ডিপফেক ও এআই প্রযুক্তি চ্যালেঞ্জে এমএস-১৩ গ্যাং এর আদলে অপরাধীরা সক্রিয়
অপরাধীরা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে ক্রমাগত তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে। শুধু তাই নয়, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নানা কৌশল এমনকি উন্নত প্রযুক্তিকেও চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টায় লিপ্ত হচ্ছে অপরাধীরা।
অপরদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশ নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি চালু করেছে। রাজধানীর শাহবাগ, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, ও বিজয় সরণিসহ প্রায় ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক পয়েন্টে আধুনিক প্রযুক্তি (এআই)-চালিত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। পর্যায়ক্রমে অন্তত ৫০০টি সিগন্যালে এটি সম্প্রসারণের কাজ চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক সকালের সময়কে বলেন, এই উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আমাদের দেশে একই সময়ে দুটি প্রক্রিয়ার মধ্যে দুটি কাজ করতে হয়। ট্রাফিক কাজ করছে, আবার সিগন্যাল চলছে। এটা তো হতে পারে না। একটি সভ্য দেশে যে কোন একটি ব্যবস্থা চলবে, হয় প্রযুক্তি অথবা পুলিশ কাজ করবে। পুলিশ পুরো ব্যবস্থাকে প্রযুক্তির মাধ্যমে শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসার জন্য যে প্রযুক্তি ব্যবহার করলো, তার ইতিবাচক ধারা অমরা লক্ষ্য করছি। আমরা গাড়ির যারা চালক সেটা যে পর্যায়ের চালকই হোক। সমস্ত সড়কে যে বাতি দ্বারা কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে, সেখানে তারা নিজে থেকেই অনুস্বরণ করছে। কেন অনুস্বরণ করছে। অনুস্বরণ না করলে মামলার ভয় আছে। কিংবা একাধিক জরিমানার ভয় কাজ করছে। তা হচ্ছে, লাইসেন্স থাকবে কি থাকবে না। এই ধরণের পরিস্থিতির মধ্যে পরবে। যারা ট্রাফিক সিগন্যাল মানে না, তাদের ফাইন আরো বাড়ানো দরকার। তবে যে মানছে না, তাকে জরিমানা ও সতর্কতা দুটিই করতে হবে। ভয়ের মধ্যে দিয়েই স্বেচ্ছায় আইন মানার সংস্কৃতি তৈরী হোক অথবা যে প্রক্রিয়ায় হোক উভয় দিক থেকেই সেটা ভাল। কারণ রাস্তায় বা সড়কে চলতে গেলে শৃঙ্খলা যে রকম মানবে আবার যানজট কম হবে, আবার দুর্ঘটনাও কম হবে। গাড়ি এবং পথচারী উভয়ের জন্য শৃঙ্খলার মধ্যে দিয়ে যাতায়াতের পরিবেশ তৈরী হবে। কিন্তু আমরা ইতিমধ্যে দেখছি কিছু অসৎ এবং আইন অমান্য করার মনস্তত্ত্ব দ্বারা আবৃত ব্যক্তি তারা তাদের গাড়ির নম্বরপ্লেট ঢেকে অথবা কোন একটি অংশ পরিবর্তন করেন, যাতে নম্বরগুলো বোঝা না যায়। বিভিন্ন চলচিত্রে যে ধরণের কৌশলগুলো ব্যবহার করা হয়। সেই কৌশলগুলোর আশ্রয় অনেকেই নেয়া শুরু করেছে। তো এদের বিরুদ্ধে আমরা বার বার বলছি, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আইনের কঠিন এবং কঠোর প্রয়োগ দরকার। যারা এই কাজ করে ইতিমধ্যে সনাক্ত হয়েছেন, তার নামে তার এনআইডি দিয়ে আর কোন লাইসেন্স হবে না। কোন গাড়ির লাইসেন্স সে পাবে না। সেটা মোটর সাইকেল বা প্রাইভেটকার, ট্রাক হোক আর যে গাড়িই হোক না কেন । এই মানসিকতার ব্যক্তিকে গাড়ি চালানোর লাইসেন্স দেওয়া যায় না। দ্বিতীয়ত হচ্ছে, যারা ট্রাফিক সিগন্যাল মানছে না, আগের মানসিকতায় গাড়ি চালিয়েছে, এদের জন্য আইন টা আরো বেশী বাড়ানো দরকার এবং ফাইন আদায়ের জন্য যে সময় তা কমাতে পারলে তখন মানুষ ভয়ে আইন মানবে। তবে যে মানলো না, ট্রাফিক সিগন্যাল খেয়াল করার কথা খেয়াল করে নাই। কিংবা আগের মানুসিকতায় চলেছে, অন্য চলছে আমি যাই। এই মানসিকতার ব্যক্তিকে জরিমানা এবং সতর্কতা দুটিই তাকে দিতে হবে। আর যে এই নাম্বর প্লেট ফেলে দিয়ে নানাভাবে কারসাজি করে অক্ষরের ধরন পরিবর্তন করে বা অক্ষর ঢেকে রেখেছে, এর অর্থ হচ্ছে, অধিক অর্থ জরিমানা আর কখনো লাইসেন্স পাবে না, এটা নীতিগত সিদ্ধান্ত, তার এনআইডিতে কোন লাইসেন্স পাবে না এবং তাকে কারাগারে প্রেরন করা। আর নূন্মতম ৬মাস কারাভোগের ব্যবস্থা করা। এইভাবে কিছু মানুষের কারণেই আমাদের ট্রাফিক ব্যবস্থা শৃঙ্খলার মধ্যে আসে না। এখনই সময় চুড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সেটি বাস্তাবায়ন করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।
সূত্র জানায়, রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী গ্রুপ, এমএস-১৩ বা মারা সালভাক্রচা এর আদলে পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামার চেস্টায় লিপ্ত হচ্ছে সন্ত্রাসী চক্র। আর এমএস-১৩ হচ্ছে, এমন একটি আন্তর্জাতিক অপরাধী গ্যাং। যা প্রথম অপরাধীর পর দ্বিতীয় অপরাধীকে সনাক্ত করা সম্ভব নয়। এই ভয়ঙ্কর অপরাধী গ্যাং ১৯৮০-এর দশকে এল সালভাদরের গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা অভিবাসীদের দ্বারা ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে গঠিত হয়। এই গ্যাং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা জুড়ে এর শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে এবং এটি মাদক চোরাচালান, মানব পাচার, চাঁদাবাজি ও চরম সহিংসতার জন্য কুখ্যাত হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে।
সূত্রটি আরো জানায়, লস অ্যাঞ্জেলেসে এল সালভাদর থেকে আগত শরণার্থীদের সুরক্ষার জন্য গ্যাংটির জন্ম হয়। আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার অবৈধ সদস্যদের তাদের নিজ দেশে যেমন এল সালভাদর, হন্ডুরাস, গুয়াতেমালায় ফেরত পাঠালে, তারা সেখানেও গ্যাংয়ের নেটওয়ার্ক ও সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অপরাধ জগতের এই নতুন ট্রেন্ড বা কৌশলগুলোর মধ্যে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সাইবার কৌশল ডার্ক-ওয়েব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি। তাছাড়াও অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও জাল টাকার লেনদেনে বিটকয়েন বা অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করছে অপরাধীচক্র। যার ফলে অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। অ্যানোনিমাস ও অ্যান্ড-টু-অ্যান্ড এনক্রিপ্টেড অ্যাপ বা সাধারণ ফোন কলের পরিবর্তে অপরাধীরা সিগন্যাল, টেলিগ্রাম বা থ্রিমা-র মতো সম্পূর্ণ এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করছে।
আবার ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএন এর মাধ্যমে নিজেদের আইপি অ্যাড্রেস বা ডিজিটাল লোকেশন লুকিয়ে রাখার চেষ্টার অংশ হিসেবে উচ্চমানের ভিপিএন এবং প্রক্সি সার্ভার ব্যবহার করছে অপরাধী গ্যাং এর সদস্যরা। বিশেষ করে মাদক ও চোরাচালানের ক্ষেত্রে অভিনব মাধ্যম কুরিয়ার ও পার্সেল সার্ভিস ব্যবহার করছে। আবার অপরাধীরা সরাসরি যোগাযোগের ঝুঁকি এড়াতে বিভিন্ন সাধারণ পণ্য বা হোম ডেলিভারি সার্ভিসের আড়ালে মাদক ও অবৈধ পণ্য আদান-প্রদান করছে।
অপরদিকে ড্রান প্রযুক্তির মাধ্যমেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়ার চেস্টা করছে। এসব অপরাধীরা অনেক সীমান্ত এলাকায় বা দুর্গম অঞ্চলে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারি এড়াতে ড্রোন ব্যবহার করে নিষিদ্ধ পণ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পাচার করছে। আবার মানবদেহের ভেতরে বা পণ্যের গভীরে লুকানোর মাধ্যমেও তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। ফলে ক্যারেট, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, এমনকি পাকস্থলীতে বিশেষ কায়দায় মাদক বহনের ঘটনা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
অপরদিকে আর্থিক ও সামাজিক প্রতারণার বিষয়ে ডিজিটাল ব্যাংকিং ও ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা সিম কার্ড ব্যবহার করে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট খুলে অর্থ আত্মসাৎ এর ঘটনা বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে আসল অপরাধীরা আড়ালেই থাকছে। আবার ডিপফেক ও এআই প্রযুক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে কণ্ঠস্বর ও চেহারা নকল করে ব্লাকমেইল বা বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতি চলছে। তাছাড়া, সাংগঠনিক ও কৌশলগত পরিবর্তন কাট-আউট সিস্টেমের মাধ্যমেও বড় বড় অপরাধের ঘটনা ঘটছে। এই পদ্ধতিতে অপরাধী চক্রের একজন সদস্য অন্য সদস্যের আসল পরিচয় বা মূল হোতার খোঁজ পায় না। ফলে একজন ধরা পড়লেও পুরো চক্রকে ধরা পুলিশের জন্য কঠিন। শুধু তাই নয়, ছদ্মবেশ ধারণ করে অপরাধ করার পর দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের নাম-পরিচয় পরিবর্তন করে সাধারণ চাকরিজীবী, সাধু বা দিনমজুরের বেশে প্রত্যন্ত অঞ্চলে আত্মগোপন করে থাকছে ভয়ঙ্কর অপরাধী চক্র।
সম্প্রতি রাজধানীতে এআইভিত্তিক বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। এই এআইভিত্তি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নজরদারি ফাঁকি দিতে মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটের তিনটি ডিজিট (সংখ্যা) ঢেকে সড়কে চলাচলের তথ্যে নগরবাসীর মাখে উৎকন্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। কৃত্রিম এই বুদ্ধিমত্তার নজরদারী ফাঁকি দিতেই অপরাধীচক্রের সদস্যরা গাড়ির নম্বর প্লেট মুছে সেই গাড়ি নিয়ে অপরাধ সংঘঠিত করছেন। আর এই অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই এক ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পরে তাকে স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সড়ক পরিবহন আইনে তাকে এক মাসের কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন এই আদালত।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, গত ১৯ মে একজন মোটরসাইকেল চালক নম্বরপ্লেটের তিনটি ডিজিট সাদা স্কচটেপ দিয়ে ঢেকে রাজধানীর সড়কে চলাচল করেন। পরে সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও তা প্রকাশিত হয়। গত ২১ মে বিষয়টি ডিএমপির নজরে আসে। এরপর পুলিশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। কারণ এ ধরনের প্রতারণামূলক কৌশল ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন অপরাধী চক্র তা অনুসরণ করতে পারে। ফলে উল্লেখিত বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
আনিছুর রহমান জানান, ছবিতে চালকের মুখ স্পষ্ট দেখা না যাওয়ায় তাকে শনাক্ত করা কঠিন ছিল। পরে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) সহায়তায় নগীর বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ মোটরসাইকেলটির ধরন ও নম্বরপ্লেট মিলিয়ে অনুসন্ধান চালানো হয়। একপর্যায়ে গত সোমবার সেই ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম নাম লাবলু হক (৩৮)। রাজধানীর লালবাগ এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। রাজধানীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে নগরবাসীর সহযোগিতায় অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এমনকি ঈদের ছুটিতে যানবাহন কম থাকলেও অনেককেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ট্রাফিক আইন মেনে চলছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমরা উন্নত বিশ্বের মতো একটি স্বয়ংক্রিয় ও শৃঙ্খলাপূর্ণ ট্রাফিকব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই। কিন্তু কেউ যদি প্রযুক্তিকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে সেটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, গত ১৯ মে গ্রেফতারকৃত লাবলুকে স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাকে এক মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ড দিয়েছেন বলে তিনি জেনেছেন। তবে ডিএমপির উদ্দেশ্য কাউকে শাস্তি দেওয়া নয়, বরং মূল লক্ষ্য মানুষকে সচেতন করা। তারা চান, সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইন মেনে চলুক। কিন্তু কেউ আইন ভঙ্গ করলে সেখানে কঠোরতা অনুসরণ করা হবে।
নাগরিকদের সঙ্গে সর্বোচ্চ ভদ্র আচরণ করার জন্য পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান বজায় রাখা হবে। নতুন প্রযুক্তি চালুর পর সেটিকে ফাঁকি দেওয়ার নানা চেষ্টা হতে পারে। তবে ডিএমপির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণসহ প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে যেকোনো অপরাধ উদ্ঘাটনের সক্ষমতা পুলিশের রয়েছে বলে জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
তবে সূত্র জানায়, রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী গ্রুপ, এমএস-১৩ বা মারা সালভাক্রচা এর আদলে পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামার চেস্টায় লিপ্ত হচ্ছে। আর এমএস-১৩ হচ্ছে, এমন একটি আন্তর্জাতিক অপরাধী গ্যাং।
এই ভয়ঙ্কর অপরাধী গ্যাং ১৯৮০-এর দশকে এল সালভাদরের গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা অভিবাসীদের দ্বারা ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে গঠিত হয়।এই গ্যাং উত্তর ও মধ্য আমেরিকা জুড়ে এর শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে এবং এটি মাদক চোরাচালান, মানব পাচার, চাঁদাবাজি ও চরম সহিংসতার জন্য কুখ্যাত হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসে এল সালভাদর থেকে আগত শরণার্থীদের সুরক্ষার জন্য গ্যাংটির জন্ম হয়। আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার অবৈধ সদস্যদের তাদের নিজ দেশে যেমন এল সালভাদর, হন্ডুরাস, গুয়াতেমালায় ফেরত পাঠালে, তারা সেখানেও গ্যাংয়ের নেটওয়ার্ক ও সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিয়েছে।
এমএসএম / এমএসএম
ডিপফেক ও এআই প্রযুক্তি চ্যালেঞ্জে এমএস-১৩ গ্যাং এর আদলে অপরাধীরা সক্রিয়
বিসিকের অসংতিপূর্ণ টেন্ডার কার্যক্রম!
কুরিয়ারে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে জাল টাকা
শুল্কফাঁকি দিয়ে অ’বৈধ বাজাজ সিএনজি আমদানির নামে শত কোটি টাকার মালিক এখন হাজী আব্দুর রশিদ বুলু
যৌন সহিংসতা - সামাজিক অস্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার তীব্র সংকটে বাংলাদেশ
প্রাণীসম্পদ খাতকে রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপ দিতে কাজ করছে সরকার : শাহজামান খান
দলিল বাণিজ্যের অন্দরমহল
ঢাকার সড়কে "এআই নজরদারি": ডিজিটাল মামলার ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে ট্রাফিক চিত্র
ব্লাডব্যাংকের নামে মরন ফাঁদ, মিছে বাঁচার আশা
জালিয়াতির মাধ্যমে বিআরটিএ’র দালাল রুবেল এখন কোটিপতি
পেঁয়াজ কেলেঙ্কারিতে স্টান্ড রিলিজের পর বহাল তবিয়তে বনি আমিন খান
জাগৃক এর প্রধান অফিস থেকে নথি গায়েব চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে অভিযুক্তকে বাঁচানোর চেষ্টা