ঢাকা বুধবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৬

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর হচ্ছে মিরপুরে

জাইকার সহায়তায় ৯৮২ কোটি টাকায় হচ্ছে ভূমিকম্প সহিষ্ণু ভবন


আব্দুল লতিফ রানা photo আব্দুল লতিফ রানা
প্রকাশিত: ২০-১-২০২৬ রাত ৮:১০

রাজধানীর বঙ্গবাজার থেকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর নেয়া হচ্ছে মিরপুর ১০ নম্বরে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ট্রেনিং কমপ্লেক্স ভেঙ্গে সেখানে নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন এই অধিদফতর। গড়ে তোলা হচ্ছে, ভূমিকম্পসহিষ্ণু ১০ তলা ভবন। পাশাপাশি সক্ষমতা বাড়াতে ঢাকা জেলার মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের আরো নয়টি স্টেশন সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এজন্য দশমিক শূন্য এক শতাংশ হারে ঋণ সহায়তা দেবে।
জাইকার সহায়তায় ‘পিডব্লিউডি’ কর্তৃক বাস্তবায়িত ‘আরবান বিল্ডিং সুরক্ষা প্রকল্প’ (ইউবিএসপি) এর আওতায় রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সদর দপ্তর ভবন   সোমবার নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও অনুষ্ঠান করা হয়। এই ভবনটিতে একটি বেস আইসোলেশন সিস্টেম থাকবে যা ভূমিকম্প প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং নগর নিরাপত্তার দিকে অগ্রগতির একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, ফয়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স এর মহা-পরিচালক (ডিজি) ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, জাপানের দূতাবাস বা জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) এর প্রধান প্রতিনিধি এবং প্রতিনিধি ইচিগুচি তোমোহাইড। এছাড়া, অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন গণপূর্ত বিভাগের (পিডব্লিউডি) প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এবং প্রকল্প (ইউবিএসপি) পিডব্লিউডি এর মো. সোহেল রহমান। গণপূর্তের প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, কন্সট্রাকশন ফার্মের প্রতিনিধি, ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লেঃ কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার, পিএসসি, ট্রেনিং কমপ্লেক্সের অ্যাডজুটেন্টসহ প্রতিনিধিবৃন্দ ভবনের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন।
জানা গেছে, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ও সিভিল ডিফেন্সের নতুন ভবন নির্মাণে জাইকার (জাইকা) সহায়তা রয়েছে, বিশেষ করে মিরপুর-১০-এ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স হেডকোয়ার্টার্স ভবন নির্মাণে, যা ‘আরবান বিল্ডিং সেফটি প্রজেক্ট (ইউবিএসপি)’ এর অংশ হিসেবে ‘দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন ভবন’ নামেও পরিচিত। যেখানে জাইকা আর্থিক সহায়তা ছাড়াও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। এটি ‘আরবান বিল্ডিং সেফটি প্রজেক্ট (ইউবিএসপি)’ প্রকল্পের আওতায় ‘দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন ভবন’ হিসেবেও পরিচিত। এই ভবনের লক্ষ্য হচ্ছে, সরকারি ভবন ও বেসরকারি ভবনের নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই সহায়তার ধরন হচ্ছে, জাইকা কারিগরি সহায়তা ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করছে, যা ভবন নির্মাণকে ত্বরান্বিত করছে। 
নতুন সদর দপ্তর ভবন নির্মাণ প্রকল্পটির মূল্য প্রায় ৪.৩ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন, এবং এটি ৩০ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ভবনটি হবে একটি বেইজমেন্টসহ ১০ তলা রিইনফোর্সড কংক্রিট (আরসি) স্ট্রাকচার, যেখানে থাকবে সিস্টেম আইসোলেশন প্রযুক্তি। যা ভূমিকম্প-সহনশীলতা নিশ্চিত করবে। ভবনটির নকশায় রয়েছে আধুনিক টেকসই প্রযুক্তির সমন্বয়, যেমন, বিল্ডিং এনার্জি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (বিইএমএস), বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা, সোলার পাওয়ার জেনারেশন এবং সংরক্ষিত পানির গ্রে-ওয়াটার ব্যবহারের ব্যবস্থা। বর্তমানে নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে এবং আশা করা হচ্ছে আগামী ৩০ মাসের মধ্যেই প্রকল্পটি সম্পন্ন হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভবনের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করে সামাজিক ঝুঁকি উন্নয়নের লক্ষ্যে জাইকার সহায়তায় ‘আরবান বিল্ডিং সেফটি প্রজেক্ট (ইউবিএসপি)’ শীর্ষক প্রকল্প নামে সরকারী (জিওবি) তহবিলসহ এ প্রকল্পের মোট তহবিলের আকার প্রায় দেড় হাজার কোটি ইয়েন। বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ৯৮২ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাইকার ঋণ সহায়তা ১ হাজার ২০৮ কোটি ৬০ লাখ ইয়েন। আর বাংলাদেশ সরকারের অংশ বাকি প্রায় ১৯৫ কোটি ইয়েন। এই তহবিল থেকে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকম্পসহিষ্ণু প্রধান কার্যালয় নির্মাণ, নয়টি ফায়ার স্টেশন সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন এবং তিনটি আধুনিক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি কিনতে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এ জন্য ৫৭১ কোটি ৭২ লাখ টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। 
অপর সূত্র জানায়, এর আগে গত আওয়ামী সরকারের সময়ে তহবিলের সম্পূর্ণ টাকা ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা উন্নয়নে খরচ করার পরিকল্পনা নিয়েছিল। তার মধ্যে জাইকার ঋণ সহায়তার অংশ ৪৭৪ কোটি ৪১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। বাকি টাকা সরকারের অংশ থেকে নেয়ার কথা ছিল। সেই প্রস্তাবে প্রথমে এ প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) প্রকল্পটির মেয়াদ কমিয়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। অর্থাৎ সেই প্রকল্পের আওতাধীন সকল কাজ শেষ করতে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কিছুদিন পরেই জাইকার সঙ্গে ঋণ চুক্তি সই হয়। 
জানা গেছে, নির্মাণাধীন ভবনগুলোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য কোন দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় সক্রিয় থাকা। এমনকি বিদ্যুত না থাকলেও ফায়ার সার্ভিসের প্রধান কার্যালয়টি সক্রিয় থাকবে। অত্যাধুনিক এ প্রধান কার্যালয় গড়ে তুলতে খরচ হবে ২৪৭ কোটি ৫১ লাখ ৫১ হাজার টাকা। আর মিরপুর ১০ নম্বরে বর্তমানে অবস্থিত ট্রেনিং কমপ্লেক্সটি সরিয়ে ঢাকা শহরের বাইরে নেয়া হবে। ‘আরবান বিল্ডিং সেফটি প্রজেক্ট’ প্রকল্পের আওতায় ২৭ কোটি ২২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ফায়ার সার্ভিসের নয়টি স্টেশন সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করা হবে। 
জানা গেছে, জাইকার সহযোগিতায় নির্মাণাধীন ভবনসহ নয়টি ফায়ার স্টেশনের মধ্যে রাজধানীরÑডেমরা, কুর্মিটোলা, মোহাম্মদপুর, বারিধারা, মিরপুর, পোস্তগোলা, কেরানীগঞ্জ, সাভার ও ধামরাই ফায়ার স্টেশন। এ নয়টি ফায়ার স্টেশন আধুনিকায়ন করার পাশাপাশি প্রতিটির দুটি করে ফ্লোর সম্প্রসারণ করা হবে। একই সঙ্গে ২৬ কোটি ৫৫ লাখ ৮৪ হাজার টাকা ব্যয়ে তিনটি আধুনিক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি কেনা হবে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ তাদের পছন্দ অনুযায়ী এ আধুনিক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি যে কোন ফায়ার স্টেশনের জন্য বরাদ্দ দিতে পারবে। এ প্রসঙ্গে ‘আরবান বিল্ডিং সেফটি প্রজেক্টে’র প্রকল্পের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, জাইকা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন-সহযোগী। জাইকা থেকে নামমাত্র সুদে ঋণ সহায়তা নিয়ে ভবনের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করে সামাজিক ঝুঁকি উন্নয়ন করতে আরবান বিল্ডিং সেফটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। কোন দুর্যোগ দেখা দিলে সবার আগে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ছুটে যায়। এজন্য নিরাপত্তায় সবার আগে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন, যাতে যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলা করতে ফায়ার সার্ভিস উপযুক্ত থাকে। এ জন্য প্রকল্পের অর্থ দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা অনেক বেড়ে যাবে। মিরপুরের এই ১০ তলাবিশিষ্ট ফায়ার সার্ভিসের যে প্রধান কার্যালয় নির্মাণ করা হবে তা দেশের প্রথম ভূমিকম্পসহিষ্ণু ভবন হবে। এখানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। আর ট্রেনিং কমপ্লেক্সটি শহরের বাইরে সরিয়ে নেয়া হবে। সাধারণত প্রশিক্ষণকেন্দ্র শহরের বাইরেই হয়। মিরপুর থেকে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি সরিয়ে নিয়ে ঢাকা শহরের আশপাশেই নতুন করে স্থাপন করা হবে।

 

এমএসএম / এমএসএম

জাইকার সহায়তায় ৯৮২ কোটি টাকায় হচ্ছে ভূমিকম্প সহিষ্ণু ভবন

বিটিসিএল’এ কোটি কোটি টাকার রাজস্ব অবৈধভাবে ভোগকারীরা পগার পার!

সিডিএ’র জনবল নিয়োগ: পরীক্ষা না দিয়েই পাশ!

নতুন নকশার ই-রিকশা বন্ধে উচ্চ আদালতে রিটপিটিশন

আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সচিবের চাঞ্চল্যকর নিয়োগ জালিয়াতি

নতুন নকশার ই-রিকশা বন্ধে উচ্চ আদালতে রিটপিটিশন

বেশি দামের গাছ কম দামে বিক্রি করায় তার নেশা

মামলা ও বিতর্কের মধ্যেই পদোন্নতি পেতে দৌড়ঝাপ, ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন বঞ্চিতরা

বিটিসিএল’র ডিজিএম মালেক ও ম্যানেজার রাব্বির দুর্নীতি চরমে

গণপূর্তের পিপিআর আইন সংশোধনের পরও এটিএম-এলটিএম টেন্ডারে দুর্নীতি

বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার রতন লাল মাহুতের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

ডিবি’র হারুনকে দিয়ে ২ নারী ব্যবসায়ীদের প্রতারণার জালে ফেলতো

নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করছে বন বিভাগের কিছু লোক