সুন্দরবনে থামছে না হরিণ শিকার: ১০ মাসে আটক ৩৬২, উদ্ধার বিপুল ফাঁদ ও মাংস
সুন্দরবনে বন্যপ্রাণী রক্ষায় বন বিভাগের ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকলেও পুরোপুরি থামানো যাচ্ছে না অবৈধ হরিণ শিকার। গহীন বনে পাতা হচ্ছে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার মরণফাঁদ। গত ১০ মাসে বনরক্ষীদের সাঁড়াশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ হরিণ ধরার ফাঁদ, মাংস ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার হলেও, শিকারী চক্রের মূল হোতারা অনেক ক্ষেত্রেই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মে মাস থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি (২০২৬) পর্যন্ত দীর্ঘ ১০ মাসে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে একাধিক অভিযান পরিচালিত হয়। এসব অভিযানে বন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ২১৮টি মামলায় ৩৬২ জনকে আটক করে বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এসব মামলায় এখনও পলাতক রয়েছেন ১৯ জন আসামি।
অভিযানকালে অসাধু চক্রের কাছ থেকে ২৫০ কেজি হরিণের মাংস এবং ৪০৩টি ট্রলার ও নৌকা জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা হয় ৮৭ হাজার ১৫৩ ফুট হরিণ ধরার মালা ফাঁদ, ৬৫৭টি সিটকা ফাঁদ এবং ২ হাজার ১৬৬টি হাঁটা ফাঁদ।
এছাড়াও, বনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার ও অবৈধভাবে বনজ সম্পদ আহরণের দায়ে ৯০ বোতল কীটনাশক, ৫ প্যাকেট রোটেনন পাউডার, ৬৯৯ কেজি বিষযুক্ত মাছ, ৯৮৬ কেজি কাঁকড়া, সাড়ে ৭ হাজার কাঁকড়া ধরার চারু, ২৫৪টি মাছ ধরার জাল, ২২ বস্তা শুঁটকি ও ২১৭ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ জব্দ করেছেন বনরক্ষীরা।
পরিবেশবাদীরা বন বিভাগের এই তৎপরতাকে সাধুবাদ জানালেও শিকারীদের অপতৎপরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, নিয়মিত অভিযানের পরও অসাধু চক্রের কার্যক্রম বনজ জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। স্থানীয় কিছু বাজারে গোপনে হরিণের মাংস বেচাকেনা হয়, যা ঈদের মতো উৎসবগুলোতে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যায়।
সুন্দরবনের প্রধান আকর্ষণ রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অন্যতম প্রধান খাদ্য এই চিত্রা হরিণ। হরিণের সংখ্যা কমে গেলে বাঘের খাদ্যাভ্যাস ও প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে, যা পুরো বনাঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এছাড়া, হরিণ শিকারের জন্য পাতা এসব ফাঁদে অনেক সময় বাঘসহ অন্যান্য বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণীও আটকে পড়ার চরম ঝুঁকি থাকে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সুন্দরবন একটি বিশ্ব ঐতিহ্য। এখানকার জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বনরক্ষীরা নদী ও স্থলপথে নিয়মিত টহল কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, "সময়মতো এসব ফাঁদ উদ্ধার করা না হলে বিপুল সংখ্যক বন্যপ্রাণী মারা যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। ধারাবাহিক অভিযানের ফলে ব্যাপক সফলতা এসেছে এবং বন অপরাধ ক্রমান্বয়ে কমে আসছে।"
অন্যদিকে, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, বনকেন্দ্রিক যেকোনো অপরাধ দমনে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে বন বিভাগের উদ্যোগে শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জসহ সংলগ্ন এলাকায় মাইকিং ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর কাজ চলছে। একইসঙ্গে, সুন্দরবনে প্রবেশকারীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ অত্যাধুনিক নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা চালুর বিষয়টিও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
Aminur / Aminur
দৌলতপুরে পুলিশ পরিচয়ে ইয়াবা, নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
জলাবদ্ধতায় কাজে আসেনি ১৪০ কোটি টাকার প্রকল্প–ডুবছে ভবদহ
মগনামার মটকাভাঙ্গা সড়কের বেহাল দশা, সড়ক নয় যেন চাষের জমি
মনপুরায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকার, আটক ৩
রাণীশংকৈলে মডেল মসজিদের উদ্বোধন
বগুড়ায় ৭ শ্রমিকের মৃত্যু : স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতাল
বগুড়ায় নিহত বেড়ে ৭, স্পিডব্রেকার নির্মাণের আশ্বাসে সড়ক ছাড়লেন স্থানীয়রা
নারায়ণগঞ্জে গ্যাস লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ড, একই পরিবারের দগ্ধ ৩
ট্রেনের ৫ বগি লাইনচ্যুত, ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ
আমিও বিশ্বাস করতে চাই তিনি ডিসেম্বরেই আসবেন, আইনের মুখোমুখি হবেন’
কুমিল্লা বার্ডে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উদযাপিত
আদমদীঘিতে গৃহবধুর শ্লীলতাহানির চেষ্টা মামলার আসামী গ্রেফতার