চোখের সামনে ভেসে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন
টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে বারহাট্টার নিম্মাঞ্চলের কৃষকদের চোখের সামনে বিস্তীর্ণ বোরো ধানের ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। ফলে অসহায়ের মতো চেয়ে দেখা ছাড়া কৃষকদের আর কোনো উপায় নেই। চোখের সামনে স্বপ্ন জলে নিচে তলিয়ে গেলেও কিছুই যেন করার থাকছে না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি বোরো মৌসুমে বারহাট্টা উপজেলায় প্রায় ১৫ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার মেট্রিক টন। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। মাঠে ধান ভালো হলেও অতি বৃষ্টিতে কাটতে না পারায় ২০ হেক্টর জমির ধান পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। শতভাগ জমির ধান কাটতে আরো ১৫ দিন লাগতে পারে।
সরেজমিনে উপজেলার নিম্নাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, তীরের দিকে ভেসে আসছে ছোট ছোট নৌকা। নৌকাগুলো পাড়ে লাগানোর পর কৃষকরা ধানের আঁটি তুলে শুকনো স্থানে রাখছেন। কেউ যন্ত্রের সাহায্যে ধান মাড়াই করছেন। কেউ ভেজা ধান স্তুপ করে রাখছেন। কেউ আবার সেই ধান বস্তায় ভরছেন। শ্রমিকরা ধানের বস্তা কাঁধে ও মাথায় করে শুকনা স্থানে নিয়ে তুলছেন।
কৃষকদের সাথে কথা বললে তারা সকালের সময়কে জানান, দিনে-রাতে পানি বেড়েই চলেছে, চোখের সামনে পাকা ধান ডুবে গেছে। ধান কাটতে পারি নাই। হাত দেড় এক পানি কমলে ধান কিছুটা ভাসতে পারে, কিন্তু পানি কমার কোনো লক্ষণ দেখছি না। মাঠের বেশিরভাগ ধান পেকে গেছে। পানির ধান কাটার জন্য এখন শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা। মজুরি ছাড়াও প্রত্যেক শ্রমিককে ১৫০ টাকা করে যাওয়া-আসার ভাড়া, ধানের আঁটি তীরে আনতে নৌকা ভাড়া দিতে হচ্ছে ৫০০ টাকা।
আসমা এলাকার কৃষক রহিস মিয়া, আদনান গাজী, চিরাম এলাকার জামাল শেখ, পরিমল চৌধুরী, রায়পুর এলাকার তপন সরকার, লিমন মিয়া বলেন, 'আমাদের বেশিরভাগ জমিই বিলের পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আর কাটার সুযোগ নাই। গত চার দিনে বিলের পানি বাড়ছে। ধানের ছড়ার আগা পানির নিচে ডুবি গেছে। পানি বেড়েই চলেছে কমছেই না। চোখের সামনে সব ডুবে যাচ্ছে। কেমনে ঋণ শোধ করব, পরিবার নিয়ে কেমনে চালাবো? কিছুই বুঝতে পারছি না।'
নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ আনোয়ারুল হক ক্ষতিগ্রস্ত বারহাট্টা উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন পরিদর্শন করে বলেন, কৃষকের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত তাদের তালিকা করে সরকারি সহযোগিতা করা হবে। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করছে কৃষি বিভাগ। তখন ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ জানা যাবে।
Aminur / Aminur
চোখের সামনে ভেসে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন
গুজব-অপপ্রচারের প্রতিবাদে ময়মনসিংহে এলজিইডি ঠিকাদারদের গণস্বাক্ষর কর্মসূচি
কুষ্টিয়ায় রাতের আঁধারে গাছ কর্তন, থানায় লিখিত অভিযোগ
বোদায় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত
রায়গঞ্জে প্রাণিসম্পদ প্রকল্পে ৪ শতাধিক ছাগী পেলো ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনে যুবকের মৃত্যু:স্ত্রী সহ গ্রেফতার ২
চাঁদা দাবি, হয়রানি ও হুমকির প্রতিবাদে রাঙ্গামাটিতে ব্যবসায়ীর সংবাদ সম্মেলন
কাপ্তাই সীতা পাহাড়ে জরাজীর্ণ বিদ্যালয়টি শিশুদের পাঠদানের একমাত্র ভরসা
বরগুনার কৃষক দিশাহারা, ঝড় বৃষ্টিতে রবিশস্যর ক্ষতি
বৃষ্টির ভেতরও থামেনি শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন
মাদকবিরোধী অভিযানে রায়পুরায় দুইজনকে কারাদণ্ড
রূপগঞ্জে বর্ণাঢ্য আয়োজনে দেশ রূপান্তরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন