ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬

‎চরের কান্না—চিকিৎসার অভাবে পথে হারিয়ে যায় কত জীবন


মজিবর রহমান, ফুলছড়ি photo মজিবর রহমান, ফুলছড়ি
প্রকাশিত: ৮-৪-২০২৬ বিকাল ৫:৮

‎আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা যখন শহরকেন্দ্রিক উন্নয়নের গল্প শোনায়, তখন গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার পিপুলিয়ার চরের বাস্তবতা যেন সেই গল্পের টা নির্মম । এখানে অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা, একটি ভ্যানগাড়িও পৌঁছায় না। ফলে অসুস্থ মানুষকে হাসপাতালে নিতে ভরসা—একটি প্লাস্টিকের চেয়ার, বা জলচকি কিছু রশি আর একটি বাঁশ।
‎‎সম্প্রতি তোলা একটি ছবিতে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি কাঁধে একটি বাঁশ তুলে নিয়েছেন। বাঁশের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে একটি প্লাস্টিকের চেয়ার। সেই চেয়ারে বসানো হয়েছে এক অসুস্থ শিশুকে। পরিবারের স্বজনরা বুকভরা দুশ্চিন্তা নিয়ে মাইলের পর মাইল বালুচর পাড়ি দিয়ে নদী পার হচ্ছেন—শুধু একটি আশায়, হাসপাতালে পৌঁছানো যাবে হয়তো সময়মতো।
‎‎নদী, বালুচর আর বিচ্ছিন্নতার দুঃসহ বাস্তবতা ফুলছড়ি ইউনিয়নের পিপুলিয়ার চর থেকে জেলা শহরের দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। কিন্তু এই দূরত্ব কেবল সংখ্যার হিসাব নয়—এটি এক যন্ত্রণার পথচিত্র। মাঝখানে বিস্তীর্ণ ব্রহ্মপুত্র নদ, শুকনো মৌসুমে ধু-ধু বালুচর, আর বর্ষায় প্রলয়ঙ্করী স্রোত। কোনো স্থায়ী সড়ক নেই, নেই সেতু।
‎স্থানীয়রা জানান, বর্ষাকালে নৌকা থাকলেও তা সবসময় নিরাপদ নয়। আবার শুকনো মৌসুমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পায়ে হেঁটে বালুর চরে চলতে হয়। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে রোগীর অবস্থা আরও অবনতির দিকে যায়। অনেক সময় হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই নিভে যায় জীবনের প্রদীপ।
‎‎ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা, অনিশ্চিত জীবন ‎চরাঞ্চলের মানুষের জন্য চিকিৎসা মানেই এক ধরনের যুদ্ধ। গর্ভবতী নারী, শিশু কিংবা মুমূর্ষু রোগী—কারও জন্যই নেই দ্রুত চিকিৎসা পাওয়ার নিশ্চয়তা।
‎স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, “রোগী নিয়ে বের হলে মনে হয়, সে বাঁচবে কিনা তা আল্লাহর উপর ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।”
‎‎এই প্লাস্টিকের চেয়ার আর বাঁশ দিয়ে তৈরি অস্থায়ী বাহন যেন আধুনিক রাষ্ট্রের চোখ এড়িয়ে যাওয়া এক বাস্তবতার প্রতীক—যেখানে মানুষের জীবন এখনো অবকাঠামোর অভাবে ঝুলে আছে অনিশ্চয়তার দড়িতে।
‎‎স্বাস্থ্যসেবার অভাব, বঞ্চনার দীর্ঘশ্বাস ‎‎চরাঞ্চলে নেই পর্যাপ্ত কমিউনিটি ক্লিনিক, নেই প্রশিক্ষিত চিকিৎসক বা জরুরি সেবার ব্যবস্থা। ফলে সামান্য জ্বর বা ডায়রিয়াও অনেক সময় মারাত্মক আকার ধারণ করে।
‎‎ফুলছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন বলেন, “আমাদের চরে অন্তত একটি ভালো হাসপাতাল বা স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র দরকার। রোগী নিয়ে এভাবে কাঁধে করে নদী পার হওয়া আর কতদিন?”
‎‎ডিজিটাল বাংলাদেশ যখন উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছে, তখন পিপুলিয়ার চরের এই চিত্র যেন সেই অগ্রযাত্রার অন্তরালে থাকা এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা তুলে ধরে।
‎‎কাঁধে ঝুলানো সেই প্লাস্টিকের চেয়ার শুধু একজন রোগীকেই বহন করছে না—এটি বহন করছে একটি জনপদের অবহেলা, বঞ্চনা আর দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার গল্প।
‎‎ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপি'র সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম সরকার বলেন,চরাঞ্চলের মানুষের জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একটি স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র, জরুরি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস কিংবা সহজ যাতায়াতব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে অসংখ্য প্রাণ বেঁচে যাবে। 
‎নইলে এই চিত্রই থেকে যাবে—যেখানে একটি প্লাস্টিকের চেয়ারই বা জলচৌকি হয়ে ওঠে জীবন আর মৃত্যুর মাঝখানের একমাত্র ভরসা।

Aminur / Aminur

নজরুল বর্ষ উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে ময়মনসিংহে মতবিনিময় সভা

নেত্রকোণার কেন্দুয়া পৌরসভার অনুমোদন ছাড়াই বাসা নির্মাণকাজ--নির্বাহী কর্মকর্তার পরিদর্শনে কাজ বন্ধ 

লোকালয় থেকে উদ্ধারকৃত অজগর কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত

উত্তরাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থায় আরেকটি মাইলফলক

সুবর্ণচরে নারী, শিশু, ব্রাককর্মীসহ ৩ মরদেহ উদ্ধার

ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে ইউএনও শিক্ষার মান উন্নয়ন ও ৪টি ক্লাব গঠনের নির্দেশ

কুড়িগ্রামে জমিজমা নিয়ে সংঘর্ষ, স্বামী-স্ত্রীসহ আহত ৫

হানিট্রাপের অভিযোগ সেনাসদস্যের সম্মানহানি তদন্ত দাবি

চাঁদপুর যাত্রী টার্মিনাল প্রকল্প নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে মায়ার লিমিটেড ও কবিরস সিন্ডিকেট জেভি

ভূরুঙ্গামারী থানা জেলার শ্রেষ্ঠ, সেরা সার্কেল এএসপি মুনতাসির ও ওসি আজিম

শাহরাস্তিতে সরকারি গাছ কাটার টাকা ফেরত দিলেন বিএনপি নেতা

মেহেরপুরে ৭০ মেধাবী শিক্ষার্থীকে জেলা পরিষদের বৃত্তি প্রদান

কেডিএর সেবা ও মাস্টার প্ল্যান নিয়ে অভয়নগরে মতবিনিময়