সুন্দরবন রক্ষায় বন বিভাগের ‘জিরো টলারেন্স’: দাহ্য পদার্থ নিয়ে প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা
বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে অগ্নিকাণ্ডের হাত থেকে বাঁচাতে এবার নজিরবিহীন কঠোর অবস্থানে বন বিভাগ। বারবার আগুনে বনের অপূরণীয় ক্ষতি এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ায় প্রথমবারের মতো নির্দিষ্ট কিছু প্রবেশপথে বিড়ি-সিগারেটসহ সব ধরনের দাহ্য পদার্থ নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই বনের পূর্ব বিভাগে জারি করা হয়েছে এই বিশেষ সতর্কতা। ২৬ ফেব্রুয়ারি, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক মো. শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হয়েছে। বনসংলগ্ন লোকালয় ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মাইকিং করার পাশাপাশি পোস্টার লাগিয়ে সর্বসাধারণকে সতর্ক করা হয়েছে। বনের অভ্যন্তরে প্রবেশকারী জেলে ও বাওয়ালিদের দাহ্য পদার্থ বহনের ভয়াবহতা সম্পর্কে সরাসরি দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
বন বিভাগের তথ্যমতে, গত ২৩ বছরে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগে মোট ২৭ বার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে শতাধিক একর অমূল্য বনভূমি। তদন্ত প্রতিবেদনে বারবার উঠে এসেছে যে, এসব অগ্নিকাণ্ডের পেছনে মানুষের অসচেতনতা অথবা স্থানীয় একশ্রেণির দুর্বৃত্ত চক্রের হাত রয়েছে। এই ধ্বংসযজ্ঞ থামাতে বাগেরহাটের শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ ও মোংলা উপজেলার বনসংলগ্ন পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ— জিউধরা, চিলা, জয়মুনি, কপিলমুনি ও কটকা দিয়ে প্রবেশের সময় বিড়ি-সিগারেট, দিয়াশলাই বা অন্য কোনো দাহ্য বস্তু বহন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
চাঁদপাই রেঞ্জের জিউধরা স্টেশনের বনরক্ষী মাজহারুল সরদার জানান, শুষ্ক মৌসুমে বনের পাতা শুকিয়ে যাওয়ায় একটি ছোট আগুনের স্ফুলিঙ্গও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য টহল জোরদার করা হয়েছে।
বনের ওপর নির্ভরশীল সাধারণ মানুষও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। শরণখোলার রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু তোয়েব বলেন, "সুন্দরবন আমাদের মা ও জীবন-জীবিকার উৎস। কিছু মানুষের ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য পুরো বন ধ্বংস হতে পারে না। আমরা চাই এই নিষেধাজ্ঞা যারা মানবে না, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।"
সুন্দরবন কেবল গাছপালার সমাহার নয়, এটি একটি সমৃদ্ধ প্রাণভাণ্ডার। এখানে সুন্দরীসহ ৩৩৪ প্রজাতির গাছপালা এবং ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী রয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং অসাধু চক্রের বিষ দিয়ে মাছ ধরার কারণে বনের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এক সময়ের ৪০০ প্রজাতির পাখির সংখ্যা কমে এখন ২৭০-এ দাঁড়িয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (DFO) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, "বিগত দুই দশকের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আমরা এবার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছি। স্থানীয়দের সহযোগিতা ছাড়া এই বিশাল বন রক্ষা করা অসম্ভব। আমরা এখন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছি।"
প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সুন্দরবনের অস্তিত্ব রক্ষা করা এখন কেবল বন বিভাগের নয়, বরং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রতিটি মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
এমএসএম / এমএসএম
পানছড়িতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সমন্বয়ে সাংগঠনিক সভা
রাজশাহী প্রেসক্লাব সভাপতি সাইদুর রহমান'র মৃত্যু: সর্বস্তরে শোক ও শ্রদ্ধা"
নেত্রকোণার পূর্বধলায় বাসে তল্লাশি,৪০ বোতল ফেনসিডিলসহ যুবক আটক
রাঙামাটি চ্যাম্পিয়ন লিগ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বিলাইছড়ি উপজেলা ফুটবল দলকে সেনা জোনের সংবর্ধনা ও অর্থ প্রদান
তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল
কুমিল্লা সীমান্তে ৭৪ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ
বালাগঞ্জে ব্রীজ নির্মাণে মুখোমুখি গ্রামবাসী
হাকিমপুরে সাজাপ্রাপ্ত ও পরোয়ানাভুক্তসহ ৫ আসামি গ্রেপ্তার
ভুয়া খারিজ-ডিসিআর দিয়ে খতিয়ান খোলার চেষ্টা, আটক ব্যক্তি মুচলেকায় মুক্ত—মূল অপরাধী অধরা
দেবিদ্বারে মা ও আট মাসের ভাতিজিকে হত্যার অভিযোগ, অভিযুক্ত যুবক আটক
বারহাট্টায় আগুনে পুড়ে যাওয়া বাড়ি পরিদর্শন করলেন এমপি আনোয়ারুল হক
গাজীপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার