ঢাকা বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

পটুয়াখালী-২. বাউফলে বিএনপির দূর্গে এ বারে শক্ত আঘাত হানতে যাচ্ছে জামায়েতে ইসলাম।


সাঈদ ইব্রাহিম (পটুয়াখালী) photo সাঈদ ইব্রাহিম (পটুয়াখালী)
প্রকাশিত: ৪-২-২০২৬ বিকাল ৫:৩৬

পটুয়াখালী-২ বাউফল আসনটি স্বাধীনতা পরবর্তী এক সময় আওয়ামীলীগের ঘাটি হিসেবে চিহ্নিত ছিল। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী আ.স.ম ফিরোজ ৪০ হাজার ২০২ ভোট পান, বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ আহম্মেদ পান ৭০৫০ ভোট, জাতীয় পার্টির প্রার্থী রুহুল আমিন পান ১৭৪৩, জামাতের প্রার্থী আ: গনি পান ১৭৯৯ ভোট, ইসলামী ঐক্যোর আক্তার ফারুক ৭৭১৩ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জাফর খান ২০,২২১ ভোট। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগের আ.স.ম ফিরোজ পান ৪৫,৯৩৭ ভোট, বিএনপির শহিদুল আলম তালুকদার পান ৪৫,৯১৩ ভোট, জাতীয় পার্টির শহিদুল আলম ৩৯৩ ভোট, জামাতের প্রার্থী ফখর উদ্দিন খান ১৬৮০ ভোট, ইসলামী ঐক্যের আক্তার ফারুক ৪১৮০ ভোট, ফ্রিডম পার্টির শাহাদত হোসেন ২৪৭ ভোট। পরবর্তীতে ২০০১ সালে আওয়ামীলীগের প্রার্থী একাধিকবার নির্বাচীত আ.স.ম ফিরোজকে হটিয়ে প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য হন শহীদুল আলম তালুকদার। সেখানে আ.স.ম ফিরোজ পান ৫২,৮০৪ ভোট, শহিদুল আলম তালুকদার পান ৬৯ হাজার ৭৩৫ ভোট, জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার পান ২৪,৭২০ ভোট ।
আওয়ামীলীগের চীফ হুইপ আ,স,ম,ফিরোজ ৭ বার এমপি হয়েছেন। মাঝে শুধূ ২০০১ সালে আ,স,ম ফিরোজকে পরাজিত করে প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচীত হন শহীদুল আলম তালুকদার তার ব্যাক্তি জনপ্রিয়তার মাধ্যমে। এর আগে ১৯৯৬ সালে একটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত হওয়ায় ঐ কেন্দ্রের পুন: নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করা অবস্থায় হওয়ায় ভোটে, মাত্র ২৪ ভোটে হারেন বিএনপির শহীদুল আলম তালুকদার।
“দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের অবজ্ঞা করা হচ্ছে” “ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হচ্ছেনা-এই অভিযোগ গুলি পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলা বিএনপির তৃনমূলের নেতা-কর্মীদের। যারা দীর্ঘ্য ১৭ বছর রাজপথে থেকে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে লড়াই করেছেন, আওয়ামীলীগের দু:শাসনে জেল জুলুমের শিকার হয়েছেন।
পরবর্তীতে দীর্ঘ্য ১৭ বছরে বাউফলের বিএনপির রাজনীতির নিয়ন্ত্রন নেয় বিভিন্ন সময় কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জাতীয় পার্টি থেকে বিএনপিতে যোগদান করা ইঞ্জিনিয়ার ফারুক আহম্মেদ তালুকদার ও ডাকসুর সাবেক মিলনায়তন সম্পাদক এসএম হলের ভিপি কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মো: মুনির হোসেন। মো: মুনির হোসেন দীর্ঘ্য ১৭ বছর বাউফলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে তৎকালীন সরকার বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। এবারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হয় শহীদুল আলম তালুকদাকে। এদিকে শহীদুল আলম তালুকদারকে মনোনয়ন দেয়ার পরবর্তিতে বাউফলের মনোনয়ন বঞ্চিত মো: মুনির হোসেন ও ইঞ্জিনিয়ার ফারুক আহম্মেদ তালুকদারের সমর্থকরা একত্রিত হয়ে শহীদুল আলম তালুকদারের মনোনয়ন বাতিলের দাবীতে বিক্ষোভ সহ বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করেন। এদিকে দীর্ঘ দিনে বাউফলের রাজনীতিতে জনপ্রিয় শহীদুল আলম তালুকদারের মনোনয়ন পাওয়ায় তার দীর্ঘদিন কমিটি থেকে বঞ্চিত নেতা-কর্মী সমর্থকরা উজ্জীবীত হয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমে পরেন। এদিকে কেন্দ্রের নির্দেশে প্রার্থীতা চুড়ান্ত হওয়ার পরে মো: মুনির হোসেন বাউফলের প্রত্যেক অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের দলীয় কার্যালয়ে সভা করে ডেকে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানান। তার এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত অন্য দুই গ্রুপ শহীদুল আলম তালুকদারের পক্ষ দলের স্বার্থে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে গেলেও শহীদুল আলম তালুকদারের অনুসারীরা তাদেরকে বিভিন্ন রকম বিদ্রুপ ও আক্রমণাত্মক কথা বলেন। এ বিষয়ে এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়েতে যোগদান করা বগা ইউনিয়ন মৎসজীবী দলের সভাপতি মো: জালাল হাওলাদারের সাথে। তিনি জানান, শহীদুল আলম তালুকদার মনোনয়ন পাওয়ার পরে ২১ জানুয়ারী বগা ইউনিয়নে আয়োজীত অনুষ্ঠানে আয়োজকরা আমাকে দাওয়াত দিলে আমরা আশা করেছিলাম আমাদের সকলকে নিয়ে বসবেন এবং আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো। কিন্তু ঐ অনুষ্ঠানে আমি উপস্থিত হলে শহীদুল আলম তালুকদারের অনুসারীরা আমাকে কেন দাওয়াত দেয়া হলো এ নিয়ে অশালীন আচরণ করেন। এ ছাড়াও যা আমাকে দারুণ ভাবে পীড়িত করে, বিগত ১৭ বছর আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানী করেছে সে সকল আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা তার সাথে রয়েছেন যা আমাদেরকে ব্যাথীত করেছে। এ দিকে শহীদুল আলম তালুকদার মনোনয়ন পাওয়ার পরেই তিনি তার অনুসারীদের দিয়ে বাউফল উপজেলা যুবদল ও ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষনা করেন। মনোনয়ন নিয়ে দীর্ঘ্য দিন যাবৎ মতানৈক্য, মনোনয়ন পাওয়ার পরে বিদ্রোহীদরে বিক্ষোভ সর্ব শেষ কমিটি ভাঙ্গায় দলের মধ্যে নির্বাচনের মুহূর্তে চলছে চরম সংকট, নেতা-কর্মী যারা দীর্ঘদিন যাবৎ মাঠে ময়দানে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন তাদের অনেকেই মাঠ ছেড়ে দিয়েছেন। কেউ যোগ দিচ্ছেন জামায়েতের প্রার্থীর সাথে, কেউবা নিশ্চুপ থাকছেন একেবারে। যা ভোটের মাঠে একটি বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। দলের মধ্যমশারীর একাধিক নাম প্রকাশে অনুচ্ছক নেতা-কর্মীরা জানান, আমরা দলের স্বার্থে ঘোষিত প্রার্থীর সভা - সমাবেশে গেলেও আমাদেরকে বিন্দু মাত্র মূল্যায়ন করা হচ্ছেনা। একদিকে যারা দীর্ঘ ১৭ বছর মাঠে ময়দানে সরব ছিল না তারা নতুন কমিটিতে স্থান পেয়ে আমাদেরকে ডাকছেন না। আমরা দলের পক্ষে কাজ করতে চাই দলের স্বার্থে কিন্তু ঘোষিত প্রার্থী ও তার পরিবারের সদস্যদের অবজ্ঞার কারণে আমরা বিভিন্ন ভাবে অপদস্থ হচ্ছি। মনোনয়ন বঞ্চিত কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক, মো: মুনির হোসেন যিনি দীর্ঘ ১৭ বছর মাঠে ময়দানে সক্রিয় ছিলেন নেতা-কর্মীদের নিয়ে তিনি জানান, মনোনয়ন ঘোষনার পরে শহীদুল আলম তালুকদারের সাথে আমার একদিন ফোনে কথা হয়েছে, আমি আমার নেতা-কর্মীদের নিয়ে দলীয় অফিসে সভা করে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার কথা বলে এসেছি। পরবর্তীতে প্রার্থী আমাকে তেমন একটি ফোনও দেননি। এ বিষয়ে বাউফলের বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী শহীদুল আলম তালুকদারের প্রধান নির্বাচন সমন্বয়ক তসলিম তালুকদার বলেন “আমরা চেষ্টা করছি উদ্ভুত সমস্যাগুলি সমাধান করার জন্য। এদিকে যারা ধানের শীষের সমর্থক তাদের দাবী দলের মধ্যে মনোনয়ন নিয়ে বিরোধ ছিল, বিশেষ করে মুনির হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে মনোয়ন না পাওয়া হতাশা কাজ করছে বেশী। তাদেরকে কাছে ডেকে নিয়ে মিলে মিশে কাজ করলে বিশেষ করে মুনির হোসেনকে সাথে নিয়ে কাজ করলে এ আসনে পুনরায় ধানের শীষের বিজয় সম্ভব। 
এদিকে স্বাধীনতা পরবর্তী বাউফল আসনে জামায়েতের কোন দিনই বড় ধরনের কোন সমর্থন ছিলনা। ১৯৯১ সালে জামায়েত প্রার্থী ভোট পান ১৭৯৯ এবং ১৯৯৬ সালে পান ১৬৮০ ভোট। এবারের নির্বাচনে সেই জামায়েতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী ঢাকা মহানগর দক্ষিনের জেনারেল সেক্রটারী ড.শফিকুল ইসলাম মাসুদ তার ব্যাক্তি কারিশমা দিয়ে এখন বাউফলের মাটিতে একটি জামায়েতে ইসলামের শক্ত ঘাটি তৈরী করেছেন। এই শক্ত ঘাটি গড়ার পিছনে তার দলের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক কাজকর্মের মাধ্যমে অসহায় দরিদ্র মানুষকে সহায়তা করার পাশাপশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে মানুষের মধ্যে একটি অবস্থান তৈরী করেছেন। ৫ আগস্টের পট-পরিবর্তনের পরে তিনি এই কাজটি বেশী ভাবে করতে সক্ষম হয়েছেন। এ ছাড়াও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যকার কোন্দলের বিষয়টিকে তিনি কাজে লাগিয়েছেন কৌশলে। যার কারণেই এক সময়কার বাউফলের বিএনপির দূর্গে এ বারে শক্ত আঘাত হানতে যাচ্ছে জামায়েতে ইসলাম। ফলাফল কি হবে তা নিয়ে জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও বিএনপির নীরব সমর্থক সহ অভিজ্ঞরা মনে করছেন বিএনপি যদি ঐক্যবদ্ধভাবে নামতে পারে যেটা পটুয়াখালী-১ সদর আসনের ক্ষেত্রে সম্ভব হয়েছে তবে ফলাফল অনুকূলে আসতে পারে নতুবা ফলাফল নতুন ইতিহাস তৈরী করতে পারে। দলের সাধারণ নেতা-কর্মীদের দাবী পটুয়াখালী জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দকে দিয়ে বাউফলের নির্বাচনে মনিটরিং করা হোক তাদের সরাসরি দায়িত্ব দেয়া হোক। এবষিয়ে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এ্যাডভোকেট মো: মজিবুর রহমান টোটন বলেন আমরা বাউফল গিয়েছি সেখানে নির্বাচনী সভা করেছি, মনোনয়ন নিয়ে কিছুটা কোন্দল এখনোও রয়েছে । আমরা চেষ্ঠা করছি, তবে প্রার্থীকে এগিয়ে আসতে হবে, বঞ্চিতদের কাছে ডেকে নিতে হবে, পাশাপাশি সবাইকে মনে রাখতে হবে দলের স্বার্থ আগে।
পটুয়াখালী-২ আসনে মোট ভোটার ৩,১৫,২৮২ জন। পুরুষ ভোটার ১,৬০,৪৯৭ জন, নারী ভোটার ১,৫৪,৭৮৪ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার আছে ১ জন।

Aminur / Aminur

পটুয়াখালী-২. বাউফলে বিএনপির দূর্গে এ বারে শক্ত আঘাত হানতে যাচ্ছে জামায়েতে ইসলাম।

১২ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতিবাজদের লাল কার্ড দেখানোর নির্বাচন : শফিকুর রহমান

সরিষাবাড়ি হাসপাতাল দালাল মুক্ত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা টিএইচও"র

বগুড়ায় পৃথক অভিযানে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেফতার: অস্ত্র উদ্ধার

দৌলতখানে আগুনে ৩টি দোকান পুড়ে ছাই

আমি নির্বাচিত হলে সাংবাদিকদেরকে পূর্ণ সহযোগিতা করবো: রাণীশংকৈলে জামায়াত প্রার্থী

লালমাই উপজেলা নামে মাত্র, দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন নেই - ইয়াছিন আরাফাত

বিলাইছড়িতে প্রচারণায় এগিয়ে বিএনপি

রাবি ফিশারীজ অনুষদের ডিন'স অ্যাওয়ার্ড প্রদান

আত্রাইয়ে ফুটন্ত তেলে হাত ডুবিয়ে পিয়াজি ভাজছেন চক শিমলার রাকিব: অবাক এলাকাবাসী

‎২ লাখ ৮০ হাজার টাকার চেককে ২৮ লাখে রূপান্তরের অভিযোগ

বিএনপি ও জামায়াত আসন নিজেদের কব্জায় ও পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে

কুমিল্লায় কোটি টাকার অবৈধ ভারতীয় মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে উদ্ধার