বারহাট্টায় সারের কৃত্রিম সংকটে দাম বৃদ্ধি, বাড়তি ব্যয় গুনতে হচ্ছে কৃষকদের
চলতি বোরো মৌসুমে সারের অতিরিক্ত দাম বৃদ্ধির কারণে বারহাট্টার কৃষকদের প্রায় আড়াই কোটি টাকা বাড়তি ব্যয় গুনতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, বোরো মৌসুমের শুরুতেই সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ডিএপি ও এমওপি সার বিক্রি করেছেন। এ সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যার্থ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ১৫ হাজার ৩৩ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১ হেক্টর সমান ২.৪৭ একর হিসেবে মোট আবাদি জমির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৩৭ হাজার ৫০ একর। কাঠা প্রতি (১০ শতাংশ) হিসাব করলে জমির পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার ৫০০ কাঠা।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাঠা প্রতি জমিতে গড়ে ৭ কেজি করে ডিএপি ও এমওপি সার ব্যবহার করা হয়েছে। সে হিসাবে চলতি মৌসুমে পুরো উপজেলায় প্রায় ৫১ হাজার ৪৭০ বস্তা নন-ইউরিয়া সার ব্যবহৃত হয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, চলতি বোরো মৌসুমে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রতি বস্তা সার ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে কিনতে বাধ্য হয়েছেন তারা। ফলে গড়ে ৪৫০ টাকা অতিরিক্ত হিসেবে ধরলে মোট অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকারও বেশি। তাদের ভাষ্য, উৎপাদন ব্যয় আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় লাভ তো দূরের কথা, অনেকেই লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন। কেউ কেউ কৃষিকাজ ছেড়ে বিকল্প পেশায় ঝুঁকার কথাও ভাবছেন।
বারহাট্টার সাত ইউনিয়নের একাধিক কৃষকের সাথে কথা বললে তারা বলেন, উৎপাদন খরচের সঙ্গে ফসলের বাজারদরের কোনো সামঞ্জস্য নেই। সার, বীজ, শ্রমিক সব কিছুর দাম বেড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে চাষাবাদ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
তাদের অভিযোগ, মৌসুমের শুরুতেই বাজারে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়। পরে চাহিদার সুযোগ নিয়ে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও বাজার তদারকিতে দৃশ্যমান কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। তবে, গত ২৮ জানুয়ারি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানার নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে ২ ডিলারকে জরিমানা করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কৃষকদের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকদের প্রশ্ন, প্রশাসনের অভিযানে জরিমানা হলেও অতিরিক্ত দামে বিক্রির কারণে যে বিপুল অর্থ কৃষকদের গুনতে হয়েছে, তার দায় কে নেবে?
কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সারের বাজারে কার্যকর নজরদারি না থাকলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা দ্রুত বাজার তদারকি জোরদার, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিতকরণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এমএসএম / এমএসএম
দেশীয় মাছ রক্ষায় অবৈধ জালের গুদামে অভিযানের দাবি
শান্তিগঞ্জে ২১৯৫ মেট্রিক টন বোরো ধান কিনবে সরকার
মানিকগঞ্জে হেরোইনসহ মাদক কারবারী আটক
গোদাগাড়ীতে সওজ'র জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ
জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ফার্মাসিষ্ট ও ঔষধ বিক্রেতাদের ভূমিকা অপরিসীম: ড্রাগ সুপার মিতা রায়
শরণখোলায় বজ্রপাতে ৪ গরুর মৃত্যু
শেরপুরে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে নবাগত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা ️ অনুষ্ঠিত
রায়গঞ্জে চালক হত্যায় অটোরিকশাসহ যুবক গ্রেপ্তার
কুমিল্লায় পানিতে বসে এসএসসি পরীক্ষা, পরিদর্শন ও ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বয় কমিটি করবে সরকার: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম
মরণফাঁদে পরিণত পাঁচুড়িয়া খাল: দেখার কি কেউ নেই..?
বাগেরহাট শহরে জলাবদ্ধতা, চরম দুর্ভোগে মানুষ কৃষকদের বোরো ধানের ক্ষতির আশংকা