ঢাকা বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬

স্মার্ট কার্ডে স্বচ্ছ হবে কৃষি ভর্তুকি


টি আই এস বিউটি photo টি আই এস বিউটি
প্রকাশিত: ২৯-১০-২০২৬ দুপুর ১:৪২

কৃষিকে জীবিকানির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা থেকে বাণিজ্যিক ও লাভজনক খাতে রূপান্তর এবং দেশের ২ কোটি ২৭লাখ কৃষকের হাতে স্মার্ট কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ' (পার্টনার) প্রকল্প। কৃষকদের জন্য ভর্তুকি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী করার পাশাপাশি কৃ ষিপণ্যের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে প্রকল্পটির।

সম্প্রতি দৈনিক সকালের সময়কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব পরিকল্পনা ও প্রকল্পের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন পার্টনার প্রকল্পের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর ড. মো. শাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানান, প্রকল্পটির
অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো প্রান্তিক ও জীবিকানির্ভর কৃষিকে বাণিজ্যিক কৃষিতে

রূপান্তর করা। এ লক্ষ্যে দেশের কৃষকদের স্মার্ট কার্ডের আওতায় আনার

পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃষকদের হাতে স্মার্ট কার্ড পৌঁছে দেওয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। স্মার্ট কার্ডে সহজ হবে কৃষি উপকরণে ভর্তুকি: প্রকল্পসংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্মার্ট কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা ভর্তুকি মূল্যে কৃষি উপকরণ কেনার সুযোগ পাবেন। এর ফলে সরকারি কৃষি প্রণোদনা ও উপকরণ ভর্তুকি বিতরণব্যবস্থাকে

আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ড. মো. শাখাওয়াত হোসেনের মতে, একটি কার্যকর ইনপুট সাবসিডি মেকানিজম গড়ে তোলা গেলে কৃষকদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানো সহজ হবে। একই সঙ্গে কৃষি পুনর্বাসন, প্রণোদনা এবং সংশ্লিষ্ট সহায়তা কার্যক্রমে ব্যয় সাশ্রয় ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে। তবে এ ক্ষেত্রে কার্ড বিতরণের পাশাপাশি প্রকৃত কৃষক শনাক্তকরণ, উপকারভোগীর তথ্য হালনাগাদ এবং ভর্তুকির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়ানো ও আমদানি কমানোর পরিকল্পনা: দেশের কৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। সাক্ষাৎকারে ড. শাখাওয়াত হোসেন কৃ ষিপণ্যের আমদানি ও রপ্তানি পরিস্থিতি তুলে ধরে আমদানি কমানো এবং রপ্তানি বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথা জানান।

তিনি বলেন, রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্যের মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কমপ্লায়েন্স, পরীক্ষাগার সুবিধা এবং সর্বোচ্চ অবশিষ্টাংশের সীমা (এমআরএল) পরীক্ষার সক্ষমতা উন্নয়নে কাজ করা হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষিপণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে এসব সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষ করে রপ্তানির ক্ষেত্রে পণ্যের গুণগত মান, নিরাপদ উৎপাদন, অবশিষ্ট কীটনাশকের মাত্রা পরীক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে কৃষকের পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তারাও উপকৃত হবেন। এতে নতুন বাজার সৃষ্টি এবং কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজনের সম্ভাবনাও বাড়বে। প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ২০ শতাংশ, বাস্তব অগ্রগতি ২১ শতাংশ: ড. মো. শাখাওয়াত হোসেনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির মোট অনুমোদিত ব্যয় ৬ হাজার ৯১০ কোটি টাকা। এ পর্যন্ত প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ২০ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি ২১ শতাংশ হয়েছে। চলতি অর্থবছর শেষে এ অগ্রগতি ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

প্রকল্পের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে আর্থিক ব্যয়ের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের গতি বাড়ানো, উপকারভোগী নির্বাচন এবং বাস্তবায়নের মান নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক কৃষকের কাছে স্মার্ট কার্ড পৌঁছে দেওয়া এবং ভর্তুকি ব্যবস্থার কার্যকর প্রয়োগ প্রকল্পটির সাফল্য মূল্যায়নের অন্যতম সূচক হবে।

জলবায়ুসহিষ্ণু প্রযুক্তি ও ফসল উৎপাদনে গুরুত্ব: প্রকল্পের আওতায় টারাপস (TARAPS) ও গ্যাপ (GAP) কার্যক্রমের মাধ্যমেও কৃষি উৎপাদন ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, টারাপসের আওতায় ১৫টি উপজেলায় জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তি নিয়ে প্রদর্শনী কার্যক্রম এবং কৃষি উপকরণে ভর্তুকি ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করা হবে। অন্যদিকে, গ্যাপ কার্যক্রমের অধীনে ৩ লাখ হেক্টর জমিতে ফসল উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক কৃ ষিপ্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণে এসব কার্যক্রম ভূমিকা রাখতে পারে। তবে মাঠপর্যায়ে প্রযুক্তি গ্রহণের হার, উৎপাদন ব্যয় ও ফলনের পরিবর্তন এবং কৃ ষকের আয় বৃদ্ধির তথ্য দিয়ে কার্যক্রমের ফলাফল মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতে গুরুত্ব: প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা এবং প্রকল্প পরিচালকের পরিবর্তনসংক্রান্ত বিষয়ে ড. মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তন সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়। তিনি সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি আরও জানান, কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ পর্যন্ত তাঁর কাছে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কৃষকের কাছে সুফল পৌঁছানোই হবে সাফল্যের মাপকাঠি: কৃষির বাণিজ্যিকীকরণ, স্মার্ট কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকি ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তির বিস্তার এবং কৃষিপণ্যের রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে পার্টনার প্রকল্পের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগের বাস্তব সুফল নির্ভর করবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যক্রম বাস্তবায়ন, প্রকৃত কৃষকের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানো এবং উৎপাদন ও বাজারব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার ওপর।

প্রকল্পের লক্ষ্য অনুযায়ী, স্মার্ট কার্ডের আওতায় বিপুলসংখ্যক কৃষককে আনা সম্ভব হলে কৃষি সহায়তা ব্যবস্থাপনায় নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয়, অগ্রগতি, উপকারভোগীর সংখ্যা এবং মাঠপর্যায়ে অর্জিত ফলাফল নিয়মিত প্রকাশ করা গেলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও জোরদার হবে।

এমএসএম / এমএসএম

স্মার্ট কার্ডে স্বচ্ছ হবে কৃষি ভর্তুকি

মাটির অম্লতা দূর করে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা

মাঠের ফসলেই লুকিয়ে আছে আমাদের পরবর্তী বড় গল্প

অ্যাসাইনমেন্টের পণ্য নিয়ে এখন ব্যবসা করছেন কুবির তিন শিক্ষার্থী

সঙ্গী হারানোর বেদনায় নিথর দেহের পাশে কুকুরটি

কাশফুলের দোলায় কুবিতে শরতের আত্মপ্রকাশ

ক্যাম্পাসে গায়ে হলুদ করে ব্যাচমেটকে বিয়ে করলেন কুবি শিক্ষার্থী

করাতকলের জীবন

শরীরচর্চায় আইসোমেট্রিক ও মাইক্রো ওয়ার্কআউট

মন খারাপের দিনগুলোয় ত্বকের যত্ন যেভাবে নেবেন

শালবন বিহার: বাংলার বৌদ্ধ ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতীক

গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় WUB-এর অগ্রণী ভূমিকা

ইরানের পরমাণু অস্ত্র ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন দাপটের পতন