ঢাকা বৃহষ্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬

চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মোল্লা রেজাউল করিম গিলে খাচ্ছে চট্টগ্রামের বনাঞ্চল


জাহাঙ্গীর আলম শাহীন photo জাহাঙ্গীর আলম শাহীন
প্রকাশিত: ২-৩-২০২৬ রাত ৮:৩৭

চট্টগ্রামের বন সংরক্ষক মোল্ল্যা রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে প্রকল্প পরিচালক থাকাবস্থায় ঠিকাদারের সাথে আতাত করে ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ,বদলি বাণিজ্য, নির্বাচনী প্রচারণা ও সার্কেলের প্রতিটি রেঞ্জ থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা আদায় সহ বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। 

জানাযায়, চট্টগ্রাম অঞ্চল বন সংরক্ষক (সিএফ) মোল্লা রেজাউল করিম প্রকল্প পরিচালক থাকা অবস্থায় মিরপুরের উদ্ভিদ উদ্যান ও বলদা গার্ডেন টিকাটুলিতে দুই ধাপে  বরাদ্দকৃত সর্বমোট ৩০ কোটি টাকার কাজে অনিয়মের কারণে ২০২০ইং সালে তার বিরুদ্ধে আগারগাঁও বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক বরাবর তার দুর্নীতির তদন্তের অভিযোগ হয়। মোল্লা রেজাউল করিম যশোর ও ফেনীতে উপ-বন সংরক্ষক থাকা অবস্থায়ও বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের কারণে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর  তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। 

আরো জানা যায়, চট্টগ্রাম অঞ্চলে ১০ টি বন বিভাগ রয়েছে যার প্রত্যেকটিতে রেঞ্জ অফিস ও বিট অফিস রয়েছে চার শতাধিক। প্রতিটি বিভাগীয় বন কর্মকর্তার দপ্তরের জন্য বন অধিদপ্তর হতে আলাদা আলাদা বাজেট বরাদ্ধ থাকে মাঠ পর্যায়ের বিট ও রেঞ্জ অফিস মেরামত ও উন্নয়নমূলক কাজের জন্য, কিন্তু কে শুনে কার কথা। বিট ও রেঞ্জ থেকে বন পাহারা ও বন সৃজন এর কাজ করবে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা তাদের কেন গেট ও ঘর লাগবে এভাবে ক্ষোভ প্রকাশ  করেন অনেকেই। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয় বন সংরক্ষকের কার্যালয়ে গেট এবং অফিস ভবন থাকার পরও গেট ও অফিস ভেংগে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের রেঞ্জ, বিটের উন্নয়ন না করে মোল্লা রেজাউল করিম জোর পূর্বক দক্ষিণ বিভাগের ডিএফও এর মাধ্যমে কোটেশন করিয়ে গেট ও ডবন সম্প্রসারণ কাজ চলমান রেখেছেন। এমনকি  তার নিজস্ব ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এম এম এন্টার প্রাইজ যা সে অন্য নামে চালিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। তাছাড়াও তার অধিনস্ত সকল কাজ এম এম এন্টার প্রাইজ কে দিয়ে করিয়ে থাকেন। উক্ত গেট ও ভবন সমপ্রসারণ এর কাজটি দক্ষিণ বন বিভাগের ডিএফও এর নির্দেশ দেন এম এম এন্টার প্রাইজকে দেওয়ার জন্য। এম এম এন্টার প্রাইজ এর প্রোপাইটর হল মোল্লা রেজাউল এর আস্থাভাজন ও ব্যাবসায়িক পার্টনার কাদের খান। এম এম এন্টার প্রাইজ শুধু টেন্ডার কোটেশন এর ব্যাবসা করেন তা নয়। এম এম এন্টারপ্রাইজের ঢাকায় ডেভেলপার এর ব্যাবসা আছে এবং ব্যাবসায়িক পার্টনার কাদের খান বিভিন্ন সময় ল্যান্ড শেয়ার বিক্রির জন্য ফেইসবুকে পোষ্ট করে মোল্লা রেজাউল করিমের ফেইসবুক ওয়ালে ট্যাগ করেন যার প্রমাণ আছে । গত  ১১/০১/২০২৫ ইং মোল্লা রেজাউল করিমের ব্যাবসায়িক পার্টনার এম এম এন্টার প্রাইজ এর প্রোঃ কাদের খানকে সাথে নিয়ে  সরকারী গাড়ী যোগে চট্টগ্রাম হতে কক্সবাজারব শহরে বন বিভাগের নিয়ন্ত্রনাধীন রেস্ট হাউজ বন কল্লোল এ রাত্রিযাপন করেন।

অনুসন্ধান আরো জানা যায়, ডেপুটি রেঞ্জার কাজী সাইফুলকে ২০ লাখ টাকা উৎকোচের বিনিময়ে সদর রেঞ্জের দায়িত্ব দেয়া হয়।  যেখানে সিনিয়রের পরিবর্তে অর্থের বিনিময়ে জুনিয়রকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। মোল্লা  রেজাউল করিম ও তার সকল কাজের অন্যতম সহযোগী (ডিএফও)এম এ হাসানকে নিয়ে তার জন্মস্থান সাতক্ষীরাতে নির্বাচনী প্রচারনা চালিয়েছেন। তাছাড়াও ৩০/১২/২০২৫ ইং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকাল উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকা সত্ত্বেও ঐদিন অফিস চালু রাখার কথা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে এমনকি   এমএ হাসানের বাসাতে মোট ৬ জন কাজের লোক ২ জন ড্রাইভার রয়েছে। এম এ হাসান চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগে থাকা অবস্থায় ২০১০-১১ সালে কাজের মেয়েকে মেরে ফেলার কারণে স্ত্রী সহ দীর্ঘদিন কারা ভোগ করেছিলেন বলে সূত্রটি জানায়।

বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের মন্তব্য জানতে চট্টগ্রামের প্রধান বন সংরক্ষক মোল্লা রেজাউল করিমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি 'দৈনিক সকালের সময়'কে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা। তিনি আরো বলেন, আমার বিরুদ্ধে কেউ মিথ্যা নিউজ করলে কেয়ামতের দিন তার আমলনামা থেকে কেটে নেয়া হবে।

এমএসএম / এমএসএম

তথ্য ফাঁস ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের পরও বিতর্কিত দোহাটেকের সাথেই নতুন চুক্তির পায়তারা

দরকষাকষি করে ঘুষ নেন স্টেশন কর্মকর্তা নাজমুল

বন মামলার নথি বদল

ত্রাণের টিন সরবরাহে অনিয়ম!

বদলির ফাঁদে পার্বত্যের প্রাথমিক শিক্ষকরা

নতুন সম্ভাবনার নাম মাশরুম

বন কেটে বাউন্ডারি শহীদের সাম্রাজ্য

GAP-এর মাধ্যমে নিরাপদ কৃষি ও রপ্তানির নতুন দিগন্ত: বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের কৃষি

৩৩.৩৫ কোটিতে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের কন্ট্রোলার

মন্ত্রীর সঙ্গে দখলের তালিকায় দেশের শীর্ষ শিল্পগ্রুপ

বনবিভাগের মালি থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক বাউন্ডারি শহিদ

বন রক্ষকই যখন দখলের গডফাদার

বাস কোম্পানির চাঁদায় চলে এসপি অফিসের চা খরচ