ঢাকা শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬

পিওন মুজিবের কাছে জিম্মি পটিয়া প্রাণী সম্পদ হাসপাতাল!


চট্টগ্রাম ব্যুরো photo চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত: ২৯-৩-২০২২ দুপুর ৩:৪৮

চট্টগ্রামের পটিয়ায় প্রাণী সম্পদ অফিসের ড্রেসার মুজিবুর রহমানের কাছে এক প্রকার জিম্মি পটিয়া প্রাণী সম্পদ হাসপাতাল। এক প্রকার অফিসের অঘোষিত  প্রধান কর্মকর্তা তিনিই। তার সাথে সখ্যতা না থাকলে হয় ট্রান্সফার নয় তো অপমান-অপদস্ত হতে হয় অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীদের। অতীতে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের পরেও অদৃশ্য কারনে বারবার সে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। 

সম্প্রতি অওঞ ( কৃত্তিম প্রজনন স্বেচ্ছাসেবী ) নিয়োগে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে নিয়োগ পাইয়ে দেয়ার কথা বলে বড় অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। তার প্রতারণার শিকার মোঃ নজরুল , বিধান রায়, প্রণতোষ বিশ্বাস জানান, তাদের অওঞ করে দেবার আশ্বাস দিয়ে মুজিব প্রায় এক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তাদের থেকে। এদের মধ্যে প্রণতোষ বিশ্বাস মুজিবের কাছে প্রতারিত হয়ে স্থানীয় সাংসদের সুপারিশ নিয়ে দক্ষিণভূর্ষি ইউনিয়নে অওঞ হিসেবে নিয়োগ পান। 

মুজিবের বাণিজ্যের হাত শুধু এতটুকুতেই সীমাবদ্ধ নয়। খামারিদের জন্য এলডিডিপি প্রজেক্টের অধীনে পটিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলের খামারি এবং পোল্ট্রি ফার্মের মালিকদের করোনাকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত সহায়তা প্রায় ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ আসে। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে উপজেলার ১৮০০ জন এবং দ্বিতীয় দফায় ৩৭০ জনকে এ সহায়তা করা হয়। সহায়তার পরিমাণ জনপ্রতি ২২ হাজার থেকে ১০ হাজার পর্যন্ত। সহায়তা নেয়ার তালিকায় প্রাণিসম্পদ অফিসের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ড্রেসার মুজিবুর রহমান, তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম ও ছেলে মেজবাহ উদ্দিন সহ আত্মীয়-স্বজন ৮-১০ জন খামারি সেজে অনুদানের টাকা নেয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। মুজিবুরের সাথে সখ্যতা না থাকায় নাম কাটা পরে অনেক বৈধ খামারির। কচুয়াই ইউনিয়নের ফখরুল ইসলাম ফারুকী নামের একজন খামারি মুজিবুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে, সে রাতারাতি তার বাড়ির ছাদে একটি পোল্টি ফার্ম তৈরি করে।   

খামারিদের জন্য সরকার প্রদত্ত যে ঔষধ গুলো আসে সেখানেও মুজিবের কতৃত্ব সর্বাগ্রে। প্রাণী সম্পদ অফিসারকে অবজ্ঞা করে ফ্রী ঔষধ গুলো অফিস থেকে নিয়ে বাইরে বিক্রি করে সে এবং অফিসে ফ্রী চিকিৎসার নিয়ম থাকলেও জোর করে টাকা আদায় করে সে। অভিযোগ রয়েছে প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন মেলার একক নিয়ন্ত্রণকর্তা মুজিব। ডেকোরেশন, খাবার, সাউন্ড সিস্টেম, স্টল বরাদ্দ, খামারিদের যাতায়াত খরচ প্রভৃতির বিল-ভাউচার অধিকাংশ তার হাতেই তৈরী হয়।
এছাড়াও ন্যাশনাল এগ্রিকালচার টেকনলোজিস্ট প্রজেক্টে (এনএটিপি) বরাদ্দকৃত প্রতি বছর ৪০ লাখ টাকা করে গত ১০ বছরে প্রায় ৪ কোটি টাকা নামে-বেনামে ভুয়া বিল-ভাউচার বানানোর অভিযোগ রয়েছে। গত ১০ বছরের অধিকাংশ বিল-ভাউচার অফিসের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মুজিবুর রহমানের হাতের লেখা।

অন্য কাউকে এসব দায়িত্ব দিলে শুরু হয় তার বদ আচরণ।  ২০০৩ সালে ৭০০ টাকার বেতনে পটিয়া প্রাণী সম্পদ অফিসে যোগদান করে মুজিবুর। ২০ বছর একই কর্মস্থলে চাকরি করে ভাগ্য খুলে যায় মুজিবুরের। কচুয়াই ইউনিয়নে ১৫ লক্ষ টাকায় জমি কিনে ৩৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে করেছেন বাড়ি। এছাড়া নামে-বেনামে রয়েছে তার কোটি টাকার সম্পত্তি।  তার এক ছেলে মেজবাহ উদ্দিন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে রাজনীতি করে , অফিসে কেউ তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে তাদের চেয়ারম্যানের ভয় দেখায় মুজিব। 

পটিয়া প্রাণী সম্পদ অফিসের কর্মকর্তা জপু চক্রবর্তীকে এই বিষয় গুলো নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, মুজিবুরের বিরুদ্ধে এর আগেও অভিযোগ এসেছে, নিউজও হয়েছে। আমরা উর্দ্ধতন কতৃপক্ষের কাছে বিষয় গুলো জানিয়েছি। বর্তমানে যে অভিযোগ গুলো এসেছে সেগুলো তদন্ত সাপেক্ষে কতৃপক্ষকে জানাব ,উনারাই সিদ্ধান্ত নিবেন কি করা যায়! 

 নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রাণী সম্পদ অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, মুজিবের কারণে আগের দুই প্রানী সম্পদ অফিসার এখান থেকে অপমানিত হয়ে বদলী হয়েছে। মোঃ আলমগীর,,কুমুদ রঞ্জন মিত্র এই দুই অফিসার মুজিবের অপকর্মে বাধা দেয়ায় উল্টো তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধূর্ত মুজিব। চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর মারমুখো আচরণের অপমানে অফিসাররা লজ্জায় ট্রান্সফারকে মেনে নেয়। 

অনেকটা বেপরোয়া মুজিব যার কাছে বাধাঁ পায় ,তার বিরুদ্ধে নামে-বেনামে চিঠি পাঠায় সংশ্লিষ্ট অধিদফতরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে। এসব চিঠিতে যে ঠিকানা লেখা থাকে বাস্তবে তার কোন অস্তিত্ব থাকে না। এমনকি যে মোবাইল নাম্বার লেখা থাকে সেটিও রেজিষ্ট্রেশন বিহীন।সম্প্রতি প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের ডিজির কাছে পটিয়া প্রাণী সম্পদ অফিসারের বিরুদ্ধে এমন একটি চিঠি যায়। যেখানে প্রেরকের ঠিকানা লেখা ছিল, মোঃ আবুল কালাম, পিতা-সামশুল আলম , গ্রাম-শ্রীমাই, ফোরকান উকিলের বাড়ি, খরনা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ঐ ঠিকানায় এরকম কোন ব্যক্তিই নেই। 

কোন খামারী সরকারি সুযোগ সুবিধা পাবে আর কে পাবে না তার নির্ধারকও এই মুজিব। পটিয়া ডেইরী ফার্মারস এসোসিয়েশন নামে একটি সংগঠন রয়েছে যেখানে বৃহৎ পটিয়ার অধিকাংশ খামারীই অন্তর্ভুক্ত নেই। কেবল পটিয়ার পশ্চিম অংশের কিছু খামারি মিলে এই এসোসিয়েশন পরিচালনা করে। মুজিবের সাথে এই এসোসিয়েশনের দহরম-মহরম ভাব। ফলে প্রান্তিক খামারিরা সকল সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। 

পটিয়া পৌরসভার খামারি মুবিনুল ইসলাম জানান, সরকার গবাদিপশুর জন্য যে ফ্রী ঔষধ গুলো দেয় তা আমরা পাই না। এখানে যে মেলা হয়,প্রনোদনা আসে সেগুলো থেকেও আমরা বঞ্চিত।  চট্টগ্রাম জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা.  দেলোয়ার হোসেনের সাথে এ বিষয়ে কথা বললে তিনি জানান, এখনো পর্যন্ত এসব বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি যোগদান করেছি ৫ মাস, তবে সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করে বিষয়গুলো জানার চেষ্টা করব।

এমএসএম / এমএসএম

তানোরে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মসজিদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

মুছাপুরে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

বারহাট্টায় ভয়াবহ আগুনে ৭ দোকান পুড়ে ছাই, প্রায় ২৩ লাখ টাকা ক্ষতি

শিবচরের এক্সপ্রেসওয়েতে ভাড়া কমলেও ঈদে বাড়তি ভাড়া ঠেকানো বড় চ্যালেঞ্জ

বড়লেখায় নিসচা'র দোয়া ও ইফতার মাহফিল

ত্রিশালে ডিসেন্ট ’র আয়োজনে সাংবাদিকদের জন্য ফ্যাক্ট চেকিং কর্মশালা

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে সম্প্রীতি ও সমাজকল্যাণে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

খালিয়াজুরীতে ইয়াবাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে থানা পুলিশ

দুমকিতে হাসি ফুটলো হাজারো প্রাণে: ঘরে ঘরে পৌঁছালো ঈদের আনন্দ

নোয়াখালী-৫ আসনের এমপি ফখরুল ইসলামের মায়ের ইন্তেকাল

লালমনিরহাটে ১২০ পরিবারে আরব আমিরাত রেড ক্রিসেন্টের ইফতার ও ঈদ উপহার

গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী' সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া

হাটহাজারীতে “সুষম খাদ্যগ্রহণ ও পারিবারিক পুষ্টি বাগান: পুষ্টি নিরাপত্তায় টেকসই উদ্যোগ” শীর্ষক এক আলোচনা সভা