিশালে কোটি টাকা খরচ করে বিল্ডিং বানিয়েছেন। আর তার অবৈধ টাকার উৎস কোথায়? এনিয়ে খোদ তারই আপনজনদের মধ্যে কানাঘুষা চলছে। একইভাবে রাজধানীর আরামবাগ সার্কেলে সজল মিয়া, মতিঝিল সার্কেলে খোকন মিয়া, বিভাগীয় কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ইব্রাহিম এবং রামপুরা-রাজারবাগ সার্কেলের তারেক দীর্ঘদিন ধরে দাপ্তরিক কাজে সক্রিয় বলে অভিযোগ রয়েছে।আবার রামপুরা সার্কেলেও বহিরাগতদের উপস্থিতি স্পষ্ট। সেখানে সোহাগ, বাবু মিয়া এবং আরও কয়েকজন ব্যক্তি কম্পিউটার সংক্রান্ত কাজের আড়ালে দাপ্তরিক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। আর রাশেদ ও প্রশান্ত নামের ব্যক্তিরাও বিভিন্ন সার্কেলের কার্যক্রমে জড়িত।

এছাড়া, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ঢাকা দক্ষিণের তেজগাঁও বিভাগীয় দপ্তরেও একই চিত্র দেখা গেছে। ফার্মগেট সার্কেলে হিমেল নামে এক ব্যক্তির নির্দেশে বসুন্ধরা মার্কেটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের টিকিট কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কাওরানবাজার সার্কেলে মনির হোসেন ও আবু রায়হান, তেজগাঁও বিভাগে শামীম আহমেদ, তেজগাঁও সার্কেলে রানা এবং বেগুনবাড়ি সার্কেলে রাকিবুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বহিরাগত হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন। ফার্মগেট সার্কেলের সোহাগ নামের আরেক ব্যক্তিকেও একাধিক সার্কেলে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে দেখা যায়।

আবার লালবাগ, সেগুনবাগিচা ও কোতোয়ালি বিভাগীয় দপ্তরগুলোতেও ৮-১০ জন করে বহিরাগত দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, নির্দিষ্ট হারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মাসিক ঘুষ আদায়ের একটি সুসংগঠিত কাঠামো গড়ে উঠেছে। এই ঘুষের টাকা উত্তোলনের দায়িত্ব মূলত বহিরাগতদের হাতেই ন্যস্ত। অনেক বহিরাগত রাত্র যাপন করে অফিসেও তারা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা ব্যস্ত থাকে এই অবৈধ অর্থ সংগ্রহে এবং পরে সেই অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে পৌঁছে দেয়। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হচ্ছে, কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী বহিরাগতদের সঙ্গে অত্যন্ত ‘বিনয়ী ও ঘনিষ্ঠ’ সম্পর্ক বজায় রেখে এই ঘুষ বাণিজ্যকে টিকিয়ে রাখছেন। এমনকি কখনো কোনো বহিরাগতকে অফিস থেকে সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হলে তাদের পুনরায় বহাল রাখতে সুপারিশ করতেও দেখা যায়। এর পেছনে একমাত্র উদ্দেশ্য-ঘুষের ধারাবাহিক প্রবাহ অক্ষুন্ন রাখা।

এখন সরকারি কোষাগারে যেখানে রাজস্ব যে পরিমাণ জমা হওয়ার কথা, সেখানে তার তুলনায় বহু গুণ বেশি অর্থ ব্যক্তিগত পকেটে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অর্থাৎ রাষ্ট্রের প্রাপ্য রাজস্ব কমে যাচ্ছে, আর দুর্নীতির মাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পদের পাহাড় গড়ে উঠছে। এই বহিরাগত সিন্ডিকেট শুধু ঘুষ বাণিজ্যেই সীমাবদ্ধ নয়-দপ্তরের গোপনীয় নথি, আর্থিক তথ্য ও মামলার ডকুমেন্ট পর্যন্ত তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকার অভিযোগ রয়েছে, যা দেশের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও আর্থিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। 

এখন ব্যবসায়ী মহলরা বলছেন, এনবিআর চেয়ারম্যানের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কেন তা কার্যকর হচ্ছে না? দায়িত্বপ্রাপ্তদের ব্যর্থতা, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে এই দুর্নীতির সিন্ডিকেটকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে? সংশ্লিষ্টদের দাবি, অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ ও শক্ত তদন্তের মাধ্যমে এই বহিরাগত সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। একইসঙ্গে, শুধু কাগুজে নির্দেশনা নয়-বাস্তবায়নের মাধ্যমে দপ্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, রাজস্ব খাতে এই অনিয়ম ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

এ ব্যাপারে মতিঝিল বিভাগীয় দপ্তর ২৪ নং তোফখানা রোডস্থ জোসনা কমপ্লেক্স সেগুনবাগিচার মতিঝিল সার্কেল আরামবাগ সার্কেল এর বহিরাগত কম্পিউটার ম্যান সুকান্ত হালদার এর সেল ফোনে যোগাযোগ করে উল্লেখিত অভিযোগ সম্পর্ককে জানতে চাইলে তিনি নিজে বহিরাগত এবং কারো কোন নিয়োগপ্রাপ্ত নন বলে স্বীকার করেন। এরপর তিনি সেখানে কম্পিউটারে কাজ করেন। এরপর তিনি জানান, অফিসের স্যারদের কাজের প্রয়োজন হলে সেখানে গিয়ে কাজ করে দেন। এরপর আবার বলেন, আমরা ওখানে কখনো যাই না, বাহির থেকে তাদের কাজ করে দেই।

উল্লেখ্য, ভ্যাট অফিসের কর্মপরিবেশ বহিরাগতদের দ্বারা স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁসের আশঙ্কায় ভ্যাট কমিশনারেটগুলো ঝুঁকিপূর্ন। অনুমোদিত কর্মচারী মুক্ত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ২০২৫ সালের ৬ নভেম্বর মুশক বাস্তবায়ন এর দ্বিতীয় সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত পত্রে উক্ত নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (ঘইজ) বর্তমান চেয়ারম্যান হলেন মোঃ আবদুর রহমান খান এর সেল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তার ফোনটি রিসিভ করেননি।

এমএসএম / এমএসএম

ঢাকা দক্ষিণ ও পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেটে বহিরাগতদের নেতা সুকান্ত হালদার দৌরাত্ম্য

রায়ের কপি’ বেঁচে ‘প্রাইভেট সিএনজি মালিক কল্যাণ সমিতি’র নেতারা কোটিপতি

কেরানীগঞ্জে বিআরটিএ’র কর্মকর্তারা দালালদের মোবাইল ফোনেই সেবা প্রত্যাশীদের সমস্যা সমাধান করছেন

সরকারি স্টাফ ও দালাল সিন্ডিকেটে জিম্মি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ

শতকোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ : আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধ দুদকে আবেদন

আওয়ামী সরকারের জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরাদের আশীর্বাদ পুষ্ট আলাউদ্দিনকে ফায়ার সার্ভিসে নিয়োগ

পাউবো’র নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদী দখলের চাঞ্চল্যকর তথ্য

উপ-পরিচালক ডা. তউহিদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার ছাড়ালে বছরে তেল বাবদ বেশি খরচ হবে ৬১০০০ কোটি টাকা

রক্তের আল্পনায় ঈদযাত্রা ২০২৬: সড়ক, রেল ও নৌপথে অব্যবস্থাপনার পৈশাচিক উৎসব

রাষ্ট্রীয় অর্থে ‘রাক্ষুসে থাবা’

বিআরটিএর ভাতিজা রফিক এর তোঘলতি বদলি বাণিজ্য

চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মোল্লা রেজাউল করিম গিলে খাচ্ছে চট্টগ্রামের বনাঞ্চল