পশ্চিম রেলে যান্ত্রিক প্রকৌশলীদের গতি যেন ১৮ মাসে বছর
বাংলাদেশ রেলওয়ে (পশ্চিম) রাজশাহীর প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী সহ বিভাগীয় বেশ কয়েকজন প্রকৌশলীর কাজের গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এক ভূক্তভোগী। তিনি বলছেন, রেলের যান্ত্রিক প্রকৌশলীদের কাজের গতি এত-ই ধীর যেন ১৮ মাসে বছর। আবার ধীর গতিতে কাজ করলেও কাজের ফলাফল শূন্য। ইনাদের কেন যে সরকার এত পয়সা দিয়ে পুশছেন, আমার বোধগম্য নয় !
জানা যায়, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রেলওয়ে পশ্চিমের অধীনে রাজবাড়ী যান্ত্রিক প্রকৌশল শাখার ফিটার মুসা ফকিরের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিগত আওয়ামী সরকারের ক্ষমতার অপব্যবহার ও সরকারকে ভুয়া তথ্য দিয়ে একজন সাবেক সচিব'র সুপারিশে চাকরি গ্রহন ও এনআইডি জালিয়াতি সহ বেশ কিছু অনিয়ম উল্লেখ করে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার বরাবর অভিযোগ করেন মো: হারুন। এরপর মুসা ফকির অস্ত্রের মুখে হারুন'কে তুলে নিয়ে মারধোর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে দরখাস্ত প্রত্যাহার করার কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। পরে হারুনের
স্ত্রী ফরিদা পারভীন ২০২৫ সালের আগষ্ট মাসে আবারও অভিযোগ দেন পশ্চিম রেলের জিএম বরাবর।
অভিযোগ আমলে নিয়ে জিএম (পশ্চিম) ফরিদ আহমেদ বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলীর দপ্তর পাকশী'র ডিএমই (ডিভিশনাল মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার) রবিউল ইসলাম'কে আহবায়ক করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি করে তদন্তের নির্দেশ দেন। কমিটির অন্য ২ সদস্য ডিপিও পাকশী মো: ফেসদৌস এবং ডিএসটিই পাকশী আহমেদ ইশতিয়াক জহুর। তারা দীর্ঘ ৮ মাস তদন্ত করে পরের বছর এপ্রিল মাসে ৪ পাতার প্রতিবেদন জমা দেন।
এরপর মো: হারুন ১৯ এপ্রিল পুনরায় তাকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে দরখাস্ত প্রত্যাহারেরর বিষয় উল্লেখ করে জিএম রাজশাহী ফরিদ আহমেদ এর কাছে আসলে তিনি সিএমই আমিনুল ইসলাম'কে দরখাস্ত দিতে বলেন এবং তাকে অনুলিপি দিতে বলেন। পরের মাসে ২০ মে এই প্রতিবেদক সিএমই আমিনুল ইসলাম'র কাছে অভিযোগের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এরকম কোন দরখাস্ত আমি পাইনি। পরে আমিনুল তার দপ্তরের প্রকৌশলী শাহিনুল হক অপু'কে ডেকে জিগ্যেস করলে তিনি বলেন, গত মাসে একটা দরখাস্ত দিয়ে গেছে। তখন, সিএমই আমিনুল ইসলাম বলেন, এটার তো তদন্ত প্রতিবেদন হয়ে গেছে, এই দরখাস্ত আবার কেন ? প্রতিবেদনে কি আছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন অভিযোগ প্রমানিত হয়নি। এই প্রতিবেদক তদন্ত প্রতিবেদনটি দেখতে চাইলে তিনি প্রতিবেদনটি দেখাতে পারবেন না বলে জানান ; তবে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করলে ৪ পাতার প্রতিবেদনটি দেয়া যাবে বলেও তিনি জানান। এদিকে ২২ জুলাই অর্থাৎ ৩ মাস পার হলেও সর্বশেষ ১৯ এপ্রিল করা অভিযোগের দরখাস্তটি সিএমই দপ্তরেই পড়ে আছে বলে জানা যায়।
অভিযোগকারী হারুন বলেন, ২০০৮ সালে ২৯ জানুয়ারি করা মুসা ফকিরের জন্ম নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয় পত্র অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ২২ ডিসেম্বর ১৯৭২, কিন্তু তিনি ১৫ বছর পর নির্বাচন কমিশনে ঘুষ দিয়ে ২০২৩ সালের ৫ জুলাই নতুন করে জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরী করেন, যাতে তার জন্ম তারিখ ৫ জুলাই ১৯৮২। এদিকে নতুন করে মুসা ফকির ওরফে মতিয়ার রহমান'র জন্ম তারিখ ৫ জুলাই ১৯৮২ হলেও তার বড় মেয়ে মৌসুমী'র জাতীয় পরিচয় পত্রে দেখা যাচ্ছে তার জন্মতারিখ ২৬ জানুয়ারি ১৯৯২ অর্থাৎ মুসা ফকির'র মেয়ে মুসা ফকির'র মাত্র সাড়ে ৯ বছরের ছোট ! এদিকে মুসা ফকির'র বাবা সাহেব আলী ফকিরের ওয়ারিশন সার্টিফিকেট অনুযায়ী ৮ সন্তানের মধ্যে সবার বড় মুসা ফকিরের চেয়ে ছোট ৪ ভাইবোনের বয়স তার চেয়ে বেশী হয়ে যাচ্ছে। আবার মুসা ফকিরের ছোট বোন রিনা সুলতানার জন্ম তারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৮৩ অর্থাৎ তিনি মুসা ফকিরের চেয়ে ৫ মাসের ছোট ! তবে কি সাহেব আলীর স্ত্রী আমেনা বেগম ৫ মাসের ব্যবধানে ২টি সন্তান জন্ম দিয়েছেন ? মুসা ফকিরের নতুন ও পুরাতন জন্ম নিবন্ধন, এনআইডি, তার মেয়ের এনআইডি ও ওয়ারিশান সার্টিফিকেট এগুলো যাচাই করলে তো একজন অশিক্ষিত বা নাবালক ছেলেও বলতে পারবে ভুল হয়েছে কোথায় ! তাহলে রেলের উর্ধতন ৩ জন বাঘা বাঘা অফিসার কেন ৮ মাস তদন্ত করেও এই ভুল বুঝতে পারলেন না ? একটা এনআইডি জালিয়াতি করে রেল অর্থাৎ সরকারের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে এটা ২ বছরেও প্রমান করা গেল না ! তবে কি সচিব শাহ্ মো: এমদাদ'র ভয়ে, না বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ক্ষমতার ভয়ে নাকি গোপনে কাঁড়ি কাঁড়ি ঘুষ'র টাকা বাগিয়ে তারা এই অভিযোগ'কে মিথ্যা বললেন, এটাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমার জানতে চাওয়া !
জাবতে চাইলে মুসা ফকির ২য় বার এনআইডি তৈরী করে জালিয়াতির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি অনেক বড় হয়ে স্কুলে ভর্তি হয়েছিলাম, স্কুলের সার্টিফিকেট অনুযায়ী-ই এনআইডি তৈরী করেছি। পাশ থেকে তার স্ত্রী বলেন, সরকারি চাকরির জন্য তখন বয়স কমানোর সুযোগ ছিল বলেই এটা করা হয়েছে। এদিকে মুসা ফকিরের মেয়ে মৌসুমি জানান, স্কুলে মুসা ফকিরের নাম মতিয়ার রহমান ছিল, সেই অনুযায়ী আমার এনআইডিতে বাবার নাম মতিয়ার রহমান৷ বয়স কমিয়ে এনআইডি জালিয়াতি করার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি চাকরির নিয়ম মানতেই এনআইডি'তে বয়স কমানো হয়েছে।
এ বিষয়ে মুসা ফকির'কে চাকরি দেয়া (অব:) সচিব শাহ্ মো: এমদাদ'র কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তদন্ত কমিটির আহবায়ক বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ডিএমই) রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত করেছি ; স্কুলে গিয়েছি, স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেছেন স্কুলের সার্টিফিকেটটি সঠিক। এরপর মুসা ফকির'র জমা করা এনআইডি সঠিক কিনা, সেটা জানতে নির্বাচন কমিশনে সরকারি ফি জমা দিয়ে যাচাই করা হয়েছে। এনআইডি সঠিক ছিল ৷ অভিযোগকারীর জমা দেয়া মুসা ফকিরের পুরনো জন্মনিবন্ধন আর মেয়ে মৌসুমি'র এনআইডি'র বিষয়ে কোন তদন্ত করেছিলেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যা যা করা যায়, আমরা তাই করেছি।
এ বিষয়ে প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী (পশ্চিম) আমিনুল ইসলাম'কে তার অফিসে না পাওয়ায় মুঠোফোনে কল দিলে, তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোনটি কেটে দেন৷ পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠালে সেটিরও কোন উত্তর দেননি।
এমএসএম / এমএসএম
প্রবীণদের সেবায় পিরোজপুরে সেবা প্রদানকারী সংস্থা সমুহের সাথে এমওইউ সমঝোতা স্মারক ফলোআপ সভা অনুষ্ঠিত
বাঁশখালীতে ইয়াবাসহ ফটিকছড়ির এক যুবক গ্রেফতার
র্যাবের জালে কোটালীপাড়ার মাদক ব্যবসায়ী, উদ্ধার ৩,৯৫০ ইয়াবা
ধুনটে আল ইহসান ব্লাড নেটওয়ার্কের স্বেচ্ছাসেবী কর্মশালা ও নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত
পশ্চিম রেলে যান্ত্রিক প্রকৌশলীদের গতি যেন ১৮ মাসে বছর
পেকুয়ায় প্রবাসীর বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাতি, স্বর্ণ ও নগদ টাকা লুট
তিন সন্তানের মাকে নিয়ে বিএনপি নেতা আজব আলীর ‘আজব’ কাণ্ড
রায়গঞ্জে অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় প্রাণ গেল মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির
বাকেরগঞ্জ গ্রিন লাইভ ক্লিনিকের ব্যবসার অদৃশ্য সিন্ডিকেট :সেবার নামে ক্লিনিকে চলছে ব্যবসা বাণিজ্য
শৈলকুপা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ
প্রেমের সম্পর্কের জেরে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যার অভিযোগ,মরদেহ উদ্ধার
হুমকিতে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ: জলবায়ু সংকট ও মানবসৃষ্ট আগ্রাসনে ধুঁকছে সুন্দরবন