ষড়যন্ত্রের শিকার ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি লিটন মাহমুদ বাবু
দীর্ঘ ৩৩ বছরের রাজনৈতিক জীবন, ২৭ মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবরণের পরও রাজনীতির মাঠে সক্রিয় বাবু; কাউন্সিলর নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঠেকাতেই অপপ্রচারের অভিযোগ স্থানীয়দের।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি লিটন মাহমুদ বাবুকে কেন্দ্র করে চলছে নানা আলোচনা ও বিতর্ক। স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর অভিযোগ, মোহাম্মদপুরের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশের পর থেকেই একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।
তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা এবং এলাকায় সাংগঠনিক অবস্থানের কারণে লিটন মাহমুদ বাবু একটি পক্ষের বিরাগভাজন হয়েছেন। তাঁকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে এবং আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ বাধাগ্রস্ত করতেই নানা অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
কাউন্সিলর নির্বাচন ঘিরেই কি ষড়যন্ত্র?
স্থানীয় কয়েকজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ জানান, লিটন মাহমুদ বাবু মোহাম্মদপুরের রাজনীতিতে নতুন কোনো মুখ নন। দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে কাউন্সিলর নির্বাচনের মাঠে সক্রিয় ছিলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে দুই দফা কাউন্সিলর নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বাবু। এর মধ্যে ২০২০ সালের ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন।
তাঁদের প্রশ্ন, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে যিনি রাজনীতির মাঠে টিকে ছিলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কেন তাঁকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরির চেষ্টা চলছে?
স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর অভিযোগ, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়েই মূলত বিরোধের সূত্রপাত। তবে কারা এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ছাত্রদল থেকে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতৃত্বে
লিটন মাহমুদ বাবুর রাজনৈতিক জীবনের শুরু ১৯৯৩ সালে, ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে। এরপর ধাপে ধাপে তিনি বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর দেওয়া রাজনৈতিক পরিচিতি অনুযায়ী, ২০১১ সালে তিনি মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজীব-আকরাম কমিটির সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং কাইয়ুম-হাসান কমিটির সময় মোহাম্মদপুর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
২০২০ সাল থেকে তিনি মোহাম্মদপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে পরপর দুই মেয়াদে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান বলে তাঁর রাজনৈতিক জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ রয়েছে।
মোহাম্মদপুর এলাকাটিতে সরেজমিনে যেয়ে জানতে চাইলে, ২৯ নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক, কামরুল হাসান বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন, নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় উপস্থিতির মাধ্যমে এলাকায় নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। আমাদের দলীয় সরকার দেশ পরিচালনা করলেও তারপরেও তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র লিপ্ত একটি মহল।
২৭ মামলা, দুইবার গ্রেপ্তার, কারাবরণ—তবুও ছাড়েননি রাজপথ, লিটন মাহমুদ বাবুর রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি আলোচিত অধ্যায় মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবরণ।
তাঁর দাবি অনুযায়ী, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বিভিন্ন সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে ২৭টি মামলা হয়েছে। দুইবার গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং একবার কারাবরণ করেছেন।
২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিএনপি ঘোষিত প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আন্দোলন-সংগ্রামের সময় তাঁকে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। এমনকি রাজনৈতিক চাপের প্রভাব তাঁর পরিবারের ওপরও পড়েছিল বলে জানিয়েছেন বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা।
বাবুকে না পেয়ে পরিবারের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ, লিটন মাহমুদ বাবুর অভিযোগ, ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তাঁকে না পেয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় তাঁর ছেলের স্কুলের শিক্ষক ও গৃহশিক্ষককে ততকালীন র্যাব সদস্যরা তুলে নিয়ে যান। তাঁর অভিযোগ, মূলত তাঁকে খুঁজে বের করা এবং তাঁর ছেলেকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছিল।
তিনি আরও দাবি করেন, পরীক্ষার কারণে ওই সময় তাঁর ছেলের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাঁকে নিয়ে যেতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে র্যাবের বক্তব্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঢাকা-১৩ আসনের নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকার দাবি। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরেও ঢাকা-১৩ আসনে লিটন মাহমুদ বাবুর সাংগঠনিক ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
তাঁদের ভাষ্য, নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে আট থেকে নয়টি সভা আয়োজন করেন। পাশাপাশি মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা, প্রচারণা পরিচালনা এবং ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার দাবি, কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও বাবু দলীয় পরিচয় ও অবস্থান ধরে রেখেছেন। তাঁর মতো দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতাকে ঘিরে অপপ্রচার চালানো হলে তা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, নাকি পরিকল্পিত অপপ্রচার? জানতে চায় এলাকাবাসি মোহাম্মদপুরের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে একাধিক ব্যক্তির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে কাউকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
তাঁদের মতে,এই নেতার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত হওয়া উচিত। একইভাবে তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হলে সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এলাকার প্রবীণ কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মী বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কারও ত্যাগ ও অবদান যেমন মূল্যায়ন করা প্রয়োজন, তেমনি যেকোনো অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের বিকল্প নেই। এছারাও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি স্থানীয়দের। বাবুকে ঘিরে চলমান অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে স্থানীয়দের একটি অংশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।
তাঁরা বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অন্যদিকে অভিযোগ মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হলে তার পেছনে কারা রয়েছে, সেটিও সামনে আনা প্রয়োজন।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, মোহাম্মদপুরের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কি সত্যিই নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হচ্ছে? নাকি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জেরে লিটন মাহমুদ বাবুকে দমন পীড়নের চেষ্টা চলছে?
এমএসএম / এমএসএম
ষড়যন্ত্রের শিকার ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি লিটন মাহমুদ বাবু
ভারতীয় নাগরিকের হারানো ফোন উদ্ধার ও অনলাইন প্রতারক চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার: এপিবিএন
উত্তরা সার্বজনীন মন্দিরে মহাসপ্তমীর আলোচনা সভা, সম্প্রীতির বার্তা দিলেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ
তুরাগে শহীদ মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডুয়াপসের গ্র্যান্ড রিইউনিয়ন অনুষ্ঠিত
যাত্রাবাড়ীতে সাংবাদিকের ফোন কেড়ে নিয়ে পুলিশ বক্সে হেনস্তা
শাহজালালে লাগেজের লাইভ নজরদারি, বসানো হলো ৩২ ক্যামেরা
হানিফ’র রাহু’র গ্রাসে বন্দী ঢা:দ:সি:সি: মালিকাধীন জাকের সুপারমার্কেট
কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, পরিচ্ছন্নতা জোরদারের নির্দেশ
ফিরোজ’র রাহু’র গ্রাসে বন্দী ঢা:দ:সি:সি: মালিকাধীন জাকের সুপারমার্কেট
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলে আলোচনায় বাঙলা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক দুই ছাত্রনেতা
মোহাম্মদপুরে দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির, গুলিবিদ্ধ ১