মনপুরায় গ্রাম্য চিকিৎসকের ভয়াবহ ভুল চিকিৎসায় রোগীর জীবন মৃত্যুর মুখে
ভোলার মনপুরা উপজেলায় এক গ্রাম্য চিকিৎসকের দায়িত্বহীন ও ভয়াবহ ভুল চিকিৎসায় আলাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তির জীবন চরম সংকটে পড়েছে। অনুমোদনহীন চিকিৎসা ও অমানবিক আচরণের এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জীবন সংকটাপন্ন আলাউদ্দিন মৃত আনা মিয়া চকিদারের ছেলে। তিনি মনপুরা উপজেলার ৩ নম্বর উত্তর সাকুচিয়া গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, গতকাল দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে আলাউদ্দিন হঠাৎ পাঁচবার বমি করেন। অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা আনন্দ বাজারের ফার্মেসি ব্যবসায়ী ও কথিত গ্রাম্য চিকিৎসক কাশেম ডাক্তারকে ফোন করেন। ফোন পেয়ে তিনি রোগীর বাড়িতে এসে স্যালাইন দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পরিবার স্পষ্টভাবে স্যালাইন দিতে নিষেধ করলেও তিনি তা উপেক্ষা করে ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভাষায় বলেন, “ডাক্তার কি আপনারা নাকি আমি?”—এমন দম্ভ দেখিয়ে জোরপূর্বক স্যালাইন দেন।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই স্যালাইনের সঙ্গে পাঁচটি ইনজেকশন ভেঙে মিশিয়ে দেন এবং একের পর এক ঔষধ খাইয়ে দেন। এই মারাত্মক ও অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসার কিছুক্ষণ পরই আলাউদ্দিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিলে পরিবারের লোকজন বারবার কাশেম ডাক্তারকে ফোন করলেও তিনি কোনো দায় না নিয়ে বলেন, “আমি কি করবো? হাসপাতালে নিয়ে যান।”—এভাবেই তিনি নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ।
পরবর্তীতে রোগীকে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা স্পষ্টভাবে জানান, ভুল চিকিৎসার কারণেই আলাউদ্দিনের এই সংকটজনক অবস্থা তৈরি হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়।
কিন্তু চরম দারিদ্র্যের কারণে প্রায় ১৮ ঘণ্টা পার হলেও এখনো উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া সম্ভব হয়নি। চিকিৎসার অভাবে একজন মানুষ ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে যাচ্ছে—এমন করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে পরিবার ও স্থানীয়দের বর্ণনায়।
এই ঘটনার জন্য গ্রাম্য চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট ফার্মেসির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন আলাউদ্দিনের পরিবার ও এলাকাবাসী।
অভিযোগ প্রসঙ্গে কাশেম ডাক্তার বলেন,
“পরিবার ফোন করে বলেছে বমি ও পেটব্যথার কথা। আমি গিয়ে ওষুধ, স্যালাইন ও ইনজেকশন দিয়ে চিকিৎসা করেছি। পরে অবস্থা খারাপ হলে তাদের হাসপাতালে নিতে বলেছি।”
সচেতন মহল জানান, এ ধরনের অনুমোদনহীন চিকিৎসা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। ভুল চিকিৎসার ফলে রোগীর জীবন হুমকির মুখে পড়ে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কবির সোহেল বলেন, “গতকাল আমাদের কাছে একজন রোগী ভর্তি হয়। রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে জানতে পারি, তিনি বাড়ির কাছের একটি ফার্মেসি থেকে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। সেখানে তাকে স্যালাইন ও ইনজেকশন দেওয়া হয়। এর পর থেকেই রোগীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়।”
তিনি আরও জানান , “কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া এভাবে ইনজেকশন দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অনৈতিক।”
ডা. কবির সোহেল জানান, বর্তমানে রোগী মানসিক চাপে রয়েছে। রোগীর অবস্থা স্বাভাবিক হলে তার কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। “প্রশ্ন উঠেছে—কার অনুমতিতে গ্রাম্য চিকিৎসকরা জীবন নিয়ে এমন ভয়ংকর পরীক্ষা চালাচ্ছে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি না থাকায় সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত এভাবেই মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
Aminur / Aminur
রাণীশংকৈলে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা
শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে কলহের জেরে জামাই'র আত্মহত্যা
ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের আইন বিষয়ক সম্পাদক হলেন চৌগাছার জাফর ইকবাল
মুকসুদপুরে নতুন সহকারী কমিশনার হিসেবে আবিরুল ইসলামের যোগদান
ডাসারে কৃষকের ধান কেটে নেয়ার চেষ্টা: এলাকায় উত্তেজনা
এমপি আলমগীর ফরিদের প্রচেষ্টায় মহেশখালীর বৃহৎ ৫টি ইউনিয়ন ভেঙ্গে নতুন ৫ ইউনিয়ন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু
চাঁদপুরে খাবার তৈরি কারখানা সহ দুই প্রতিষ্ঠানের জরিমানা
চৌগাছার সফল লিচু চাষি আশাদুল ৬বিঘা জমির ৭৫টি গাছ হতে এ বছর ১৫ লাখ টাকার লিচু বিক্রির আশা
আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্সসহ আরও এক অনলাইন জুয়াড়ি গ্রেফতার
ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি'র সভাপতিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানালেন ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটি'র নেতৃবৃন্দ
আত্রাইয়ে আঞ্চলিক মহাসড়কে যানবাহন আটকিয়ে গণডাকাতি
ঝিনাইদহে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে ঘটনাস্থলে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই নিহত