ঢাকা সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের দখলযুদ্ধ, গোলাগুলিতে একের পর এক মৃত্যু


এম ফেরদৌস, কক্সবাজার  photo এম ফেরদৌস, কক্সবাজার
প্রকাশিত: ৭-৫-২০২৬ দুপুর ১২:৫৬

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো আবারও রক্তাক্ত সংঘর্ষ ও সশস্ত্র আধিপত্য যুদ্ধের ভয়াবহতায় কেঁপে উঠেছে। দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ। আধিপত্য বিস্তার, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও শক্তির দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে গত ২৪ ঘণ্টায় পৃথক দুই ঘটনায় নিহত হয়েছেন দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। এতে পুরো ক্যাম্পজুড়ে বিরাজ করছে আতঙ্ক, উৎকণ্ঠা ও থমথমে পরিস্থিতি।

সরেজমিন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প এখন কার্যত একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ যুদ্ধের ময়দানে পরিণত হয়েছে। মাদক পাচার, অস্ত্র চোরাচালান, অপহরণ, মানবপাচার, চাঁদাবাজি, হত্যা ও গুমের মতো অপরাধকে কেন্দ্র করে এসব গ্রুপের মধ্যে প্রায়ই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হচ্ছে। ফলে শুধু রোহিঙ্গা শিবির নয়, আশপাশের স্থানীয় এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে চরম নিরাপত্তাহীনতা।

গেল মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গ্রুপগুলোর মধ্যে এই সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন কুখ্যাত সন্ত্রাসী কেফায়েত উল্লাহ ওরফে হালিম। পরে তাকে কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন।, হালিম দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পে একটি শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। মিয়ানমারে থাকাকালে তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-এর গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডার ছিলেন বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়। পরবর্তীতে ‘হালিম’ নামে আত্মগোপনে থেকে উখিয়ার কুতুপালং এলাকায় নিজস্ব সশস্ত্র গ্রুপ গড়ে তোলেন।

রোহিঙ্গা মাঝি এবং বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, তার নেতৃত্বাধীন ‘হালিম গ্রুপ’ পরে আরসা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গঠিত আরাকান রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন (এআরও)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ শুরু করে। সীমান্তজুড়ে ইয়াবা পাচার, অস্ত্র সরবরাহ ও ক্যাম্পভিত্তিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এই গ্রুপের শক্ত অবস্থান ছিল।

হালিম গ্রুপের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে হত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, ধর্ষণ ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধে জড়িত ছিল। ক্যাম্পে প্রভাব বিস্তার করতে গিয়ে বহু সাধারণ রোহিঙ্গাকেও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

জানা গেছে, হালিমের উত্থান ছিল অত্যন্ত দ্রুত ও ভয়ংকর। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করলেও পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে মুক্তি পান তিনি। ওই ঘটনায় ক্যাম্পজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়। অনেকেই তখন প্রশ্ন তুলেছিলেন- কীভাবে একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী এত সহজে মুক্তি পেলেন?

তার মুক্তির পর থেকেই ক্যাম্পে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে তার অনুসারীরা। নতুন করে শুরু হয় আধিপত্য বিস্তারের সংঘর্ষ। যে সংঘর্ষে তার প্রাণ গেল।

হালিমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দায়িত্বরত ১৪ এপিবিএন পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি সীরাজ আলামীন।

অন্যদিকে, হালিম নিহত হওয়ার ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই বুধবার (৬ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্প-৮ ইস্ট এলাকায় আবারও গুলির ঘটনা ঘটে। এতে নিহত হন আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ) বা নবী হোসেন গ্রুপের প্রধান নবী হোসেনের ছোট ভাই মোহাম্মদ কামাল (৩৫)।

স্থানীয় রোহিঙ্গাদের অভিযোগ, এই হামলার পেছনেও আরসা-সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীরা জড়িত রয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রিয়াজুদ্দিন আহমদ বলেন, “গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মোহাম্মদ কামালকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।”

'অপরাধের স্বর্গরাজ্যে' রোহিঙ্গা ক্যাম্প

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো ধীরে ধীরে একটি ভয়ঙ্কর অপরাধ বলয়ে রূপ নিচ্ছে। বিভিন্ন গ্রুপ নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় মাদক ব্যবসা, মানবপাচার, অপহরণ ও চাঁদাবাজিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকা ব্যবহার করে ইয়াবা পাচার ও অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ বহুদিনের। এসব অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করেই একের পর এক খুনোখুনির ঘটনা ঘটছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন জানান, সন্ধ্যার পর ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রায়ই শোনা যায় গোলাগুলির শব্দ। অপহরণ ও গুমের ঘটনাও বেড়েছে উদ্বেগজনকভাবে। অনেক ক্ষেত্রে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য সাধারণ রোহিঙ্গাদেরও তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন ব্লকে।

ক্যাম্পসংলগ্ন উখিয়া ও টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অস্থিরতা এখন তাদের জীবনেও সরাসরি প্রভাব ফেলছে। মাদক কারবার, চুরি, ছিনতাই ও অস্ত্রের বিস্তার নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগে রয়েছেন।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেছেব, “রাত হলেই আতঙ্ক শুরু হয়। কখন কোথায় গোলাগুলি হয়, কেউ জানে না। ক্যাম্পের অপরাধ এখন স্থানীয় এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ছে।”

ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ একটি সুত্র বলছে, কুখ্যাত গ্রুপপ্রধান হালিম নিহত হওয়ায় সাময়িকভাবে একটি শক্তিশালী সন্ত্রাসী বলয়ের নেতৃত্ব দুর্বল হলেও এতে সহিংসতা কমবে  এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণে নতুন করে সংঘর্ষ, প্রতিশোধপরায়ণ হামলা ও রক্তপাত বাড়তে পারে।

তাদের মতে, শুধু অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। ক্যাম্পে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থের উৎস, অস্ত্র সরবরাহ ও মাদক নেটওয়ার্ক বন্ধে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে।

এমএসএম / এমএসএম

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি বেঁচা-কেনার রমরমা বাণিজ্য, একেক জনের দখলে একাধিক

বড়লেখায় নবাগত ইউএনও’র সাথে নিসচা’র মতবিনিময়

নন্দীগ্রামে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন এমপি মোশারফ

মান্দায় উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা

গোপালগঞ্জে শ্রেষ্ঠ কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মাননা পেল টুঙ্গিপাড়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ

মুকসুদপুরে নাট্যজন কল্যাণ দাসের স্মরণ সভা

টাঙ্গাইলে আধুনিক মৌমাছি পালন ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

জনগণের আস্থা ও তৃণমূলের মতামতেই উন্নয়নের পথ—কাউনিয়ায় এমপি আখতার হোসেন

ধুনটে মাদ্রাসা শিক্ষক ও মডেল মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে ছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, এলাকায় তোলপাড়

শালিখায় নবাগত ইউএনও ও ওসি'র সঙ্গে বিএনপি নেতাদের সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়

পিরোজপুরে শিশু শ্রম ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অবহিতকরণ সভা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান

মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে চার’শ পিছ ইয়াবা সহ আটক -২

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে ভারতীয় মাদক ও অবৈধ কারেন্ট জাল উদ্ধার, আটক ১