হাওরাঞ্চলে ফসলডুবিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বছরব্যাপী সয়াতা প্রদানের দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান
সুনামগঞ্জ হাওরাঞ্চলের বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান আন্দোলন পরিচালনা কমিটি কর্তৃক
জেলা প্রশাসক বরাবরে ৭মে ২০২৬ইং তারিখে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। স্মারকলিপি প্রধানকালে উপস্থিত ছিলেন আন্দোলন পরিচালনা কমিটির জেলা কমিটির আহ্বায়ক সৌরভ ভূষন দেব, যুগ্ম আহ্বায়ক সুখেন্দু তালুকদার মিন্টু, আঞ্চলিক কমিটির সদস্য তোফাজ্জল হোসেন, বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম ছদরুল। স্মারক লিপিতে উল্লেখ করা হয় হাওরাঞ্চলের ৭ টি জেলায় প্রায় ৫০ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রমের সোনালী ফসল চোখের সামনে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে কৃষকের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। কৃষকের বুকভরা আর্তনাদ আর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দেখে সারাদেশের মানুষের মধ্যেও গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে। একই সাথে বৃষ্টির পানিতে হাওরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে ফসল ডুবে যাওয়ার ঘটনায় সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি করছে। ধান তলিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক কোন কারণ নয়, বরং শাসক -শোষক গোষ্ঠীর অবাধ শোষণ-লুটপাটের পরিণতিতে হাওরে আজকের জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। আবাহমান কাল ধরে হাওরের নিজস্ব যে জীব বৈচিত্র্য ও পানির প্রবাহ তৈরি হয়েছিল তা পাকিস্তান আমল থেকে ক্ষমতাসীন সাম্রাজ্যবাদের দালাল সরকারসমূহ ও দেশি-বিদেশি এনজিও সংস্থাগুলোর বেপরোয়া লুটপাটের কারণে তা বিনষ্ট হয়েছে। অপরিকল্পিত নির্মাণ ও দূর্বল বাঁধ, বিশ্বব্যাংকের পরিকল্পনায় যত্রতত্র পল্লী সড়ক, ইজারা নেয়ার নামে হাওরে ইজারাদারদের দৌরাত্ব্য, এনজিও সংস্থাগুলোর নামে বেনামে বিভিন্ন প্রকল্প ইত্যাদি কারণে হাওর, খাল, বিল ও নদীসমূহের গতিপথ পরিবর্তীত হয়েছে, জলাধারগুলির গভীরতা কমে গেছে । ফলে সামান্য বৃষ্টি বা পাহাড়ি ঢলে পানি প্রবাহের সুযোগ না পেয়ে অকালের পানি কৃষকের ফসলসহ বসতভিটা তলিয়ে যায়। নেতৃবৃন্দ বলেন, সাম্রাজ্যবাদের দালাল কোন সরকারই হাওরের সমস্যাকে জীবন্তভাবে না দেখে ভাসা কিছু কর্মসূচী নিয়ে সমস্যার উপরে প্রলোপ দিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় ও লুটপাট করেছে। বিএনপি সরকার ক্ষতিগ্রস্ত এক লক্ষ কৃষক পরিবারকে ৭ হাজার টাকা করে ৩ মাস সহযোগিতা করার ঘোষণা দিয়েছে। তিন মাসে সরকারের এ সহযোগিতার মোট পরিমাণ দাঁড়ায় মাত্র ২১ কোটি টাকা। অথচ প্রায় দেড় লাখ একর জমির ধান তলিয়ে যাওয়ায় হাওরাঞ্চলের ৭ টি জেলায় প্রায় এক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি সধিত হয়। বিগত কোন সরকারই হাওরাঞ্চলে কর্মসংস্থানের ব্যাপারে কোন উদ্যোগ নেয় নি। হাওরাঞ্চলের ভূমিহীন ও গরিব কৃষকরা রুজির জন্য শহরে বিভিন্ন কাজে পাড়ি জমিয়েছে। ফলে হাওরের ফসল তোলার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কর্মী সংকট দেখা দেয়। তাছাড়া আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ও কৃষি প্রযুক্তির ব্যাপারে সরকারের উদ্যোগী ভূমিকা না থাকায় হাওরাঞ্জলের কৃষি এখনো সনাতনী রয়ে গেছে। যার ফলে আকস্মিক দুর্যোগে কৃষকদের কাছে কিছু করণীয় না থাকায় নিরবে চোখের সামনে তাদের ফসল তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সহ্য করতে হয়। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে কৃষক-জনগণকে সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কৃষক, কৃষি ও হাওর সমস্যা সমাধানে আন্দোলন গড়ে তোলার বিকল্প নেই বলে সভায় নেতৃবৃন্দ মতামত তুলে ধরেন। দাবি সমুহঃ- ১। ফসল তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির সমপরিমাণ বছরব্যাপী সহযোগিতা ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে আর্থিক ও লজিস্টিক সাপোর্ট প্রদান করতে হবে, ২। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সরকারি-বেসরকারি-এনজিও ইত্যাদি সকল প্রকার ঋণ মওকুফ করতে হবে,৩। হাওরের ইজারা বাতিল করে সাধারণ মানুষের মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে,
৪। ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির সাথে যুক্ত সকলকে বিচারের আওতায় আনতে হবে,৫।পাহাড়ী ঢলে ফসল হানি রোধে জাতীয় স্বার্থে নদনদী ও খাল-বিল খননের বিজ্ঞানসম্মত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে,৬। অপরিকল্পিত হাওর রক্ষা বেড়ি বাঁধ নির্মাণ বন্ধ এবং হাওর রক্ষা বাঁধে ব্যাপক লুটপাট ও দুর্নীতি বন্ধ করে দীর্ঘ মেয়াদী উপযুক্ত হাওর রক্ষণ নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে, যাতে হাওর জলাবদ্ধতা মুক্ত থাকে এবং অকাল বন্যা বা পাহাড়ি ঢলে হাওর তলিয়ে না যায়, ৭। হাওরাঞ্চলে পানি প্রবাহের প্রকৃতিকে আবিস্কার করে নির্মাণকৃত সকল অপরিকল্পিত রাস্তা ও স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে|
এবং নদ-নদী, খাল, ছড়া দখল মুক্ত করতে হবে,
৮। হাওরাঞ্চলের জন্য সরকারিভাবে পর্যাপ্ত বড় নৌকা এবং আশ্রয় কেন্দ্রের ব্যবস্থা করতে হবে,
৯। আগাম বন্যার হাত থেকে ফসল রক্ষায় কৃষকদের ফসল কাটা ও মাড়াইয়ের আধুনিক যন্ত্র সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে এবং বর্ষা মৌসুমে ধান শুকানো এবং সংরক্ষণের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় অটোমিলের ব্যবস্থা করতে হবে,১০। ফরিয়া, দালাল ও মিল-মালিকদের আধিপত্য নির্মূল করে কৃষকের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সরকারকে উৎপাদন মৌসুম, যখন প্রান্তিক কৃষকরা ধান বিক্রি করতে বাধ্য হন, তখনই সরকারকে উপযুক্ত মূল্যে কৃষকের নিকট থেকে পর্যাপ্ত ধান কিনতে হবে। প্রয়োজনে কৃষকদের নিকট থেকে আগাম ধান ক্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এতে কৃষককে ধান উৎপাদনের জন্য ঋণ করতে হবে না, ১১। কৃষি খাতে সর্বোচ্চ ভর্তুকি দিতে হবে এবং কৃষি উৎপাদনে ব্যবহৃত সার, বীজ, ডিজেল, কীটনাশক ও বিদ্যুৎ ভর্তুকি মূল্যে প্রদান করতে হবে। কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে,
১২। চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম কমাতে হবে। সল্প মূল্যে দরিদ্র জনগণের জন্য রেশনিং চালু করতে হবে,
১৩। হাওরের ভূমিহীন ও গরীব কৃষকদের জমি ও কাজ দিতে হবে। হাওরের খাসজমি প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে বন্টন করতে হবে,
১৫। হাওরের ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামগুলিতে টেকসই গ্রামরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করতে হবে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
এমএসএম / এমএসএম
নদী পেরিয়ে নাগরিক সেবা: ফুলছড়ির চরবাসীর প্রতিদিনের সংগ্রাম
আলফাডাঙ্গার একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা
আটোয়ারিতে প্রভাবশালী প্রকৌশলী মকবুল ইশারায় ভিটে মাটি ছাড়া ফজলুর পরিবার
বারহাট্টায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন সহিংসতা বন্ধে নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন
ঘিওর-বানিয়াজুরী আঞ্চলিক সড়কটি খানাখন্দে ভরা যানবাহন চলাচলে মারাত্মক হুমকি
কেশবপুরে অবৈধ ২ ক্লিনিক সিলগালা, কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ
ভূরুঙ্গামারীতে মাদক প্রতিরোধে ইসলামের আলোকে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও ইমামগণের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
তালায় ফারিয়ার প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
জীবিকার তাগিদে মুন্সিগঞ্জের ৬০টি বেদে পরিবার বসবাস করছেন শিবচরে
ফতুল্লায় ফের বিস্ফোরণ, বাবা-তিন ছেলেসহ দগ্ধ ৪
বাগেরহাটের কচুয়ায় সরকারী রাস্তা বন্ধ করে ইমারত নির্মান, ইউএন’র নির্দেশে বন্ধ
রায়গঞ্জে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অপমানের প্রতিবাদে মানববন্ধন