ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬

সুন্দরবনে থামছে না হরিণ শিকার: ১০ মাসে আটক ৩৬২, উদ্ধার বিপুল ফাঁদ ও মাংস


শরণখোলা (বাগেরহাট) photo শরণখোলা (বাগেরহাট)
প্রকাশিত: ১৩-৩-২০২৬ রাত ৮:৩২

সুন্দরবনে বন্যপ্রাণী রক্ষায় বন বিভাগের ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকলেও পুরোপুরি থামানো যাচ্ছে না অবৈধ হরিণ শিকার। গহীন বনে পাতা হচ্ছে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার মরণফাঁদ। গত ১০ মাসে বনরক্ষীদের সাঁড়াশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ হরিণ ধরার ফাঁদ, মাংস ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার হলেও, শিকারী চক্রের মূল হোতারা অনেক ক্ষেত্রেই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের মে মাস থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি (২০২৬) পর্যন্ত দীর্ঘ ১০ মাসে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে একাধিক অভিযান পরিচালিত হয়। এসব অভিযানে বন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ২১৮টি মামলায় ৩৬২ জনকে আটক করে বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এসব মামলায় এখনও পলাতক রয়েছেন ১৯ জন আসামি।
​অভিযানকালে অসাধু চক্রের কাছ থেকে ২৫০ কেজি হরিণের মাংস এবং ৪০৩টি ট্রলার ও নৌকা জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা হয় ৮৭ হাজার ১৫৩ ফুট হরিণ ধরার মালা ফাঁদ, ৬৫৭টি সিটকা ফাঁদ এবং ২ হাজার ১৬৬টি হাঁটা ফাঁদ।
​এছাড়াও, বনে বিষ দিয়ে মাছ শিকার ও অবৈধভাবে বনজ সম্পদ আহরণের দায়ে ৯০ বোতল কীটনাশক, ৫ প্যাকেট রোটেনন পাউডার, ৬৯৯ কেজি বিষযুক্ত মাছ, ৯৮৬ কেজি কাঁকড়া, সাড়ে ৭ হাজার কাঁকড়া ধরার চারু, ২৫৪টি মাছ ধরার জাল, ২২ বস্তা শুঁটকি ও ২১৭ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ জব্দ করেছেন বনরক্ষীরা।
পরিবেশবাদীরা বন বিভাগের এই তৎপরতাকে সাধুবাদ জানালেও শিকারীদের অপতৎপরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, নিয়মিত অভিযানের পরও অসাধু চক্রের কার্যক্রম বনজ জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। স্থানীয় কিছু বাজারে গোপনে হরিণের মাংস বেচাকেনা হয়, যা ঈদের মতো উৎসবগুলোতে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যায়।
​সুন্দরবনের প্রধান আকর্ষণ রয়েল বেঙ্গল টাইগারের অন্যতম প্রধান খাদ্য এই চিত্রা হরিণ। হরিণের সংখ্যা কমে গেলে বাঘের খাদ্যাভ্যাস ও প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে, যা পুরো বনাঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এছাড়া, হরিণ শিকারের জন্য পাতা এসব ফাঁদে অনেক সময় বাঘসহ অন্যান্য বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণীও আটকে পড়ার চরম ঝুঁকি থাকে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সুন্দরবন একটি বিশ্ব ঐতিহ্য। এখানকার জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বনরক্ষীরা নদী ও স্থলপথে নিয়মিত টহল কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, "সময়মতো এসব ফাঁদ উদ্ধার করা না হলে বিপুল সংখ্যক বন্যপ্রাণী মারা যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। ধারাবাহিক অভিযানের ফলে ব্যাপক সফলতা এসেছে এবং বন অপরাধ ক্রমান্বয়ে কমে আসছে।"
​অন্যদিকে, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, বনকেন্দ্রিক যেকোনো অপরাধ দমনে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
​ইতোমধ্যে বন বিভাগের উদ্যোগে শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জসহ সংলগ্ন এলাকায় মাইকিং ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর কাজ চলছে। একইসঙ্গে, সুন্দরবনে প্রবেশকারীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ অত্যাধুনিক নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা চালুর বিষয়টিও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

Aminur / Aminur

বেনাপোল বন্দরে কাস্টমসের নেই নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা

লোহাগড়ায় সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক, যুবলীগ নেতার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ

টাঙ্গাইলে জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

শরণখোলায় আমগাছে মিললো দিনমজুরের ঝুলন্ত লাশ

বিশ্ব দৃষ্টি দিবসে অভয়নগরে চক্ষু চিকিৎসাসেবা ও সচেতনতামূলক র‍্যালি

পল্লীবিদ্যুতের খুঁটি বাসনো নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ব্যক্তির মৃত্যু

ধামরাইয়ে দুই অবৈধ ইটভাটায় অভিযান, দেড় লাখ টাকা জরিমানা

চাপাইনবাবগঞ্জে ৫ উপজেলায় বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উদযাপন।

ভূমি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের জরুরী হস্তক্ষেপ কামন। শ্যামনগরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, কর্তৃপক্ষ নীরব

‎দলীয় সমর্থনে জীবন বৃত্তান্ত জমা দিলেন রায়পুর ইউপি চেয়ারম্যান প্রত্যাশী ইসমাইল বিন মনির

কোনাবাড়ীতে বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

মেঘনায় মা ইলিশ শিকার করায় ১০ জেলে আটক, জাল ও ইলিশ জব্দ

রাজারহাটে পৃথক অভিযানে ৭ জন গ্রেপ্তার