নেত্রকোনা-২ আসনে জমে উঠেছে নবীন-প্রবীণের লড়াই
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-২ (নেত্রকোনা সদর-বারহাট্টা) আসনে নেত্রকোনা সদরের পাশাপাশি বারহাট্টায় ক্রমেই জমে উঠছে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এই আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অভিজ্ঞ প্রবীণ রাজনীতিবিদ প্রার্থীর সাথে তরুণ নেতৃত্বের মুখোমুখি লড়াইকে কেন্দ্র করে ভোটারদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা ও চুলছেঁড়া বিশ্লেষণ।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা মোট ৫ লাখ ২ হাজার ৪৩৮ জন। এর মধ্যে বারহাট্টায় ১ লাখ ৫৪ হাজার ১১৬ জন। পুরুষ ভোটার ৭৭ হাজার ৯ শত ১৯ জন, নারী ভোটার ৭৬ হাজার ১ শত ৯৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২ জন।
এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আনোয়ারুল হক। জামায়াত ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে শাপলা কলি প্রতীকে লড়ছেন দলটির কেন্দ্রীয় সদস্য ফাহিম রহমান খান পাঠান। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে এ.বি.এম রফিকুল হক তালুকদার, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকে আব্দুল কাইয়ুম এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের বটগাছ প্রতীকে আব্দুর রহিম রুহী নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।
এলাকার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপির প্রার্থী ডাঃ আনোয়ারুল হক ও জামায়াত জোট সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী ফাহিম রহমান খান পাঠানের মধ্যে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক ২০১২ সালে জেলা বিএনপিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। দলের দুঃসময়ে তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে তিনি একাধিক মামলার আসামি হন এবং তখন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি এই আসন থেকেই ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট দলীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন।
দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দুঃসময়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ায় এই আসনে তার শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে ধানের শীষের মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে এনসিপির প্রার্থী ফাহিম রহমান খান পাঠান রাজনীতিতে তুলনামূলক নতুন মুখ। তিনি গণ অধিকার পরিষদের ছাত্র সংগঠন ছাত্র অধিকার পরিষদের মাধ্যমে রাজনীতিতে যুক্ত হন। জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন তিনি। আওয়ামী সরকার পতনের পর গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টিতে কেন্দ্রীয় সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পান। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকলেও জামায়াত জোটের শরিক দলের প্রার্থী হিসেবে এবার শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে মাঠে নেমেছেন তিনি।
স্বাধীনতা পরবর্তী নেত্রকোনা-২ আসনের ইতিহাসে বিএনপি প্রার্থী মোট দুই বার নির্বাচিত হয়েছে। ১৯৯১ সালে প্রথমবার বিএনপির হয়ে এমপি নির্বাচিত হন আবু আব্বাস। পরে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের এমপি আব্দুল মমিন মৃত্যুবরণ করলে ২০০৪ সালের উপনির্বাচনে পুনরায় এই আসনে জয় পান আবু আব্বাস।
এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগ না থাকায় বিএনপি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অনেক ভোটার বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে জনসম্পৃক্ত থেকে কাজ করা ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে ডা. আনোয়ারুল হক এ আসনে এগিয়ে রয়েছেন।
তবে ভিন্নমতও রয়েছে অনেকের কেউ কেউ মনে করছেন, জামায়াত জোটের শরিক দল থেকে তুলনামূলক নতুন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া একটি ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
আবার তরুণ ভোটারদের একটি অংশ মনে করেন, জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তরুণ প্রার্থী ফাহিম রহমান খান পাঠানকে সুযোগ দেওয়া উচিত।
সব মিলিয়ে এবার নেত্রকোনা-২ আসনে প্রবীণ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নাকি তরুণ নেতৃত্ব- কার প্রতি ভোটাররা আস্থা রাখবেন, তার উত্তর মিলবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ভোটের দিনই।
এমএসএম / এমএসএম
তারাগঞ্জে মনজুরুল হত্যা মামলায় দুই আসামি গ্রেফতার
নন্দীগ্রামে ক্যাপ্টেন সারোয়ার হোসেন সোহেলের নিজ অর্থায়নে ঈদ উপহার পাঞ্জাবি বিতরণ
বেশি দামে তেল বিক্রি করাই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিককে জরিমানা
ঠাকুরগাঁওয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ১২টি বাড়ি দখলের চেষ্টা
বাঙ্গরায় পৃথক অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
খালিয়াজুরীতে ইয়াবাসহ আটক ৩
যশোরে গাঁজা সেবনের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড
শিবচরে অগ্নিকাণ্ডে কৃষকের দুটি গরু পুড়ে ছাই
ইউএনও’র ঈদ উপহার পেলেন দুই হাতবিহীন সেই ছাকিনা বেগম
রৌমারীতে সাড়ে ১২ কেজি গাঁজাসহ দুই যুবক আটক
রায়গঞ্জে এএসআইকে লাঠিপেটা, দুজন গ্রেপ্তার
বৃষ্টিতে চা গাছে কুঁড়ির সমারোহ