ঢাকা সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬

প্রাণীসম্পদ খাতকে রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপ দিতে কাজ করছে সরকার : শাহজামান খান


টি আই এস বিউটি photo টি আই এস বিউটি
প্রকাশিত: ১৭-৫-২০২৬ দুপুর ২:১৫

এফএও’র মানদণ্ড অনুযায়ী একজন মানুষের প্রতিদিন ১২০ গ্রাম মাংস, ২৫০ মিলিলিটার দুধ এবং সপ্তাহে দুটি ডিম প্রয়োজন। বর্তমান উৎপাদন অনুযায়ী বাংলাদেশ মাংস ও ডিম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার চেয়েও এগিয়ে গেছে। দুধ উৎপাদনেও আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি : শাহজামান খান

 

প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহজামান খান বলেন, প্রাণীসম্পদ খাতকে রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপ দিতে কাজ করছে সরকার। বাংলাদেশের প্রাণীসম্পদ খাত বর্তমানে দেশের অর্থনীতি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং আত্মকর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য এই খাতকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপান্তর করা। নিরাপদ প্রাণীজ আমিষ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরে অতি সম্প্রতি একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি প্রাণীসম্পদ খাতের বর্তমান অবস্থা, সরকারের পরিকল্পনা, ডিজিটালাইজেশন, রোগ প্রতিরোধ, রপ্তানি সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।

সকালের সময়: বর্তমান সময়ে প্রাণীসম্পদ খাতে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার কী?
শাহজামান খান: প্রাণীসম্পদ খাত এদেশের দারিদ্র্য বিমোচন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেকারত্ব দূরীকরণের অন্যতম হাতিয়ার। প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নিরাপদ প্রাণীজ আমিষ সরবরাহ নিশ্চিত করা। বর্তমান সরকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে এই খাতকে গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খামারিদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি, সচেতনতা বৃদ্ধি করছি এবং নতুন খামার গড়ে তুলতে সহায়তা করছি। ফলে খামারের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি কর্মসংস্থানও বাড়ছে। আমাদের লক্ষ্য এই খাতকে রপ্তানিমুখী শিল্পে পরিণত করা। রপ্তানি বাড়লে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এই খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রাণীসম্পদ খাত সত্যিকার অর্থেই দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।

সকালের সময়: প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের উল্লেখযোগ্য অর্জন কী কী?
শাহজামান খান: প্রাণীসম্পদ খাতের সাফল্য ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। অতীতে বিভিন্ন সরকার এই খাতকে গুরুত্ব দিয়েছে। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত প্রাণীসম্পদ খাতকে দারিদ্র্য বিমোচনের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সালে বিভিন্ন প্রণোদনার কারণে দেশে ডেইরি ও পোল্ট্রি শিল্পের ব্যাপক বিকাশ ঘটে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে ছাগল বিতরণ কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠী উপকৃত হয়। বর্তমান সরকার প্রাণীসম্পদ খাতকে আধুনিক ও রপ্তানিযোগ্য শিল্পে রূপ দিতে কাজ করছে। আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

সকালের সময়: ডিজিটালাইজেশন ও ই-সেবায় কী ধরনের অগ্রগতি হয়েছে?
শাহজামান খান: বিশ্বব্যাপী ডিজিটালাইজেশনের ধারার সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ডেটা ম্যানেজমেন্ট, বায়োসিকিউরিটি ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। আমরা গবাদিপশুর ট্যাগিং কার্যক্রম শুরু করেছি। ইউএনডিপি এ কাজে সহায়তা করছে। ট্যাগিংয়ের মাধ্যমে প্রতিটি পশুর বিস্তারিত তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে পশু বীমা কার্যক্রমও এই ট্যাগিংয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

সকালের সময়: দেশের জিডিপি ও কর্মসংস্থানে প্রাণীসম্পদ খাতের ভূমিকা কতটুকু?
শাহজামান খান: প্রাণীসম্পদ খাত দেশের জিডিপিতে প্রায় ১.৮১ শতাংশ এবং কৃষি জিডিপিতে ১৬ শতাংশের বেশি অবদান রাখছে। এই খাত গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গ্রামের অসংখ্য পরিবার গরু, হাঁস-মুরগি পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছে। এবারের কোরবানিতেও দেশীয় গবাদিপশুর মাধ্যমে চাহিদা পূরণ সম্ভব। নারীরা ঘরে বসেই প্রাণীসম্পদ খাতে যুক্ত হয়ে আয় করছেন। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জনগোষ্ঠীও এই খাতের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে।

সকালের সময়: দুধ, মাংস ও ডিম উৎপাদনে বাংলাদেশ কতটা এগিয়েছে?
শাহজামান খান: এফএও’র মানদণ্ড অনুযায়ী একজন মানুষের প্রতিদিন ১২০ গ্রাম মাংস, ২৫০ মিলিলিটার দুধ এবং সপ্তাহে দুটি ডিম প্রয়োজন। বর্তমান উৎপাদন অনুযায়ী বাংলাদেশ মাংস ও ডিম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার চেয়েও এগিয়ে গেছে। দুধ উৎপাদনেও আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি। 

সকালের সময়: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উদ্ভূত রোগ যেমন লাম্পি স্কিন ডিজিজ মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে?
শাহজামান খান: লাম্পি স্কিন ডিজিজ বর্তমানে গবাদিপশুর জন্য বড় হুমকি। তবে সুখবর হলো, বাংলাদেশ লাইভস্টক রিসার্চ ইনস্টিটিউট এ রোগের ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেছে। মহাখালীর এলআরআই এই ভ্যাকসিন উৎপাদন করছে। যদিও বর্তমানে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম, তবে আমরা ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়াচ্ছি। ভবিষ্যতে মাঠ পর্যায়ে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।

সকালের সময়: প্রাণীখাদ্যের দাম কমাতে কী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে?
শাহজামান খান: প্রাণীখাদ্যের দাম কমানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা প্রচলিত খাদ্যের পাশাপাশি বিকল্প খাদ্য উপকরণ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। চরাঞ্চল ও পতিত জমিতে ভুট্টা, সূর্যমুখী ও সরিষা চাষে যুবকদের প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে মানুষের খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি প্রাণীখাদ্যের কাঁচামালও বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

সকালের সময়: আগামী ৫ থেকে ১০ বছরে প্রাণীসম্পদ খাতকে কোথায় দেখতে চান?
শাহজামান খান: আমাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের প্রাণীসম্পদ খাতকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়া। আমরা আন্তর্জাতিক মান ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করে রপ্তানিমুখী প্রাণীসম্পদ শিল্প গড়ে তুলতে চাই।

সকালের সময়: কৃত্রিম প্রজনন প্রাণীসম্পদ উন্নয়নে কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
শাহজামান খান: কৃত্রিম প্রজনন ছাড়া প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন কল্পনাই করা যায় না। দুধ, মাংস ও ডিম উৎপাদন বাড়াতে উন্নত জাতের প্রাণী তৈরি অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশে ইনসেমিনেশনের মাধ্যমে উন্নত জাতের গবাদিপশু উৎপাদনে সরকারি ও বেসরকারি খাতে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এটি বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত একটি কার্যকর পদ্ধতি।

সকালের সময়: খামারি ও যুবসমাজের উদ্দেশে আপনার বার্তা কী?
শাহজামান খান: প্রাণীসম্পদ খাতে বিনিয়োগ করার আগে অবশ্যই প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এটি জীবন্ত প্রাণী নিয়ে ব্যবসা, তাই সঠিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা থাকতে হবে এবং পরিকল্পনা নিয়ে খামার গড়ে তুলতে হবে। না জেনে, না বুঝে কেউ যেন খামার শুরু না করেন এটাই আমার পরামর্শ। শেষ কথা বাংলাদেশের প্রাণীসম্পদ খাত এখন আর শুধু কৃষির সহায়ক খাত নয়; এটি দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন ও রপ্তানি সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের মাধ্যমে এই খাত আগামী দিনে দেশের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনৈতিক খাতে পরিণত হতে পারে।

এমএসএম / এমএসএম

প্রাণীসম্পদ খাতকে রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপ দিতে কাজ করছে সরকার : শাহজামান খান

দলিল বাণিজ্যের অন্দরমহল

ঢাকার সড়কে "এআই নজরদারি": ডিজিটাল মামলার ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে ট্রাফিক চিত্র

ব্লাডব্যাংকের নামে মরন ফাঁদ, মিছে বাঁচার আশা

জালিয়াতির মাধ্যমে বিআরটিএ’র দালাল রুবেল এখন কোটিপতি

পেঁয়াজ কেলেঙ্কারিতে স্টান্ড রিলিজের পর বহাল তবিয়তে বনি আমিন খান

জাগৃক এর প্রধান অফিস থেকে নথি গায়েব চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে অভিযুক্তকে বাঁচানোর চেষ্টা

মোবাইল অ্যাপে ঋণের ফাঁদ এক সপ্তাহেই অস্বাভাবিক সুদ, ‎দেরি হলেই হুমকি-হয়রানি

ড্রেজার ব্যবসায়ী সন্ত্রাসীদের কাছে কয়েক হাজার কৃষক জিম্মি

রায়ের কপি’ বেঁচে প্রতারকচক্র একেকজন কোটিপতি, প্রাইভেট সিএনজি অটোরিকসা কল্যাণ সমিতির

কাস্টমস’র বন্ড এর যুগ্ম কমিশনার কামরুলের বিরুদ্ধে সাংবাদিক নির্যাতনে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অভিযোগ

চাকরির প্রলোভনে কোটি টাকার প্রতারণা

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে নিয়োগ বাণিজ্যের কেলেঙ্কারি: খাতা রাখা হলো থানা হেফাজতে