রাজস্থলীর কুইক্যাছড়ি খিয়াং পাড়ায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট, জীবনসংগ্রামে পাহাড়ি নারীরা
রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার দুর্গম খিয়াং অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসম্মত সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় এবং ভূগর্ভের পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার ফলে পুরো পাহাড় জুড়েই এই জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ে সুপেয় পানি থেকে শুরু করে নিত্য ব্যবহার্য পানিও এখন মিলছে না। বাধ্য হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা নদী ও ঝিরি-ঝর্ণার দূষিত পানি পান করছেন, যার ফলে ইতোমধ্যে এলাকায় বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাজস্থলী উপজেলার ১ নং ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের বড় কুইক্যাছড়ি পাড়া, ছোট কুইক্যা, ধনুছড়ি ও শীলছড়ি পাড়ার দুর্গম এলাকাগুলোতে এখন পানির হাহাকার চলছে।
প্রকৃতির সবুজ ঘেরা বনাঞ্চল উজাড় করে দেওয়া, পাহাড় কর্তন ও পাথর উত্তোলনের কারণে পাহাড়ের প্রাকৃতিক জলাধার ও ঝিরিগুলোর উৎস মুখ দিনে দিনে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ইতিপূর্বে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই বিষয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হলেও কোনো সুফল মেলেনি, বরং সংকট দিন দিন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৭-৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে খিয়াং সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন। তাদের মূল সমস্যা এখন খাবার পানি। সকাল থেকে কলসি ও খালি বোতল নিয়ে নারীদের পানির জন্য কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। ঝিরি ও ছড়ায় পাথরের ফাঁকে অল্প অল্প করে যে পানি জমে, তা সংগ্রহের জন্য নারীরা মধ্যরাত থেকে পালা করে ভোর পর্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে কোনোমতে পরিবারের খাবার পানি সংগ্রহ করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুইক্যাছড়ি পাড়ার নারীরা দলবেঁধে ভোরবেলায় ঝিরি থেকে পানি সংগ্রহ করতে আসেন। পাথরের মাঝখান দিয়ে খুব অল্প করে পানি বের হওয়ায় তা জমতে অনেক সময় লাগে। দুই-তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর কপালে জোটে ময়লাযুক্ত পানি, যা পরে কাপড়ে ছেঁকে কলসিতে নেওয়া হয়। কুইক্যাছড়ি পাড়ার গির্জার পুরোহিত চিংচাউ বলেন, “তীব্র পানি সংকট যেন দিনের পর দিন বাড়ছে। বন উজাড় ও পাথর উত্তোলনের কারণে পাহাড় এখন মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে। প্রভাবশালীরা এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, অথচ দেখার কেউ নেই। আমরা ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও পানি কিনে কাজ চালাচ্ছি।” ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য চিংলাউ খিয়াং বলেন, “গোসল তো দূরের কথা, এখন খাওয়ার পানি পর্যন্ত মিলছে না। সন্ধ্যা হলেই পানির জন্য লাইন পড়ে যায়। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে যেসব নলকূপ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোও অকেজো হয়ে পড়েছে।”
সম্প্রতি রাজস্থলী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ও বর্তমান জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাইমুল ইসলাম রনি ওই খিয়াং পাড়ায় ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ করতে গিয়ে এই ভয়াবহ পানি সংকটের দৃশ্যটি প্রত্যক্ষ করেন। তিনি জানান, রাজস্থলী উপজেলার দুর্গম পাহাড়ের সুপেয় পানির সংকট নিরসনের লক্ষ্যে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল সাহেবের সাথে আলোচনা করে দ্রুত বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেবেন। এই প্রকল্পের অনুমোদন মিললে পাহাড়ি এলাকার দীর্ঘদিনের পানি সংকট নিরসনে জরুরি ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
Aminur / Aminur
ঝিনাইদহে স্বাস্থ্যসম্মত সর্বাধুনিক কসাইখানা উদ্বোধন করলেন আইনমন্ত্রী
এবার নারীর পেটে অস্ত্রোপচার করে ৩ কেজি ওজনের টিউমার বের করলেন সেই ডাক্তার
শেরপুরে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন
চিলমারীর চরাঞ্চলে শিক্ষক সংকট: তিন বিদ্যালয় চলছে মাত্র একজন করে শিক্ষক দিয়ে
রায়গঞ্জে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৫ গরু চুরি, ক্ষতি প্রায় ৪ লাখ টাকা
রাজস্থলীর কুইক্যাছড়ি খিয়াং পাড়ায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট, জীবনসংগ্রামে পাহাড়ি নারীরা
শ্রীমঙ্গলে মঞ্চ প্রস্তুত, প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় হাজারো মানুষ
টঙ্গীতে টিউমার অপারেশনের পর তরুণীর মৃত্যু
নাঙ্গলকোট প্রেসক্লাবের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ঈদ পূর্নমিলনী উৎসব পালিত
দুই ঘণ্টার নাটকীয়তার পর আদালতে শিবির নেতা জিসান, জামিন নামঞ্জুর; কারাগারে প্রেরণ
গাঁজা সেবনের দায়ে তারাগঞ্জে এক ব্যক্তির ১ বছরের কারাদণ্ড
নেত্রকোণার আটপাড়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন