বারহাট্টার প্রকৃতিতে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে শিমুল ফুলের রক্তিম আভা
ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে নয়নাভিরাম শিমুল ফুল। শিমুল ফুলের রক্তিম রঙে বারহাট্টার প্রকৃতি সেজেছে রঙিন রূপে। বাতাসে দোল খাচ্ছে শিমুল ফুলের রক্তিম আভা।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিমুল ফুল নিয়ে 'বিফল নিন্দা' কবিতায় লিখেছেন- 'তোরে সবে নিন্দা করে গুণহীন ফুল' শুনিয়া নীরবে হাসি কহিল শিমূল- যতক্ষণ নিন্দা করে, আমি চুপে চুপে ফুটে উঠি আপনার পরিপূর্ণ রূপে।' শীতের জীর্ণতাকে বিদায় দিয়ে প্রকৃতি জুড়ে বইছে ফাল্গুনের হাওয়া। বছর ঘুরে ঋতু বৈচিত্রের ভিন্ন ভিন্ন রূপ পরিবর্তনের গন্ডি পেরিয়ে প্রকৃতি সেজেছে আবার নতুন রূপে। শিমুলের ডালে ডালে রক্তিম আভা ছড়িয়ে প্রকৃতির বুকে যেন জানান দিচ্ছে, বসন্ত এসেছে প্রকৃতির কোলে।
ফাগুনের শুরুতে সপ্তাহ জুড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ এলাকায় রাস্তার ধারে, পুকুর পাড়ে, বাড়ির আনাচে-কানাচে, পতিত ভিটায় অথবা বন জঙ্গলে বেড়ে ওঠা শিমুল গাছগুলোতে শোভা পাচ্ছে শিমুল ফুল। পাশাপাশি বসন্তের সঙ্গে সঙ্গেই প্রকৃতি যেন নিজ রূপে সেজে উঠেছে। মনে হয়, বসন্তের প্রকৃতি যেন তার সব সৌন্দর্য উজাড় করে দিচ্ছে।
বিভিন্ন এলাকার স্থানীয়দের সাথে কথা বললে তারা সকালের সময়কে জানান, ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে আবহমান গ্রামবাংলার প্রকৃতি নিজের রক্তিম রঙে রাঙিয়ে দেয় শিমুল ফুল। তবে কালের বিবর্তনে চোখ ধাঁধানো গাঢ় লাল রঙের অপরূপ সাজে সজ্জিত শিমুল গাছ এখন দিন দিন কমে যাচ্ছে। এক যুগ আগেও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অধিকাংশ বাড়ির আনাচে-কানাচে, রাস্তায়, পতিত ভিটায় প্রচুর শিমুল গাছ দেখা যেত। গাছে গাছে প্রস্ফুটিত শিমুল ফুলই স্মরণ করিয়ে দিতো প্রকৃতিতে এসেছে বসন্ত।
বারহাট্টা সরকারি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক জগলুল হায়দারের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, শিমুল গাছের বৈজ্ঞানিক নাম- Bombax ceiba, এটি মালভেসি (Malvaceae) পরিবারের অন্তর্গত একটি বড় আকারের পর্ণমোচী গাছ। এই গাছ তার গাঢ় লাল রঙের ফুলের জন্য পরিচিত বীজ ও কান্ডের মাধ্যমে এর বংশবিস্তার হয়। রোপণের ছয় থেকে সাত বছরের মধ্যে শিমুল গাছে ফুল ফোটে। এটি বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপকভাবে জন্মে, যা বসন্তের শুরুতেই ফুল ফোটে। চৈত্র মাসের শেষের দিকে ফল পুষ্ট হয়। বৈশাখ মাসের দিকে ফলগুলো পেকে শুকিয়ে গিয়ে বাতাসে আপনা আপনিই ফল ফেটে প্রাকৃতিকভাবে তুলার সঙ্গে উড়ে উড়ে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়া বীজ থেকেই এর জন্ম হয়। প্রাকৃতিকভাবেই শিমুল গাছ বেড়ে ওঠে।
তিনি আরও বলেন, শিমুল গাছ কেবল প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়ায় না বরং এ গাছের সব অংশেরই রয়েছে ভেষজগুণ। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা এখনো নানা রোগের চিকিৎসায় এ গাছের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করে।
উপজেলা সদরের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিমল সরকার বলেন, আগের তুলনায় এখন শিমুল গাছের সংখ্যা প্রায় দুই তৃতীয়াংশ কমে গেছে। এর পরও এই গাছ প্রতিনিয়ত নিধন হচ্ছে। যে কারণে গ্রামবাংলার বুক থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে অতি পরিচিত শিমুল গাছ। সকালে ঘুম থেকে উঠে শিমুলের চিরচেনা রূপ এখন আর চোখে পড়ে না। আমাদের সবার উচিত শিমুলগাছের যত্ন নিয়ে এ গাছকে বাঁচিয়ে রাখা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শারমিন সুলতানা বলেন, দূষণসহ নানা প্রতিকূল পরিবেশে এলাকার অধিকাংশ গাছ নিজেদের টিকিয়ে ব্যর্থ হয়ে নষ্ট হয়ে গেলেও প্রতি বছর বসন্ত এলে যতটুকু সম্ভব জানান দেয় প্রকৃতি তার রূপ বৈচিত্র্য হারায়নি এখনও। নির্বিচারে শিমুলগাছ নিধন ও চারা রোপণ না করার কারণে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিমুল গাছ ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকারি নজরদারির পাশাপাশি জনগণকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
Aminur / Aminur
কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, বিজিবি মোতায়েন
অনিবন্ধিত পোর্টালের অপসাংবাদিকতা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ
রাজউকের অভিযানের পরও নারিন্দায় নকশাবহির্ভূত নির্মাণ
কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরামের বর্ণিল হেমন্ত সন্ধ্যা: গান, কবিতা ও পিঠাপুলির মেলবন্ধন
মিরসরাইয়ে চোরাচালানের সময় দুটো ট্রাক সহ ৩০১ বস্তা ইউরিয়া সার আটক
লাকসামে মজলিশপুর ধর্মাংকুর বৌদ্ধ বিহারে কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত
ধামইরহাটে উপজেলা ও পৌর যুবদলের উদ্যোগে কর্মীসভা অনুষ্ঠিত
রাজস্থলীতে এইচএসসিতে দুই সরকারি কলেজের চরম বিপর্যয়: পাসের হার ২৭ ও ২৬ শতাংশ, নেই কোনো জিপিএ-৫
কুমিল্লা বোর্ডে এইচএসসিতে পাসের হার ৪৮.০৪ শতাংশ, ১৫ প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস
গাজীপুরে সাংবাদিক রিপনের ওপর হামলা ও অপহরণের প্রতিবাদে টঙ্গীতে মানববন্ধন
বাকেরগঞ্জে জামায়াত ছেড়ে শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে ইসলামী আন্দোলনে শাহিন শিকদারের যোগদান
রাজশাহীর বাঘায় আলোচিত রুমিয়া বেগম হত্যা মামলায় বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার