অবহেলায় মৃতপ্রায় খিরাই নদী, খননের দাবিতে এলাকাবাসী
একসময় দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত, কৃষি ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম ভরসা ছিল দাউদকান্দি উপজেলার খিরাই নদী। মাত্র ২০ থেকে ২৫ বছর আগেও এই নদীপথে প্রতিদিন ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের নৌযান চলাচল করত। ইট, বালুসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন করা হতো এই নদীপথে। কিন্তু বর্তমানে অবহেলা, নাব্যতা সংকট ও কচুরিপানার দখলে পড়ে নদীটি প্রায় মৃতপ্রায় অবস্থায় পৌঁছেছে।
স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, অতিরিক্ত কচুরিপানা জমে যাওয়ায় ধীরে ধীরে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে নৌযানের মালিকরা এই পথ ব্যবহার থেকে নিরুৎসাহিত হন। একই সময়ে গৌরীপুর থেকে নায়েরগাঁও সড়কে ইটের সলিং নির্মাণ হওয়ায় মানুষ সড়কপথে চলাচলে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে একসময় ব্যস্ত নদীপথ হিসেবে পরিচিত খিরাই নদী তার গুরুত্ব হারাতে শুরু করে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি না থাকায় নদীর দুই তীরের শত শত হেক্টর কৃষিজমিতে সেচের তীব্র সংকট দেখা দেয়। পর্যাপ্ত পানির অভাবে ইরি-বোরো ধান চাষ করা সম্ভব হয় না। বাধ্য হয়ে কৃষকরা তুলনামূলক কম লাভজনক ফসল আবাদ করেন, যার ফলে প্রতিবছর তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।
স্থানীয়দের মতে, বর্তমান সরকার দেশব্যাপী খাল ও নদী পুনঃখননের বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করলেও খিরাই নদী খননের বিষয়ে এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগের তথ্য জানা যায়নি। দ্রুত নদীটি পুনঃখনন করা হলে নৌপথ পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জানা গেছে, খিরাই নদী দাউদকান্দির গোমতী নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে গোয়ালমারী ইউনিয়ন, বিটেশ্বর ইউনিয়ন এবং দৌলতপুর ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আগের সরকারের আমলে দৌলতপুর ইউনিয়ন অংশে সীমিত আকারে নদী খনন করা হলেও গোয়ালমারী ও বিটেশ্বর ইউনিয়নের অংশে গত ৩০ থেকে ৪০ বছর ধরে কোনো খননকাজ হয়নি। ফলে ওই অংশে নদীর নাব্যতা প্রায় সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে।
এলাকাবাসী মনে করেন, খিরাই নদী পুনঃখনন করা হলে শুধু কৃষিখাতই নয়, বর্ষার পানি নিষ্কাশন, ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ, মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত প্রকল্প গ্রহণ করে খিরাই নদী পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, নদীটি পুনরুদ্ধার করা গেলে একসময়কার প্রাণচঞ্চল এই নদীপথ আবারও এলাকার অর্থনীতি ও কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
এমএসএম / এমএসএম
টুঙ্গিপাড়ায় দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত, ভূমিকম্প ও অগ্নিকাণ্ডের মহড়া
দুই হাত নেই, পায়ের আঙুলে লেখেন; দুঃখু মিয়ার পাশে দাঁড়াল নরসিংদীর ডিসি
ভাণ্ডারিয়ায় নকল পণ্য তৈরির কারখানায় অভিযান, জরিমানা ও সিলগালা
ঘিওরে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত
ভূরুঙ্গামারীতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবসে অগ্নিনির্বাপণ ও ভূমিকম্প বিষয়ক সচেতনতামূলক মহড়া অনুষ্ঠিত
সুবর্ণচরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পুরো সবজি বাগান ধুলিস্যাৎ
উলিপুরে নিভৃত পল্লীতে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে সাকসেস রেসিডেন্সিয়াল স্কুল
বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে শ্রমিকদল নেতার তান্ডব গভীর রাতে নারী চিকিৎসক কে হেনস্তা
বাসসের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান হলেন আবদুল হাই শিকদার: ভূরুঙ্গামারীবাসীর অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা
নওয়াব ফয়জুন্নেছা কলেজের ২ একর জমি ভূমিদস্যুদের দখলে
উল্লাপাড়ায় তিন শত.বছরের ঐতিহ্য পোড়া মাটির অপরূপ নিদর্শন ‘নবরত্ন মন্দির’
নেত্রকোণার মদনে মাদক সেবনের অভিযোগে পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ আটক-৪