ঢাকা রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ফুলের সমাহার


আরিফ খান আবির photo আরিফ খান আবির
প্রকাশিত: ৬-১২-২০২১ দুপুর ২:৪৭

ফুল ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া খুবই দুষ্কর। প্রতিটি মানুষেরই রয়েছে কোনো না কোনো ফুলের প্রতি দুর্বলতা। ফুল মানুষের মনে আনন্দের দোলা দেয়, মনকে করে সুরভিত। এক কথায় বলতে গেলে, ফুল সবারই ভালো লাগে। তবে যদি ব্যাপারটা এমন হয়, দীর্ঘ একটা পথ ফুলের সৌরভ নিয়ে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে দেখতে ভ্রমণ, তাহলে কেমন হবে? হ্যাঁ, ঠিক এমন একটা দৃশ্যই রয়েছে দেশের লাইফলাইন খ্যাত ব্যস্ততম ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাইলের পর মাইলজুড়ে। বর্তমানে এই সড়কে বর্ণিল এক পরিবেশে যাতায়াত করছেন যাত্রীরা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, নানা রঙের ফুলে সেজেছে দেশের ব্যস্ততম ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক। দু’পাশে এখন লাল, নীল, হলুদ, বেগুনি আবার কোথাও সাদা ফুলের মেলা। চার লেনের এই মহাসড়কের ডিভাইডারের উপর রয়েছে সারি সারি ফুলের বাগান। আর সেই বাগানে ফুটে আছে কাঞ্চন, করবী, গন্ধরাজ, কুর্চি, রাধাচূড়া, জারুলসহ নানা ফুল। মধ্যখানে বাহারি ফুলে রঙিন ফুলের বাগান আর দুই পাশে পিচঢালা সড়ক। এই দৃশ্যই এখন নজর কাড়ছে ঢাকা-ময়মনসিংহ চলাচলকারী যাত্রীদের। মহাসড়কের গাজীপুর থেকে জৈনাবাজার পযন্ত ৩৫ কিলোমিটার অংশে জেলার রাজেন্দ্রপুর, হোতাপাড়া ,ভাবানীপুর, বাঘের বাজার ও নতুন বাজার এলাকায় বেশি ফুলের দেখা মেলে।

গাজীপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কটি চার লেনে রূপান্তর করার পর এক লেনের গাড়ির হেড লাইটের আলো যাতে অন্য লেনের গাড়ির উপর না পড়ে, সেই জন্য ডিভাইডারের উপর রোপণ করা হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। ডিভাইডারের কোথাও ফুল গাছ লাগিয়ে, আবার কোথাও অন্যান্য বৃক্ষে সাজানো হয়েছে। গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে  জৈনাবাজার পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার মহাসড়ক এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে কাঞ্চন, করবী, গন্ধরাজ, কুর্চি, রাধাচূড়া, হৈমন্তী, টগর, সোনালু, কৃষ্ণচূড়া, কদম, বকুল, পলাশসহ নানা ফুলের গাছ। এমন ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে ৫০ হাজারেরও বেশি। এছাড়া, সড়কের পাশে এবং বিভিন্ন স্থানে ডিভাইডারের উপর লাগানো হয়েছে জলপাই, অর্জুন, কাঁঠাল, মেহগনি, শিশু, আকাশমনি, নিম, একাশিয়া, হরিতকিসহ বিভিন্ন প্রজাতির ৪০ হাজারের বেশি গাছ।

মহাসড়কে চলাচল করা এক যাত্রী নাঈম আহমেদ বলেন, ফুল মানুষের মনে আনন্দ দেয়। আমাদের এলাকায় পুরো মহাসড়কে এখন ফুলের মেলা। এই পথ দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীরা ফুলের সৌন্দর্যে আকুল হয়ে পড়ে। আমরাও এসব ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করি। এই ফুলের কারণে আমাদের এলাকার গুরুত্বও অনেক বেড়েছে।

কলেজ ছাত্রী আফসানা আক্তার রিমি বলেন, শুধু যাত্রীদেরই নয়, আমাদের মনেও দোলা দেয় ফুলগুলো। আমরা সড়কের পাশ দিয়ে চলাচলের সময় বন্ধুরা মিলে এই ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করি। অনেক সময় ফুলের সঙ্গে ছবি তুলি। যাত্রীরা গাড়িতে বসে চোখে দেখে ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করেন। আর আমরা স্পর্শ করে সৌন্দর্য উপভোগ করি। তাই আমাদের আনন্দটাও একটু বেশি।

ভবানীপুরের বাসিন্দা তন্ময় আহমেদ বলেন, আমাদের বাড়ি মহাসড়কের পাশে। তাই গত কয়েক বছর ধরে আমরা এই ফুল বাগানের পাশ দিয়ে চলাচল করি। একেক সময় একেক রকমের ফুল ফোটে। এই দৃশ দেখে আমাদেরও অনেক ভালো লাগে।

এই মহাসড়ক দিয়ে মোটরসাইকেল যোগে নিয়মিত চলাচল করেন ব্যবসায়ী নাদিম মাহমুদ। তিনি বলেন, মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করাটা এখন খুবই উপভোগ করি। মাঝেমধ্যে মোটরসাইকেল থামিয়ে খুব কাছ থেকে ফুলের গন্ধ নেই। কারও মন খারাপ থাকলেও এই মহাসড়ক দিয়ে চলাচলের সময় এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখলে এমনিতেই মন ভালো হয়ে যায়।

মহাসড়কটি দিয়ে নিয়মিত চলাচল করা পিকআপ চালক আকবর আলী, মাইক্রোবাস চালক কবির মিয়া, ট্রাক চালক মজিবর রহমানসহ বিভিন্ন যানবাহনের অন্তত ১০ জন চালক জানান, এই ফুলের গাছ ও অন্যান্য গাছগুলো শুধু মানুষকে বিনোদনই দেয় না, এগুলো অনেক বড় উপকারও করে। ডিভাইডারের উপর এসব গাছ থাকার কারণে রাতের বেলায় এক লেনের গাড়ির হেড লাইটের আলো অন্য লেনের গাড়ির উপর পড়ে না। ফলে এই মহাসড়কে অতীতের তুলনায় দুর্ঘটনা অনেক কমেছে। বলা চলে, দিনের বেলায় যাত্রীরা ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করে, আর রাতের বেলায় গাড়ি চালকদের উপকার করে গাছগুলো।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ, গাজীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন বলেন, গাছগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ও মহাসড়কের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ডিভাইডারের দুই পাশে রেলিং দেওয়াসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। মূলত উন্নত দেশের মহাসড়কের সাথে তাল মিলিয়ে রাতের অন্ধকারে বিপরীতমুখী গাড়ির হেড লাইটের আলো নিয়ন্ত্রণ করে দুর্ঘটনা রোধে এবং মহাসড়কের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য গাছগুলো রোপণ করা হয়েছে। 

এমএসএম / জামান

মাঠের ফসলেই লুকিয়ে আছে আমাদের পরবর্তী বড় গল্প

অ্যাসাইনমেন্টের পণ্য নিয়ে এখন ব্যবসা করছেন কুবির তিন শিক্ষার্থী

সঙ্গী হারানোর বেদনায় নিথর দেহের পাশে কুকুরটি

কাশফুলের দোলায় কুবিতে শরতের আত্মপ্রকাশ

ক্যাম্পাসে গায়ে হলুদ করে ব্যাচমেটকে বিয়ে করলেন কুবি শিক্ষার্থী

করাতকলের জীবন

শরীরচর্চায় আইসোমেট্রিক ও মাইক্রো ওয়ার্কআউট

মন খারাপের দিনগুলোয় ত্বকের যত্ন যেভাবে নেবেন

শালবন বিহার: বাংলার বৌদ্ধ ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতীক

গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় WUB-এর অগ্রণী ভূমিকা

ইরানের পরমাণু অস্ত্র ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন দাপটের পতন

১৪০ বছরের রেকর্ড ভাঙার পথে "সুপার এল নিনো": ২০২৬ হতে পারে ইতিহাসের উষ্ণতম বছর

কিয়ারা আদভানির ত্বক কেন এত উজ্জ্বল? কারণ জেনে নিন