বারহাট্টার প্রকৃতিতে নজর কাড়ছে 'বাংলার চেরি' জারুল
ষড় ঋতুর বাংলায় ঋতুচক্রে ভিন্ন ঋতুতে ভিন্ন ভিন্ন রূপে সজ্জিত হয় প্রকৃতি। ঋতুচক্রের আবর্তে প্রকৃতিতে এখন গ্রীষ্মকাল। গ্রীষ্মের এই খরতাপে বারহাট্টার প্রকৃতিতে প্রাণের স্পন্দন হয়ে ফুটেছে বাংলার চেরি নয়নাভিরাম জারুল ফুল।
রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ থেকে শুরু করে আধুনিক কবি আহসান হাবিব সবার লেখনীতেই জারুল পেয়েছে বিশেষ মর্যাদা। জীবনানন্দ দাশের 'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে' কবিতায়- 'এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে- সবচেয়ে সুন্দর করুণ, সেখানে সবুজ ডাঙা ভ’রে আছে মধুকূপী ঘাসে অবিরল; সেখানে গাছের নাম: কাঁঠাল, অশ্বথ, বট, জারুল, হিজল; সেখানে ভোরের মেঘে নাটার রঙের মতো জাগিছে অরুণ।' তেমনি আধুনিক কবি আহসান হাবিবের বিখ্যাত 'স্বদেশ' কবিতায় গ্রামবাংলা থেকে প্রায় হারিয়ে যাওয়া জারুল গাছের কথা উল্লেখ করে লিখেছেন- 'এই ছবিটি চেনা/ মনের মধ্যে যখন খুশি/ এই ছবিটি আঁকি, এক পাশে তার জারুল গাছে/দুটি হলুদ পাখি।' বাংলার চেরি খ্যাত এই চিরচেনা জারুলই এখন বারহাট্টার পথপ্রান্তকে মোহনীয় করে তুলেছে।
সপ্তাহ জুড়ে সরেজমিনে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আঁকাবাঁকা পথের ধারে, জমির আইলে, পুকুর পাড়ে, ঝোপ-জঙ্গলে, বাড়ির আঙিনায় ও জলাশয়ের পাশে গ্রীষ্মের খরতাপ উপেক্ষা করেই সবুজ প্রকৃতিতে রোদ ঝলমলে দিনে গাঢ় বেগুনি রঙের ফুলে ফুলে সেজে উঠেছে জারুলের প্রতিটি শাখা-প্রশাখা। চলার পথে পথিক থমকে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছেন জারুল ফুলের বেগুনি রঙের আভা। থোকা থোকা ফুলগুলোও যেন চোখ ধাঁধিয়ে পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। ফুটে থাকা জারুল ফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্যাবলি মানুষকে বিমুগ্ধ করছে। অনেকেই মুঠোফোনে ফ্রেমবন্দি করছেন এই নৈসর্গিক দৃশ্য।
বারহাট্টা উপজেলা সদরের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ও সঙ্গীতশিল্পী কান্তি রঞ্জন রায় চৌধুরীর সাথে কথা বললে তিনি সকালের সময়কে বলেন, আমরা যখন বসন্তের ফুলের রূপে মুগ্ধ হই তখন জারুল তার সব শোভা নিয়ে গ্রীষ্মে ফোটে। বৈশাখের মাঝামাঝি সময়ে গ্রাম-গঞ্জের রাস্তার ধারে জারুল গাছ এখন বেগুনি রঙের ফুলে প্রকৃতিকে এক অপার সৌন্দর্যে ফুটিয়ে তুলেছে। চমৎকার এই ফুল সবারই নজর কাড়ছে প্রতিনিয়ত। জারুল গাছের বেগুনি রঙের ফুলে মনোমুগ্ধকর এক আবেশ তৈরি হয়। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য দেখতে খুবই ভালো লাগে, যদিও বর্তমানে জারুল গাছের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। নতুন প্রজন্মকে প্রকৃতিপ্রেমী করে গড়ে তুলতে হলে জারুলের মতো দেশীয় গাছের চারা বেশি করে রোপণ করা প্রয়োজন। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি প্রকৃতির সৌন্দর্যও অটুট থাকবে।
কথা হয় বারহট্টা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক ফারুকের সাথে তিনি বলেন, প্রকৃতি মানেই স্বস্তির জায়গা, আর তা যদি হয় ফুলে ফুলে সজ্জিত তাহলে তো কথাই নেই। গ্রীষ্মের প্রকৃতিকে সাজিয়ে তোলা ফুলগুলোর মধ্যে সৌন্দর্যে অন্যতম ফুল জারুল। এ ফুলের সৌন্দর্য প্রতি গ্রীষ্মেই মানুষ প্রাণ খুলে উপভোগ করেন। জারুল ফুলের সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে জীবনানন্দ দাশ 'ভিজে হয়ে আসে মেঘে এ দুপুর' কবিতায় লিখেছেন- 'ভিজে হয়ে আসে মেঘ দুপুরে চিল একা নদীটির পাশে; জারুল গাছের ডালে বসে বসে চেয়ে থাকে ওপারের দিকে।' অথচ বৃক্ষ নিধনের শিকার হয়ে দিন দিন বারহাট্টা থেকে কমে যাচ্ছে প্রকৃতিকে রঙিন করা এই গাছ। একসময় এ গাছ হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কাও রয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি মানুষ ও প্রকৃতির স্বার্থেই বেশি করে জারুলসহ অন্যান্য গাছ লাগানোর আহ্বান জানাচ্ছি প্রকৃতিপ্রেমীদের।
বারহাট্টা সরকারি কলেজের জীববিজ্ঞান বিষয়ের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র প্রভাষক মজিবুল হক বলেন, জারুল Lythraceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি মাঝারি আকারের পত্রমোচি বৃক্ষ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Lagerstroemia speciosa বৃক্ষটির আদি নিবাস শ্রীলঙ্কা। ভারতীয় উপমহাদেশের নিজস্ব বৃক্ষ জারুল। তবে বাংলদেশ সহ চীন ,মালয়েশিয়া প্রভৃতি অঞ্চলে এই বৃক্ষের দেখা মিলে। জারুল ফুলের মূল বৈশিষ্ট্য হলো-বেশিরভাগ ফুল যখন বসন্তে পাপড়ি মেলে দেয়, সৌন্দর্য ছড়ায় তখন জারুলের সময় হলো গ্রীষ্মকাল। খটখটে রৌদ্রে জারুল ফুল পাপড়ি মেলে। শরৎ পর্যন্ত এ ফুল থাকে। জারুল গাছ নিম্নাঞ্চলে যেমন জন্ম নেয়, বেড়ে ওঠে সেভাবেই। শুকনো এলাকায়ও বেড়ে ওঠে। বসন্ত এলে জারুল গাছ নতুন প্রাণ পায়। নতুন পাতা, শাখা-প্রশাখায় ভরে ওঠে। বেগুনি রঙের থোকা থোকা ফুল ফোটে গাছের শাখার ডগার দিকে। একসঙ্গে অনেক ফুল থাকে। ফুল শেষে গাছে বীজ হয় ও বীজের মাধ্যমে বংশ বিস্তার করে। এই গাছ সাধারণত ১০ থেকে ১৫ মিটার উঁচু হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জারুল একটি মূল্যবান ঔষধি গাছ। এর পাতা, ছাল ও মূল ও ফল ডায়াবেটিস, জ্বর, কাশি এবং বাত ব্যথা নিরাময়ে কার্যকর। এর পাতায় উপস্থিত উপাদান ইনসুলিনের মতো কাজ করে রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া, এই গাছের ছাল ও পাতা আমাশয় এবং মূত্রনালীর সমস্যা দূর করতেও ব্যবহৃত হয়। তবে নানা কারণে প্রকৃতি থেকে বিলীন হওয়ার পথে এই গাছ। আমাদের নিজেদের স্বার্থেই এ গাছ বেশি বেশি লাগানো।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা জানান, জারুল হচ্ছে বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ, সেই সাথে পরিবেশবান্ধব, প্রকৃতির শোভাবর্ধক ও ঔষধি গুণসম্মত। অন্যদিকে গ্রীষ্মের খরতাপে শান্তির পরশ বুলিয়ে দেয় জারুল গাছগুলো। ফুলের রঙে জারুল প্রকৃতিকেও যেন অনেক অপরূপ দেখায়। কিন্তু অপরিকল্পিত আধুনিকায়ন, অতি নগরায়ন এবং মানুষের অসেচতনতা ও বৃক্ষ নিধনে দিন দিন সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে যে কোন আবহাওয়ায় জন্মানো এই ঐতিহ্যবাহী মনোমুগ্ধকর গাছটি। প্রকৃতির স্বার্থেই আমাদের স্ব-উদ্যোগে এসব ফুল জাতীয় উদ্ভিদ বেশি বেশি লাগানো উচিত।
এমএসএম / এমএসএম
ঠিকাদার বন্ধুটিকে ঠকিয়ে তার ৪ কোটি ৮৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাত
চন্দ্রঘোনা ফেরিঘাটে জনদুর্ভোগ চরমে: একটি সেতুর অভাবে নিভছে অনেক প্রাণ
তেঁতুলিয়ায় ইয়াবাসহ যুবক আটক
চাঁদপুরে ডাকাতিয়া নদীতে নিখোঁজ ইমামের মরদেহ উদ্ধার
ভূরুঙ্গামারীতে ইউএনও শাহাদাৎ হোসেনের বিদায়:উন্নয়ন ও মানবিক নেতৃত্বে স্মরণীয় অধ্যায়
আত্রাইয়ে ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচন সম্পন্ন: মাজেদুল সভাপতি,তারিফ সাধারণ সম্পাদক
রায়গঞ্জের গোপালজিউ মন্দির পরিদর্শনে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার
খাল খনন করতে নেমে গেলেন পার্বত্য মন্ত্রী
মনপুরায় জমি নিয়ে সংঘর্ষ ও সাংবাদিকের ওপর হামলা: বসতবাড়িতে ভাঙচুর, আহত একাধিক
চবিতে বগুড়া জেলা সমিতির নির্বাচনে সভাপতি হলেন মোস্তাক সম্পাদক সৈকত
নোয়াখালীত ডিবির জালে ইয়াবাসহ গ্রেফতার শীর্ষ সন্ত্রাসী দেলোয়ার
অবহেলায় জর্জরিত রাজারহাট রেলস্টেশন চরম ভোগান্তিতে যাত্রী সহ এলাকাবাসী