এলজিইডি'র (সিআইবিআরআর) প্রকল্পের প্রকৌশলী ছামাদের
বিরুদ্ধে দুর্নীতি ছাড়াও নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগ
এলজিইডি’র কনসালটেন্ট, পিসি গার্ডার এক্সাপার্ট (সিআইবিআরআর) প্রকল্পের প্রকৌশলী কাজী আব্দুস ছামাদ এর বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতি অনিয়ম প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি সিলেট তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী। এরপর রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন। আর এসব অভিযোগ ভুক্তভোগি স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব এর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে জানা গেছে, কাজী আব্দুস ছামাদ রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালীন সময়ে শুভলং বাজারে পানিয় জলের জন্য ডিপ টিউবয়েল এর কাজ না করেই সমুদয় টাকা আত্মসাত করেছেন। আর এই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গত ২০২৪ সালের ৯ মার্চ ০৩/২৩ নম্বর মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলাটি সিনিয়র স্পেশাল জজকোর্ট রাঙ্গামাটিতে চলমান রয়েছে। তাছাড়া, শুভলং কমিউনিটি ক্লিনিক ও পাকা সিড়ি নির্মাণের কাজটি না করেই সমুদয় অর্থ আত্মসাত করায় দুর্নীতিবাজ এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অপর একটি মামলা দায়ের করেছেন। গত ২০২৪ সালের ৯ মার্চ মামলা নম্বর ০৪/২৪ ইং। মামলাটি সিনিয়র স্পেশাল জজকোর্ট রাঙ্গামাটি আদালতে চলমান রয়েছে।
তাছাড়া, রাঙ্গামাটির পূর্ব এরাবনিষ্ট হারুন টিলা থেকে আহাদের বাড়ী পর্যন্ত সস্কারের কাজ না করেই সমুদয় অর্থ আত্মসাত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এজন্য তার বিরুদ্ধে গত ২০২৪ সালের ৯ মার্চ দুদক মামলা দায়ের করেছেন। যার মামলা নম্বর ০৫/২৩। এই মামলাটিও রাঙ্গামাটির সিনিয়র স্পেশাল জজকোর্টে বিচারাধীন রয়েছেন।
নির্বাহী প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় সিলেটে থাকার সময়ে তিনি অন্যায়ভাবে গাড়ী চালকের গাড়ি চালানো বন্ধ করা ছাড়াও, হয়রানী ও কর্তকর্তাদের নির্দেশ পালনে অনিহা, স্থানীয় সরকার বিভাগসহ এলজিইডি’র সাবেক ও বর্তমান উর্দ্ধতন কর্তকর্তাদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। আবার এমজিএসপি এর সিলেট অঞ্চলের উপ পরিচালক থাকার সময়ে অসৎ উদ্দেশ্যে গাড়ি চালক মো. আমিরুল ইসলাম এর চাকুরী বহিতে স্বাক্ষর না করাসহ কর্মকর্তা/কর্মচারীদের এসিআর প্রদানে বাঁধা সৃস্টির অভিযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, অনুমোধিত ট্যুর প্রোগ্রাম ব্যতিত প্রতিমাসে গড়ে ১৭ দিন পরিদর্শন ছাড়া পরিদর্শন, বিল উত্তোলন লগ বহি মেইনটেইন না করে বিপুল পরিমাণ জ¦ালানী তেল আত্মসাত ও সরকারী গাড়ীর অপব্যবহার, নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তার অবসরে গেলে তার বিরুদ্ধে হয়রানমূলক ও মিথ্যা অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
আবার রাঙ্গামাটি তত্ত্বাবধায় প্রকৌশলীর কার্যালয়ে থাকাকালীণ সময়ে তত্ত্ববাধায়কসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানীমুলক অভিযোগ দুদকের দাখিল করা, নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তার নথি অনুমোদন ব্যতিরেখে ভূয়া স্বারক ব্যবহার করে বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানীর করা তার একটা অভ্যাসে পরিণত হয়। উক্ত অভিযোগের বিপরীতে তার বিরুদ্ধে এক বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর ১২/২০২৩ স্বরাক নম্বর-৫১৫ তারিখ ১২ জুন ২০২৩ইং। উক্ত মামলায় তিনি দোষী প্রমাণিত হলে ২০১৮ ৩(খ) ও (ঘ) এবং এইক বিধিমামলার ৪(২)(ঘ) তাকে শাস্টিত স্বরূপ বেতন স্কেলের নিম্ন ধাপে স্কেলের অবনমিতকরণ করা হয়।
অপর সূত্র জানায়, প্রকৌশলী কাজী আব্দুস ছামাদের বিরুদ্ধে তার স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন বনিবনা না থাকার কারণে তিনি হবিগঞ্জ এলাকার এক নারীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হন। এবিষয়টি ব্যাপক আলোচিত। তার প্রিটেস্ট কাজে অভিজ্ঞতা না থাকা সত্যেও প্রজেক্ট ডাইরেক্ট (পিডি) ও অন্যান্যদের দশ লাখ টাকার অধিক টাকা ঘুষ প্রদান করে প্রায় ২ লাখ টাকা বেতন পিসি গার্ডার এক্সপার্ট হিসাবে সিআইবিআরআর প্রকল্পের পদটি বাগিয়ে নেন। তাছাড়া, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, সিলেট বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) এর দায়িত্ব পালনের সময়ে বিভিন্ন গাড়ীর যন্ত্রাংশ ক্রয় ও মেরামত এর সমুদয় টাকা আত্মসাত করেন। গাড়ী নম্বর ঢাকা মেট্রো-খ-১১-২৬২১)।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এক ব্যক্তি জানান, তার অফিসের ভূয়া স্বারক ব্যবহার করে তার উর্ধ্বতন ও নিম্নোস্থলের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য সরকারের কিছু স্পর্সকাতর দপ্তরে প্রদান করতেন, যা অসাদাচরণের পর্যায়ভুক্ত বিষয়টি উক্ত বিভাগ বা অঞ্চলের সকলেই অবগত রয়েছেন। আবার গত ১৯৯৫ সালে পিএসসি এর সুপারিশে এলজিইডিতে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে পরবর্তীতে ফ্যাসিস্ট সরকারের রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের নিকট আত্মীয় এর মেয়ে মাহমুদা বেগমকে বিবাহ করেন। আর সেই সূত্রে বিভিন্ন উর্ধ্বতন ও অধিনস্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত ভয় প্রদর্শন করে হয়রানী করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আবার এলজিইডিতে তিনি দুদকের মামলাগুলো হতে জামিনে আছেন বলে প্রচারিত রয়েছে। তার এই মামলাগুলো অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দূর্নীতিভুক্ত বিধায় জাতির স্বার্থে জরুরী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। সেখানে দক্ষতা না থাকা সত্বেও পিসি গার্ডার এক্সপার্ট হিসাবে পদায়ন হওয়ায় উক্ত প্রকল্পের কাজ ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়বে। আর অচিরেই তার নিয়োগ বাতিল করা প্রয়োজন বলে অভিজ্ঞজনেরা বলেছেন। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো অধিকতর তদন্ত করা হলে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যাবে বলেও অভিযোগে জানা গেছে।
এমএসএম / এমএসএম
বিরুদ্ধে দুর্নীতি ছাড়াও নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগ
অঢেল সম্পদের মালিক এনবিআর কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম
অভিযুক্ত বিপ্লব কুন্ডুই তদন্ত কমিটির প্রধান
গার্ল গাইডস্রে টাকা মেরে দেয়ার অভিযোগ কাজী জেবুন্নেছার বিরুদ্ধে
জাইকার সহায়তায় ৯৮২ কোটি টাকায় হচ্ছে ভূমিকম্প সহিষ্ণু ভবন
বিটিসিএল’এ কোটি কোটি টাকার রাজস্ব অবৈধভাবে ভোগকারীরা পগার পার!
সিডিএ’র জনবল নিয়োগ: পরীক্ষা না দিয়েই পাশ!
নতুন নকশার ই-রিকশা বন্ধে উচ্চ আদালতে রিটপিটিশন
আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সচিবের চাঞ্চল্যকর নিয়োগ জালিয়াতি
নতুন নকশার ই-রিকশা বন্ধে উচ্চ আদালতে রিটপিটিশন
বেশি দামের গাছ কম দামে বিক্রি করায় তার নেশা
মামলা ও বিতর্কের মধ্যেই পদোন্নতি পেতে দৌড়ঝাপ, ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন বঞ্চিতরা