কনসাইনমেন্ট প্রতি চুক্তিতে ভাড়া লাইসেন্সে
বেনাপোল বন্দরে লাগামহীন শুল্ক ফাঁকি অব্যাহত
দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দরে লাগামহীন দুর্নীতি ও অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশ অব্যাহত থাকায় গত দুই মাসে ৭১৩ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। ফলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১০ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বিরাট ঘাটতির আশঙ্খা দেখা দিয়েছে এ বন্দরে। বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার ফাইজুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংশ্লিষ্ট বন্দর ব্যবসায়ীরা। ভাড়াকৃত ও বিক্রি হওয়া লিমিটেড করা বিভিন্ন লাইসেন্সে শুল্ক ফাঁকির পণ্য চালান আটক হলেও সেসব লাইসেন্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেইনি বলে রাজস্ব ঘাটতির তীর খোদ কাস্টমস কর্তৃপক্ষের দিকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে উঠে এসেছে, গত আট মাসে বেনাপোল বন্দরে ১৩০টি জালিয়াতির ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। ঘটনার সাথে উঠে এসেছে পণ্য পাচার,শুল্ক ফাঁকি, মিথ্যা ঘোষণা, একটি চালান শুল্কায়ণ করে অন্য চালান লোপাট, এইস এস কোড পরিবর্তন,আন্ডার ইনভয়েসিং,পণ্য পরিবর্তন যার বেশির ভাগই ঘটেছে ভাড়াকৃত ও সিন্ডিকেটের লিমিটেডকৃত লাইসেন্সে। এসব ঘটনায় বন্দর ও কাস্টমসের দায়ের হওয়া চারটি মামলায় কাস্টমস, বন্দর, নিরাপত্তা সংস্থা ও ব্যবসায়ীসহ ৫৭ জনকে আসামি করা হলেও এখন পর্যন্ত কাওকে আটক করেনি পুলিশ। তাছাড়া ভায়াগ্রার মতো চালান আটক হলেও সেই লাইসেন্সের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, বেনাপোল বন্দরের শুল্ক ফাঁকি চালানের অন্যতম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসাবে-এস এ ট্রেডার্স,আলী কদর এন্ড সন্স,ওমর এন্ড সন্স,নিরা এন্টারপ্রাইজ, আলেয়া এন্টারপ্রাইজ,সোনালি এজেন্সি লিমিটেড, মেসার্স সার্ভিস লাইন, পেরেন্টস ইন্টারন্যাশনাল বিসনেস সেন্টার, আলতাফ এন্ড সন্স, প্রত্যায় ইন্টারন্যাশনাল, রয়েল এন্টারপ্রাইজ, ইমান আলী এন্ড সন্স, ট্রেড কমিউনিকেশন,হায়দার এন্ড সন্স,হুদা ইন্টারন্যাশনাল,করিম এন্ড সন্স,জি-বি এম ট্রেডিং,তানজিনা এন্টারপ্রাইজ ও রনি ট্রেড এসোসিয়েট। ‘‘তবে শুল্ক ফাঁকির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ৮টি সিএন্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স সাময়িক স্থগিত করেছে বেনাপোল কাস্টম হাউজ। যার মধ্যে রয়েছে, মেসার্স হুদা এন্টাপ্রইজ, লিংক ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স করিম এন্ড সন্স, মেসার্স জি.বি.এম ট্রেডিং, তানজিনা ইন্টারপ্রাইজ, এসএ ট্রেডার্স। এছাড়া চূড়ান্ত বাতিল করা হয়েছে রণি ট্রেড এসোসিয়েটের লাইসেন্স।’’
কাস্টমস ও বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ১২ মার্চ বেকিং পাউডার ঘোষণায় ৬ কোটি টাকার শাড়ি,থ্রিপিস,কসমেটিকস ও রেড়িমেড গার্মেন্টস আমদানি করে। জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বন্দরের ৩৭ নং শেড হতে কাগজপত্র বিহীন পণ্য চালানটি আটক করে কাস্টমস। যার আমদানিকারক ছিলো বেনাপোলের “সাফা ইমপেক্স’’ এবং পণ্য চালান ছাড় করণের দায়িত্বে ছিলো সিএন্ডএফ এজেন্ট হুদা এন্টারপ্রাইজ। এ পণ্য চালানে কয়েক কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হচ্ছিলো।
গত ১৫ মার্চ, ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের মেসার্স আরাফাত এন্টারপ্রাইজ কোয়ার্টজ পাউডার ঘোষণায় আমদানি করা ৩ হাজার ৬৭৫ কেজি ভায়াগ্রার চালান আটক করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এ চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বেনাপোলের “হায়দার অ্যান্ড সন্স”। যার বিল অব এন্ট্রি নং ১৯০৪২ তারিখ ১৫/০৩/২০২৬। ৪৬৯ প্যাকেজের পণ্য চালানটি ৩২ নং ক্যামিকেল শেডে রয়েছে। মিথ্যা ঘোষণায় আনা ভায়াগ্রার চালান ধরা পড়ার পরও সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও সিএন্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেইনি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এমনকি জড়িত সিঅ্যান্ডএফের বিরুদ্ধে এখনও কোন আইনি প্রক্রিয়া গ্রহন করেনি। ফলে বন্দরের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও বৈধ বাণিজ্যের জন্য একটি বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ৩০অক্টোবর বন্দরের ৩১ নং শেড হতে মিথ্যা পণ্য ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা ৩ ট্রাক ফিস মিল ইনগ্রিডেন্টসের চালান জব্দ করে। প্রায় ১০ লাখ টাকার শুল্কফাঁকি দেওয়া হচ্ছিলো। যার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান শার্শার “মেসার্স শামিম এন্টারপ্রাইজ” ও পণ্যটি ছাড়করণের দায়িত্বে ছিল ভাড়াকৃত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট পেরেন্টস ইন্টারন্যাশনাল বিসনেস সেন্টার।
গত ১২ সেপ্টেম্বর, বেনাপোল বন্দরের ২৯ নম্বর শেড থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে তিন ট্রাক পণ্য পাচারের অভিযোগ উঠেছে। ট্রাক নম্বরগুলো যথাক্রমে যশোর ট-১১-৩১৩৩, ঢাকা মেট্রো-ট-২০-৮৩৪৯ ও ঢাকা মেট্রো ট-২২-৭৪৭১। ঢাকার আমদানিকারক সাদিয়া এন্টারপ্রাইজ মেনিফেস্ট নং-৬০১২০২৬০০২০০৫৪৩৩৮ ফেব্রিক্স এন্ড আদারর্স ঘোষণায় ৪৫৫ প্যাকেজ পণ্য আমদানি করেন। পণ্য চালানটির ছাড়করণের দায়িত্বে ছিল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল। তবে এ চালানে কি পরিমাণ শুল্ক ফাঁকির পণ্য পাচার হয়েছে তার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্র্তৃপক্ষ। এদিকে এ চালানের সাথে অনিয়মের অভিযোগে কাস্টমসের দুই রাজস্ব কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলামকে ক্লোজ করেছে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে বন্দরের ২৯ নং শেডের দায়িত্বে থাকা রিপন কুমার ও শফিকের বিরুদ্ধে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ২৩ জুন, ঢাকার আমদানিকারক ‘মেসার্স আরিফ এন্টারপ্রাইজের’ নামে ১০ টন ৯০ কেজি খৈল নিয়ে একটি ভারতীয় ট্রাক (ডাব্লিউবি ২৫ কে-৮৪১৫) রাতে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। যার সিএন্ডএফ এজেন্ট মেসার্স প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল। ২৫ জুন সকালে কার্গো টার্মিনাল থেকে বের হওয়ার পর ট্রাকটিকে ৩১ নম্বর ইয়ার্ডে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় ট্রাকটি আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। বন্দরের ওয়েব্রিজ স্কেলে ওজন করে দেখা যায়, ঘোষিত ওজনের তুলনায় ৩ হাজার ১৭৭ কেজি পণ্যের ঘাটতি রয়েছে। এসময় ট্রাক থেকে ১৪০ বস্তা সরিষার খৈল ও ৫০টি খালি বস্তা জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশি ট্রাক ও চালককে পুলিশের কাছে সোপর্দসহ বন্দরের আনসার ও বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় দেখিয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তবে এ ঘটনায় সিঅ্যান্ডএফ এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেইনি কাস্টমস।
গত ৯ মার্চ, ঢাকার আরাফাত এন্টারপ্রাইজ ৪৫ মেট্রিক টন ঘাসের বীজ ঘোষণা দিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় ১৭ মেট্রিক টন পাটবীজ আমদানি করে। এ চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বেনাপোলের কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিএন্ডএফ) এজেন্ট “কদর অ্যান্ড কোং”। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে বন্দরের ১৫ নম্বর শেড থেকে এ পণ্য চালান আটক হলেও সিঅ্যান্ডএফ এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেইনি কাস্টমস কর্র্তৃপক্ষ।
গত ২ আগস্ট, ঢাকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ইজমা লাইট হাউস’ এর নামে ভারত থেকে ‘পার্টস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ ঘোষণায় ১০৫২ প্যাকেজ পণ্য আমদানি করে। যার ম্যানিফেস্ট নং: ৬০১২০২৩৬০ ০১০৩৪৬৬১৫। পণ্য ছাড়করণের দায়িত্বে ছিল বহুল আলোচিত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘ট্রেড কমিউনিকেশন’। বন্দরের ১৭ নম্বর শেডে আইআরএম টিম, সিএন্ডএফ এজেন্ট এবং শেড ইনচার্জের উপস্থিতিতে চালানটি আনলোড ও ইনভেন্টরি করে মিথ্যা ঘোষণায় আনা ৭ হাজার ২০০ পিস ফেসওয়াস, ২১ হাজার ৬০০ পিস পন্ডস ব্রাইট বিউটি ফেস ক্রিম, সব মিলিয়ে মোট ২৩ প্যাকেজ ঘোষণার অতিরিক্ত পণ্য পাওয়া যায়। যার বাজার মূল্য কোটি টাকার উপরে বলে কাস্টমস। তবে এ ঘটনায় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের বিরুদ্ধে কোন দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেইনি বলে জানাগেছে।
গত ৭ জুন, শার্শার আমদানিকারক ‘টিএস ইন্টারন্যাশনাল’ ভারত থেকে ৩২৬ কার্টন কালার পেন্সিল ও ইরেজার (রাবার) আমদানি করে। যার নম্বর মেনিফেস্ট নং- ৩৬৩৪৯১০/০২ একটি চালান বেনাপোল বন্দরের ২৬ নম্বর শেডে প্রবেশ করে। আমদানিকৃত পণ্যের পাশে ঘোষণা বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ পণ্য নিয়ে আসার তথ্যর ভিত্তিতে ইনভেন্ট্রি করলে সেখানে ঘোষণা বহির্ভূত ৩০ কার্টন শাড়ি ও ২০ কার্টন ফেস ক্রিম পায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। তবে এ চালানে ৫০ কার্টন শাড়ি ও ফেসওয়াস আলোচিত শুল্ক ফাঁকির হোতা জসিমের বলে জানা গেছে।
এদিকে আলোচিত সাফটা সুবিধায় আনা কয়েকটি ইমিটেশন পণ্য চালানে কোটি টাকার ঘাপলা রয়েছে বলে তথ্য মিলেছে। যা ঢাকার বুয়েটে পরীক্ষা করালে সতত্যা মিলে যাবে। তা ছাড়া এসব পণ্য চালানের জিএসটি কপি সংগ্রহ করলে কয়েক কোটি টাকা শুল্ক পাবে সরকার।
ব্যবসায়ীরা জানান, শুল্ক ফাঁকি চালান বৃদ্ধির বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলেন বর্তমান কাস্টমস হাউসের আইআরএম শাখার দায়িত্বরত রাজস্ব কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম সৎ তবে তিনি বিচক্ষণ নন। সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তারা যেটা করেন এবং বলেন তিনি সেটাই করেন। অসাধু ও শুল্ক ফাঁকি চক্রের সাথে কয়েকজন ‘এআরও’ পত্যাক্ষ হাত মিলিয়ে সমান তালে রাজস্ব ফাঁকির সহায়তা করছে। যা গোয়েন্দা সংস্থা দ্বারা অনুসন্ধাণ করলে বেরিয়ে আসবে।
এদিকে বন্দরের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে দোষী বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা, ভারতীয় ডাব্লু বি-২৫এফ-১৪৩৪ নং গাড়িতে বহনকৃত ঘোষণাবর্হিভূত ৫০ প্যাকেজ পণ্যের ওজন আড়াল করার জন্য ওয়্যারহাউজ/ইয়ার্ড সুপারিনটেনডেন্ট আলমগীর মোল্লা জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বরখাস্ত। তাছাড়া ৬ কোটি টাকার পণ্য লোপাটের সাথে জড়িত সহকারী পরিচালক কাজী রতন ও শেড ইনচার্জ শাহ জালালকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অঙ্গুল ফুলে করাগাছ হওয়া কয়েকজন ব্যবসায়ীর অনুসন্ধানে দেখা যায়, শুল্ক ফাঁকি দিতে তারা প্রথমে বন্দরের শেড ইনচার্জদের ব্যবহার করে থাকে। মোটা অংকেট টাকার প্রলোভনে তাদের রাজি করিয়ে পণ্য বের করে নিয়ে যায়। এবং তাদের রফাদফায় একই শেডে কয়েকটি পণ্য চারান নামানো হয়। তাছাড়া শুল্ক ফাঁকির হোতারা কৌশলে অন্যের লাইসেন্স ব্যবহার করে থাকে। অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জন করে এসব চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন স্টেশনে পড়ে থাকা বা সচল লাইসেন্স ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকায় কিনে নিয়ে লিমিটেড কোম্পানিতে রুপান্তারিত করছেন।
বেনাপোল বন্দরে এমনই কয়েকটি লাইসেন্সের সন্ধ্যান মিলেছে, এস এ ট্রেডার্স ,ওমর এন্ড সন্স,নিরা এন্টারপ্রাইজ, আলেয়া এন্টারপ্রাইজ,সোনালি এজেন্সি লিমিটেড, মেসার্স সার্ভিস লাইন, পেরেন্টস ইন্টারন্যাশনাল বিসনেস সেন্টার, উৎস শিপিং লাইন্স,গাজী এক্সপ্রেস,এম এইস লজেস্টিক। লাইসেন্স গুলো বেশিরভাগই ভাড়ায় অথবা লিমিটেড কোম্পানিতে পরিনত হয়ে বিক্রি হয়ে গেছে। এছাড়াও সুযোগ সন্ধানীরা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অন্য বন্দরের লাইসেন্স রেফারেন্স হিসাবে এই বন্দরে মোটা টাকার বিনিময়ে নিজ নামে করিয়ে নিয়েছে।
বেনাপোল পৌরপ্রেসক্লাবের উপদেষ্টা ডা.শাহজালাল খাঁন মন্টু বলেন,শুল্ক ফাঁকিবাজরা দেশ ও জাতির শত্রু। এদের সনাক্ত করে প্রকাশ্য ফাঁসি দিতে হবে। শুল্কের টাকায় দেশের চাকা সচল থাকে, দুর্নীতিবাজ অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে যে ভাবে বেনাপোল বন্দরে রাজস্ব ফাঁকি হচ্ছে তাতে ভয়াবহ অবস্থা তৈরী হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বন্দরটি দুর্নীতি মুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।
বেনাপোল বন্দরের শুল্ক ফাঁকি চক্রের সদস্যরা শক্তিশালী দূর্গের সিগনাল ব্যবস্থা গড়ে তুলে অনায়াসে ভারতের বনগাঁ টু ঢাকা রুটের প্রশাসনের বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজর এড়িয়ে বা তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে কোটি কোটি টাকা মূল্যের শুল্ক ফাঁকির পণ্য চালান নিরাপদে পৌঁছে দিচ্ছে।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমস হাউসকে ১১ হাজার ২৯০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিগত অর্থবছর শেষে আদায় হয় মাত্র ৬ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা। ফলে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়ায় ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১০ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এনবিআর। যা গত অর্থবছরের তুলনায় ৭০২ কোটি টাকা কম। বেনাপোল বন্দর ও কস্টমসে দুর্নীতিবাজ ও অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে শুল্ক ফাঁকি অব্যাহত থাকায় গত দুই মাসে ৭১৩ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে।
বন্দ ব্যবসায়ীরা জানান, অসাধু ব্যবসায়ী ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের সখ্যতায় দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য (সাফটা) চুক্তির আওতায় আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গড় শুল্কহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যা রাজস্ব আদায়ে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। সবশেষ অর্থবছরে এই সুবিধার আওতায় সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি হয়েছে—মোট আমদানির প্রায় পঁয়ত্রিশ শতাংশই এসেছে এই বিশেষ সুবিধায়, যেখানে আগের দুই বছরে এই হার ছিল যথাক্রমে এগারো ও সাত শতাংশ। অর্থাৎ ব্যবসায়ীরা ক্রমেই এই সুবিধা বেশি ব্যবহার করছেন এবং মোটা অংকের রফদফায় সাফটা সুবিধা প্রদান করে ফাইল খালাশ মিলছে।
বেনাপোল কাস্টম হাউসের একজন কমিশনার বলেন, আমদানি-রপ্তানি কমার প্রকৃত কারণ ব্যাখ্যা করা কাস্টমস বিভাগের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না, এটি ব্যাংক কর্মকর্তা বা ব্যবসায়ীরাই ভালো বলতে পারবেন। তবে রাজস্ব আয় হ্রাসের বিষয়ে তাঁরা নিয়মিতভাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়ে থাকেন। তাছাড়া কাস্টমসের কোন কর্মকর্তা দুর্নীতির সাথে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএসএম / এমএসএম
গোদাগাড়ীতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থী ও অসহায় পরিবারের মাঝে সহায়তা বিতরণ
নাজিরপুরে তামাকমুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিশ্চিতকরণে শিক্ষার্থীদের সচেতনতামূলক পাঠদান
টহল পুলিশের ৫০০ গজের মধ্যেই শিক্ষক ও ব্যবসায়ীকে মারধর করে ছিনতাই
বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী অন্তঃসত্ত্বা, তিন প্রতিবেশী চাচার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ
উদ্ধারকৃত গরু নিয়ে বিপাকে রাণীনগর থানা পুলিশ, দূষিত হচ্ছে পরিবেশ
পেকুয়ায় যানজট নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও খেলার মাঠ দখলমুক্তির দাবি
নবীনগরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে মারধর করে বাসা থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ
নেছারাবাদে সেপটিক ট্যাংকে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত ১, হাসপাতালে সহযোগী
বেনাপোল বন্দরে লাগামহীন শুল্ক ফাঁকি অব্যাহত
শান্তিগঞ্জে প্রাথমিক শিক্ষা পদক, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পুরস্কৃত
শিবপুরে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
পাবনায় নিখোঁজ শিশু কলির সন্ধানের দাবিতে গ্রামবাসীর মানববন্ধন